ঢাকা ০৫:১৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডোমারে অবৈধ ভাবে গাছ কাটার ১মাস অতিবাহিত হলেও প্রশাসন নিরব

ডোমার (নীলফামারী ) থেকে মোসাদ্দেকুর রহমান সাজূ
  • আপডেট সময় : ০৩:৫২:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ মার্চ ২০২৩ ২৫৪ বার পড়া হয়েছে

ডোমারে অবৈধ ভাবে গাছ কাটার ১মাস অতিবাহিত হলেও প্রশাসন নিরব

(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নীলফামারীর ডোমারে বালিকা বিদ্যা নিকেতনের শতবর্ষী অর্জুন গাছটি অবৈধভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রধান শিক্ষক ওমর ফারুক রাতের অন্ধকারে কেটে ফেলে।

গাছ কাটার ১ মাস অতিবাহিত হলেও প্রশাসন নিরব। এবং আইনি পদক্ষেপ নিতে চলছে গড়িমসি এ নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

পড়ুন>>উলিপুরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গাছ কাটলেন প্রধান শিক্ষক

সরেজমিনে দেখা যায় নীলফামারীর ডোমার পৌর এলাকার ৬নং ওয়ার্ডে অবস্থিত বালিকা বিদ্যা নিকেতন স্কুলটি।

প্রতিষ্ঠানের শতবর্ষী অর্জন গাছটি গত ১৮ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় লোকচক্ষুর আড়ালে সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ওমর ফারুক সরকারি নিয়ম নীতির চোখে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে গাছটি কেটে ফেলেন।

অথচ গাছ কাটার দীর্ঘ ১টি মাস অতিবাহিত হলেও প্রশাসনের নিরব ভূমিকা পালনের পাশাপাশি প্রশাসনিক ভাবে কোন আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় জনমনে নানান প্রশ্ন দোলা খাচ্ছে।

 

 

কেউ কেউ বলছে শতবর্ষী অর্জূন গাছটি অবৈধভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রধান শিক্ষক কেটে ফেলল অথচ কোন আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ না করে প্রশাসন নিরব ভূমিকা পালন করছে ?

এমনিতেই তো এই স্কুলে পড়াশোনার মান দিন দিন অবক্ষয় হতে শুরু করেছে? তারপরেও এখানে অনিয়ম যেন নিত্য দিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন সরকারি বিধিনিষেধ অমান্য করে প্রধান শিক্ষক প্রতিষ্ঠানের গাছ কাটলো। বিভিন্ন গণমাধ্যম জাতীয় এবং স্থানীয় পত্রিকাসহ বিভিন্ন অনলাইন পোর্টালে সংবাদ প্রকাশিত হলো তবুও আইনি কোন পদক্ষেপ নেই।

তাহলে কি বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশে এতো বড় একটা অনিয়মের কোন বিচার হবে না? প্রশাসন যদি অনিয়মের বিষয়ে নিরব থাকে তাহলে বুঝতে হবে ডালমে কুছ কালা হ্যায়।

অবৈধ ভাবে গাছ কাটার বিষয়ে প্রশাসনের নিরবতার কারণে এলাকায় চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।

সরকারি পরিপত্র অনুযায়ী যে কোন সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের গাছ কাটতে হলে প্রথমে ম্যানেজিং কমিটির সকলে মিলে গাছ কাটার স্বপক্ষে যুক্তি উল্লেখ পূর্বক রেজুলেশন করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট আবেদন দাখিল করতে হবে।

এখানে ৪ সদস্যর একটি কমিটি রয়েছে সেই কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সদস্য জেলা শিক্ষা প্রকৌশলী, বন বিভাগ কর্মকর্তা,তাদের দেয়া অনুমোদন নিয়ে টেন্ডারের মাধ্যমে জনসম্মুখে প্রকাশ্য ডাক দেওয়া হবে।

উক্ত ডাকের মাধ্যমে সর্বোচ্চ দরদাতাকে নিলামের মাধ্যমে সমুদয় অর্থ প্রেরণ পূর্বক গাছটি কাটার নির্দেশনা প্রদান করা হবে।

অথচ কোনটাই সঠিক ভাবে পালন না করেই গাছটি কর্তন করেন বিদ্যালয়ের সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ওমর ফারুক।

এবিষয়ে ডোমার বালিকা বিদ্যা নিকেতন স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পৌর মেয়র আলহাজ্ব মনছুরুল ইসলাম দানু বলেন, গাছ কাটার বিষয়ে কোন মিটিং বা রেজুলেশন করা হয়নি।

ম্যানেজিং কমিটির সদস্য আব্দুস ছালাম গাছ কাটার বিষয়ে বলেন, গাছ সংক্রান্ত কোন মিটিং বা রেজুলেশন করা হয়নি।

তাছাড়া আমি নিজে ও গাছের বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নই? এক অভিভাবক গাছ কাটার বিষয়ে আমাকে ফোনে জানায়, সেই অভিভাবকের তথ্যের ভিত্তিতে মাগরিবের নামাজের পর বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখি সত্যি সত্যি প্রধান শিক্ষক লোকজন নিয়ে শতবর্ষী অর্জূন গাছটি ততক্ষণে কেটে ফেলেছে।

আমি গাছের বিষয় প্রধান শিক্ষকের কাছে জানতে চাইলে তিনি প্রতিত্তোরে আমাকে বলেন, সভাপতি অনুমতি দিয়েছে তাই আমি লোক লাগিয়ে গাছ কাটিয়েছি।

এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পূবন আখতার বলেন,বিষয়টি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ডোমারে অবৈধ ভাবে গাছ কাটার ১মাস অতিবাহিত হলেও প্রশাসন নিরব

আপডেট সময় : ০৩:৫২:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ মার্চ ২০২৩

নীলফামারীর ডোমারে বালিকা বিদ্যা নিকেতনের শতবর্ষী অর্জুন গাছটি অবৈধভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রধান শিক্ষক ওমর ফারুক রাতের অন্ধকারে কেটে ফেলে।

গাছ কাটার ১ মাস অতিবাহিত হলেও প্রশাসন নিরব। এবং আইনি পদক্ষেপ নিতে চলছে গড়িমসি এ নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

পড়ুন>>উলিপুরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গাছ কাটলেন প্রধান শিক্ষক

সরেজমিনে দেখা যায় নীলফামারীর ডোমার পৌর এলাকার ৬নং ওয়ার্ডে অবস্থিত বালিকা বিদ্যা নিকেতন স্কুলটি।

প্রতিষ্ঠানের শতবর্ষী অর্জন গাছটি গত ১৮ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় লোকচক্ষুর আড়ালে সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ওমর ফারুক সরকারি নিয়ম নীতির চোখে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে গাছটি কেটে ফেলেন।

অথচ গাছ কাটার দীর্ঘ ১টি মাস অতিবাহিত হলেও প্রশাসনের নিরব ভূমিকা পালনের পাশাপাশি প্রশাসনিক ভাবে কোন আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় জনমনে নানান প্রশ্ন দোলা খাচ্ছে।

 

 

কেউ কেউ বলছে শতবর্ষী অর্জূন গাছটি অবৈধভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রধান শিক্ষক কেটে ফেলল অথচ কোন আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ না করে প্রশাসন নিরব ভূমিকা পালন করছে ?

এমনিতেই তো এই স্কুলে পড়াশোনার মান দিন দিন অবক্ষয় হতে শুরু করেছে? তারপরেও এখানে অনিয়ম যেন নিত্য দিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন সরকারি বিধিনিষেধ অমান্য করে প্রধান শিক্ষক প্রতিষ্ঠানের গাছ কাটলো। বিভিন্ন গণমাধ্যম জাতীয় এবং স্থানীয় পত্রিকাসহ বিভিন্ন অনলাইন পোর্টালে সংবাদ প্রকাশিত হলো তবুও আইনি কোন পদক্ষেপ নেই।

তাহলে কি বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশে এতো বড় একটা অনিয়মের কোন বিচার হবে না? প্রশাসন যদি অনিয়মের বিষয়ে নিরব থাকে তাহলে বুঝতে হবে ডালমে কুছ কালা হ্যায়।

অবৈধ ভাবে গাছ কাটার বিষয়ে প্রশাসনের নিরবতার কারণে এলাকায় চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।

সরকারি পরিপত্র অনুযায়ী যে কোন সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের গাছ কাটতে হলে প্রথমে ম্যানেজিং কমিটির সকলে মিলে গাছ কাটার স্বপক্ষে যুক্তি উল্লেখ পূর্বক রেজুলেশন করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট আবেদন দাখিল করতে হবে।

এখানে ৪ সদস্যর একটি কমিটি রয়েছে সেই কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সদস্য জেলা শিক্ষা প্রকৌশলী, বন বিভাগ কর্মকর্তা,তাদের দেয়া অনুমোদন নিয়ে টেন্ডারের মাধ্যমে জনসম্মুখে প্রকাশ্য ডাক দেওয়া হবে।

উক্ত ডাকের মাধ্যমে সর্বোচ্চ দরদাতাকে নিলামের মাধ্যমে সমুদয় অর্থ প্রেরণ পূর্বক গাছটি কাটার নির্দেশনা প্রদান করা হবে।

অথচ কোনটাই সঠিক ভাবে পালন না করেই গাছটি কর্তন করেন বিদ্যালয়ের সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ওমর ফারুক।

এবিষয়ে ডোমার বালিকা বিদ্যা নিকেতন স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পৌর মেয়র আলহাজ্ব মনছুরুল ইসলাম দানু বলেন, গাছ কাটার বিষয়ে কোন মিটিং বা রেজুলেশন করা হয়নি।

ম্যানেজিং কমিটির সদস্য আব্দুস ছালাম গাছ কাটার বিষয়ে বলেন, গাছ সংক্রান্ত কোন মিটিং বা রেজুলেশন করা হয়নি।

তাছাড়া আমি নিজে ও গাছের বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নই? এক অভিভাবক গাছ কাটার বিষয়ে আমাকে ফোনে জানায়, সেই অভিভাবকের তথ্যের ভিত্তিতে মাগরিবের নামাজের পর বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখি সত্যি সত্যি প্রধান শিক্ষক লোকজন নিয়ে শতবর্ষী অর্জূন গাছটি ততক্ষণে কেটে ফেলেছে।

আমি গাছের বিষয় প্রধান শিক্ষকের কাছে জানতে চাইলে তিনি প্রতিত্তোরে আমাকে বলেন, সভাপতি অনুমতি দিয়েছে তাই আমি লোক লাগিয়ে গাছ কাটিয়েছি।

এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পূবন আখতার বলেন,বিষয়টি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

Facebook Comments Box