ঢাকা ০৬:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
৫১তম বিশেষ বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি: নিয়োগ পাবেন ৫ হাজার চিকিৎসক খুলনায় পৃথক অভিযানে ৪টি বিদেশি পিস্তলসহ আটক ২ মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা কমলে কমবে জ্বালানি তেলের দাম পাইকগাছায় গভীর রাতে বসতঘর থেকে বিধবা নারী রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার গাজীপুরে ঝালমুড়ি বিক্রেতার ছুরিকাঘাতে পোশাককর্মী নিহত আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলা, সীমান্তে ফের উত্তাপ নীলফামারী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ১২ পদে নিয়োগ ভূরুঙ্গামারীতে গ্রাহকদের অধিকার আদায়ের দাবিতে ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরামের বিক্ষোভ মিছিল মধ্যপ্রাচ্য ইতিহাসের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সময়ে: কাতারের আমির দারুল আদালত: চট্টগ্রামের চারশ বছরের ইতিহাসের সাক্ষী

বুলিং বা র‌্যাগিংয়ের অপরাধ প্রমাণিত হলে চাকরিচ‍্যুত হবেন শিক্ষক ও কর্মচারীরা

সৃষ্টি শিক্ষা ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৯:০৫:৪৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৩ ২০৪ বার পড়া হয়েছে

র‍্যাগিংয়ের অপরাধ প্রমাণিত হলে চাকরিচ‍্যুত হবেন শিক্ষক ও কর্মচারীরা

(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘বুলিং বা র‌্যাগিং’ প্রতিরোধে শিক্ষক ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে বুলিং বা র‌্যাগিংয়ের অপরাধ প্রমাণিত হলে চাকরিচ‍্যুত হবেন শিক্ষক ও কর্মচারীরা।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘বুলিং বা র‌্যাগিং’ প্রতিরোধে শিক্ষক ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ শাস্তি চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়ার বিধান রেখে ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বুলিং/র‍্যাগিং প্রতিরোধ-সংক্রান্ত নীতিমালা-২০২৩’-এর খসড়া প্রকাশ করেছে সরকার।

এছাড়াও কোনও শিক্ষার্থী বুলিং করলে তাকেও অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনায় স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করা যাবে। আর বুলিং বা র‌্যাগিং প্রতিরোধে ভূমিকা রাখলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পুরস্কার দেওয়ার ব্যবস্থার কথাও বলা হয়েছে খসড়ায়।

রবিবার (১৫ জানুয়ারি) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর (মাউশি) খসড়া নীতিমালা প্রকাশ করে। আগামী ১৮ জানুয়ারি বেলা আড়াইটায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে খসড়া নীতিমালা নিয়ে আলোচনা করা হবে। ইতোমধ্যে নীতিমালাটি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ অংশীজনদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

যা আছে নীতিমালায়

নীতিমালার খসড়ায় ‘বুলিং বা র‍্যাগিং’ এর সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, বুলিং বা র‌্যাগিং হলো ইচ্ছাকৃতভাবে ‘ক্ষতিকর বা বেদনাদায়ক এবং আক্রমণাত্মক’ ব্যবহার। যার প্রতি এই ব্যবহার করা হয়, তার নিজেকে তা থেকে রক্ষা করা কষ্টকর হয়ে যায়। এই ধরনের আচরণ শারীরিক কিংবা মানসিক; উভয়ই হতে পারে। আবার একজন অথবা দলবদ্ধভাবেও করতে পারে।

উদাহরণ তুলে ধরে বলা হয়েছে, ব্যঙ্গ করে নাম ধরে ডাকা, বদনাম করা, লাথি মারা, বিভিন্ন ধরনের কুরুচিপূর্ণ অঙ্গভঙ্গি করা বা উত্যক্ত করা, এমনকি অবহেলা বা এড়িয়ে চলে মানসিক চাপ দেওয়া বুলিং র‍্যাগিংয়ের পর্যায়ে পড়ে।

বুলিং বা র‍্যাগিং ভিকটিমের পীড়া অথবা বেদনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। শুধু সহপাঠী বা শিক্ষার্থী নয়, যে কেউ শিক্ষক বা অভিভাবকদের দ্বারাও বুলিং বা র‍্যাগিংয়ের শিকার হতে পারে।’

আরও বলা হয়, ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বুলিং বা র‍্যাগিংকারী শিক্ষার্থী বা শিক্ষার্থীরা সাধারণত দুর্বল শিক্ষার্থীকে বেছে নেয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছে নিজেদের জাহির করার লক্ষ্যে ভিকটিমকে হাসির পাত্র হিসেবে উপস্থাপন করা এর প্রধান উদ্দেশ্য।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বুলিং বা র‍্যাগিং বিষয়টি বর্তমানে চরম আকার ধারণ করেছে। ফলে শিক্ষাজীবনে শিক্ষার্থীর সফলতা অর্জনের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। যেসব শিক্ষার্থী এর শিকার হয়, তাদের মধ্যে বিষণ্নতা, ভীতসন্ত্রস্ততা, খিটখিটে মেজাজ এবং নিজেকে হেয় করে দেখার প্রবণতা তৈরি হয়।’

নীতিমালায় আরো বলা হয়, বুলিং বা র‌্যাগিং প্রতিরোধ না করলে সমাজে গঠনমূলক নেতৃত্ব ও সুনাগরিকের অভাব পরিলক্ষিত হবে। তাই শিক্ষার্থীরা বুলিং-র‌্যাগিয়ের শিকার হচ্ছে কিনা কাউকে করছে কিনা, দু’দিকেই সজাগ থাকা সংশ্লিষ্ট সবার প্রয়োজন। এ প্রেক্ষিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বুলিং-র‍্যাগিংয়ের মতো ঘটনা যাতে না ঘটে, সে লক্ষ্যে এ নীতিমালা প্রণয়ন করা হলো।

মৌখিক বুলিং-র‍্যাগিং

নীতিমালায় বলা হয়, কাউকে উদ্দেশ করে এমন কিছু বলা বা লেখা, যা খারাপ কোনও কিছুর প্রতি ইঙ্গিত বহন করাকে বোঝায়। যেমন উপহাস করা, খারাপ নামে সম্বোধন করা বা ডাকা, অশালীন শব্দ ব্যবহার করা, গালিগালাজ করা শিস দেওয়া, হুমকি দেওয়া ইত্যাদি।

শারীরিক বুলিং-র‍্যাগিং

নীতিমালায় বলা হয়, কাউকে কোনও কিছু দিয়ে আঘাত করা, হাত দিয়ে চড়-থাপ্পড়, পা দিয়ে লাথি মারা, ধাক্কা মারা, খোঁচা দেওয়া, থুতু মারা, বেঁধে রাখা, কোনও বিশেষ ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে বা বসে বা বিশেষ অবস্থায় থাকতে নির্দেশ দেওয়া অথবা বাধ্য করা, কারও কোনও জিনিসপত্র জোর করে নিয়ে যাওয়া বা ভেঙে ফেলা, মুখ বা হাত দিয়ে অশালীন বা অসৌজন্যমূলক অঙ্গভঙ্গি করা ইত্যাদি।

অন্যান্য

এ ছাড়া সামাজিক বুলিং বা র‌্যাগিং, সাবাইবার বুলিং বা র‌্যাগিং, সেক্সুয়াল বুলিং বা র‌্যাগিং, জাতিগত বুলিং বা র‌্যাগিং-সহ অন্যান্য বুলিং সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে নীতিমালায়।

বুলিং বা র‌্যাগিং প্রতিরোধে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কমিটি গঠনের বিধান রাখা হয়েছে নীতিমালায়। কমিটি নিয়মিত পর্যক্ষেণ করতে বুলিং বা র‌্যাগিং হয় কি না, বুলিং প্রতিরোধে অভিযোগ বক্স রাখার ব্যবস্থা এবং অভিযোগের গুরুত্ব অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।

বুলিং প্রতিরোধে প্রতি ছয় মাস অন্তর একবার ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে উত্তরণের উপায় নিয়ে সেমিনার করার বিধান রাখা হয়।

এছাড়া প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার বিধান যুক্ত করা হয়েছে শিক্ষা আইনের চূড়ান্ত খসড়ায়।

গত মঙ্গলবার (১৬ ফ্রেব্রুয়ারি) শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ভার্চুয়াল বৈঠকে আইনের খসড়া চূড়ান্ত করা হয়।

চূড়ান্ত খসড়ায় নিগ্রহের (বুলিং ও র‌্যাগিং) সংজ্ঞায় বলা হয়, কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীকে উন্মুক্ত শিক্ষাঙ্গনে, ছাত্রবাবাস/ছাত্রীনিবাসের আবাসিক কোনো শিক্ষার্থীকে একই ছাত্রবাবাস/ছাত্রীনিবাসের শিক্ষার্থী শক্তি প্রয়োগ বা ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে আঘাত করা, মানসিক বা শারীরিক নির্যাতন করা বা যন্ত্রণা দেয়া, লাঞ্ছিত করা, অথবা এমন অশোভন বা অশালীন আচরণ করতে বাধ্য করা বা চেষ্টা করা, যা ওই শিক্ষার্থী অপর শিক্ষার্থী কর্তৃক শক্তি প্রয়োগ বা ভয়-ভীতি প্রদর্শন করা না হলে স্বেচ্ছায় করতেন না।

 

বুলিং ও র‌্যাগিং বন্ধে ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়ে আইনের খসড়ায় বলা হয়, শিক্ষার্থীর মাধ্যমে যেকোনো ধরনের নিগ্রহ (বুলিং/র‌্যাগিং) প্রতিরোধে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিগ্রহ (বুলিং/র‌্যাগিং) প্রতিরোধে সরকার সময় সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃক অনুসরণের জন্য নীতিমালা বা নির্দেশিকা করতে পারবে।

আগের খসড়া নীতিমালায় বলা হয়েছিল- মাধ্যমিক, স্নাতক ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আবাসিক ছাত্রাবাস/ছাত্রীনিবাসে অবস্থানকারী কোনো শিক্ষার্থী যাতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীরার মাধ্যমে শারীরিক ও মানসিকভাবে নিগ্রহের (বুলিং ও র‌্যাগিং) শিকার না হয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধান, শিক্ষক ও কর্তৃপক্ষ তা নিশ্চিত করবে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধান, আবাসিক ছাত্রাবাসের দায়িত্বে নিয়োজিত শিক্ষক, প্রাধ্যক্ষ বিষয়টি নিয়মিত পরীবিক্ষণ করবেন। নিগ্রহের কোনো ঘটনা ঘটলে নিগ্রহের শিকার শিক্ষার্থী অচিরেই ঘটনা সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও প্রাধ্যক্ষকে অবহিত করবেন, এর অববহিত পরই সংশ্লিষ্ট শিক্ষক বা প্রাধ্যক্ষ বিহিত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

প্রাধ্যক্ষ সমীচিন মনে করলে নিগ্রহ প্রদানকারী শিক্ষার্থীর অভিভাবককে অবহিত করে সহায়তা চাইবেন।

নিগ্রহের কোনো ঘটনা ঘটলে নিগ্রহের শিকার শিক্ষার্থী ছাড়াও ঘটনা সম্পর্কে অবহিত যে কেউ সংশ্লিষ্ট শিক্ষক বা কর্তৃপক্ষকে প্রকাশ্যে বা গোপনে অবহিত করতে পারবেন।

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

One thought on “বুলিং বা র‌্যাগিংয়ের অপরাধ প্রমাণিত হলে চাকরিচ‍্যুত হবেন শিক্ষক ও কর্মচারীরা

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বুলিং বা র‌্যাগিংয়ের অপরাধ প্রমাণিত হলে চাকরিচ‍্যুত হবেন শিক্ষক ও কর্মচারীরা

আপডেট সময় : ০৯:০৫:৪৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৩

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘বুলিং বা র‌্যাগিং’ প্রতিরোধে শিক্ষক ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে বুলিং বা র‌্যাগিংয়ের অপরাধ প্রমাণিত হলে চাকরিচ‍্যুত হবেন শিক্ষক ও কর্মচারীরা।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘বুলিং বা র‌্যাগিং’ প্রতিরোধে শিক্ষক ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ শাস্তি চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়ার বিধান রেখে ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বুলিং/র‍্যাগিং প্রতিরোধ-সংক্রান্ত নীতিমালা-২০২৩’-এর খসড়া প্রকাশ করেছে সরকার।

এছাড়াও কোনও শিক্ষার্থী বুলিং করলে তাকেও অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনায় স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করা যাবে। আর বুলিং বা র‌্যাগিং প্রতিরোধে ভূমিকা রাখলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পুরস্কার দেওয়ার ব্যবস্থার কথাও বলা হয়েছে খসড়ায়।

রবিবার (১৫ জানুয়ারি) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর (মাউশি) খসড়া নীতিমালা প্রকাশ করে। আগামী ১৮ জানুয়ারি বেলা আড়াইটায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে খসড়া নীতিমালা নিয়ে আলোচনা করা হবে। ইতোমধ্যে নীতিমালাটি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ অংশীজনদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

যা আছে নীতিমালায়

নীতিমালার খসড়ায় ‘বুলিং বা র‍্যাগিং’ এর সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, বুলিং বা র‌্যাগিং হলো ইচ্ছাকৃতভাবে ‘ক্ষতিকর বা বেদনাদায়ক এবং আক্রমণাত্মক’ ব্যবহার। যার প্রতি এই ব্যবহার করা হয়, তার নিজেকে তা থেকে রক্ষা করা কষ্টকর হয়ে যায়। এই ধরনের আচরণ শারীরিক কিংবা মানসিক; উভয়ই হতে পারে। আবার একজন অথবা দলবদ্ধভাবেও করতে পারে।

উদাহরণ তুলে ধরে বলা হয়েছে, ব্যঙ্গ করে নাম ধরে ডাকা, বদনাম করা, লাথি মারা, বিভিন্ন ধরনের কুরুচিপূর্ণ অঙ্গভঙ্গি করা বা উত্যক্ত করা, এমনকি অবহেলা বা এড়িয়ে চলে মানসিক চাপ দেওয়া বুলিং র‍্যাগিংয়ের পর্যায়ে পড়ে।

বুলিং বা র‍্যাগিং ভিকটিমের পীড়া অথবা বেদনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। শুধু সহপাঠী বা শিক্ষার্থী নয়, যে কেউ শিক্ষক বা অভিভাবকদের দ্বারাও বুলিং বা র‍্যাগিংয়ের শিকার হতে পারে।’

আরও বলা হয়, ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বুলিং বা র‍্যাগিংকারী শিক্ষার্থী বা শিক্ষার্থীরা সাধারণত দুর্বল শিক্ষার্থীকে বেছে নেয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছে নিজেদের জাহির করার লক্ষ্যে ভিকটিমকে হাসির পাত্র হিসেবে উপস্থাপন করা এর প্রধান উদ্দেশ্য।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বুলিং বা র‍্যাগিং বিষয়টি বর্তমানে চরম আকার ধারণ করেছে। ফলে শিক্ষাজীবনে শিক্ষার্থীর সফলতা অর্জনের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। যেসব শিক্ষার্থী এর শিকার হয়, তাদের মধ্যে বিষণ্নতা, ভীতসন্ত্রস্ততা, খিটখিটে মেজাজ এবং নিজেকে হেয় করে দেখার প্রবণতা তৈরি হয়।’

নীতিমালায় আরো বলা হয়, বুলিং বা র‌্যাগিং প্রতিরোধ না করলে সমাজে গঠনমূলক নেতৃত্ব ও সুনাগরিকের অভাব পরিলক্ষিত হবে। তাই শিক্ষার্থীরা বুলিং-র‌্যাগিয়ের শিকার হচ্ছে কিনা কাউকে করছে কিনা, দু’দিকেই সজাগ থাকা সংশ্লিষ্ট সবার প্রয়োজন। এ প্রেক্ষিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বুলিং-র‍্যাগিংয়ের মতো ঘটনা যাতে না ঘটে, সে লক্ষ্যে এ নীতিমালা প্রণয়ন করা হলো।

মৌখিক বুলিং-র‍্যাগিং

নীতিমালায় বলা হয়, কাউকে উদ্দেশ করে এমন কিছু বলা বা লেখা, যা খারাপ কোনও কিছুর প্রতি ইঙ্গিত বহন করাকে বোঝায়। যেমন উপহাস করা, খারাপ নামে সম্বোধন করা বা ডাকা, অশালীন শব্দ ব্যবহার করা, গালিগালাজ করা শিস দেওয়া, হুমকি দেওয়া ইত্যাদি।

শারীরিক বুলিং-র‍্যাগিং

নীতিমালায় বলা হয়, কাউকে কোনও কিছু দিয়ে আঘাত করা, হাত দিয়ে চড়-থাপ্পড়, পা দিয়ে লাথি মারা, ধাক্কা মারা, খোঁচা দেওয়া, থুতু মারা, বেঁধে রাখা, কোনও বিশেষ ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে বা বসে বা বিশেষ অবস্থায় থাকতে নির্দেশ দেওয়া অথবা বাধ্য করা, কারও কোনও জিনিসপত্র জোর করে নিয়ে যাওয়া বা ভেঙে ফেলা, মুখ বা হাত দিয়ে অশালীন বা অসৌজন্যমূলক অঙ্গভঙ্গি করা ইত্যাদি।

অন্যান্য

এ ছাড়া সামাজিক বুলিং বা র‌্যাগিং, সাবাইবার বুলিং বা র‌্যাগিং, সেক্সুয়াল বুলিং বা র‌্যাগিং, জাতিগত বুলিং বা র‌্যাগিং-সহ অন্যান্য বুলিং সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে নীতিমালায়।

বুলিং বা র‌্যাগিং প্রতিরোধে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কমিটি গঠনের বিধান রাখা হয়েছে নীতিমালায়। কমিটি নিয়মিত পর্যক্ষেণ করতে বুলিং বা র‌্যাগিং হয় কি না, বুলিং প্রতিরোধে অভিযোগ বক্স রাখার ব্যবস্থা এবং অভিযোগের গুরুত্ব অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।

বুলিং প্রতিরোধে প্রতি ছয় মাস অন্তর একবার ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে উত্তরণের উপায় নিয়ে সেমিনার করার বিধান রাখা হয়।

এছাড়া প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার বিধান যুক্ত করা হয়েছে শিক্ষা আইনের চূড়ান্ত খসড়ায়।

গত মঙ্গলবার (১৬ ফ্রেব্রুয়ারি) শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ভার্চুয়াল বৈঠকে আইনের খসড়া চূড়ান্ত করা হয়।

চূড়ান্ত খসড়ায় নিগ্রহের (বুলিং ও র‌্যাগিং) সংজ্ঞায় বলা হয়, কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীকে উন্মুক্ত শিক্ষাঙ্গনে, ছাত্রবাবাস/ছাত্রীনিবাসের আবাসিক কোনো শিক্ষার্থীকে একই ছাত্রবাবাস/ছাত্রীনিবাসের শিক্ষার্থী শক্তি প্রয়োগ বা ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে আঘাত করা, মানসিক বা শারীরিক নির্যাতন করা বা যন্ত্রণা দেয়া, লাঞ্ছিত করা, অথবা এমন অশোভন বা অশালীন আচরণ করতে বাধ্য করা বা চেষ্টা করা, যা ওই শিক্ষার্থী অপর শিক্ষার্থী কর্তৃক শক্তি প্রয়োগ বা ভয়-ভীতি প্রদর্শন করা না হলে স্বেচ্ছায় করতেন না।

 

বুলিং ও র‌্যাগিং বন্ধে ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়ে আইনের খসড়ায় বলা হয়, শিক্ষার্থীর মাধ্যমে যেকোনো ধরনের নিগ্রহ (বুলিং/র‌্যাগিং) প্রতিরোধে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিগ্রহ (বুলিং/র‌্যাগিং) প্রতিরোধে সরকার সময় সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃক অনুসরণের জন্য নীতিমালা বা নির্দেশিকা করতে পারবে।

আগের খসড়া নীতিমালায় বলা হয়েছিল- মাধ্যমিক, স্নাতক ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আবাসিক ছাত্রাবাস/ছাত্রীনিবাসে অবস্থানকারী কোনো শিক্ষার্থী যাতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীরার মাধ্যমে শারীরিক ও মানসিকভাবে নিগ্রহের (বুলিং ও র‌্যাগিং) শিকার না হয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধান, শিক্ষক ও কর্তৃপক্ষ তা নিশ্চিত করবে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধান, আবাসিক ছাত্রাবাসের দায়িত্বে নিয়োজিত শিক্ষক, প্রাধ্যক্ষ বিষয়টি নিয়মিত পরীবিক্ষণ করবেন। নিগ্রহের কোনো ঘটনা ঘটলে নিগ্রহের শিকার শিক্ষার্থী অচিরেই ঘটনা সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও প্রাধ্যক্ষকে অবহিত করবেন, এর অববহিত পরই সংশ্লিষ্ট শিক্ষক বা প্রাধ্যক্ষ বিহিত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

প্রাধ্যক্ষ সমীচিন মনে করলে নিগ্রহ প্রদানকারী শিক্ষার্থীর অভিভাবককে অবহিত করে সহায়তা চাইবেন।

নিগ্রহের কোনো ঘটনা ঘটলে নিগ্রহের শিকার শিক্ষার্থী ছাড়াও ঘটনা সম্পর্কে অবহিত যে কেউ সংশ্লিষ্ট শিক্ষক বা কর্তৃপক্ষকে প্রকাশ্যে বা গোপনে অবহিত করতে পারবেন।

 

Facebook Comments Box