যাকাত শব্দের অর্থ ও যাকাত দেয়ার নিয়ম : দৈনিক সৃষ্টি নিউজ
  1. admin@sristy.net : admin :
যাকাত শব্দের অর্থ ও যাকাত দেয়ার নিয়ম : দৈনিক সৃষ্টি নিউজ
সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ০২:২০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ধানমন্ডিতে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে আটক দুই তরুণী ৬ মাস আগের মামলায় গ্রেপ্তার বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ: বাংলাদেশের জয়ে চাপে ভারত, ফাইনালে ওঠার কঠিন সমীকরণ আইডিআরএ’র সদস্য (প্রশাসন) হিসেবে নিয়োগ পেলেন মো. সিরাজুল ইসলাম প্রতিবন্ধীদের কর্মসংস্থান ও দক্ষতায় গুরুত্ব দিচ্ছে কাতার চেম্বার যবিপ্রবির দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন ইন্দোনেশিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্প: ফের আলোচনায় প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ঐতিহাসিক জয়: টাইগারদের ভিডিও কলে অভিনন্দন জানালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের জন্য এখনো অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়নি: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভূরুঙ্গামারীতে জাতীয় মৎস্য পক্ষ উদযাপন মৌলভীবাজারের রাজনগরে চা শ্রমিক দম্পতির অস্বাভাবিক মৃত্যু

যাকাত শব্দের অর্থ ও যাকাত দেয়ার নিয়ম

মো. খুরশীদ আলম, সহকারি অধ‍্যাপক, ইসলাম শিক্ষা বিভাগ, সোনাহাট ডিগ্রি কলেজ
  • প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৪
যাকাত শব্দের অর্থ ও যাকাত দেয়ার নিয়ম

যাকাত শব্দের অর্থ ও যাকাত দেয়ার নিয়ম

যাকাত শব্দের অর্থ কি?

আরবী الزكاة ‘যাকাত’ শব্দের আভিধানিক অর্থ বৃদ্ধি ও উন্নতি। যাকাত শব্দের আভিধানিক আরেকটি অর্থ হয় التطهير (তাতহির), যার বাংলা অনুবাদ পবিত্র করা। যেমন, আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: ﴿قَدۡ أَفۡلَحَ مَن زَكَّىٰهَا ٩﴾ [الشمس: 9] “সে নিশ্চিত সফল হয়েছে যে তাকে (নফসকে) পবিত্র করেছে”। [সূরা আশ-শামস, আয়াত: ৯] যাকাতের কারণে সম্পদ বৃদ্ধি পায়, তাই যাকাতকে যাকাত বলা হয়।

বিভিন্ন পেশার মানুয়ের যাকাত :

এক. আপনি যদি কৃষক হয়ে থাকেন তাহলে, এক মওসুম থেকে আরেক মওসুম পর্যন্ত খানা পিনা, নিত্য প্রয়োজন সেরে আবার ফসলের মাঠ প্রস্তুতের সামর্থ্য থাকা আপনার জরুরী প্রয়োজন। এর অতিরিক্তটা নেসাবের অন্তর্ভুক্ত হবে।
দুই. আপনি যদি ব্যবসায়ী হন তাহলে আপনার প্রথমবার হাট করে অথবা দোকানে পণ্য তোলে, আরেকবার পণ্য তোলা পর্যন্ত আপনার খানাপিনা, নিত্য প্রয়োজন পরবর্তী পণ্য কেনা পর্যন্ত সামর্থ্য থাকা আপনার জরুরী প্রয়োজন। এর বাহিরে যা থাকবে তা নেসাবের অন্তর্ভুক্ত হবে।
তিন. আপনি যদি চাকুরীজীবী হন তাহলে দেখতে হবে আপনি কতদিন পর পর বেতন পান। যদি বাৎসরিক হিসেবে বেতন পান তাহলে এক বৎসরের খানাপিনা ও নিত্যপ্রয়োজন সারার মত সম্পদ আপনার জরুরী প্রয়োজন,  মাসিক হিসেবে বেতন পান তাহলে এক মাসের খানাপিনা ও নিত্যপ্রয়োজন সারার মত সম্পদ আপনার জরুরী প্রয়োজন।
যদি সাপ্তাহিক বেতন পান তাহলে এক সপ্তাহের খানাপিনা ও নিত্যপ্রয়োজন সারার মত সম্পদ আপনার জরুরী প্রয়োজন,
যদি দৈনিক বেতন পান তাহলে একদিনের খানাপিনা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সম্পদ আপনার জরুরী প্রয়োজন। এর অতিরিক্ত যে টাকা থাকবে তা নেসাবে অন্তর্ভুক্ত হবে।

যাকাতের কারণে নেকিও বর্ধিত হয়। আরেকটি কারণ হলো, যাকাত নফসকে কৃপণতার ন্যায় বদ অভ্যাস থেকে পবিত্র করে, তাই অভিধানের দ্বিতীয় অর্থও শরঈ‘ যাকাতে পাওয়া যায়। ইসলামী পরিভাষায়, নির্দিষ্ট সম্পদের ভেতর শরী‘আত কর্তৃক নির্ধারিত পরিমাণকে যাকাত বলা হয়, যা বিশেষ শ্রেণি ও নির্দিষ্ট খাতে ব্যয় করতে হয়। জ্ঞাতব্য যে, কুরআন, সুন্নাহ ও মুসলিম উম্মাহর ঐকমত্যে যাকাত ফরয, এতে কারও দ্বিমত নেই।

যাকাত কি?

প্রত্যেক স্বাধীন, পূর্ণবয়স্ক মুসলমান নর-নারীকে প্রতি বছর স্বীয় আয় ও সম্পত্তির একটি নির্দিষ্ট অংশ, যদি তা ইসলামী শরিয়ত নির্ধারিত সীমা (নিসাব পরিমাণ) অতিক্রম করে তবে, গরীব-দুঃস্থদের মধ্যে বিতরণের নিয়মকে যাকাত বলা হয়।

যাকাত কত প্রকার:

বিভিন্ন প্রকার যাকাত রয়েছে, যেমন স্বর্ণের যাকাত, চেক ও ব্যাংক নোটের যাকাত, যাকাতুল ফিতর, ব্যবসায়ী পণ্যের যাকাত, গুপ্তধনের যাকাত, জীব-জন্তুর যাকাত এবং ফল ও ফসলের যাকাত।

যাকাত ফরয হওয়ার শর্তসমূহ:

১ম শর্ত: ব্যক্তির স্বাধীন হওয়া: যাকাত ফরয হওয়ার জন্য ব্যক্তির স্বাধীন হওয়া জরুরি, কারণ গোলাম-দাসের ওপর যাকাত ফরয নয়, তবে তাদের পক্ষ থেকে যাকাতুল ফিতর আদায় করা জরুরি, যার বর্ণনা সামনে আসছে।
২য় শর্ত: মুসলিম হওয়া জ্ঞাতব্য যে, যাকাত ফরয হওয়ার জন্য ব্যক্তির সাবালিগ ও বিবেক সম্পন্ন হওয়ার জরুরি নয়। এটিই আলিমদের বিশুদ্ধ মত। অতএব, নাবালক ও পাগলের সম্পদে যাকাত ফরয। অভিভাবকগণ তাদের সম্পদ থেকে যাকাত বের করবেন।

৩য় শর্ত: সম্পদ নিসাব পরিমাণ থাকা: শরী‘আত কর্তৃক সম্পদের নির্দিষ্ট পরিমাণকে নিসাব বলা হয়। সম্পদ নিসাব পরিমানের সমান বা বেশি হলে যাকাত ওয়াজিব হবে। ৪র্থ শর্ত: নিসাব পরিমাণ সম্পদে হিজরী এক বছর পূর্ণ হওয়া: কারণ, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «لا زكاة في مالٍ، حتى يَحُول عليه الحَوْل». “কোনো সম্পদেই যাকাত নেই, যতক্ষণ না তার ওপর এক বছর পূর্ণ হবে”।

সম্পদ যেদিন নিসাব পরিমাণ হবে সেদিন থেকে হিজরী বছর গণনা শুরু করবে, তবে শর্ত হচ্ছে বছর শেষ পর্যন্ত নিসাব পরিমাণ সম্পদ স্থির থাকা অথবা ক্রমান্বয়ে বর্ধিত হওয়া।

যদি বছরের মধ্যবর্তী সম্পদ নিসাব থেকে কমে যায়, অতঃপর একই বছর পুনরায় নিসাব পরিমাণ হয়, তাহলে বিশুদ্ধ মতে দ্বিতীয়বার যখন সম্পদ নিসাব পরিমাণ হবে, তখন থেকে বছর গণনা শুরু করবে, প্রথম তারিখ গ্রহণযোগ্য নয়, কারণ নিসাব থেকে সম্পদ কমে যাওয়ার কারণে বছর শেষ হয়ে গেছে।

অধিকাংশ আলিমের মাযহাব এটি। তবে কতক সম্পদ রয়েছে, যার যাকাত ওয়াজিব হওয়ার জন্য এক বছর পূর্ণ হওয়া জরুরি নয়। যেমন, জমি থেকে উৎপন্ন ফল ও ফসল। কারণ জমি থেকে যে দিন উৎপন্ন ফল ও ফসল কাটা হয় সেদিন তার ওপর যাকাত ওয়াজিব হয়। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: ﴿وَءَاتُواْ حَقَّهُۥ يَوۡمَ حَصَادِهِۦۖ ١٤١﴾ [الأنعام: 141] “আর তার (অর্থাৎ ফল ও ফসলের) হক দিয়ে দাও, যে দিন তা কাটা হয়”। [সূরা আল-আন‘আম, আয়াত: ১৪১]অনুরূপ জতুষ্পদ প্রাণীর বাচ্চার যাকাত, অর্থাৎ হিজরী বছরের মধ্যবর্তী যদি কোন পশু বাচ্চা জন্ম দেয়, সেই বাচ্চা নিসাবের সাথে যোগ হবে। সামনে তার আলোচনা আসছে।

অনুরূপ ব্যবসায়ী পণ্যের মুনাফা, অর্থাৎ বছরের মাঝখানে অর্জিত মুনাফা মূলধনের সাথে যোগ হবে, যদিও মুনাফার ওপর এক বছর পূর্ণ না হয়। অনুরূপ গুপ্তধন, তার ওপরও হিজরী এক বছর পূর্ণ হওয়া জরুরি নয়, সামনে তার বর্ণনা আসছে।

উল্লেখ্য, যাকাত ওয়াজিব হওয়ার জন্য যেসব সম্পদে হিজরী এক বছর পূর্ণ হওয়া জরুরি নয়, তার বিস্তারিত বর্ণনা নির্দিষ্ট স্থানে আসছে। যাকাতের হিসাব ক‍্যালকুলেটর

স্থায়ী সম্পদের জাকাত:

স্থায়ী সম্পত্তি জমি, দালানকোঠা, আসবাবপত্র, যন্ত্রপাতি, যানবাহন ইত্যাদিকে স্থায়ী সম্পত্তি বলা হয়।
(ক) বসবাস, ব্যবহার, উৎপাদন কাজে বা কার্য সম্পাদনের উদ্দেশ্যে নিয়োজিত স্থায়ী সম্পত্তির উপর যাকাত ধার্য হয় না।
(খ) আয়ের জন্য ভাড়ায় ব‍্যবহার করা স্থায়ী সম্পত্তি যেমন- গৃহ, দোকান, দালানকোঠা, জমি, যন্ত্রপাতি, গাড়ি, যানবাহন ইত্যাদির উপর যাকাত ধার্য হয় না। তবে এই সব সম্পত্তি থেকে ভাড়া বাবদ অর্জিত নিট আয়ের উপর যাকাত ধার্য হবে। যাকাতযোগ্য অন‍্যান‍্য সম্পত্তির সঙ্গে এই আয় যোগ করে ২.৫% হারে যাকাত প্রদান করতে হবে।

(গ) বেচা-কেনার উদ্দেশ্যে নিয়োজিত স্থায়ী সম্পত্তি যেমন- জমি, গৃহ, দোকান, এপার্টমেন্ট, দালানকোঠা, আসবাবপত্র, যন্ত্রপাতি, গাড়ি, যানবাহন ইত্যাদি ব্যবসায়িক পণ্য বলে গণ্য করা হবে এবং এগুলোর মূল্যের উপর যাকাত ধার্য হবে।

ঋণদাতার উপর যাকাত (ক) আদায়যোগ্য ঋণ আদায় হলে তা অন্যান্য যাকাতযোগ্য সম্পদের সাথে যোগ করতে হবে। যাকাত প্রদান করতে হবে। আদায়কৃত ঋণ অন্যান্য যাকাতযোগ্য সম্পদের সাথে যোগ করে যাকাত প্রদান করতে হবে।

১. যে সকল ঋণ নগদে বা কোন দ্রব্যের বিনিময়ে কারো কাছে পাওনা হয়, এরূপ ঋণ আদায় হওয়ার পর যাকাত প্রদান করতে হবে। ওই অর্থের বিগত বৎসরের যাকাত প্রদান করতে হবে।
২. যে পাওনা কোন দ্রব্য বা নগদ ঋণের বিপরীতে নয়, যেমন উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত অস্থাবর সম্পদ, দান, অছিয়ত, মোহরাণার অর্থ ইত্যাদি বাবদ প্রাপ্ত হয়। এরূপ ক্ষেত্রে আদায়ের পর যাকাত ধার্য হবে। এগুলোর উপর বিগত বৎসরসমূহের যাকাত প্রদান করতে হবে না।

(খ) আদায় অযোগ্য বা আদায় হবার ব্যাপারে সন্দেহ থাকলে সে ঋণ যাকাতের হিসাবে আসবে না। যদি কখনও উক্ত ঋণের টাকা আদায় হয়, তবে কেবলমাত্র… ১(এক) বছরের জন্য উহার যাকাত দিতে হবে। ঋণগ্রহিতার উপর যাকাত (ক) ঋণগ্রহিতার ঋণের টাকা মোট যাকাতযোগ্য সম্পদ থেকে বাদ যাবে। কিন্তু যদি ঋণগ্রহিতার মৌলিক প্রয়োজনের অতিরিক্ত স্থায়ী সম্পত্তি (যেমন-অতিরিক্ত বাড়ী, দালান, এপার্টমেন্ট, জমি, মেশিনারী, যানবাহন, গাড়ী ও আসবাবপত্র ইত্যাদি) থাকে যা দ্বারা এরূপ ঋণ পরিশোধ করতে সক্ষম হবেন, তবে উক্ত ঋণের যাকাত প্রদান করতে হবে। এই ঋণ যাকাতযোগ্য সম্পদের সঙ্গে যোগ করে সমুদয় সম্পদের জাকাত দিতে হবে।

(খ) স্থাবর সম্পদের উপর কিস্তিভিত্তিক ঋণ (যেমন-হাউজিং লোন ইত্যাদি) যাকাতযোগ্য সম্পদ থেকে বাদ যাবে না। তবে বার্ষিক কিস্তির টাকা অপরিশোধিত থাকলে তা যাকাতযোগ্য সম্পদ থেকে বাদ যাবে।

(গ) ব্যবসায়ে বিনিয়োগের জন্য ঋণ নেওয়া হলে উক্ত ঋণের টাকা যাকাতযোগ্য সম্পদ থেকে বাদ যাবে। কিন্তু যদি ঋণগ্রহিতার মৌলিক প্রয়োজনের অতিরিক্ত স্থায়ী সম্পত্তি থাকে তবে উক্ত ঋণ যাকাতযোগ্য সম্পদ থেকে বাদ যাবে না। (ঘ) শিল্প-বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ঋণের টাকা যাকাতযোগ্য সম্পদ থেকে বাদ যাবে। তবে যদি ঋণগ্রহিতার মৌলিক প্রয়োজনের অতিরিক্ত স্থায়ী সম্পত্তি থেকে উক্ত ঋণ পরিশোধ করা যায় তবে তা যাকাতযোগ্য সম্পদ থেকে বাদ যাবে না।

(ঙ) যদি অতিরিক্ত স্থায়ী সম্পত্তির মূল্য ঋণের পরিমাণের চেয়ে কম হয়, তবে ঋণের পরিমাণ থেকে তা বাদ দিয়ে বাকী ঋণের টাকা যাকাতযোগ্য সম্পদ থেকে বাদ যাবে। বিলম্বে প্রদেয় বা পুণ:তপসিলিকৃত ঋণের বেলায় শুধুমাত্র ঋণের বার্ষিক অপরিশোধিত কিস্তি যাকাতযোগ্য সম্পদ থেকে বাদ যাবে।

পশুর যাকাত:

উটের সর্বনিম্ন নিসাব পাঁচটি, গরু-মহিষের ত্রিশটি এবং ছাগল-ভেড়ার চল্লিশটি। তবে এ ধরণের পশু বৎসরের অর্ধেকের বেশি সময় মুক্তভাবে চারণভূমিতে খাদ্য গ্রহণ করলেই এসব পশুর উপর সংখ্যা ভিত্তিক যাকাত ধার্য হবে। ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে যে কোন পশুসম্পদ প্রতিপালন করা হলে সেগুলোকে ব্যবসায়িক পণ্য বলে গণ্য করা হবে এবং এদের উপর যাকাত সংখ্যার ভিত্তিতে নয়, মূল্যের ভিত্তিতে ধার্য হবে। ব্যবসার উদ্দেশ্যে খামারে পালিত মৎস্য, হাঁস-মুরগী, গরু-ছাগল ইত্যাদি এবং খামারে উৎপাদিত দুধ, ডিম, ফুটানো বাচ্চা, মাছের রেণু, পোনা ইত্যাদি ব্যবসার সম্পদ হিসাবে যাকাত প্রদান করতে হবে।

প্রিয়নবী মুহম্মদ (সা:) পানিতে বাস করা অবস্থায় মাছ ক্রয়-বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন। “মাছ যখন বিক্রির জন্য ধরা হবে তখনই এর যাকাত পরিশোধ করতে হবে।”

শস্য ও ফলের যাকাত (উশর) শস্য ও ফলমূলের যাকাতকে উশর বলে। জমি থেকে উৎপন্ন সকল প্রকার শস্য, শাকশব্জি, তরি-তরকারি ও ফলের উপর যাকাত প্রযোজ্য। ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে বিনিয়োগ করা হলে বনজ বৃক্ষ, ঘাস, নলখাগড়া, ঔষধি বৃক্ষ, চা বাগান, রাবার চাষ, তুলা, আগর, ফুল, অর্কিড, বীজ, চারা, কলম ইত্যাদি যাকাতের আওতাভুক্ত হবে। ফসল আসার সাথে সাথে উশর পরিশোধ করতে হয়। এ ক্ষেত্রে বৎসর অতিক্রান্ত হওয়ার প্রয়োজন নাই।

বৎসরে একাধিকবার ফসল আসলে একাধিকবার উশর পরিশোধ করতে হবে। অনেক ধরনের ফল, ফসল ও শাকশব্জি একই সাথে কাটা বা উত্তোলন করা যায় না। যেমন- মরিচ, বেগুন, পেঁপে, লেবু, কাঁঠাল ইত্যাদির পরিপক্কতা বুঝে কিছু কিছু করে কয়েকদিন পর পর পুরো কৃষি মৌসুমে বার বার উত্তোলন করা হয়।

ফসলের মালিক যদি ফসলের আনুমানিক পরিমাণ নিরূপণ করতে সমর্থ হন এবং তা নিসাব পরিমাণ হলে, প্রথম থেকেই প্রতি উত্তোলনের সাথে সাথে উশর (যাকাত) পরিশোধ করতে হবে।

যদি মালিকের পক্ষে ফসলের লর পরিমাণ নিরূপণ সম্ভব না হলে, তিনি প্রথম উত্তোলন থেকে ফসলের হিসাব রাখবেন এবং যখনি মোট উত্তোলিত ফসলের পরিমাণ নিসাব পরিমাণে পৌঁছবে তখনি ঐ দিন পর্যন্ত মোট উত্তোলিত ফসলের যাকাত পরিশোধ করবেন এবং তৎপরবর্তী প্রতি উত্তোলনের সাথে সাথে যাকাত পরিশোধ করবেন।

জ্বালানি কাঠ, লাকড়ি, আসবাবপত্র ও গৃহনির্মাণে ব্যবহার উপযোগী বৃক্ষ যখন কাটার পর এগুলোর উপর যাকাত প্রযোজ্য হবে। যত দীর্ঘ সময় পর কাটা হউক না কেন। যে জমিতে সেচ প্রয়োজন হয় না, প্রাকৃতিকভাবে সিক্ত হয়, তার ফসলের যাকাত হবে দশ ভাগের একভাগ (১০%) আর যে জমিতে সেচের প্রয়োজন হয়,তার ফসলের যাকাত হবে বিশ ভাগের একভাগ (৫%)। ফসল উৎপাদনের ব্যয় যেমন- চাষ, সার, কীটনাশক, বপন ও কর্তন ইত্যাদি খরচ উৎপাদিত ফসলের পরিমাণ থেকে বাদ যাবে, তবে এ সব খরচ মোট উৎপাদিত ফসলের এক তৃতীয়াংশের বেশি বাদ যাবে না।

ফসলের নিসাবের পরিমাণ ৫ ওয়াস্ক বা ৬৫৩ কিলোগ্রাম।অনেক মাপা বা ওজন করা হয় না এমন কৃষি ফসল যেমন বিভিন্ন ধরনের ফল, ফসল, শাকশব্জি, ফুল, অর্কিড, চারা, বৃক্ষ ইত্যাদির নিসাব নির্ধারণের ক্ষেত্রে দেশের সাধারণ ফসল চাল বা গমের ৬৫৩ কেজির মূল্য (স্থানীয় বাজারে গড় মূল্য) নিসাব হিসাবে গণ্য করা যাবে।

নিসাব (সর্বনিম্ন পরিমাণ) যাকাতের হার:

.নগদ অর্থ: ব্যাংক জমা এবং ব্যবসায়িক পণ‍্য,স্বর্ণ, রৌপ্য কিংবা সোনা-রূপার অলংকার সোনা ৭.৫ তোলা এবং রূপা ৫২.৫ তোলা।সম্পূর্ণ মূল্যের ২.৫%।
২. কৃষিজাত দ্রব্য: আবু হানিফার মতে, যেকোনো পরিমাণ এবং অন্যান্যদের মতে, ৫ ওয়াসাক বা ২৬ মণ ১০ সের; ইসলামিক ইকোলজিক্যাল রিসার্চ ব্যুরো’র মতে, ১৫৬৮ কেজি বৃষ্টিতে উৎপাদিত দ্রব্যের ১০%।

৩. খনিজ দ্রব্য: যেকোনো পরিমাণ দ্রব্যের ২০%
৪. ভেড়া-ছাগল:৪০-১২০টি হলে ১টি ভেড়া বা ছাগল।১২১-২০০টি, হলে ২টি ভেড়া বা ছাগল,২০১-৪০০টি হলে ৩টি ভেড়া বা ছাগল, ৪০০-৪৯৯টি, ৪টি ভেড়া বা ছাগল,
৫০০ বা ততোধিক হলে ৫টি ভেড়া বা প্রতি শ’তে ১টি।

৫. গরু-মহিষ: ৩০-৩৯টি হলে ১টি এক বছরের বাছুর। ৪০-৪৯টি হলে ১টি দুই বছরের বাছুর। ৫০-৫৯টি হলে ২টি দুই বছরের বাছুর। ৬০-৬৯টি হলে ১টি তিন বছরের এবং ১টি দুই বছরের বাছুর। ৭০-৭৯টি হলে ২টি তিন বছরের বাছুর। ৮০-৮৯টি হলে ৩টি দুই বছরের বাছুর। ৯০-৯৯টি হলে ১টি তিন বছরের এবং ২টি দুই বছরের বাছুর। ১০০-১১৯টি হলে দুই বছরের বাছুর -এভাবে ঊর্ধ্বে হিসাব হবে।

৬.উট: ৫-৯টি হলে ১টি তিন বছরের খাসি। ১০-১৪টি হলে ১টি এক বছরের বকরি। ১৫-১৯টি হলে ২টি এক বছরের বকরি।
২০-২৪টি হলে ৩টি এক বছরের বকরি। ২৫-৩৫টি হলে ৪টি এক বছরের বকরি। ৩৬-৪৫টি হলে ৪টি এক বছরের মাদী উট। ৪৬-৬০টি হলে ২টি তিন বছরের মাদী উট। ৬১-৭৫টি হলে ২টি চার বছরের মাদী উট। ৭৯-৯০টি হলে ১টি পাঁচ বছরের মাদী উট। ৯১-১২০টি হলে ২টি তিন বছরের মাদী উট। ১২১-১২৯টি হলে২টি চার বছরের মাদী উট।

১৩০-১৩৪টি হলে ২টি চার বছরের মাদী উট এবং ১টি ছাগল। ১৩৫-১৩৯টি হলে ২টি চার বছরের মাদী উট এবং ২টি ছাগল। ১৪০-১৪৪টি হলে ২টি চার বছরের মাদী উট এবং ৩টি ছাগল। ১৪৫-১৪৯টি হলে ২টি চার বছরের মাদী উট এবং ৪টি ছাগল। ১৫০ এবং তদুর্ধ্ব অথবা ২টি চার বছরের মাদী উট এবং ১টি দুই বছরের উট ৩টি ৪ বছরের মাদী উট এবং প্রতি ৫টিতে ১টি ছাগল।

৭. ঘোড়া:(এক্ষেত্রে তিনটি মত পাওয়া যায়) যাকাত নেই। কিংবা সম্পূর্ণ মূল্যের ২.৫% কিংবা প্রতিটি ঘোড়ার জন্য ১ দিনার পরিমাণ অর্থ।

৮. শেয়ার, ব্যাংক নোট, স্টক : ৫২.৫ তোলা রূপার মূল্যমান সম্পূর্ণ মূল্যের ২.৫%, তবে কোম্পানী যাকাত দিলে ব্যক্তিগতভাবে যাকাত দিতে হবে না।
৯. অংশীদারী কারবার ও মুদারাবা: ৫২.৫ তোলা রূপার মূল্যমান প্রথমে সম্পত্তির যাকাত দিতে হবে, মূলধনের নয়; এরপর লাভ বন্টিত হবে। যাকাত ব্যক্তিগতভাবে লাভের উপর হবে, একভাগ (২.৫%) দিবে মূলধন সরবরাহকারী এবং একভাগ (২.৫%) দিবে শ্রমদানকারী।

কাকে যাকাত দিতে হবে?

পবিত্র কুরআনের সূরা আত-তাওবার ৬০ নাম্বার আয়াতে যাকাত বণ্টনে আটটি খাত আল্লাহ তায়ালা নির্ধারন করেছেন। । এই খাতগুলো সরাসরি কুরআন দ্বারা নির্দিষ্ট এবং যেহেতু তা আল্লাহর নির্দেশ, তাই এর বাইরে যাকাত বণ্টন করলে তা ইসলামী শরিয়তসম্মত হয় না। যাকাত বন্টনের আটটি খাত:

(১) ফকির (যার কিছুই নেই)
(২) মিসকীন(যার নেসাব পরিমাণ সম্পদ নেই)।
(৩) যাকাত আদায়ে নিযুক্ত কর্মচারী (যার অন্য জীবিকা নেই) (৪) নওমুসলিমদের(আর্থিক সংকটে থাকলে)।
(৫) বন্দিমুক্তি(ক্রীতদাস মুক্তির উদ্দেশ্যে)।
৬) ঋণগ্রস্ত। (ধনী সম্পদশালী ব্যক্তি কিন্তু যার সম্পদের তুলনায় ঋণ বেশি)।
(৭) আল্লাহর রাস্তার মুজাহিদ, মুবাল্লিগ, মুআল্লিম, মুতাআল্লিম (স্বদেশে ধনী হলেও বিদেশে) আল্লাহর পথে জিহাদে রত ব্যক্তি।
(৮)মুসাফির (যিনি ভ্রমণকালে অভাবে পতিত) হাদিসমতে, এগুলো ফরয সাদকাহের খাত, এবং নফল সাদকাহ এই আট খাতেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এর পরিসর আরো প্রশস্ত।

যাকাতের গুরুত্ব :

যাকাত ইসলামের বিধিবদ্ধ ইবাদত। মহাগ্রন্থ আল-কুরআনে যাকাতের কথা নামাজের মতোই বারবার উল্লেখ করা হয়েছে। মহান রবের ইরশাদ- ‘তোমরা সালাত আদায় করো এবং যাকাত প্রদান করো। তোমরা যে উত্তম কাজ নিজেদের জন্য অগ্রে প্রেরণ করবে তা আল্লাহর কাছে পাবে। নিশ্চয়ই তোমরা যা করো আল্লাহ তা দেখছেন।’ (সূরা বাকারা-১১০)।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর















error: Content is protected !!