ঢাকা ০৬:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

সব সুবিধা খেলাপিদের জন্যই

সৃষ্টি ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০১:০৯:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ নভেম্বর ২০২২ ২২৬ বার পড়া হয়েছে

সব সুবিধা খেলাপিদের জন্যই

(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
  • দেশে খেলাপি ঋণ বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন,রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতাই এর প্রধান কারণ।
  • দেশে সবচেয়ে বেশি পরিবর্তন হয়েছে খেলাপি ঋণের সংজ্ঞার।
  • দেওয়া হয়েছে একাধিকবার ঋণ তফসিলের সুবিধা।
  • ইতিহাসে ঋণখেলাপিদের সবচেয়ে বড় সুবিধা দেওয়া হয় ২০১৯ সালে।

১৯৯০ সালেও দেশে খেলাপি ঋণ ছিল ৪ হাজার ৬৪৬ কোটি টাকা। সেই খেলাপি ঋণ এখন লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ৩৪ হাজার কোটি টাকারও বেশি। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে গত ১৪ বছরে। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ যখন সরকার গঠন করে তখন খেলাপি ঋণ ছিল মাত্র ২২ হাজার ৪৮১ কোটি টাকা।

পড়ুন>>১৫৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ অগ্রণী ব্যাংকের ৩ কর্মকর্তাকে আত্মসমপর্ণের নির্দেশ

ব্যাংকার ও অর্থনীতিবিদেরা বলছেন, বাংলাদেশে খেলাপি ঋণ বাড়ার প্রধান কারণ রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা। এখানে বছরের পর বছর ধরে খেলাপিদের নানা ধরনের ছাড় দেওয়া হয়েছে। খেলাপি ঋণের সংজ্ঞা বদলানো হয়েছে বারবার। আইন সংশোধন করে একাধিকবার ঋণ তফসিলের সুবিধা দেওয়া হয়েছে। আর এসব সুযোগ-সুবিধা নিয়েই বড় বড় ঋণখেলাপি খেলাপির তালিকা থেকে বাইরে থেকে গেছেন। হয়েছেন আরও ক্ষমতাবান।১৯৯০ সালে এরশাদ সরকারের পতনের পরে অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান জাতীয় সংসদে খেলাপি ঋণগ্রহীতার নাম প্রকাশ করেছিলেন। ১৯৯৬ সালের পরে আওয়ামী লীগ সরকারের তৎকালীন অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া তালিকা প্রকাশ করে প্রভাবশালী ঋণখেলাপিদের রোষানলে পড়েছিলেন। সেই প্রভাবশালীরাই এখন সরকারের দেওয়া নানা সুযোগ নিয়ে খেলাপির তালিকা থেকে বের হয়ে গেছেন। এমনকি তাঁরাই এখন খেলাপি ঋণের ছাড় কীভাবে দেওয়া হবে, সেই নীতিমালাও তৈরি করে দিচ্ছেন।

যেভাবে বাড়ছে খেলাপি ঋণ

দেশে এখন খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ৩৪ হাজার ৩৯৬ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের তৈরি করা প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসেই (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩৩ হাজার কোটি টাকা। ব্যাংক খাতে গত জুন শেষে খেলাপি ঋণ ছিল ১ লাখ ২৫ হাজার ২৫৭ কোটি টাকা। এই হিসাবে গত জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে খেলাপি বেড়েছে ৯ হাজার ১৩৯ কোটি টাকা। খেলাপি ঋণের হার এখন ৯ দশমিক ৩৬ শতাংশ।বিশ্বব্যাংক বলছে, প্রতিযোগী এবং তুলনীয় দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের খেলাপি ঋণের হারই সবচেয়ে বেশি। কেবল ভারতের খেলাপি ঋণের হার বাংলাদেশের কাছাকাছি, আর সবার অনেক কম। এই খেলাপি ঋণই ব্যাংকিং খাতের বড় সমস্যা।

পড়ুন>> বিআইএফসিএর এক হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করে বিদেশে পাচার

কে কী বলছেন?
অর্থনীতিবিদ ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদকে প্রধান বলেন, সুবিধা খেলাপিদের জন্যই।এ জন‍্য দেশে খেলাপি ঋণ  লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতাই এর প্রধান কারণ।দেশে সবচেয়ে বেশি পরিবর্তন হয়েছে খেলাপি ঋণের সংজ্ঞার।দেওয়া হয়েছে একাধিকবার ঋণ তফসিলের সুবিধা।ইতিহাসে ঋণখেলাপিদের সবচেয়ে বড় সুবিধা দেওয়া হয় ২০১৯ সালে।

বিশ্বব্যাংক বলছে, প্রতিযোগী এবং তুলনীয় দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের খেলাপি ঋণের হারই সবচেয়ে বেশি। কেবল ভারতের খেলাপি ঋণের হার বাংলাদেশের কাছাকাছি, আর সবার অনেক কম। এই খেলাপি ঋণই মূল্যস্ফীতি বনা বেশি। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের খেলাপি ঋণ হবে প্রায় আড়াই লাখ কোটি টাকা।’ আইএমএফের এই বক্তব্য ছিল তিন বছর আগের।

ব্যাংকার ও অর্থনীতিবিদেরা মনে করেন, এখন হিসাব করলে প্রকৃত খেলাপি হবে ৪ লাখ কোটি টাকারও বেশি।বিশ্বব্যাংক গত অক্টোবর মাসে ‘চেঞ্জ অব ফ্যাব্রিক’ নামে বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেখানে তারা বলেছে, দুর্বল করপোরেট শাসন, আইনের প্রয়োগের দুর্বলতা এবং স্বচ্ছতার অভাব ব্যাংক খাতকে বড় ধরনের ঝুঁকিতে ফেলে দিয়েছে। এতে ব্যাংক খাতের অপব্যবহারের সুযোগও বেড়েছে। অনেকগুলো আর্থিক কেলেঙ্কারি এবং উচ্চ খেলাপি ঋণ এরই প্রমাণ।

সব সুবিধা খেলাপিদের জন‍্যই
১৯৯০ সালেও দেশে খেলাপি ঋণ ছিল ৪ হাজার ৬৪৬ কোটি টাকা। সেই খেলাপি ঋণ এখন লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ৩৪ হাজার কোটি টাকারও বেশি। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে গত ১৪ বছরে। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ যখন সরকার গঠন করে তখন খেলাপি ঋণ ছিল মাত্র ২২ হাজার ৪৮১ কোটি টাকা।ব্যাংকার ও অর্থনীতিবিদেরা বলছেন, বাংলাদেশে খেলাপি ঋণ বাড়ার প্রধান কারণ রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা। এখানে বছরের পর বছর ধরে খেলাপিদের নানা ধরনের ছাড় দেওয়া হয়েছে। খেলাপি ঋণের সংজ্ঞা বদলানো হয়েছে বারবার। আইন সংশোধন করে একাধিকবার ঋণ তফসিলের সুবিধা দেওয়া হয়েছে। আর এসব সুযোগ-সুবিধা নিয়েই বড় বড় ঋণখেলাপি খেলাপির তালিকা থেকে বাইরে থেকে গেছেন। হয়েছেন আরও ক্ষমতাবান।

যেভাবে বাড়ছে খেলাপি ঋণ

১৯৯০ সালে এরশাদ সরকারের পতনের পরে অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান জাতীয় সংসদে খেলাপি ঋণগ্রহীতার নাম প্রকাশ করেছিলেন। ১৯৯৬ সালের পরে আওয়ামী লীগ সরকারের তৎকালীন অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া তালিকা প্রকাশ করে প্রভাবশালী ঋণখেলাপিদের রোষানলে পড়েছিলেন। সেই প্রভাবশালীরাই এখন সরকারের দেওয়া নানা সুযোগ নিয়ে খেলাপির তালিকা থেকে বের হয়ে গেছেন। এমনকি তাঁরাই এখন খেলাপি ঋণের ছাড় কীভাবে দেওয়া হবে, সেই নীতিমালাও তৈরি করে দিচ্ছেন।মূল্যস্ফীতি নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক কেন চিন্তিত।দেশে এখন খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ৩৪ হাজার ৩৯৬ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের তৈরি করা প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসেই (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩৩ হাজার কোটি টাকা। ব্যাংক খাতে গত জুন শেষে খেলাপি ঋণ ছিল ১ লাখ ২৫ হাজার ২৫৭ কোটি টাকা। এই হিসাবে গত জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে খেলাপি বেড়েছে ৯ হাজার ১৩৯ কোটি টাকা। খেলাপি ঋণের হার এখন ৯ দশমিক ৩৬ শতাংশ।

বিশ্বব্যাংক বলছে, প্রতিযোগী এবং তুলনীয় দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের খেলাপি ঋণের হারই সবচেয়ে বেশি। কেবল ভারতের খেলাপি ঋণের হার বাংলাদেশের কাছাকাছি, আর সবার অনেক কম। এই খেলাপি ঋণই মূল্যস্ফীতি বনা বেশি। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের খেলাপি ঋণ হবে প্রায় আড়াই লাখ কোটি টাকা।’ আইএমএফের এই বক্তব্য ছিল তিন বছর আগের।

ব্যাংকার ও অর্থনীতিবিদেরা মনে করেন, এখন হিসাব করলে প্রকৃত খেলাপি হবে ৪ লাখ কোটি টাকারও বেশি।বিশ্বব্যাংক গত অক্টোবর মাসে ‘চেঞ্জ অব ফ্যাব্রিক’ নামে বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেখানে তারা বলেছে, দুর্বল করপোরেট শাসন, আইনের প্রয়োগের দুর্বলতা এবং স্বচ্ছতার অভাব ব্যাংক খাতকে বড় ধরনের ঝুঁকিতে ফেলে দিয়েছে। এতে ব্যাংক খাতের অপব্যবহারের সুযোগও বেড়েছে। অনেকগুলো আর্থিক কেলেঙ্কারি এবং উচ্চ খেলাপি ঋণ এরই প্রমাণ।

তথ্য সুত্র

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

সব সুবিধা খেলাপিদের জন্যই

আপডেট সময় : ০১:০৯:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ নভেম্বর ২০২২
  • দেশে খেলাপি ঋণ বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন,রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতাই এর প্রধান কারণ।
  • দেশে সবচেয়ে বেশি পরিবর্তন হয়েছে খেলাপি ঋণের সংজ্ঞার।
  • দেওয়া হয়েছে একাধিকবার ঋণ তফসিলের সুবিধা।
  • ইতিহাসে ঋণখেলাপিদের সবচেয়ে বড় সুবিধা দেওয়া হয় ২০১৯ সালে।

১৯৯০ সালেও দেশে খেলাপি ঋণ ছিল ৪ হাজার ৬৪৬ কোটি টাকা। সেই খেলাপি ঋণ এখন লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ৩৪ হাজার কোটি টাকারও বেশি। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে গত ১৪ বছরে। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ যখন সরকার গঠন করে তখন খেলাপি ঋণ ছিল মাত্র ২২ হাজার ৪৮১ কোটি টাকা।

পড়ুন>>১৫৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ অগ্রণী ব্যাংকের ৩ কর্মকর্তাকে আত্মসমপর্ণের নির্দেশ

ব্যাংকার ও অর্থনীতিবিদেরা বলছেন, বাংলাদেশে খেলাপি ঋণ বাড়ার প্রধান কারণ রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা। এখানে বছরের পর বছর ধরে খেলাপিদের নানা ধরনের ছাড় দেওয়া হয়েছে। খেলাপি ঋণের সংজ্ঞা বদলানো হয়েছে বারবার। আইন সংশোধন করে একাধিকবার ঋণ তফসিলের সুবিধা দেওয়া হয়েছে। আর এসব সুযোগ-সুবিধা নিয়েই বড় বড় ঋণখেলাপি খেলাপির তালিকা থেকে বাইরে থেকে গেছেন। হয়েছেন আরও ক্ষমতাবান।১৯৯০ সালে এরশাদ সরকারের পতনের পরে অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান জাতীয় সংসদে খেলাপি ঋণগ্রহীতার নাম প্রকাশ করেছিলেন। ১৯৯৬ সালের পরে আওয়ামী লীগ সরকারের তৎকালীন অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া তালিকা প্রকাশ করে প্রভাবশালী ঋণখেলাপিদের রোষানলে পড়েছিলেন। সেই প্রভাবশালীরাই এখন সরকারের দেওয়া নানা সুযোগ নিয়ে খেলাপির তালিকা থেকে বের হয়ে গেছেন। এমনকি তাঁরাই এখন খেলাপি ঋণের ছাড় কীভাবে দেওয়া হবে, সেই নীতিমালাও তৈরি করে দিচ্ছেন।

যেভাবে বাড়ছে খেলাপি ঋণ

দেশে এখন খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ৩৪ হাজার ৩৯৬ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের তৈরি করা প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসেই (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩৩ হাজার কোটি টাকা। ব্যাংক খাতে গত জুন শেষে খেলাপি ঋণ ছিল ১ লাখ ২৫ হাজার ২৫৭ কোটি টাকা। এই হিসাবে গত জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে খেলাপি বেড়েছে ৯ হাজার ১৩৯ কোটি টাকা। খেলাপি ঋণের হার এখন ৯ দশমিক ৩৬ শতাংশ।বিশ্বব্যাংক বলছে, প্রতিযোগী এবং তুলনীয় দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের খেলাপি ঋণের হারই সবচেয়ে বেশি। কেবল ভারতের খেলাপি ঋণের হার বাংলাদেশের কাছাকাছি, আর সবার অনেক কম। এই খেলাপি ঋণই ব্যাংকিং খাতের বড় সমস্যা।

পড়ুন>> বিআইএফসিএর এক হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করে বিদেশে পাচার

কে কী বলছেন?
অর্থনীতিবিদ ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদকে প্রধান বলেন, সুবিধা খেলাপিদের জন্যই।এ জন‍্য দেশে খেলাপি ঋণ  লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতাই এর প্রধান কারণ।দেশে সবচেয়ে বেশি পরিবর্তন হয়েছে খেলাপি ঋণের সংজ্ঞার।দেওয়া হয়েছে একাধিকবার ঋণ তফসিলের সুবিধা।ইতিহাসে ঋণখেলাপিদের সবচেয়ে বড় সুবিধা দেওয়া হয় ২০১৯ সালে।

বিশ্বব্যাংক বলছে, প্রতিযোগী এবং তুলনীয় দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের খেলাপি ঋণের হারই সবচেয়ে বেশি। কেবল ভারতের খেলাপি ঋণের হার বাংলাদেশের কাছাকাছি, আর সবার অনেক কম। এই খেলাপি ঋণই মূল্যস্ফীতি বনা বেশি। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের খেলাপি ঋণ হবে প্রায় আড়াই লাখ কোটি টাকা।’ আইএমএফের এই বক্তব্য ছিল তিন বছর আগের।

ব্যাংকার ও অর্থনীতিবিদেরা মনে করেন, এখন হিসাব করলে প্রকৃত খেলাপি হবে ৪ লাখ কোটি টাকারও বেশি।বিশ্বব্যাংক গত অক্টোবর মাসে ‘চেঞ্জ অব ফ্যাব্রিক’ নামে বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেখানে তারা বলেছে, দুর্বল করপোরেট শাসন, আইনের প্রয়োগের দুর্বলতা এবং স্বচ্ছতার অভাব ব্যাংক খাতকে বড় ধরনের ঝুঁকিতে ফেলে দিয়েছে। এতে ব্যাংক খাতের অপব্যবহারের সুযোগও বেড়েছে। অনেকগুলো আর্থিক কেলেঙ্কারি এবং উচ্চ খেলাপি ঋণ এরই প্রমাণ।

সব সুবিধা খেলাপিদের জন‍্যই
১৯৯০ সালেও দেশে খেলাপি ঋণ ছিল ৪ হাজার ৬৪৬ কোটি টাকা। সেই খেলাপি ঋণ এখন লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ৩৪ হাজার কোটি টাকারও বেশি। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে গত ১৪ বছরে। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ যখন সরকার গঠন করে তখন খেলাপি ঋণ ছিল মাত্র ২২ হাজার ৪৮১ কোটি টাকা।ব্যাংকার ও অর্থনীতিবিদেরা বলছেন, বাংলাদেশে খেলাপি ঋণ বাড়ার প্রধান কারণ রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা। এখানে বছরের পর বছর ধরে খেলাপিদের নানা ধরনের ছাড় দেওয়া হয়েছে। খেলাপি ঋণের সংজ্ঞা বদলানো হয়েছে বারবার। আইন সংশোধন করে একাধিকবার ঋণ তফসিলের সুবিধা দেওয়া হয়েছে। আর এসব সুযোগ-সুবিধা নিয়েই বড় বড় ঋণখেলাপি খেলাপির তালিকা থেকে বাইরে থেকে গেছেন। হয়েছেন আরও ক্ষমতাবান।

যেভাবে বাড়ছে খেলাপি ঋণ

১৯৯০ সালে এরশাদ সরকারের পতনের পরে অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান জাতীয় সংসদে খেলাপি ঋণগ্রহীতার নাম প্রকাশ করেছিলেন। ১৯৯৬ সালের পরে আওয়ামী লীগ সরকারের তৎকালীন অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া তালিকা প্রকাশ করে প্রভাবশালী ঋণখেলাপিদের রোষানলে পড়েছিলেন। সেই প্রভাবশালীরাই এখন সরকারের দেওয়া নানা সুযোগ নিয়ে খেলাপির তালিকা থেকে বের হয়ে গেছেন। এমনকি তাঁরাই এখন খেলাপি ঋণের ছাড় কীভাবে দেওয়া হবে, সেই নীতিমালাও তৈরি করে দিচ্ছেন।মূল্যস্ফীতি নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক কেন চিন্তিত।দেশে এখন খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ৩৪ হাজার ৩৯৬ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের তৈরি করা প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসেই (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩৩ হাজার কোটি টাকা। ব্যাংক খাতে গত জুন শেষে খেলাপি ঋণ ছিল ১ লাখ ২৫ হাজার ২৫৭ কোটি টাকা। এই হিসাবে গত জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে খেলাপি বেড়েছে ৯ হাজার ১৩৯ কোটি টাকা। খেলাপি ঋণের হার এখন ৯ দশমিক ৩৬ শতাংশ।

বিশ্বব্যাংক বলছে, প্রতিযোগী এবং তুলনীয় দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের খেলাপি ঋণের হারই সবচেয়ে বেশি। কেবল ভারতের খেলাপি ঋণের হার বাংলাদেশের কাছাকাছি, আর সবার অনেক কম। এই খেলাপি ঋণই মূল্যস্ফীতি বনা বেশি। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের খেলাপি ঋণ হবে প্রায় আড়াই লাখ কোটি টাকা।’ আইএমএফের এই বক্তব্য ছিল তিন বছর আগের।

ব্যাংকার ও অর্থনীতিবিদেরা মনে করেন, এখন হিসাব করলে প্রকৃত খেলাপি হবে ৪ লাখ কোটি টাকারও বেশি।বিশ্বব্যাংক গত অক্টোবর মাসে ‘চেঞ্জ অব ফ্যাব্রিক’ নামে বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেখানে তারা বলেছে, দুর্বল করপোরেট শাসন, আইনের প্রয়োগের দুর্বলতা এবং স্বচ্ছতার অভাব ব্যাংক খাতকে বড় ধরনের ঝুঁকিতে ফেলে দিয়েছে। এতে ব্যাংক খাতের অপব্যবহারের সুযোগও বেড়েছে। অনেকগুলো আর্থিক কেলেঙ্কারি এবং উচ্চ খেলাপি ঋণ এরই প্রমাণ।

তথ্য সুত্র

Facebook Comments Box