ঢাকা ১১:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পরিবেশ সচেতন আগামী প্রজন্ম গড়ার অঙ্গীকারে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে শেষ হলো গ্রিন জেনেসিস ২০২৬ গ্যাস সরবরাহ সংকট: যুক্তরাষ্ট্র থেকে এলএনজি আমদানির পথে কাতার দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলকে হারিয়ে সিরিজ জিতল বাংলাদেশ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ঘর ছাড়ছে দৌলতপুরের বানভাসি মানুষ সুন্দরগঞ্জে ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তশিলদারের অনিয়মের বিরুদ্ধে ইউএনও ও জেলা প্রশাসক বরাবর অভিযোগ দেশে ইলিশের ঘাটতি: প্রথমবারের মতো ভারত থেকে আমদানি রাণীশংকৈলে এসিল্যান্ডের বদলি ঠেকাতে রাজপথে জনতা মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনা: সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান ব্রিকস নেতাদের পুলিশের পাঁচ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে নতুন কর্মস্থলে বদলি ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত ‘নয়াদিল্লি ঘোষণা

তিস্তা-ব্রহ্মপুত্রে পানি বিপদসীমা নাগালে; শতাধিক বসতবাড়ি প্লাবিত

কুড়িগ্রাম থেকে বিপুল রায়
  • আপডেট সময় : ০৬:৪৯:৩৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১৮০ বার পড়া হয়েছে

তিস্তা-ব্রহ্মপুত্রে পানি বিপদসীমা নাগালে; শতাধিক বসতবাড়ি প্লাবিত

আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

তিস্তা-ব্রহ্মপুত্রে পানি বিপদসীমা নাগালে; শতাধিক বসতবাড়ি প্লাবিত

ভারী বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে ঢলে কুড়িগ্রামে তিস্তা, ধরলা ও ব্রহ্মপুত্রের পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। কয়েকদিনের অব্যাহত পানি বৃদ্ধির ফলে তিস্তার পানি রংপুরের কাউনিয়ার সেতু পয়েন্টে বিপদসীমার খুব কাছে পৌঁছেছে।

এ অবস্থায় ভাটিতে কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলায় তিস্তার নিম্নাঞ্চলের শতাধিক বাড়িঘর প্লা‌বিত হওয়ার সঙ্গে নদীভাঙনের খবর পাওয়া গে‌ছে।

পাউবো নিয়ন্ত্রণকক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী আজ রবিবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ৬টায় কাউনিয়া পয়েন্টে তিস্তার ২৯.৬০ মি.মি. তুলসী ঘাট পয়েন্টে ধরলার পানি ৩০.২০ মিমি, কুড়িগ্রাম পয়েন্টে ধরলার পানি ২৪.২০ মি.মি., পাটেশ্বরী পয়েন্টে দুধকুমারের পানি ২৯.০৪ মি.মি, নুনখাওয়া পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্রের পানি ২৩.৮০ মি.মি, চিলমারী পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্রের পানি ২০.৭৩ মি.মি, হাতিয়া পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্রের পানি ২১.৫০ মি.মি. দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

এদিকে, পানি বৃদ্ধি পেতে থাকায় জেলার রাজারহাটের ঘড়িয়ালডাঙা ইউনিয়নের ৫ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বেশ কিছু বাড়িঘরে পানি প্রবেশ করার খবর পাওয়া গেছে। ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মাঝের চর, সরিষাবাড়ি এবং ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বুড়িরহাটের নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বেশ কিছু বাড়িঘরে পানি প্রবেশ করেছে। একই সঙ্গে শুরু হয়েছে নদীভাঙন। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে শনিবার জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা দুর্যোগপূর্ণ এলাকা পরিদর্শন করেছেন।

ইউনিয়নের গতিয়াশাম গ্রামের বাসিন্দা রাকিবুল বলেন, ‘কয়েকদিন ধরে পানি বাড়তেছে। শনিবার কিছু বাড়িঘরে পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। সঙ্গে কিছু এলাকায় ভাঙনও আছে। ৫ নম্বর ওয়ার্ডের গতিয়াশাম গ্রামে ভাঙনঝুঁকিতে পড়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের বসতভিটা ও গ্রামীণ সড়ক।’

একই গ্রামের স্নাতক শিক্ষার্থী তানজিম বলেন, ‘নদীর পানি বাড়ার সঙ্গে ভাঙনও শুরু হয়েছে। সড়ক, কমিউনিটি ক্লিনিক ও বেশ কিছু বসতভিটা ভাঙনঝুঁকিতে রয়েছে। আমরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করেও কোনও ফল পাচ্ছি না। দ্রুত পদক্ষেপ না নেওয়া হলে সব নদীগর্ভে বিলীন হবে।’

৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মিনহাজুল ইসলাম বলেন, ‘পানি বাড়তেছে। আমার বাড়িতেও পানি ঢুকছে। নিচু এলাকার শতাধিক বাড়িঘরে পানি ঢুকছে। রাত পোহাতে পোহাতে আরও বাড়িঘরে পানি ঢুকতে পারে।’
ঘড়িয়ালডাঙা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আব্দুল কুদ্দুস প্রামাণিক বলেন, ‘ইউনিয়নের তিস্তা তীরবর্তী কিছু বাড়িঘরে পানি প্রবেশ করছে।’

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানায়, তিস্তা-ব্রহ্মপুত্রে পানি বিপদসীমা নাগালে, শতাধিক বসতবাড়ি প্লাবিত। আগামী ১৮ ঘণ্টা তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদের পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে। তিস্তা-ব্রহ্মপুত্রে পানি বিপদসীমা নাগালে। শতাধিক বসতবাড়ি প্লাবিত হয়েছে। পরে পানি কমতে শুরু করবে বলে জানিয়েছে পাউবো।

জেলা প্রশাসক নুসরাত সুলাতানা বলেন, ‘শনিবার তিস্তা তীরবর্তী এলাকা পরিদর্শন করেছি। কিছু বাড়িঘরে পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্থানীয়দের উদ্ধার ও খাদ্যসহায়তার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আমরা পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছি।’

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

তিস্তা-ব্রহ্মপুত্রে পানি বিপদসীমা নাগালে; শতাধিক বসতবাড়ি প্লাবিত

আপডেট সময় : ০৬:৪৯:৩৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪

তিস্তা-ব্রহ্মপুত্রে পানি বিপদসীমা নাগালে; শতাধিক বসতবাড়ি প্লাবিত

ভারী বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে ঢলে কুড়িগ্রামে তিস্তা, ধরলা ও ব্রহ্মপুত্রের পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। কয়েকদিনের অব্যাহত পানি বৃদ্ধির ফলে তিস্তার পানি রংপুরের কাউনিয়ার সেতু পয়েন্টে বিপদসীমার খুব কাছে পৌঁছেছে।

এ অবস্থায় ভাটিতে কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলায় তিস্তার নিম্নাঞ্চলের শতাধিক বাড়িঘর প্লা‌বিত হওয়ার সঙ্গে নদীভাঙনের খবর পাওয়া গে‌ছে।

পাউবো নিয়ন্ত্রণকক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী আজ রবিবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ৬টায় কাউনিয়া পয়েন্টে তিস্তার ২৯.৬০ মি.মি. তুলসী ঘাট পয়েন্টে ধরলার পানি ৩০.২০ মিমি, কুড়িগ্রাম পয়েন্টে ধরলার পানি ২৪.২০ মি.মি., পাটেশ্বরী পয়েন্টে দুধকুমারের পানি ২৯.০৪ মি.মি, নুনখাওয়া পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্রের পানি ২৩.৮০ মি.মি, চিলমারী পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্রের পানি ২০.৭৩ মি.মি, হাতিয়া পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্রের পানি ২১.৫০ মি.মি. দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

এদিকে, পানি বৃদ্ধি পেতে থাকায় জেলার রাজারহাটের ঘড়িয়ালডাঙা ইউনিয়নের ৫ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বেশ কিছু বাড়িঘরে পানি প্রবেশ করার খবর পাওয়া গেছে। ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মাঝের চর, সরিষাবাড়ি এবং ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বুড়িরহাটের নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বেশ কিছু বাড়িঘরে পানি প্রবেশ করেছে। একই সঙ্গে শুরু হয়েছে নদীভাঙন। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে শনিবার জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা দুর্যোগপূর্ণ এলাকা পরিদর্শন করেছেন।

ইউনিয়নের গতিয়াশাম গ্রামের বাসিন্দা রাকিবুল বলেন, ‘কয়েকদিন ধরে পানি বাড়তেছে। শনিবার কিছু বাড়িঘরে পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। সঙ্গে কিছু এলাকায় ভাঙনও আছে। ৫ নম্বর ওয়ার্ডের গতিয়াশাম গ্রামে ভাঙনঝুঁকিতে পড়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের বসতভিটা ও গ্রামীণ সড়ক।’

একই গ্রামের স্নাতক শিক্ষার্থী তানজিম বলেন, ‘নদীর পানি বাড়ার সঙ্গে ভাঙনও শুরু হয়েছে। সড়ক, কমিউনিটি ক্লিনিক ও বেশ কিছু বসতভিটা ভাঙনঝুঁকিতে রয়েছে। আমরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করেও কোনও ফল পাচ্ছি না। দ্রুত পদক্ষেপ না নেওয়া হলে সব নদীগর্ভে বিলীন হবে।’

৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মিনহাজুল ইসলাম বলেন, ‘পানি বাড়তেছে। আমার বাড়িতেও পানি ঢুকছে। নিচু এলাকার শতাধিক বাড়িঘরে পানি ঢুকছে। রাত পোহাতে পোহাতে আরও বাড়িঘরে পানি ঢুকতে পারে।’
ঘড়িয়ালডাঙা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আব্দুল কুদ্দুস প্রামাণিক বলেন, ‘ইউনিয়নের তিস্তা তীরবর্তী কিছু বাড়িঘরে পানি প্রবেশ করছে।’

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানায়, তিস্তা-ব্রহ্মপুত্রে পানি বিপদসীমা নাগালে, শতাধিক বসতবাড়ি প্লাবিত। আগামী ১৮ ঘণ্টা তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদের পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে। তিস্তা-ব্রহ্মপুত্রে পানি বিপদসীমা নাগালে। শতাধিক বসতবাড়ি প্লাবিত হয়েছে। পরে পানি কমতে শুরু করবে বলে জানিয়েছে পাউবো।

জেলা প্রশাসক নুসরাত সুলাতানা বলেন, ‘শনিবার তিস্তা তীরবর্তী এলাকা পরিদর্শন করেছি। কিছু বাড়িঘরে পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্থানীয়দের উদ্ধার ও খাদ্যসহায়তার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আমরা পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছি।’

Facebook Comments Box