গারো পাহাড়ে ১৫০ বন্যহাতি, সংরক্ষণে নতুন উদ্যোগ হাতির গতিবিধি পর্যবেক্ষণে বসছে এআই ক্যামেরা, অভয়ারণ্য ঘোষণার উদ্যোগ
- আপডেট সময় : ০৭:৪৪:১০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে
গারো পাহাড়ে ১৫০ বন্যহাতি, সংরক্ষণে নতুন উদ্যোগ
হাতির গতিবিধি পর্যবেক্ষণে বসছে এআই ক্যামেরা, অভয়ারণ্য ঘোষণার উদ্যোগ
ময়মনসিংহ বিভাগের শেরপুর ও জামালপুরের গারো পাহাড়ে বন্যহাতির সংখ্যা বেড়ে প্রায় ১৫০টিতে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ২৫ থেকে ৩০টি শাবক। হাতির নিরাপদ আবাসস্থল নিশ্চিত করা এবং মানুষ-হাতি দ্বন্দ্ব কমাতে এআইভিত্তিক ক্যামেরা স্থাপন ও বনাঞ্চলকে অভয়ারণ্য ঘোষণার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শেরপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফাহিম চৌধুরী হাতির গতিবিধি পর্যবেক্ষণে এআই ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছেন। পাশাপাশি হাতির আবাসস্থলকে অভয়ারণ্য ঘোষণার জন্য সরকারের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
পড়ুন>>দিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে ইন্টারনেট ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় বিধিনিষেধ
বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০০০ সালের দিকে গারো পাহাড়ে ১০ থেকে ১৫টি বন্যহাতি এসেছিল। বর্তমানে বংশবিস্তারের ফলে তাদের সংখ্যা প্রায় ১৫০। শেরপুর ও জামালপুরের প্রায় ১২ হাজার হেক্টর বনাঞ্চল ও আশপাশের এলাকায় বিচরণ করছে হাতিগুলো।
তবে সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়ায় গেট বন্ধ থাকায় হাতিগুলো গত দুই বছর ধরে ভারতের মেঘালয়ের বনাঞ্চলে ফিরতে পারছে না বলে জানিয়েছে বন বিভাগ।
২০০৭ সালে সীমান্তে প্রায় ৫০ কিলোমিটার কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের পর হাতির চলাচলের জন্য ৪৪টি গেট ও নদী-ছড়ার ওপর ১১টি আন্ডারপাস তৈরি করা হয়েছিল।
ঢাকার কেন্দ্রীয় বনাঞ্চলের বন সংরক্ষক এএসএম জহির উদ্দিন আকন জানান, হাতিগুলোর নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে সীমান্তের গেট খুলে দেওয়ার জন্য ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হয়েছে।
পড়ুন>>যুব অধিকার পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সানি সারোয়ার বহিষ্কার
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক এমএ আজিজ বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় ছাড়া এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। হাতির নিরাপদ চলাচলের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকা রক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে।
বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ ও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে শেরপুরে বন্যহাতির হামলায় ৩৫৬টি ঘটনায় ঘরবাড়ি ও ফসলের জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নষ্ট হয়েছে ৪৩৫ হেক্টর জমির ফসল। মানুষ-হাতি সংঘাতে মারা গেছেন অন্তত ১০ জন মানুষ ও চারটি হাতি।
এ অবস্থায় হাতির গতিবিধি পর্যবেক্ষণে প্রযুক্তির ব্যবহার, বনাঞ্চলে খাদ্যের প্রাপ্যতা বৃদ্ধি, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা এবং ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে কার্যকর সহযোগিতা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
তাদের প্রত্যাশা, সরকারের নতুন উদ্যোগ ও দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার মাধ্যমে গারো পাহাড়ে বন্যহাতির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মানুষ ও বন্যপ্রাণীর সহাবস্থান আরও নিরাপদ হবে।

























