ঢাকা ১২:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কাতারে মুরগি ও সবজির আমদানি শুল্ক বৃদ্ধি মৌলভীবাজার: পর্যটন জেলা ঘোষণার ১৮ বছরেও অধরা উন্নয়ন আজ বিশ্ব পর্যটন দিবস: নানা আয়োজনে পালিত হচ্ছে কর্মসূচি জাতিসংঘে ৮১তম অধিবেশন শেষে দেশে ফিরলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সামুদ্রিক নীতির কার্যকর বাস্তবায়নে সরকারের গুরুত্বারোপ: প্রধানমন্ত্রী দেশজুড়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জোরদার পরিচ্ছন্নতা অভিযান নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নাশকতা: ৩০ সেকেন্ডের গেরিলা কৌশলে আতঙ্ক সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে দ্বিতীয় সারির দল পাঠাবে ভারত পরিচালনায় নতুন গল্প নিয়ে ফিরছেন মোস্তাফিজুর নূর ইমরান মিরপুরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে তাণ্ডব: দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি নাহিদের

মৌলভীবাজার: পর্যটন জেলা ঘোষণার ১৮ বছরেও অধরা উন্নয়ন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:২১:২১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

২০০৮ সালে মৌলভীবাজারকে পর্যটন জেলা ঘোষণা করা হলেও এখনো মেলেনি সরকারি গেজেট। পরিকল্পিত উদ্যোগ ও অবকাঠামোর অভাবে জেলাটির পর্যটন সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না।

(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য, চা-বাগান, পাহাড় ও হাওরবেষ্টিত মৌলভীবাজারকে ২০০৮ সালের ১ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে পর্যটন জেলা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল। ‘এসো বাংলাদেশ গড়ি’ রোড শো অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের তৎকালীন চেয়ারম্যান শফিক আলম মেহেদী এই ঘোষণা দেন। কিন্তু দীর্ঘ ১৮ বছর পার হয়ে গেলেও মৌলভীবাজারকে পর্যটন জেলা হিসেবে রূপান্তরের সেই স্বপ্ন এখনো অধরা। সরকারিভাবে এ সংক্রান্ত কোনো গেজেট প্রকাশ না হওয়ায় জেলাটিতে পর্যটন শিল্পের যথাযথ বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২০০৯ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর জেলাটিকে পর্যটন জেলা হিসেবে উন্নীতকরণের একটি প্রস্তাব পাঠানো হয়। সেখানে জেলার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, চা-বাগান, আদিবাসী সংস্কৃতি এবং উন্নত অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধার কথা তুলে ধরা হয়। তবে এরপর থেকে জেলাকে পর্যটনবান্ধব করার জন্য বড় ধরনের কোনো সমন্বিত পরিকল্পনা বা কার্যকর পদক্ষেপ চোখে পড়েনি। বর্তমানে শ্রীমঙ্গল, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, মাধবকুন্ড জলপ্রপাত ও হাকালুকি হাওরকে কেন্দ্র করে বিচ্ছিন্নভাবে পর্যটন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বিচ্ছিন্নভাবে সংরক্ষিত বনাঞ্চল, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, মাধবকুন্ড জলপ্রপাত ও ইকোপার্ক উন্নয়নের মধ্যেই পর্যটন বিকাশের ধারণা আটকে আছে। এই জেলায় রয়েছে বৈচিত্রময় প্রাকৃতিক পরিবেশ, চা-বাগান, মূল্যবান প্রাকৃতিক সম্পদ, আদিবাসীদের স্বতন্ত্র সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য, অভ্যন্তরীণ উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা, অবকাঠামোগত সুবিধা। সরকারি কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিরা সব সময় উন্নয়নের গল্প শোনান। পাহাড়-টিলা, সংরক্ষিত বনাঞ্চল, হাওর-বাঁওড়-বিল, ঝরনা, নদ-নদী পরিবেষ্টিত ও জীববৈচিত্রে সমৃদ্ধ এ জেলা ইকো-টুরিজমের জন্য খুবই উপযোগী।

শ্রীমঙ্গল পর্যটন সেবাসংস্থার সাবেক সাধারণ সম্পাদক সামশুল হক বলেন, ইকো-ট্যুরিজমের মাধ্যমে যাত্রা শুরু হলেও সরকারি উদাসীনতায় এ খাতটি আশানুরূপ এগোচ্ছে না। বর্তমানে পর্যটন ব্যবসায়ীরা নিজেদের উদ্যোগে যেটুকু অবকাঠামো গড়ে তুলেছেন, সরকারি সহায়তা ও পরিকল্পনা ছাড়া তা পর্যাপ্ত নয়। একই সুরে পর্যটন সেবা সংস্থার সাবেক সভাপতি সেলিম আহমেদ জানান, ছুটির দিনগুলোতে পর্যটকদের ভিড় থাকলেও পর্যাপ্ত হোটেল ও রিসোর্টের অভাব রয়েছে। সরকারি পর্যায়ে অবকাঠামোগত বিনিয়োগের অভাব স্পষ্ট, যা পর্যটকদের জন্য একটি বড় সংকট। এতে বলা হয়, মৌলভীবাজার পর্যটনশিল্পের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক মো. তৌহিদুজ্জামান পাবেল বলেন, জেলাটিকে পর্যটন জেলা ঘোষণার বিষয়টি তিনি শুনেছেন, তবে এ সংক্রান্ত কোনো দাপ্তরিক গেজেট তার হাতে নেই। তিনি জেলাটির পর্যটন স্পটগুলো চিহ্নিত করে সেগুলোকে পর্যটকদের জন্য আরও উপযোগী করার পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি বলেন, নতুন উদ্যোক্তা তৈরি ও পর্যটন শিল্পের প্রসারে সরকারি আর্থিক সহায়তা এবং সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। এ ধরণের উদ্যোগই মৌলভীবাজারকে একটি পর্যটন হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সাহায্য করবে।

এদিকে পর্যটন সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, পর্যটকদের চাহিদা অনুযায়ী মানসম্মত বিনোদন, নিরাপত্তা ও আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের সিনিয়র ট্যুর গাইড সৈয়দ শিপন আলী জানান, তারা সাধ্যমতো পর্যটকদের সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছেন এবং গত কয়েক দিন ধরে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তবে সরকারি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন না হলে এই জেলার অপার সম্ভাবনাকে পুরোপুরি কাজে লাগানো কঠিন হয়ে পড়বে। স্থানীয়রা জানান, চা-বাগান, হাওর, পাহাড় ও সমতলের বৈচিত্রপূর্ণ জনপদ মৌলভীবাজারকে ঘিরে পর্যটনের অপার সম্ভাবনা বিরাজ করলেও এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর সুদূরপ্রসারী কোনো উদ্যোগ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। পর্যটক আকর্ষণ, পর্যটকদের পথনির্দেশনা, নিরাপত্তা, থাকা ও বিনোদনের জন্য পরিকল্পিত কোনো ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়নি।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

মৌলভীবাজার: পর্যটন জেলা ঘোষণার ১৮ বছরেও অধরা উন্নয়ন

আপডেট সময় : ১১:২১:২১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য, চা-বাগান, পাহাড় ও হাওরবেষ্টিত মৌলভীবাজারকে ২০০৮ সালের ১ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে পর্যটন জেলা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল। ‘এসো বাংলাদেশ গড়ি’ রোড শো অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের তৎকালীন চেয়ারম্যান শফিক আলম মেহেদী এই ঘোষণা দেন। কিন্তু দীর্ঘ ১৮ বছর পার হয়ে গেলেও মৌলভীবাজারকে পর্যটন জেলা হিসেবে রূপান্তরের সেই স্বপ্ন এখনো অধরা। সরকারিভাবে এ সংক্রান্ত কোনো গেজেট প্রকাশ না হওয়ায় জেলাটিতে পর্যটন শিল্পের যথাযথ বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২০০৯ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর জেলাটিকে পর্যটন জেলা হিসেবে উন্নীতকরণের একটি প্রস্তাব পাঠানো হয়। সেখানে জেলার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, চা-বাগান, আদিবাসী সংস্কৃতি এবং উন্নত অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধার কথা তুলে ধরা হয়। তবে এরপর থেকে জেলাকে পর্যটনবান্ধব করার জন্য বড় ধরনের কোনো সমন্বিত পরিকল্পনা বা কার্যকর পদক্ষেপ চোখে পড়েনি। বর্তমানে শ্রীমঙ্গল, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, মাধবকুন্ড জলপ্রপাত ও হাকালুকি হাওরকে কেন্দ্র করে বিচ্ছিন্নভাবে পর্যটন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বিচ্ছিন্নভাবে সংরক্ষিত বনাঞ্চল, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, মাধবকুন্ড জলপ্রপাত ও ইকোপার্ক উন্নয়নের মধ্যেই পর্যটন বিকাশের ধারণা আটকে আছে। এই জেলায় রয়েছে বৈচিত্রময় প্রাকৃতিক পরিবেশ, চা-বাগান, মূল্যবান প্রাকৃতিক সম্পদ, আদিবাসীদের স্বতন্ত্র সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য, অভ্যন্তরীণ উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা, অবকাঠামোগত সুবিধা। সরকারি কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিরা সব সময় উন্নয়নের গল্প শোনান। পাহাড়-টিলা, সংরক্ষিত বনাঞ্চল, হাওর-বাঁওড়-বিল, ঝরনা, নদ-নদী পরিবেষ্টিত ও জীববৈচিত্রে সমৃদ্ধ এ জেলা ইকো-টুরিজমের জন্য খুবই উপযোগী।

শ্রীমঙ্গল পর্যটন সেবাসংস্থার সাবেক সাধারণ সম্পাদক সামশুল হক বলেন, ইকো-ট্যুরিজমের মাধ্যমে যাত্রা শুরু হলেও সরকারি উদাসীনতায় এ খাতটি আশানুরূপ এগোচ্ছে না। বর্তমানে পর্যটন ব্যবসায়ীরা নিজেদের উদ্যোগে যেটুকু অবকাঠামো গড়ে তুলেছেন, সরকারি সহায়তা ও পরিকল্পনা ছাড়া তা পর্যাপ্ত নয়। একই সুরে পর্যটন সেবা সংস্থার সাবেক সভাপতি সেলিম আহমেদ জানান, ছুটির দিনগুলোতে পর্যটকদের ভিড় থাকলেও পর্যাপ্ত হোটেল ও রিসোর্টের অভাব রয়েছে। সরকারি পর্যায়ে অবকাঠামোগত বিনিয়োগের অভাব স্পষ্ট, যা পর্যটকদের জন্য একটি বড় সংকট। এতে বলা হয়, মৌলভীবাজার পর্যটনশিল্পের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক মো. তৌহিদুজ্জামান পাবেল বলেন, জেলাটিকে পর্যটন জেলা ঘোষণার বিষয়টি তিনি শুনেছেন, তবে এ সংক্রান্ত কোনো দাপ্তরিক গেজেট তার হাতে নেই। তিনি জেলাটির পর্যটন স্পটগুলো চিহ্নিত করে সেগুলোকে পর্যটকদের জন্য আরও উপযোগী করার পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি বলেন, নতুন উদ্যোক্তা তৈরি ও পর্যটন শিল্পের প্রসারে সরকারি আর্থিক সহায়তা এবং সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। এ ধরণের উদ্যোগই মৌলভীবাজারকে একটি পর্যটন হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সাহায্য করবে।

এদিকে পর্যটন সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, পর্যটকদের চাহিদা অনুযায়ী মানসম্মত বিনোদন, নিরাপত্তা ও আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের সিনিয়র ট্যুর গাইড সৈয়দ শিপন আলী জানান, তারা সাধ্যমতো পর্যটকদের সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছেন এবং গত কয়েক দিন ধরে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তবে সরকারি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন না হলে এই জেলার অপার সম্ভাবনাকে পুরোপুরি কাজে লাগানো কঠিন হয়ে পড়বে। স্থানীয়রা জানান, চা-বাগান, হাওর, পাহাড় ও সমতলের বৈচিত্রপূর্ণ জনপদ মৌলভীবাজারকে ঘিরে পর্যটনের অপার সম্ভাবনা বিরাজ করলেও এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর সুদূরপ্রসারী কোনো উদ্যোগ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। পর্যটক আকর্ষণ, পর্যটকদের পথনির্দেশনা, নিরাপত্তা, থাকা ও বিনোদনের জন্য পরিকল্পিত কোনো ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়নি।

Facebook Comments Box