ঢাকা ০৪:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‘চীনের মুখোমুখি হওয়ার প্রস্তুতি আছে?’, যুক্তরাষ্ট্রকে: উত্তর কোরিয়ার ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা: ভোলার জেলেদের দুশ্চিন্তা ও সরকারি সহায়তার বিনিয়োগ বাড়াতে ২০ উদ্যোগের সাতটি বাস্তবায়ন ইসির সঙ্গে নেপাল নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধিদলের বৈঠক শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ ও অস্থিরতায় উত্তপ্ত ফ্রান্স: সমাধান খুঁজছে সরকার রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে পদত্যাগপত্রে বাধ্য করার ঘটনায় টানা ৪৩ ম্যাচে অপরাজিত থেকেও তৃপ্ত নন স্পেন কোচ ময়মনসিংহে অগ্নিকাণ্ডে পুড়ল ঐতিহ্যের সাক্ষী ‘ঝলমল’ সিনেমা হল বুয়েটে ২৪টি পদে জনবল নিয়োগ: বেতন সর্বোচ্চ ৩০,২৩০ টাকা কাতারে মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রি

‘চীনের মুখোমুখি হওয়ার প্রস্তুতি আছে?’, যুক্তরাষ্ট্রকে: উত্তর কোরিয়ার

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৩৬:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

তাইওয়ানে মার্কিন সামরিক সহায়তার তীব্র সমালোচনা করে ওয়াশিংটনের নীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে উত্তর কোরিয়া। একই সঙ্গে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের জন্মদিনে মস্কোর প্রতি দৃঢ় সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন কিম জং উন।

(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

তাইওয়ানে সামরিক সহায়তা ও নতুন যুদ্ধবিমান সরবরাহের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র সমালোচনা করেছে উত্তর কোরিয়া। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ-এর একটি বিশ্লেষণমূলক প্রতিবেদনে ওয়াশিংটনের এই নীতিকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়েছে। প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়, তাইওয়ানে অস্ত্র সরবরাহের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ওই অঞ্চলে যুদ্ধংদেহী পরিস্থিতি তৈরি করছে এবং উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক আরো দৃঢ় করেছে উত্তর কোরিয়া, যা এশিয়া ও পশ্চিমা বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে।

তাইওয়ান পরিস্থিতি ও মার্কিন নীতি নিয়ে প্রশ্ন

গত বুধবার (৭ অক্টোবর) প্রকাশিত কেসিএনএ-এর বিশেষ বিশ্লেষণে বলা হয়, তাইওয়ানে নতুন মার্কিন যুদ্ধবিমান সরবরাহের ঘটনা ও মার্কিন নীতি ওই অঞ্চলের সামগ্রিক শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে মারাত্মক হুমকির মুখে ফেলছে। পিয়ংইয়ংয়ের পক্ষ থেকে সরাসরি প্রশ্ন তুলে বলা হয়েছে, তাইওয়ানের নিরাপত্তার স্বার্থে চীনের মতো শক্তিশালী জাতীয় শক্তির মুখোমুখি হওয়ার বা এর চরম পরিণাম বহন করার মতো প্রস্তুতি ওয়াশিংটনের আছে কিনা, সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দুবার ভেবে দেখা উচিত।

প্রসংগত, বেইজিংয়ের ক্রমবর্ধমান সামরিক হুমকির মুখে তাইওয়ান সম্প্রতি ২০১৯ সালে চুক্তি করা ৬৬টি নতুন এফ-১৬ভি ব্লক ৭০ যুদ্ধবিমানের প্রথম চালানের দুটি বিমান হাতে পেয়েছে। এই যুদ্ধবিমান সরবরাহের পরই উত্তর কোরিয়া তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখালো। গণতান্ত্রিকভাবে শাসিত তাইওয়ানকে নিজেদের অংশ দাবি করে আসছে চীন, যদিও তাইপে এই সার্বভৌমত্বের দাবি সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করে আসছে। বিশ্লেষকদের মতে, বেইজিংয়ের সবচেয়ে সংবেদনশীল বৈদেশিক নীতি অর্থাৎ ‘এক চীন’ নীতিকে জোরালো সমর্থন জানিয়ে চীনের আরও কাছাকাছি অবস্থান নিয়েছে পিয়ংইয়ং।

কূটনৈতিক সহযোগিতা ও এক চীন নীতি

গত জুন মাসে পিয়ংইয়ং সফরে গিয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন। ওই বৈঠকে তিনি আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির যেকোনো পরিবর্তনে বেইজিংয়ের ‘এক চীন’ নীতিকে পূর্ণ সমর্থন করার দ্বিপক্ষীয় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ওই বৈঠকে দুপক্ষের মধ্যে কূটনীতি, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও সামরিক বিষয়সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে বিশদ আলোচনা হয়েছে।

চীন মূলত তাইওয়ানকে নিজেদের কূটনীতির ‘মূল বিষয়বস্তু’ বলে মনে করে থাকে। পৃথিবীর কোনো দেশের সঙ্গে তাইওয়ানের আনুষ্ঠানিক সরকারি সম্পর্ক থাকুক, তা কখনোই সমর্থন করে না বেইজিং। তাইওয়ানে অস্ত্র বিক্রি অবিলম্বে বন্ধ করতে ওয়াশিংটনকে বারবার তাগিদ দিয়ে আসছে চীন। তবে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকলেও মার্কিন অভ্যন্তরীণ আইন অনুযায়ী তাইওয়ানকে আত্মরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় প্রতিরক্ষামূলক অস্ত্র দিতে আইনত বাধ্য যুক্তরাষ্ট্র।

রাশিয়ার প্রতি উত্তর কোরিয়ার অটল সমর্থন

এদিকে পৃথক এক প্রতিবেদনে কেসিএনএ জানিয়েছে, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে পাঠানো উষ্ণ জন্মদিনের শুভেচ্ছা বার্তায় রাশিয়া ও দেশটির যুদ্ধ প্রচেষ্টার প্রতি নিজ সমর্থন অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন কিম জং উন। দুই দেশের মধ্যকার ব্যাপক কৌশলগত অংশীদারিত্বের কথা উল্লেখ করে কিম বলেন, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় রাশিয়ার এই ‘পবিত্র ন্যায়যুদ্ধ’ শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত বিজয়ের মাধ্যমেই সমাপ্ত হবে।

যদিও ওই জন্মদিনের বার্তায় সরাসরি ইউক্রেন যুদ্ধের কথা উল্লেখ করা হয়নি, তবে ইউক্রেন ও দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দাতথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সাল থেকে রাশিয়ার পক্ষে সক্রিয়ভাবে যুদ্ধে অংশ নিতে পিয়ংইয়ং ইতিমধ্যে প্রায় ১৫ হাজার সেনা মোতায়েন করেছে। ২০২৪ সালের জুনে একটি ঐতিহাসিক পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর থেকেই উত্তর কোরিয়া ও রাশিয়ার দ্বিপক্ষীয় কূটনৈতিক ও সামরিক সম্পর্ক এক অভাবনীয় উচ্চতায় পৌঁছেছে। Do Not Sell or Share My Personal Information। We won’t sell or share your personal information to inform the ads you see। You may still see interest-based ads if your information is sold or shared by other companies or was sold or shared previously।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

‘চীনের মুখোমুখি হওয়ার প্রস্তুতি আছে?’, যুক্তরাষ্ট্রকে: উত্তর কোরিয়ার

আপডেট সময় : ০৪:৩৬:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

তাইওয়ানে সামরিক সহায়তা ও নতুন যুদ্ধবিমান সরবরাহের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র সমালোচনা করেছে উত্তর কোরিয়া। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ-এর একটি বিশ্লেষণমূলক প্রতিবেদনে ওয়াশিংটনের এই নীতিকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়েছে। প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়, তাইওয়ানে অস্ত্র সরবরাহের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ওই অঞ্চলে যুদ্ধংদেহী পরিস্থিতি তৈরি করছে এবং উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক আরো দৃঢ় করেছে উত্তর কোরিয়া, যা এশিয়া ও পশ্চিমা বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে।

তাইওয়ান পরিস্থিতি ও মার্কিন নীতি নিয়ে প্রশ্ন

গত বুধবার (৭ অক্টোবর) প্রকাশিত কেসিএনএ-এর বিশেষ বিশ্লেষণে বলা হয়, তাইওয়ানে নতুন মার্কিন যুদ্ধবিমান সরবরাহের ঘটনা ও মার্কিন নীতি ওই অঞ্চলের সামগ্রিক শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে মারাত্মক হুমকির মুখে ফেলছে। পিয়ংইয়ংয়ের পক্ষ থেকে সরাসরি প্রশ্ন তুলে বলা হয়েছে, তাইওয়ানের নিরাপত্তার স্বার্থে চীনের মতো শক্তিশালী জাতীয় শক্তির মুখোমুখি হওয়ার বা এর চরম পরিণাম বহন করার মতো প্রস্তুতি ওয়াশিংটনের আছে কিনা, সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দুবার ভেবে দেখা উচিত।

প্রসংগত, বেইজিংয়ের ক্রমবর্ধমান সামরিক হুমকির মুখে তাইওয়ান সম্প্রতি ২০১৯ সালে চুক্তি করা ৬৬টি নতুন এফ-১৬ভি ব্লক ৭০ যুদ্ধবিমানের প্রথম চালানের দুটি বিমান হাতে পেয়েছে। এই যুদ্ধবিমান সরবরাহের পরই উত্তর কোরিয়া তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখালো। গণতান্ত্রিকভাবে শাসিত তাইওয়ানকে নিজেদের অংশ দাবি করে আসছে চীন, যদিও তাইপে এই সার্বভৌমত্বের দাবি সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করে আসছে। বিশ্লেষকদের মতে, বেইজিংয়ের সবচেয়ে সংবেদনশীল বৈদেশিক নীতি অর্থাৎ ‘এক চীন’ নীতিকে জোরালো সমর্থন জানিয়ে চীনের আরও কাছাকাছি অবস্থান নিয়েছে পিয়ংইয়ং।

কূটনৈতিক সহযোগিতা ও এক চীন নীতি

গত জুন মাসে পিয়ংইয়ং সফরে গিয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন। ওই বৈঠকে তিনি আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির যেকোনো পরিবর্তনে বেইজিংয়ের ‘এক চীন’ নীতিকে পূর্ণ সমর্থন করার দ্বিপক্ষীয় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ওই বৈঠকে দুপক্ষের মধ্যে কূটনীতি, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও সামরিক বিষয়সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে বিশদ আলোচনা হয়েছে।

চীন মূলত তাইওয়ানকে নিজেদের কূটনীতির ‘মূল বিষয়বস্তু’ বলে মনে করে থাকে। পৃথিবীর কোনো দেশের সঙ্গে তাইওয়ানের আনুষ্ঠানিক সরকারি সম্পর্ক থাকুক, তা কখনোই সমর্থন করে না বেইজিং। তাইওয়ানে অস্ত্র বিক্রি অবিলম্বে বন্ধ করতে ওয়াশিংটনকে বারবার তাগিদ দিয়ে আসছে চীন। তবে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকলেও মার্কিন অভ্যন্তরীণ আইন অনুযায়ী তাইওয়ানকে আত্মরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় প্রতিরক্ষামূলক অস্ত্র দিতে আইনত বাধ্য যুক্তরাষ্ট্র।

রাশিয়ার প্রতি উত্তর কোরিয়ার অটল সমর্থন

এদিকে পৃথক এক প্রতিবেদনে কেসিএনএ জানিয়েছে, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে পাঠানো উষ্ণ জন্মদিনের শুভেচ্ছা বার্তায় রাশিয়া ও দেশটির যুদ্ধ প্রচেষ্টার প্রতি নিজ সমর্থন অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন কিম জং উন। দুই দেশের মধ্যকার ব্যাপক কৌশলগত অংশীদারিত্বের কথা উল্লেখ করে কিম বলেন, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় রাশিয়ার এই ‘পবিত্র ন্যায়যুদ্ধ’ শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত বিজয়ের মাধ্যমেই সমাপ্ত হবে।

যদিও ওই জন্মদিনের বার্তায় সরাসরি ইউক্রেন যুদ্ধের কথা উল্লেখ করা হয়নি, তবে ইউক্রেন ও দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দাতথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সাল থেকে রাশিয়ার পক্ষে সক্রিয়ভাবে যুদ্ধে অংশ নিতে পিয়ংইয়ং ইতিমধ্যে প্রায় ১৫ হাজার সেনা মোতায়েন করেছে। ২০২৪ সালের জুনে একটি ঐতিহাসিক পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর থেকেই উত্তর কোরিয়া ও রাশিয়ার দ্বিপক্ষীয় কূটনৈতিক ও সামরিক সম্পর্ক এক অভাবনীয় উচ্চতায় পৌঁছেছে। Do Not Sell or Share My Personal Information। We won’t sell or share your personal information to inform the ads you see। You may still see interest-based ads if your information is sold or shared by other companies or was sold or shared previously।

Facebook Comments Box