ঢাকা ০২:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আইইডিসিআর কার্যালয়ে ঢুকে পরিচালককে নিরাপত্তা ঘটনায়, অভিযোগে জড়িত ব্যক্তি ড্যাব গাজীপুর কর অঞ্চলে ৩৪টি পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি স্পেনের মালাগার সঙ্গে সহযোগিতার ক্ষেত্র বাড়াতে চায় বাংলাদেশ বাংলাদেশে কার্যালয় খুলতে জেবিআইসিকে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান সরকারি বেতন দিতে ব্যাংক থেকে আরও ৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ আকাশে ড্রোন, মাঠে কে-৯: ঠাকুরগাঁও-১আসন উপ-নির্বাচনে ২১ প্লাটুন বিজিবি রংপুরে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকের পেছনে বাসের ধাক্কায় নিহত ৩ হুতিদের শান্ত করতে ১০০ কোটি ডলারের প্রস্তাব সৌদি আরবের ইসরাইলের নির্বাচনে ঝুলে আছে নেতানিয়াহুর ভাগ্য, সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা কুমিল্লায় কিশোর গ্যাং দমনে দীর্ঘমেয়াদি কৌশল জরুরি

নির্বাচনে ৫৫ হাজার দেশীয় পর্যবেক্ষকের জন্য নেই ন্যূনতম সহায়তা

মহানগর প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১১:২০:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১০৪০৪ বার পড়া হয়েছে

নিবন্ধিত স্থানীয় পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোর জোট ইলেকশন অবজারভার সোসাইটির সংবাদ সম্মেলন।

(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

 

নির্বাচনে ৫৫ হাজার দেশীয় পর্যবেক্ষকের জন্য নেই ন্যূনতম সহায়তা

 

নির্বাচনে ৫৫ হাজার দেশীয় পর্যবেক্ষকের জন্য নেই ন্যূনতম সহায়তা।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিদেশি পর্যবেক্ষকদের যেসব সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হচ্ছে, দেশীয় পর্যবেক্ষকদের ক্ষেত্রেও তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) নিবন্ধিত স্থানীয় পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোর জোট ইলেকশন অবজারভার সোসাইটি (ইওএস)।

জাতীয় নির্বাচনে সকল তথ‍্য জানতে ক্লিক করুন

নির্বাচনের সকল তথ‍্যের জন‍্য ক্লিক করুন

সংগঠনটির নেতারা বলেছেন, পর্যাপ্ত সহায়তা না পেলে নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও কার্যকর পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে।

 

 

শনিবার বিকেলে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি ও অভিযোগ তুলে ধরে ইওএস।

পড়ুন>>ঘরে বসেই ভোটার স্লিপ সংগ্রহের সুবিধা চালু করল বিএনপি

 

সংবাদ সম্মেলনে সারা দেশে নিয়োজিত পর্যবেক্ষকদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য ও নির্বাচনপূর্ব পরিবেশসংক্রান্ত উপাত্ত উপস্থাপন করা হয়। ইওএস জানায়, দেশব্যাপী প্রায় ৪২ হাজার ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৬ হাজার ৯৯৫টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এর মধ্যে শুধু ঢাকা জেলাতেই ১০৩টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়।
ইওএসের তথ্যমতে, দেশের অধিকাংশ ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগে আগ্রহী হলেও নানা ধরনের প্রচারণা ও গুজবের কারণে নির্বাচন নিয়ে এক ধরনের সংশয় ও অনিশ্চয়তা এখনো বিরাজ করছে।

 

 

সংগঠনটি জানায়, তাদের পর্যবেক্ষকদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং এবারই প্রথমবার সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাসেবী ভিত্তিতে, কোনো ধরনের আর্থিক সহায়তা ছাড়াই পর্যবেক্ষকেরা মাঠে কাজ করতে যাচ্ছেন।

 

 

তবে ইওএসের অভিযোগ, নির্বাচন উপলক্ষে সরকারি দপ্তরগুলো বিপুল অর্থ ব্যয় করলেও ৫৫ হাজার পর্যবেক্ষকের জন্য তিন দিনের ন্যূনতম খাবার ও যাতায়াত ব্যয়ের ক্ষেত্রেও কোনো সহায়তা দেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে একাধিকবার আবেদন জানানো হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সাড়া দেয়নি বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়।

পড়ুন>>ভূরুঙ্গামারীতে প্রতিবন্ধীদের মাঝে সহায়ক উপকরণ বিতরণ

 

ইওএস নেতারা আরও বলেন, কমিশনের সামনে অর্ধদিবস মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হলেও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে আলোচনা বা দাবি শোনার জন্য কোনো প্রতিনিধি পাঠানো হয়নি। এমনকি স্মারকলিপিও গ্রহণ করা হয়নি। অথচ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও গোষ্ঠীর সঙ্গে কমিশনের ধারাবাহিক বৈঠক চলেছে। এই আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে একপর্যায়ে সব পর্যবেক্ষক প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত জানালেও দেশের সার্বিক স্থিতিশীলতা ও নাগরিক স্বার্থের কথা বিবেচনায় নিয়ে এখনো সে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হয়নি।

 

 

পর্যবেক্ষক পরিচয়পত্র নিয়েও ভোগান্তির কথা তুলে ধরে ইওএস জানায়, কখনো অনলাইন, কখনো অফলাইন পদ্ধতিতে পরিচয়পত্র বিতরণের সিদ্ধান্ত বদলানোর কারণে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। যদিও শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয়ভাবে নির্বাচন কমিশন সহযোগিতা করছে, তবে স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন জেলায় পর্যবেক্ষকেরা এখনো পরিচয়পত্র পেতে হয়রানির শিকার হচ্ছেন।

 

 

সংগঠনটি গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছে, ৫৫ হাজার পর্যবেক্ষকের থাকা-খাওয়ার ব্যয় কীভাবে নির্বাহ হবে এবং এ দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের নেওয়া উচিত কি না—সে বিষয়ে গণমাধ্যমের নজরদারি প্রয়োজন।

 

 

ইওএস জানায়, তারা দেশের ৩০০ আসনে পর্যবেক্ষক মোতায়েন করেছে। তবে ৪২ হাজারের বেশি ভোটকেন্দ্রের বিপরীতে ৫৫ হাজার পর্যবেক্ষক থাকায় গড়ে প্রতিটি কেন্দ্রে দুজনেরও কম পর্যবেক্ষক দায়িত্ব পালন করছেন। তা সত্ত্বেও একটি স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন উপস্থাপনে তারা অঙ্গীকারবদ্ধ বলে জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে মূল বক্তব্য ও তথ্য উপস্থাপন করেন ইওএসের সভাপতি মো. ইকবাল হোসেন।

 

 

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের প্রধান সমন্বয়কারী শহীদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন আমীন, সিনিয়র সহসভাপতি ফেরদৌস আহমেদ, সহসভাপতি বশির আহমেদসহ কেন্দ্রীয় কমিটির নেতারা।

 

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

নির্বাচনে ৫৫ হাজার দেশীয় পর্যবেক্ষকের জন্য নেই ন্যূনতম সহায়তা

আপডেট সময় : ১১:২০:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

 

 

নির্বাচনে ৫৫ হাজার দেশীয় পর্যবেক্ষকের জন্য নেই ন্যূনতম সহায়তা

 

নির্বাচনে ৫৫ হাজার দেশীয় পর্যবেক্ষকের জন্য নেই ন্যূনতম সহায়তা।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিদেশি পর্যবেক্ষকদের যেসব সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হচ্ছে, দেশীয় পর্যবেক্ষকদের ক্ষেত্রেও তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) নিবন্ধিত স্থানীয় পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোর জোট ইলেকশন অবজারভার সোসাইটি (ইওএস)।

জাতীয় নির্বাচনে সকল তথ‍্য জানতে ক্লিক করুন

নির্বাচনের সকল তথ‍্যের জন‍্য ক্লিক করুন

সংগঠনটির নেতারা বলেছেন, পর্যাপ্ত সহায়তা না পেলে নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও কার্যকর পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে।

 

 

শনিবার বিকেলে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি ও অভিযোগ তুলে ধরে ইওএস।

পড়ুন>>ঘরে বসেই ভোটার স্লিপ সংগ্রহের সুবিধা চালু করল বিএনপি

 

সংবাদ সম্মেলনে সারা দেশে নিয়োজিত পর্যবেক্ষকদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য ও নির্বাচনপূর্ব পরিবেশসংক্রান্ত উপাত্ত উপস্থাপন করা হয়। ইওএস জানায়, দেশব্যাপী প্রায় ৪২ হাজার ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৬ হাজার ৯৯৫টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এর মধ্যে শুধু ঢাকা জেলাতেই ১০৩টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়।
ইওএসের তথ্যমতে, দেশের অধিকাংশ ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগে আগ্রহী হলেও নানা ধরনের প্রচারণা ও গুজবের কারণে নির্বাচন নিয়ে এক ধরনের সংশয় ও অনিশ্চয়তা এখনো বিরাজ করছে।

 

 

সংগঠনটি জানায়, তাদের পর্যবেক্ষকদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং এবারই প্রথমবার সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাসেবী ভিত্তিতে, কোনো ধরনের আর্থিক সহায়তা ছাড়াই পর্যবেক্ষকেরা মাঠে কাজ করতে যাচ্ছেন।

 

 

তবে ইওএসের অভিযোগ, নির্বাচন উপলক্ষে সরকারি দপ্তরগুলো বিপুল অর্থ ব্যয় করলেও ৫৫ হাজার পর্যবেক্ষকের জন্য তিন দিনের ন্যূনতম খাবার ও যাতায়াত ব্যয়ের ক্ষেত্রেও কোনো সহায়তা দেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে একাধিকবার আবেদন জানানো হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সাড়া দেয়নি বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়।

পড়ুন>>ভূরুঙ্গামারীতে প্রতিবন্ধীদের মাঝে সহায়ক উপকরণ বিতরণ

 

ইওএস নেতারা আরও বলেন, কমিশনের সামনে অর্ধদিবস মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হলেও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে আলোচনা বা দাবি শোনার জন্য কোনো প্রতিনিধি পাঠানো হয়নি। এমনকি স্মারকলিপিও গ্রহণ করা হয়নি। অথচ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও গোষ্ঠীর সঙ্গে কমিশনের ধারাবাহিক বৈঠক চলেছে। এই আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে একপর্যায়ে সব পর্যবেক্ষক প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত জানালেও দেশের সার্বিক স্থিতিশীলতা ও নাগরিক স্বার্থের কথা বিবেচনায় নিয়ে এখনো সে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হয়নি।

 

 

পর্যবেক্ষক পরিচয়পত্র নিয়েও ভোগান্তির কথা তুলে ধরে ইওএস জানায়, কখনো অনলাইন, কখনো অফলাইন পদ্ধতিতে পরিচয়পত্র বিতরণের সিদ্ধান্ত বদলানোর কারণে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। যদিও শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয়ভাবে নির্বাচন কমিশন সহযোগিতা করছে, তবে স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন জেলায় পর্যবেক্ষকেরা এখনো পরিচয়পত্র পেতে হয়রানির শিকার হচ্ছেন।

 

 

সংগঠনটি গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছে, ৫৫ হাজার পর্যবেক্ষকের থাকা-খাওয়ার ব্যয় কীভাবে নির্বাহ হবে এবং এ দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের নেওয়া উচিত কি না—সে বিষয়ে গণমাধ্যমের নজরদারি প্রয়োজন।

 

 

ইওএস জানায়, তারা দেশের ৩০০ আসনে পর্যবেক্ষক মোতায়েন করেছে। তবে ৪২ হাজারের বেশি ভোটকেন্দ্রের বিপরীতে ৫৫ হাজার পর্যবেক্ষক থাকায় গড়ে প্রতিটি কেন্দ্রে দুজনেরও কম পর্যবেক্ষক দায়িত্ব পালন করছেন। তা সত্ত্বেও একটি স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন উপস্থাপনে তারা অঙ্গীকারবদ্ধ বলে জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে মূল বক্তব্য ও তথ্য উপস্থাপন করেন ইওএসের সভাপতি মো. ইকবাল হোসেন।

 

 

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের প্রধান সমন্বয়কারী শহীদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন আমীন, সিনিয়র সহসভাপতি ফেরদৌস আহমেদ, সহসভাপতি বশির আহমেদসহ কেন্দ্রীয় কমিটির নেতারা।

 

 

Facebook Comments Box