মাটির নিচে প্রাচীন আস্ত আজব শহর : দৈনিক সৃষ্টি নিউজ
  1. admin@sristy.net : admin :
মাটির নিচে প্রাচীন আস্ত আজব শহর : দৈনিক সৃষ্টি নিউজ
বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ১০:১৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ঠাকুরগাঁওয়ে পুলিশের অভিযানে সাড়ে ৪ হাজার পিস ইয়াবসহ গ্রেপ্তার-২ কাউনিয়ায় বেশি দামে সার বিক্রি: বিসিআইসি ডিলারকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের গোপন কারাগার নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি: ইসরায়েল-আমিরাত জোটের জন্য কেন এটি বড় ধাক্কা? কাউনিয়ায় সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে আন্তঃধর্মীয় সংলাপ ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো কয়েকজন দলে আছে: মুশফিক পানি কমলেও নাগেশ্বরীর বামনডাঙা ইউনিয়নে পানিবন্দি হাজারও মানুষ টেক্সাসে ইসলামবিদ্বেষী তৎপরতা বৃদ্ধি: আতঙ্কে স্থানীয় মুসলিমরা ফিফা সভাপতি ইস্যুতে এশিয়ান ফুটবলে বিভাজন: এএফসি ও কাতার ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের পাল্টাপাল্টি অবস্থান চলতি মাসের শেষদিকেই প্রবাসীদের জন্য চালু হচ্ছে বিশেষ ‘প্রবাসী কার্ড

মাটির নিচে প্রাচীন আস্ত আজব শহর

সৃষ্টি ডেস্ক
  • প্রকাশিত : শুক্রবার, ২৪ মার্চ, ২০২৩
মাটির নিচে প্রাচীন আস্ত আজব শহর

মাটির নিচে প্রাচীন আজব এক শহর।

 

তুরষ্কের প্রাচীন শহর এলেংগুবু। বর্তমানে পরিচিত ডেরিঙ্কু নামে। মাটির প্রায় ৮৫ মিটার গভীর পর্যন্ত এর বিস্তৃতি। যেখানে টানেলের সংখ্যা ১৮ তলা বিশিষ্ট।

পড়ুন>>পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের নববর্ষ উদযাপনের ইতিহাস

মাটির ৮৫ মিটার গভীর পর্যন্ত বিস্তৃত আস্ত এক শহর! বাস করতে পারতো ২০,০০০ এর অধিক লোক!

তুরষ্কের প্রাচীন শহর এলেংগুবু। বর্তমানে পরিচিত ডেরিঙ্কু নামে। মাটির প্রায় ৮৫ মিটার গভীর পর্যন্ত এর বিস্তৃতি। যেখানে টানেলের সংখ্যা ১৮ তলা বিশিষ্ট।

এখন পর্যন্ত খনন করা মাটির নিচের সবচেয়ে বড় শহর এটি। প্রায় ১০০০ হাজার বছরের বেশি এটি ব্যবহার করা হয়েছে। অবশেষে ১৯২০ সালে এটিকে পরিত্যক্ত হিসেবে ফেলে রাখা হয়।

 

মজার বিষয় হচ্ছে ওই অঞ্চলে ২০০ এর মত এমন ছোট বড় আরো শহরের হদিস পাওয়া গেছে। ধারণা করা হয় সবগুলো শহর টানেলের মাধ্যমে এক সাথে যুক্ত ছিল। যেগুলোর দৈর্ঘ্য ১০০ মাইলেরও অধিক হবে।

এই শহর আবিষ্কারের কাহিনিও অনেক মজার। ১৯৬৩ সালের দিকে এই শহরের ওপরে বাস করা এক অজ্ঞাত ব্যক্তি নিজের বাসায় মুরগি পালতেন।

কিন্তু বাসা সংস্কার করার সময় তিনি লক্ষ্য করেন নতুন তৈরি হওয়া এক ছিদ্র দিয়ে তার মুরগিগুলো কোথায় যেন হারিয়ে যাচ্ছে। তাই তিনি ভালো ভাবে অনুসন্ধানের জন্য ওখানে হাল্কা খোড়াখুড়ি করেন এবং লম্বা এক প্যাসেজের সন্ধান পান।

সাথেই সাথেই এই অঞ্চলে সরকারিভাবে খোড়াখুড়ি করা শুরু হয়। যার বদলৌতে শহরের মাঝে শুকনো খাবার সংরক্ষণের স্থান, বিদ্যালয়, ঘুমানোর স্থান, আস্তাবল সহ সম্পূর্ণ এক সভ্যতার আবাসের তথ্য পাওয়া যায়!
৯৬৩ সালে তুরস্কের নেভশেহির প্রদেশের এলেংগুবু শহরের এক ভদ্রলোক বাসাবাড়ি মেরামত করতে গিয়ে মাটির নিচে অন্ধকার কক্ষ আবিষ্কার করেন।

কৌতুহলবশত ওই কক্ষের ভেতর অনুসরণ করতে শুরু করেন তিনি। খু্ঁজতে খুঁজতে পেয়ে যান অগণিত প্রবেশদ্বার। পরিবর্তীতে নিজের স্বজনদের নিয়ে খোঁজা শুরু করেন ওই ভদ্রলোক।

আর এই কারণেই ২ হাজার বছর আগেকার ভূগর্ভস্থ শহরটির আবিষ্কারকের তকমাও পেয়ে যান তিনি১৯৮৫ সালে ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় যুক্ত হওয়া শহরটির নাম ডেরিংকুয়ো।

প্রত্নতাত্ত্বিকরা সেখানে খনন করে ভূগর্ভস্থ বাসস্থান, শুকনো খাদ্যের গুদাম, গবাদিপশুর আবাসস্থল, স্কুল, মদের দোকানসহ আরো অনেক ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার সন্ধান পেয়েছেন।

ডেরিংকুয়োর প্রতিষ্ঠাকাল নিয়ে তুরস্কের ইতিহাসবিদদের মধ্যে বিতর্ক রয়েছে। এখন অবধি পাওয়া সবচেয়ে পুরাতন নথিতে এর প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে এথেন্সের জোনাফনের নাম রয়েছে।

ধারণা করা হয় খ্রিস্টপূর্ব ৩৭০ সালে শহরটি নির্মাণ করা হয়েছিল। মূলত এর আশেপাশের আনাতোলিয়ান বাসিন্দাদের গুহা খনন ও ভূগর্ভস্থ বাড়ি দেখে অনুপ্রাণিত হয়েই এই বিশাল শহর তৈরি করেন জেনোফন।

ফ্লোরিডা স্টেট ইউনিভার্সিটির ক্লাসিক্যাল স্টাডিজের অধ্যাপক আন্দ্রেয়া ডিজিওরগির মতে, ওই অঞ্চলের চুনাপাথর ও মাটিতে বেলচা দিয়ে সহজেই খনন করে এসব স্থাপনা নির্মাণ করা হতো।

তবে বিবিসি মনে করে শুধুই জেনোফনকে ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের এই ঐতিহাসিক স্থাপনার কৃতিত্ব দেয়া যায় না।

খ্রিস্টপূর্ব ১২০০ সালের দিকে হিত্তিতিরা ওই অঞ্চলের প্রতিনিয়ত আক্রমণ করতো। তাদের আক্রমণ থেকে বাঁচতেও বাসিন্দারা এমন স্থাপনা নির্মাণ করতে পারেন বলে দাবি করেছেন, ভূমধ্যসাগরীয় স্থাপনা বিশেষজ্ঞ অ্যা বার্টিনি।

বিবিসির সঙ্গে সাক্ষাৎকারের পর অধ্যাপক ডিজিওরিগি ডেরিংকুয়ো শহর প্রতিষ্ঠার কৃতিত্ব দিয়েছেন ফ্রিজিয়ানদের। কারণ তারা ছিলেন প্রাচীন মানুষদের মধ্যে ধাতব শিল্পের কাজে সব থেকে দক্ষ।

শহরটিতে একসঙ্গে প্রায় ২০ হাজার লোক বসবাসের ব্যবস্থা ছিল। প্রত্নতাত্ত্বিকরা এখনো এর ভূগর্ভস্থ স্থাপনাগুলো খনন করে চলেছেন। মোট ১৮ স্তরের ওই শহরের মাত্র ৮টি স্তর উদঘাটন করতে পেরেছেন গবেষকরা।

পাথরের নরম শিলা খোদাই করে তৈরি করা হয়েছিল শহরটি। আর চলার পথ হিসেবে রয়েছে শত শত সুড়ঙ্গ পথ। প্রতিটি গুহাকে যুক্ত করেছে পথগুলো। কোনো আক্রমণ হলে কিংবা সংকটকালে শুধু ওই পথগুলোতেই দশ হাজার মানুষ আশ্রয় নিতে পারতো।

খননকালে সেখানে মৃতদেহ সংরক্ষণের জন্য নির্মিত একাধিক গোরস্থানের সন্ধান পান প্রত্নতাত্ত্বিকরা।

ডেরিংকুয়ো শহরের বাসিন্দাদের নিরাপত্তায় নির্মিত দরজাগুলোও ছিল অসাধারণ। গোলাকার পাথরের ওই দরজাগুলো প্রতিটি স্তরে এমনভাবে বসানো হয়েছিল যাতে করে প্রতিটি স্তরে আলাদাভাবে বন্ধ করা যায়। এছাড়াও শহরের বায়ুচলাচল সচল রাখতে কয়েক হাজার খাদ রয়েছে সেখানে।

একেকটি খাদ আবার ১০০ ফুট গভীর! এছাড়াও শহরের পানি প্রবাহ সচল রাখার জন্য একটি নদীও ছিল। নদী থেকে পানি ছড়িয়ে দেয়ার জন্য নির্মাণ করা হয়েছিল অনেকগুলো কুয়া। সর্বোপরি আশ্রয়স্থল কিংবা বাসস্থান থেকেও বেশি কিছু ছিল এই ডেরিংকুয়ো।

একটি দুর্গের মতো করেই এটি নির্মাণ করা হয়েছিল হাজার বছর আগে। ১৯২৩ সালে ওই অঞ্চল থেকে গ্রিকদের উচ্ছেদের পর ডেরিংকুয়োর জীবন্ত গল্পের সমাপ্তি ঘটে।

 

 

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর















error: Content is protected !!