ঢাকা ০৯:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
স্ত্রীসহ ফারইস্টের সাবেক চেয়ারম্যান নজরুলের সম্পদ ক্রোকের নির্দেশ ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কসে ৮৬ পদে কর্মী নিয়োগ, আবেদনের শেষ ১৯ সেপ্টেম্বর সিলেটে ‘নিরাপদ যাতায়াত বাস্তবায়ন পরিষদের বর্ণাঢ্য অভিষেক অনুষ্ঠিত সিরীয় ভূখণ্ডে নেতানিয়াহুর প্রবেশ: তীব্র নিন্দা জানিয়ে আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের আহ্বান কাতারের শিক্ষা ছুটির মেয়াদ শেষ: শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬ শিক্ষক স্থায়ীভাবে বহিষ্কৃত নাটোরে ২০০ শিক্ষার্থীর হাতে পরিবেশ রক্ষায় নিম গাছের চারা বিতরণ  ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে দুই বাংলাদেশি নিহতের দাবি, বিজিবি নিশ্চিত করল একজনের মৃত্যু সবজির পর ডিমের বাজারে উত্তাপ: ডজনপ্রতি দাম পৌঁছাল ১৬৫ টাকায়, বিপাকে নিম্ন আয়ের মানুষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আইআরআই প্রতিনিধিদলের বৈঠক, সাইবার আইন ও বুলিং নিয়ে আলোচনা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপির সাংগঠনিক চ্যালেঞ্জ: প্রার্থী বাছাইয়ে হিমশিম নেতৃত্ব

বেগম রোকেয়া দিবস আজ: নারী জাগরণের অগ্রদূতের প্রতি শ্রদ্ধা

সৃষ্টি নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৮:১৫:৪৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২৫ ৫৫৩৬ বার পড়া হয়েছে

বেগম রোকেয়া

আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

 

 

     বেগম রোকেয়া দিবস আজ: নারী জাগরণের অগ্রদূতের প্রতি শ্রদ্ধা

 

 

আজ ৯ ডিসেম্বর, বেগম রোকেয়া দিবস। নারীর অধিকার, শিক্ষা, সমাজ সংস্কার ও সমতাভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে অগ্রদূত বেগম রোকেয়ার স্মরণে প্রতিবছরের মতো এবারও যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালন করা হচ্ছে। নারী জাগরণের পথিকৃৎ এই মহিয়সী নারীর জীবন ও আদর্শ নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে আছে।

 

 

 

১৮৮০ সালের ৯ ডিসেম্বর রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার পায়রাবন্দ গ্রামে সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন। পিতা জহীরুদ্দীন মোহাম্মদ আবু আলী হায়দার সাবের ছিলেন বহু ভাষায় পারদর্শী; তবে মেয়েদের শিক্ষায় তার রক্ষণশীল অবস্থান রোকেয়ার শিক্ষার পথকে কঠিন করে তোলে। পরিবারের সহায়তায় তিনি বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা অর্জন করেন।

পড়ুন>> রোকেয়া দিবস আমাদের প্রত্যয় হোক- ‘সমতা, শিক্ষা, মর্যাদা সবার জন্য’

 

 

১৮৯৮ সালে বিয়ে হয় বিহারের ভাগলপুরের উর্দুভাষী ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ সাখাওয়াৎ হোসেনের সঙ্গে। প্রগতিশীল স্বামীর উৎসাহে রোকেয়ার লেখালেখি ও জ্ঞানচর্চার পরিসর আরও বিস্তৃত হয়। ১৯০৩ সালে নবনূর পত্রিকায় তার প্রথম লেখা প্রকাশিত হয়। তবে ১৯০৯ সালে স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি সম্পূর্ণভাবে আত্মনিয়োগ করেন নারীশিক্ষা ও সমাজসেবায়।

 

 

 

১৯০৯ সালের ১ অক্টোবর ভাগলপুরে মাত্র পাঁচ ছাত্রী নিয়ে প্রতিষ্ঠা করেন সাখাওয়াৎ মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল। পরে ১৯১১ সালে এই স্কুল স্থানান্তরিত করা হয় কলকাতায়, যেখানে তার অক্লান্ত প্রচেষ্টায় শিক্ষার পরিসর ক্রমে বিস্তৃত হয়। ১৯৩১ সালে এটি উচ্চ ইংরেজি গার্লস স্কুলে উন্নীত হয়।

 

 

সাহিত্যেও বেগম রোকেয়া রেখে গেছেন গুরুত্বপূর্ণ অবদান। মতিচূর, পদ্মরাগ, অবরোধবাসিনী, সুলতানার স্বপ্নসহ বহু প্রবন্ধ, গল্প, রচনা ও অনুবাদে তিনি নারীর অধিকার, শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা ও সামাজিক অসাম্য তুলে ধরেছেন। ১৯৩২ সালের ৯ ডিসেম্বর কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন বাঙালির এই পথিকৃৎ নারী।

পড়ুন>>নতুন এমপিও নীতিমালা ২০২৫ জারি: অনার্স–মাস্টার্স শিক্ষকদের এমপিওভুক্তির সুযোগ

 

বেগম রোকেয়া দিবস উপলক্ষে আজ রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা আলোচনা সভা, শোভাযাত্রা, প্রদর্শনী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। দিবসটি উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস পৃথক বাণীতে বেগম রোকেয়ার অবদান স্মরণ করে নারীর উন্নয়ন ও সমঅধিকার প্রতিষ্ঠায় সমন্বিত উদ্যোগ জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন।

 

 

 

দেশব্যাপী নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে আজ শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করা হচ্ছে বেগম রোকেয়াকে—যিনি নিজের সময়কে অতিক্রম করে বাংলাদেশের নারী জাগরণের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছিলেন।

 

 

 

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বেগম রোকেয়া দিবস আজ: নারী জাগরণের অগ্রদূতের প্রতি শ্রদ্ধা

আপডেট সময় : ০৮:১৫:৪৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২৫

 

 

 

     বেগম রোকেয়া দিবস আজ: নারী জাগরণের অগ্রদূতের প্রতি শ্রদ্ধা

 

 

আজ ৯ ডিসেম্বর, বেগম রোকেয়া দিবস। নারীর অধিকার, শিক্ষা, সমাজ সংস্কার ও সমতাভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে অগ্রদূত বেগম রোকেয়ার স্মরণে প্রতিবছরের মতো এবারও যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালন করা হচ্ছে। নারী জাগরণের পথিকৃৎ এই মহিয়সী নারীর জীবন ও আদর্শ নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে আছে।

 

 

 

১৮৮০ সালের ৯ ডিসেম্বর রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার পায়রাবন্দ গ্রামে সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন। পিতা জহীরুদ্দীন মোহাম্মদ আবু আলী হায়দার সাবের ছিলেন বহু ভাষায় পারদর্শী; তবে মেয়েদের শিক্ষায় তার রক্ষণশীল অবস্থান রোকেয়ার শিক্ষার পথকে কঠিন করে তোলে। পরিবারের সহায়তায় তিনি বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা অর্জন করেন।

পড়ুন>> রোকেয়া দিবস আমাদের প্রত্যয় হোক- ‘সমতা, শিক্ষা, মর্যাদা সবার জন্য’

 

 

১৮৯৮ সালে বিয়ে হয় বিহারের ভাগলপুরের উর্দুভাষী ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ সাখাওয়াৎ হোসেনের সঙ্গে। প্রগতিশীল স্বামীর উৎসাহে রোকেয়ার লেখালেখি ও জ্ঞানচর্চার পরিসর আরও বিস্তৃত হয়। ১৯০৩ সালে নবনূর পত্রিকায় তার প্রথম লেখা প্রকাশিত হয়। তবে ১৯০৯ সালে স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি সম্পূর্ণভাবে আত্মনিয়োগ করেন নারীশিক্ষা ও সমাজসেবায়।

 

 

 

১৯০৯ সালের ১ অক্টোবর ভাগলপুরে মাত্র পাঁচ ছাত্রী নিয়ে প্রতিষ্ঠা করেন সাখাওয়াৎ মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল। পরে ১৯১১ সালে এই স্কুল স্থানান্তরিত করা হয় কলকাতায়, যেখানে তার অক্লান্ত প্রচেষ্টায় শিক্ষার পরিসর ক্রমে বিস্তৃত হয়। ১৯৩১ সালে এটি উচ্চ ইংরেজি গার্লস স্কুলে উন্নীত হয়।

 

 

সাহিত্যেও বেগম রোকেয়া রেখে গেছেন গুরুত্বপূর্ণ অবদান। মতিচূর, পদ্মরাগ, অবরোধবাসিনী, সুলতানার স্বপ্নসহ বহু প্রবন্ধ, গল্প, রচনা ও অনুবাদে তিনি নারীর অধিকার, শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা ও সামাজিক অসাম্য তুলে ধরেছেন। ১৯৩২ সালের ৯ ডিসেম্বর কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন বাঙালির এই পথিকৃৎ নারী।

পড়ুন>>নতুন এমপিও নীতিমালা ২০২৫ জারি: অনার্স–মাস্টার্স শিক্ষকদের এমপিওভুক্তির সুযোগ

 

বেগম রোকেয়া দিবস উপলক্ষে আজ রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা আলোচনা সভা, শোভাযাত্রা, প্রদর্শনী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। দিবসটি উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস পৃথক বাণীতে বেগম রোকেয়ার অবদান স্মরণ করে নারীর উন্নয়ন ও সমঅধিকার প্রতিষ্ঠায় সমন্বিত উদ্যোগ জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন।

 

 

 

দেশব্যাপী নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে আজ শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করা হচ্ছে বেগম রোকেয়াকে—যিনি নিজের সময়কে অতিক্রম করে বাংলাদেশের নারী জাগরণের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছিলেন।

 

 

 

 

Facebook Comments Box