ঢাকা ০৩:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চ্যাটজিপিটির ফিন্যান্স টুলে যুক্ত হলো ভয়েস সুবিধা মহাসড়কে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ব্যাটারিচালিত রিকশা, নিষেধাজ্ঞা নামমাত্র ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে নতুন ইতিহাস হাসান মাহমুদের সিলেট টেস্ট: ৩৫৬ রানে অলআউট ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ওপেনিংয়ে নাঈম আলোক হেলথকেয়ারে ১০ জনের চাকরির সুযোগ, বেতন ২৫ হাজার টাকা পারস্য উপসাগরে কাতার উপকূলের কাছে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা হাসানের দুর্দান্ত বোলিংয়ে কোণঠাসা ওয়েস্ট ইন্ডিজ স্বাস্থ্যসেবা সংস্কারে বড় পরিকল্পনা ও রেকর্ড বরাদ্দ সরকারের দেশে সার উৎপাদন বাড়াতে তিনটি নতুন কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা সরকারের টেকনাফে সশস্ত্র পাচারকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষে প্রাণ হারালেন এক সেনাসদস্য

রংপুর মেডিকেল হাসপাতালের বিকল যন্ত্র মেরামত না করে ৮ কোটি টাকা ফেরত পাঠালেন কর্তৃপক্ষ 

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:০০:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ জুন ২০২৩ ২৩১ বার পড়া হয়েছে

রংপুর মেডিকেল হাসপাতালের বিকল যন্ত্র মেরামত না করে ৮ কোটি টাকা ফেরত পাঠালেন কর্তৃপক্ষ 

(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রংপুর মেডিকেল হাসপাতালের বিকল যন্ত্র  মেরামত না করেই ৮ কোটি টাকা ফেরত পাঠালেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

দীর্ঘদিন ধরে অচল থাকা গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্র চালু করতে সরকারের ‘নিমিউ অ্যান্ড টিসি’ বিভাগের চিফ টেকনিক্যাল ম্যানেজারের কাছে সংস্কারের জন্য একাধিকবার চিঠি দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

এখন টাকা পেয়েও তারা কেন যন্ত্রগুলো সংস্কার বা মেরামত না করে তা ফেরত পাঠাল। এ নিয়ে শুরু হয়েছে সমালোচনা।

রংপুর মেডিকেলে বিকল হয়ে পড়ে আছে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডিজিটাল এক্স-রে, সিটি স্ক্যান, ইকো, ডায়ালাইসিস এমআরআই, এন্ডোসকপি মেশিন।

অতি গুরুত্বপূর্ণ এসব যন্ত্রের কতগুলো বিকল হয়ে পড়ে আছে কয়েক মাস থেকে কয়েক বছর ধরে। এতে প্রায় সব পরীক্ষা করাতে হাসপাতালের বাইরে যেতে হচ্ছে রোগীদের। অথচ এসব মেশিন মেরামতে দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে কাজ না করিয়ে সংস্কারের জন্য পাওয়া বরাদ্দের ৮ কোটি টাকা ফেরত দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

গত ১৪ মে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর একটি চিঠি দিয়ে সেই টাকা ফেরত পাঠান হাসপাতালের পরিচালক মোহাম্মদ ইউনুস আলী।
ওই চিঠিতে বলা হয়, চিকিৎসা যন্ত্রপাতি খাতে ৮ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে, যা এই অর্থবছরে ব্যয় করা সম্ভব নয়।

তাই ওই টাকা ফেরত দেওয়া হলো। দীর্ঘদিন ধরে অচল থাকা এসব যন্ত্র চালু করতে সরকারের ‘নিমিউ অ্যান্ড টিসি’ (ন্যাশনাল ইলেকট্রোমেটিক্যাল ইকুইপম্যান্ট মেইনটেন্যান্স ওয়ার্কশপ) বিভাগের চিহ্ন টেকনিক্যাল ম্যানেজারের কাছে সংস্কারের জন্য একাধিকবার চিঠি দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

কিন্তু টাকা পেয়েও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কেন যন্ত্রগুলো সংস্কার বা মেরামত না করে তা ফেরত পাঠাল, এ নিয়ে শুরু হয়েছে সমালোচনা।

রমেক সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন অচল হয়ে পড়ে আছে ২০২০ সাল থেকে।

এ ছাড়া আরও ৫টি সাধারণ এক্স-রে মেশিন বিকল রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। হাসপাতালের সিঙ্গেল স্লাইস সিটি স্ক্যান মেশিনটি বিকল হয় ২০১৯ সালের ৩০ আগস্ট। সর্বাধুনিক এমআরআই মেশিনটিও কাজ করছে না ২০১৯ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে।

এমনকি ফিল্মের অভাবে কোনোভাবেই চালু করা সম্ভব হচ্ছে না অত্যাধুনিক আরেকটি এমআরআই মেশিন।

একইভাবে আরও বেশ কিছু মেশিন যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিকল হয়ে পড়ে আছে বছরের পর বছর ধরে। হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, হৃদরোগ ইউনিটে গুরুত্বপূর্ণ ৫টি ইকো মেশিন বিকল হয়ে পড়ে আছে বহুদিন ধরে।

২০১৭ সালের ২৪ জানুয়ারি ওই ওয়ার্ডটিতে ইকো মেশিন চালু করা হয়। বছর ঘুরতে না ঘুরতে সেগুলো অচল হয়ে পড়ে।

আর প্যাথলজিক্যাল বিভাগের একটি সূত্র বলছে, অনেক যন্ত্রপাতি নষ্ট থাকায় গুরুত্বপূর্ণ ৯টি প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না। হাসপাতালের অ্যান্ডোসকপি ও কোলনোসকপি মেশিন দুটিও দীর্ঘদিন ধরে বিকল হয়ে পড়ে আছে।

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ও ইউনিটের দায়িত্বরত ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, এসব গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্র নষ্ট হচ্ছে মূলত এসির ব্যবহার ঠিকমতো না হওয়ায়।

মেশিন চালু থাক বা না থাক, এসি চালু রাখতে হয় ২৪ ঘণ্টা; কিন্তু সেই এসিই বন্ধ। ফলে যেসব মেশিন চালু আছে, সেগুলোও প্রায় নষ্টের পথে। এসব মেশিন নষ্ট বা বিকল থাকায় সাধারণ মানুষের কষ্ট বেড়েছে বহুগুণ। হাসপাতালের আয়ও কমে গেছে।

কুড়িগ্রাম থেকে চিকিৎসা নিতে আসা আরিফুল ইসলাম জানান, আমার বোন এখানে ভর্তি আছে ৯ দিন ধরে। বায়োপসি, সিটি স্ক্যান, প্যাথলজির সব টেস্ট বাইরে করিয়েছি। টেস্ট করতে এত খরচ, মনে হচ্ছে বোনের চিকিৎসা করা সম্ভব হবে না।

নীলফামারী থেকে আসা আফজাল হোসেন জানান, চার দিন হলো বাবাকে ভর্তি করিয়েছি। চিকিৎসকরা প্রথমে যে টেস্টসদিয়েছে, তাতে পাঁচ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। আরও যেসব পরীক্ষা দিয়েছে, তাতেও পাঁচ হাজারের বেশি টাকা লাগবে। আমাদের মতো সাধারণ মানুষের জন্য এখানে বিন্দুমাত্র সুযোগ-সুবিধা নেই। যত টেষ্ট দিচ্ছে সবগুলো বাইরে করতে হচ্ছে।

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা.ভমোহাম্মদ ইউনুস আলী বলেন, আগে যেটেন্ডারগুলো হওয়ার কথা, সেগুলোর কিছুই হয়নি। শেষ সময়ে এসে অনেক কিছু করতে হচ্ছে। যন্ত্রপাতি মেরামতে যে পরিমাণ সময় ও লোকবল দরকার, সেগুলোও নেই। এই তাল্প সময়ে ভারী যন্ত্রপাতি মেরামতের টেন্ডার করা সম্ভব নয়।

সে কারণে আরলি টাকাটা ফেরত পাঠানো হয়েছে। তবে নতুন বছরে আবার বরাদ্দ চাওয়া হবে। টাকা পেলে কাজ করব।

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

রংপুর মেডিকেল হাসপাতালের বিকল যন্ত্র মেরামত না করে ৮ কোটি টাকা ফেরত পাঠালেন কর্তৃপক্ষ 

আপডেট সময় : ১২:০০:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ জুন ২০২৩

রংপুর মেডিকেল হাসপাতালের বিকল যন্ত্র  মেরামত না করেই ৮ কোটি টাকা ফেরত পাঠালেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

দীর্ঘদিন ধরে অচল থাকা গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্র চালু করতে সরকারের ‘নিমিউ অ্যান্ড টিসি’ বিভাগের চিফ টেকনিক্যাল ম্যানেজারের কাছে সংস্কারের জন্য একাধিকবার চিঠি দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

এখন টাকা পেয়েও তারা কেন যন্ত্রগুলো সংস্কার বা মেরামত না করে তা ফেরত পাঠাল। এ নিয়ে শুরু হয়েছে সমালোচনা।

রংপুর মেডিকেলে বিকল হয়ে পড়ে আছে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডিজিটাল এক্স-রে, সিটি স্ক্যান, ইকো, ডায়ালাইসিস এমআরআই, এন্ডোসকপি মেশিন।

অতি গুরুত্বপূর্ণ এসব যন্ত্রের কতগুলো বিকল হয়ে পড়ে আছে কয়েক মাস থেকে কয়েক বছর ধরে। এতে প্রায় সব পরীক্ষা করাতে হাসপাতালের বাইরে যেতে হচ্ছে রোগীদের। অথচ এসব মেশিন মেরামতে দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে কাজ না করিয়ে সংস্কারের জন্য পাওয়া বরাদ্দের ৮ কোটি টাকা ফেরত দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

গত ১৪ মে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর একটি চিঠি দিয়ে সেই টাকা ফেরত পাঠান হাসপাতালের পরিচালক মোহাম্মদ ইউনুস আলী।
ওই চিঠিতে বলা হয়, চিকিৎসা যন্ত্রপাতি খাতে ৮ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে, যা এই অর্থবছরে ব্যয় করা সম্ভব নয়।

তাই ওই টাকা ফেরত দেওয়া হলো। দীর্ঘদিন ধরে অচল থাকা এসব যন্ত্র চালু করতে সরকারের ‘নিমিউ অ্যান্ড টিসি’ (ন্যাশনাল ইলেকট্রোমেটিক্যাল ইকুইপম্যান্ট মেইনটেন্যান্স ওয়ার্কশপ) বিভাগের চিহ্ন টেকনিক্যাল ম্যানেজারের কাছে সংস্কারের জন্য একাধিকবার চিঠি দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

কিন্তু টাকা পেয়েও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কেন যন্ত্রগুলো সংস্কার বা মেরামত না করে তা ফেরত পাঠাল, এ নিয়ে শুরু হয়েছে সমালোচনা।

রমেক সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন অচল হয়ে পড়ে আছে ২০২০ সাল থেকে।

এ ছাড়া আরও ৫টি সাধারণ এক্স-রে মেশিন বিকল রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। হাসপাতালের সিঙ্গেল স্লাইস সিটি স্ক্যান মেশিনটি বিকল হয় ২০১৯ সালের ৩০ আগস্ট। সর্বাধুনিক এমআরআই মেশিনটিও কাজ করছে না ২০১৯ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে।

এমনকি ফিল্মের অভাবে কোনোভাবেই চালু করা সম্ভব হচ্ছে না অত্যাধুনিক আরেকটি এমআরআই মেশিন।

একইভাবে আরও বেশ কিছু মেশিন যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিকল হয়ে পড়ে আছে বছরের পর বছর ধরে। হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, হৃদরোগ ইউনিটে গুরুত্বপূর্ণ ৫টি ইকো মেশিন বিকল হয়ে পড়ে আছে বহুদিন ধরে।

২০১৭ সালের ২৪ জানুয়ারি ওই ওয়ার্ডটিতে ইকো মেশিন চালু করা হয়। বছর ঘুরতে না ঘুরতে সেগুলো অচল হয়ে পড়ে।

আর প্যাথলজিক্যাল বিভাগের একটি সূত্র বলছে, অনেক যন্ত্রপাতি নষ্ট থাকায় গুরুত্বপূর্ণ ৯টি প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না। হাসপাতালের অ্যান্ডোসকপি ও কোলনোসকপি মেশিন দুটিও দীর্ঘদিন ধরে বিকল হয়ে পড়ে আছে।

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ও ইউনিটের দায়িত্বরত ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, এসব গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্র নষ্ট হচ্ছে মূলত এসির ব্যবহার ঠিকমতো না হওয়ায়।

মেশিন চালু থাক বা না থাক, এসি চালু রাখতে হয় ২৪ ঘণ্টা; কিন্তু সেই এসিই বন্ধ। ফলে যেসব মেশিন চালু আছে, সেগুলোও প্রায় নষ্টের পথে। এসব মেশিন নষ্ট বা বিকল থাকায় সাধারণ মানুষের কষ্ট বেড়েছে বহুগুণ। হাসপাতালের আয়ও কমে গেছে।

কুড়িগ্রাম থেকে চিকিৎসা নিতে আসা আরিফুল ইসলাম জানান, আমার বোন এখানে ভর্তি আছে ৯ দিন ধরে। বায়োপসি, সিটি স্ক্যান, প্যাথলজির সব টেস্ট বাইরে করিয়েছি। টেস্ট করতে এত খরচ, মনে হচ্ছে বোনের চিকিৎসা করা সম্ভব হবে না।

নীলফামারী থেকে আসা আফজাল হোসেন জানান, চার দিন হলো বাবাকে ভর্তি করিয়েছি। চিকিৎসকরা প্রথমে যে টেস্টসদিয়েছে, তাতে পাঁচ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। আরও যেসব পরীক্ষা দিয়েছে, তাতেও পাঁচ হাজারের বেশি টাকা লাগবে। আমাদের মতো সাধারণ মানুষের জন্য এখানে বিন্দুমাত্র সুযোগ-সুবিধা নেই। যত টেষ্ট দিচ্ছে সবগুলো বাইরে করতে হচ্ছে।

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা.ভমোহাম্মদ ইউনুস আলী বলেন, আগে যেটেন্ডারগুলো হওয়ার কথা, সেগুলোর কিছুই হয়নি। শেষ সময়ে এসে অনেক কিছু করতে হচ্ছে। যন্ত্রপাতি মেরামতে যে পরিমাণ সময় ও লোকবল দরকার, সেগুলোও নেই। এই তাল্প সময়ে ভারী যন্ত্রপাতি মেরামতের টেন্ডার করা সম্ভব নয়।

সে কারণে আরলি টাকাটা ফেরত পাঠানো হয়েছে। তবে নতুন বছরে আবার বরাদ্দ চাওয়া হবে। টাকা পেলে কাজ করব।

 

Facebook Comments Box