এক ছাদের নিচে ৪৫ ফ্যাশন ব্র্যান্ডের শারদীয় প্রদর্শনী ও
- আপডেট সময় : ১০:১৭:৩১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে
শারদীয় দুর্গোৎসবকে সামনে রেখে ফ্যাশন উদ্যোগ ও ফ্যাশন এন্টারপ্রেনিউরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এফইএবি)-এর যৌথ আয়োজনে ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টারে হয়ে গেল তিন দিনের প্রদর্শনী ও মেলা ‘সুতোর গল্প: নিজস্বতায় বোনা শারদীয় উৎসব’। ২৫ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলা এই আয়োজনে দেশের প্রতিষ্ঠিত ব্র্যান্ড ও নতুন প্রজন্মের উদ্যোক্তাদের সমন্বয়ে ৪৫টি প্রতিষ্ঠানের শারদীয় সংগ্রহ প্রদর্শিত হয়েছে। মেলায় শাড়ি, পোশাক ও গয়না থেকে শুরু করে নানা ধরনের সৃষ্টিশীল ও নান্দনিক পণ্যের পসরা সাজিয়েছিলেন উদ্যোক্তারা।
উদ্বোধনী আয়োজন ও সরকারি উদ্যোগ
মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব ও এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আব্দুন নাসের খান। তিনি বলেন, ‘আমাদের ইতিহাস ও সংস্কৃতি তুলে ধরতে আমরা একটি ডিসপ্লে সেন্টার করার চিন্তাভাবনা করছি। এই পণ্যগুলোর প্রচার বাড়াতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় থেকে আমরা এসব উপহার হিসেবে দিয়ে থাকি। যখনই আমাদের পণ্য কোনো রাষ্ট্রপ্রধান অথবা বিদেশি প্রতিনিধিকে উপহার হিসেবে দিয়েছি, তাঁরা এর ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।’ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক লুভা নাহিদ চৌধুরী, নৃত্যশিল্পী মুনমুন আহমেদ ও কোরিওগ্রাফার আজরা মাহমুদ। চোখে পড়েছে দেশীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, নতুনত্ব ও স্বকীয়তার সমন্বয়। একই জায়গায় বিভিন্ন ব্র্যান্ডের পণ্য দেখার ও কেনার সুযোগ পেয়েছেন দর্শনার্থীরা।
নতুন ও পুরোনো প্রজন্মের মেলবন্ধন
এই আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য ছিল নতুন ও পুরোনো উদ্যোক্তাদের এক প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসা। কে ক্র্যাফটের অন্যতম উদ্যোক্তা খালিদ মাহমুদ খান বলেন, বৈচিত্র্যময় ডিজাইনের সমাহার থেকে ক্রেতারা নিজের পছন্দের পণ্যটি খুঁজে নিতে পেরেছেন। ফ্যাশন উদ্যোগ ও এফইএবি সভাপতি আজহারুল হক আজাদ বলেন, ‘আমাদের সুতোর গল্পের একটি বিশেষ দিক হচ্ছে, দীর্ঘদিন কাজ করে আসা প্রতিষ্ঠিত ব্র্যান্ডগুলোর পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের উদ্যোক্তারাও একই প্ল্যাটফর্মে এসেছেন। একদিকে অভিজ্ঞতা ও ঐতিহ্য; আরেক দিকে নতুন চিন্তা ও সৃজনশীলতা—এই দুইয়ের মেলবন্ধন আমাদের ফ্যাশনশিল্পকে আরও সমৃদ্ধ করবে।’
ক্রেতাদের সাড়া ও অংশগ্রহণকারী ব্র্যান্ড
প্রথম দিন বেলা ১১টায় মেলা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও ক্রেতাদের আগ্রহ ছিল চোখে পড়ার মতো; সকাল ৮টা থেকেই দর্শনার্থীরা আসতে শুরু করেন। মেলায় আসা দর্শনার্থী শ্রেয়সী ও রিয়া জানান, ছোট-বড় ও চেনা-অচেনা সব ব্র্যান্ডকে একসঙ্গে পেয়ে তাঁদের ভালো লেগেছে। মেলায় অংশগ্রহণকারী ৪৫টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: শিল্পলোক, পোশাক বাই তাননাস, মিথ আর্টস অ্যান্ড ক্রাফটস, কইন্যা, কালিন্দী, সিগনেট, সুতলি, আট কুঠুরি নয় দরজা, বুনো, দয়ীতা, তেরো পার্বণ, পরিণীতা ফ্যাশন, তানিস বাংলাদেশ, ঋতি, মিতার গল্প, নকশা মিস্ত্রি, গুটিপা, বক্স অব অর্নামেন্টস, মুনমুন’স, সরলা, অয়ন ক্রাফটস, পৌরাণিক, বেনে বৌ, নিপুণ ক্রাফটস, ট্রেন্ডজ, ট্যান, ক্রাফট পান্ডা, দীঘল, শিশু পরিবহন, খুঁত, যথাশিল্প, আজুরা বাই শান্তা কবির, রিংকি’স অ্যাটায়ার, আর্টজেনিক্স বাই আনিকা, সীবনী, কল্পতরু, ফারহানা ফ্যাশন, কনক দ্য জুয়েলারি প্যালেস, দেশাল, রঙ বাংলাদেশ, অঞ্জন’স, কে ক্র্যাফট, সাদাকালো, কাপড়-ই-বাংলা ও অন্যরকম। শুরু থেকেই মেলাজুড়ে ছিল ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের উপস্থিতি।
উদ্যোক্তাদের নিজস্বতা ও নতুন সংগ্রহ
অংশগ্রহণকারী উদ্যোক্তারা তাদের সৃজনশীলতা তুলে ধরতে বিভিন্ন উপকরণ ব্যবহার করেছেন। সরলার স্বত্বাধিকারী মানসুরা স্পৃহা জানান, তিনি ও তার বন্ধু ঋতি তাদের শারদীয় সংগ্রহে শাড়ি, ফ্লেক্সি স্টাইল ব্লাউজ ও শার্টের পাশাপাশি এবার নতুনভাবে গয়না যুক্ত করেছেন। সীবনীর উদ্যোক্তা আবিদা খাতুন ন্যাচারাল ডাই ব্যবহার করে ইকো প্রিন্ট নিয়ে কাজ করছেন। তিনি জানান, প্রকৃতির রঙ ব্যবহার করে পোশাক তৈরি করায় ক্রেতারা এর ভিন্নতা দেখে খুব আগ্রহ নিয়ে স্টলগুলোতে আসছেন। এই পুরো আয়োজনটির সহযোগিতায় ছিল লাইফস্টাইল ক্রোড়পত্র ‘নকশা’ ও এসএমই ফাউন্ডেশন। যেখানে প্রাকৃতির রং পোশাকে ব্যবহার করা হয়। দেখতে একটু ভিন্ন হওয়ায় ক্রেতারা খুব আগ্রহ নিয়ে স্টলে আসছেন ও ধরে দেখছেন।’।
সূত্র: প্রথম আলো
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ
























