ঢাকা ০৮:৪৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কেপটাউন টেস্টে মিচেল স্টার্কের বোলিং তাণ্ডব: ৩২৯ রানে অলআউট দক্ষিণ আফ্রিকা বাংলাদেশে ৬.৩ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে আগ্রহী জাপান: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠক বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে সফটওয়্যার প্রোগ্রামার নিয়োগ: আবেদনের সুযোগ ভালুকায় সেলুন ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে জখম করে মৃত্যুর ঘটনায় অভিযোগ সুন্দরবনে দস্যুদের সাথে বন্দুকযুদ্ধ, জিম্মি থেকে ৫ জেলে উদ্ধার বকেয়া বেতনের দাবিতে চালডাল কর্মীদের বিক্ষোভ ও ভাঙচুর বাংলাদেশে স্বাস্থ্য খাতে সহায়তা বাড়াতে সাসাকাওয়া ফাউন্ডেশনের প্রতি আহ্বান উখিয়ায় নলকূপ খননের সময় অগ্নিকাণ্ড: নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে সেনাবাহিনী আইজিপি’র ‘ক্রসফায়ার’ সম্পর্কিত বক্তব্যের অপব্যাখ্যা অপরাধীদের উৎসাহিত করবে সৌদির রাস তানুরা তেল শোধনাগারে হামলার দাবি হুতিদের

তেলের জন্য কাকডাকা ভোরে লাইন, তবুও খালি হাতে ফিরছেন অনেকেই

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৯:২২:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬ ২১০৯৭ বার পড়া হয়েছে

তেলের জন্য ভূরুঙ্গামারী সাহা ফিলিং স্টেশনে তেলের জন‍্য বাইক আরোহীদের ভীড়।

(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

 

 

তেলের জন্য কাকডাকা ভোরে লাইন, তবুও খালি হাতে ফিরছেন অনেকেই

 

 

উত্তরের সীমান্তবর্তী জেলা কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। দিন যত যাচ্ছে পরিস্থিতি ততই জটিল হয়ে উঠছে। উপজেলার একমাত্র তেলের পাম্পে মানুষের উপচে পড়া ভিড় সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে। পুলিশ ও ট্যাগ অফিসার নিয়োগ করেও শৃঙ্খলা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ ভোক্তারা এবং বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন।

 

 

 

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকালে উপজেলার একমাত্র তেলের পাম্প মেসার্স সাহা ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, পাম্পে “তেল নাই” লিখে বন্ধ করে রাখা হয়েছে। পাম্প কর্তৃপক্ষ জানায়, দৈনিক প্রায় ৯ হাজার লিটার জ্বালানি তেলের চাহিদা থাকলেও পার্বতীপুর ডিপো থেকে লটারির মাধ্যমে রেশনিং পদ্ধতিতে তিন দিন পর পর মাত্র ৩ হাজার লিটার তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। চলতি সপ্তাহে রবিবার ও বুধবার- এই দুই দিন তেল বিক্রি করা হয়েছে বলে জানান পাম্পের ব্যবস্থাপক।

পড়ুন>>ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে বক্তব্য দিলেন প্রখ্যাত ইতালিয়ান স্থপতি ফ্যাবিও নভেম্বরি

 

 

স্থানীয়রা জানান, পাম্পে তেল আসার খবর পেলেই কাকডাকা ভোর থেকে শত শত মোটরসাইকেল নিয়ে মানুষ লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করেন। মোটরসাইকেল ও অন্যান্য যানবাহনের দীর্ঘ সারি মহাসড়ক পর্যন্ত গিয়ে পৌঁছে। কিন্তু প্রতি ব্যক্তিকে মাত্র ৩০০ টাকার তেল দেওয়ায় লাইনে দাঁড়িয়েও সবাই তেল পান না। অনেক সময় অর্ধেক মানুষকে তেল না পেয়ে ফিরে যেতে হয়।

 

 

ভুক্তভোগীরা জানান, পাম্পে তেল না পেলেও খুচরা বাজারে কিছু তেল পাওয়া যাচ্ছে, তবে তা বিক্রি হচ্ছে অতিরিক্ত দামে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সীমান্তের একটি সূত্র জানায়, উপজেলার বহলগুড়ি ও বাঁশজানি সীমান্ত দিয়ে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ভারত থেকে নিম্নমানের পেট্রোল এনে প্রতি লিটার ২৩০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি করছে।

পড়ুন>> বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালে নতুন বহির্বিভাগ ইউনিট উদ্বোধন

 

 

তেল নিতে আসা কফিলুর রহমান বলেন, “তিন দিন ধরে ঘুরছি, কোথাও তেল পাইনি।” আরেক ভুক্তভোগী জুবায়ের হোসেন জানান, “একাধিকবার লাইনে দাঁড়িয়েছি। কিন্তু আমার সিরিয়াল আসার আগেই পাম্পের তেল শেষ হয়ে যায়।”

 

 

 

ভূরুঙ্গামারীর একটি বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা আলমগীর আজাদ বলেন, “আমার কর্মস্থল বাসা থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে। তেলের অভাবে মোটরসাইকেল বন্ধ রেখে এখন অটোরিকশায় যাতায়াত করতে হচ্ছে। এতে সময়মতো অফিসে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে।”

 

 

এদিকে জরুরি কাজে যাতায়াতেও সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কয়েকগুণ বেড়েছে। দ্রুত তেল সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ভুক্তভোগীরা। প্রশাসনের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন তারা।

 

 

ভূরুঙ্গামারী মহিলা ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক শামসুজ্জোহা সুজন বলেন, “সামান্য পরিমাণ জ্বালানি তেল সরবরাহের কারণে অল্প সময়ের মধ্যেই আবার বাইকচালকদের পাম্পে ভিড় করতে হয়। এতে কর্মঘণ্টা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ভোগান্তিও বাড়ছে। জেলার সব ফিলিং স্টেশনে একযোগে তেল সরবরাহ করা হলে ভিড় ও ভোগান্তি কমতে পারে।”

আরও পড়ুন>>শিবগঞ্জে গাঁজাসহ ভূরুঙ্গামারীর মাদক ব‍্যবসায়ী আটক

 

মেসার্স সাহা ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক কৃষ্ণ পদ বিশ্বাস জানান, “রেশনিং পদ্ধতিতে লটারির মাধ্যমে তিন দিন পর পর ডিপো থেকে চাহিদার এক-তৃতীয়াংশ তেল দেওয়া হচ্ছে। আমাদের এখানে করার কিছু নেই। যতটুকু তেল পাই, সরকার নিয়োগ করা ট্যাগ অফিসার ও পুলিশের উপস্থিতিতে ঘোষণা দিয়ে বিক্রি করা হয়।”

 

 

 

ফুয়েল কার্ড প্রদান ও তেল সংকট নিরসনের বিষয়ে জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহাদাৎ হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরে তাঁর দপ্তর থেকে জানানো হয়, ব্যক্তিগত চিকিৎসার জন্য তিনি বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন।

 

 

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

তেলের জন্য কাকডাকা ভোরে লাইন, তবুও খালি হাতে ফিরছেন অনেকেই

আপডেট সময় : ০৯:২২:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬

 

 

 

তেলের জন্য কাকডাকা ভোরে লাইন, তবুও খালি হাতে ফিরছেন অনেকেই

 

 

উত্তরের সীমান্তবর্তী জেলা কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। দিন যত যাচ্ছে পরিস্থিতি ততই জটিল হয়ে উঠছে। উপজেলার একমাত্র তেলের পাম্পে মানুষের উপচে পড়া ভিড় সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে। পুলিশ ও ট্যাগ অফিসার নিয়োগ করেও শৃঙ্খলা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ ভোক্তারা এবং বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন।

 

 

 

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকালে উপজেলার একমাত্র তেলের পাম্প মেসার্স সাহা ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, পাম্পে “তেল নাই” লিখে বন্ধ করে রাখা হয়েছে। পাম্প কর্তৃপক্ষ জানায়, দৈনিক প্রায় ৯ হাজার লিটার জ্বালানি তেলের চাহিদা থাকলেও পার্বতীপুর ডিপো থেকে লটারির মাধ্যমে রেশনিং পদ্ধতিতে তিন দিন পর পর মাত্র ৩ হাজার লিটার তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। চলতি সপ্তাহে রবিবার ও বুধবার- এই দুই দিন তেল বিক্রি করা হয়েছে বলে জানান পাম্পের ব্যবস্থাপক।

পড়ুন>>ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে বক্তব্য দিলেন প্রখ্যাত ইতালিয়ান স্থপতি ফ্যাবিও নভেম্বরি

 

 

স্থানীয়রা জানান, পাম্পে তেল আসার খবর পেলেই কাকডাকা ভোর থেকে শত শত মোটরসাইকেল নিয়ে মানুষ লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করেন। মোটরসাইকেল ও অন্যান্য যানবাহনের দীর্ঘ সারি মহাসড়ক পর্যন্ত গিয়ে পৌঁছে। কিন্তু প্রতি ব্যক্তিকে মাত্র ৩০০ টাকার তেল দেওয়ায় লাইনে দাঁড়িয়েও সবাই তেল পান না। অনেক সময় অর্ধেক মানুষকে তেল না পেয়ে ফিরে যেতে হয়।

 

 

ভুক্তভোগীরা জানান, পাম্পে তেল না পেলেও খুচরা বাজারে কিছু তেল পাওয়া যাচ্ছে, তবে তা বিক্রি হচ্ছে অতিরিক্ত দামে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সীমান্তের একটি সূত্র জানায়, উপজেলার বহলগুড়ি ও বাঁশজানি সীমান্ত দিয়ে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ভারত থেকে নিম্নমানের পেট্রোল এনে প্রতি লিটার ২৩০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি করছে।

পড়ুন>> বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালে নতুন বহির্বিভাগ ইউনিট উদ্বোধন

 

 

তেল নিতে আসা কফিলুর রহমান বলেন, “তিন দিন ধরে ঘুরছি, কোথাও তেল পাইনি।” আরেক ভুক্তভোগী জুবায়ের হোসেন জানান, “একাধিকবার লাইনে দাঁড়িয়েছি। কিন্তু আমার সিরিয়াল আসার আগেই পাম্পের তেল শেষ হয়ে যায়।”

 

 

 

ভূরুঙ্গামারীর একটি বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা আলমগীর আজাদ বলেন, “আমার কর্মস্থল বাসা থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে। তেলের অভাবে মোটরসাইকেল বন্ধ রেখে এখন অটোরিকশায় যাতায়াত করতে হচ্ছে। এতে সময়মতো অফিসে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে।”

 

 

এদিকে জরুরি কাজে যাতায়াতেও সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কয়েকগুণ বেড়েছে। দ্রুত তেল সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ভুক্তভোগীরা। প্রশাসনের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন তারা।

 

 

ভূরুঙ্গামারী মহিলা ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক শামসুজ্জোহা সুজন বলেন, “সামান্য পরিমাণ জ্বালানি তেল সরবরাহের কারণে অল্প সময়ের মধ্যেই আবার বাইকচালকদের পাম্পে ভিড় করতে হয়। এতে কর্মঘণ্টা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ভোগান্তিও বাড়ছে। জেলার সব ফিলিং স্টেশনে একযোগে তেল সরবরাহ করা হলে ভিড় ও ভোগান্তি কমতে পারে।”

আরও পড়ুন>>শিবগঞ্জে গাঁজাসহ ভূরুঙ্গামারীর মাদক ব‍্যবসায়ী আটক

 

মেসার্স সাহা ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক কৃষ্ণ পদ বিশ্বাস জানান, “রেশনিং পদ্ধতিতে লটারির মাধ্যমে তিন দিন পর পর ডিপো থেকে চাহিদার এক-তৃতীয়াংশ তেল দেওয়া হচ্ছে। আমাদের এখানে করার কিছু নেই। যতটুকু তেল পাই, সরকার নিয়োগ করা ট্যাগ অফিসার ও পুলিশের উপস্থিতিতে ঘোষণা দিয়ে বিক্রি করা হয়।”

 

 

 

ফুয়েল কার্ড প্রদান ও তেল সংকট নিরসনের বিষয়ে জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহাদাৎ হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরে তাঁর দপ্তর থেকে জানানো হয়, ব্যক্তিগত চিকিৎসার জন্য তিনি বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন।

 

 

 

Facebook Comments Box