বাংলাদেশে প্রথম সফরেই প্রতারণার শিকার জার্মান পর্যটক
- আপডেট সময় : ০২:২৯:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে
বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ভ্রমণে এসে চরম বিপাকে পড়েছেন জার্মানির নাগরিক কিরিল লেন্ডার উইবার। বুধবার (৭ অক্টোবর) নাটোর রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেনের টিকিট কাটতে গিয়ে তিনি এক ব্যক্তির খপ্পরে পড়ে নিজের ম্যাকবুক ও ক্যামেরা হারিয়েছেন। নিজেকে রেলওয়ে কর্মকর্তা পরিচয় দেওয়া সেই ব্যক্তি কৌশলে কিরিলের ব্যাগটি হাতিয়ে নিয়ে সটকে পড়ে। ভুক্তভোগী এ ঘটনায় নাটোর থানায় অভিযোগ জানালে উদ্ধার তৎপরতায় নামে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
বৃহস্পতিবার সকালে নিজের শারীরিক ও মানসিক পরিস্থিতির বর্ণনা দিতে গিয়ে কিরিল জানান, ল্যাপটপটিতে তার অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত তথ্য ও ডেটা রয়েছে। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে এটিই আমার প্রথম ভ্রমণ এবং বর্তমান পরিস্থিতি বেশ হতাশাজনক। তবে পুলিশ আমাকে যথেষ্ট সহযোগিতা করছে। যদিও কাজটি বেশ কঠিন, তবুও আমরা ধীরে ধীরে সঠিক অবস্থানের কাছাকাছি পৌঁছাচ্ছি বলে আমার বিশ্বাস। আমি আমার জিনিসপত্র ফিরে পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী।’ বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) নিজের সর্বশেষ পরিস্থিতি জানিয়ে কিরিল বলেন, ‘ল্যাপটপে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও ডেটা রয়েছে। সর্বশেষ পরিস্থিতি খুব একটা ভালো নয়।’।
তদন্তের বিষয়ে রাজশাহী রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুর রহমান জানান, ঘটনার পর থেকে জেলা পুলিশ, সান্তাহার জিআরপি, র্যাব ও গোয়েন্দা পুলিশ সমন্বিতভাবে অভিযান চালাচ্ছে। বুধবার রাতেই পর্যটকের থাকার সুব্যবস্থা করা হয়েছে এবং পুলিশ নিয়মিত তার সাথে যোগাযোগ রাখছে। ল্যাপটপটির অবস্থান শনাক্ত করার জন্য প্রযুক্তিগত সহায়তা নেওয়া হচ্ছে। প্রথমে রাজশাহীর রেলগেট ও পরে মহিলা কলেজ এলাকায় এর সিগন্যাল পাওয়া গিয়েছিল। ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হয়েছে যেন কোনো ধরনের লেনদেন না হয়। পরে রাত ১১টার দিকে পর্যটক রাজশাহীতে আসার পর ল্যাপটপটির অবস্থান মহিলা কলেজের আশপাশে দেখা যায়। এরপর রেলওয়ে পুলিশ, আরএমপির বোয়ালিয়া থানা, ডিবি ও র্যাবের সদস্যরা ওই এলাকায় অভিযান চালান। রাতে ল্যাপটপটির অবস্থানেরও কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। পরে এটি বিক্রি করে দেওয়ার আশঙ্কায় ব্যবসায়ীদেরও সতর্ক করা হয়।
সর্বশেষ বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা ৪০ মিনিটের দিকে আব্দুলপুর রেলওয়ে স্টেশনের কাছে ল্যাপটপটির সুনির্দিষ্ট অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা চালায় পুলিশ। সেই সময় সেখানে তিতুমীর ও বনলতা এক্সপ্রেস ট্রেন দুটি অবস্থান করছিল। পুলিশ ট্রেন দুটিতে তল্লাশি চালালেও শেষ পর্যন্ত ল্যাপটপ বা ক্যামেরা উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। ডিভাইসটিতে সিমকার্ড না থাকায় এর গতিবিধি নির্ণয় করা কিছুটা জটিল হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী, মেস মালিক ও কেয়ারটেকারদের বিষয়টি জানানো হয়।
ওসি মো. হাফিজুর রহমান আরও বলেন, বিদেশি এই পর্যটক আমাদের মেহমান। তার হারানো জিনিসপত্র উদ্ধার করতে বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট নিরলস কাজ করছে। সঠিক লোকেশন পাওয়ার সাথে সাথে আমরা ল্যাপটপ ও ক্যামেরা উদ্ধারে সফল হব বলে আশা রাখছি। বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত কিরিল রাজশাহী রেলওয়ে থানায় অবস্থান করছিলেন এবং পুলিশ তাকে প্রয়োজনীয় সহায়তা ও খাবার সরবরাহ করেছে।
সূত্র: দৈনিক এইদিন
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ

























