ভারতীয় গরুর কারণে হাটে ন্যায্য দাম পাচ্ছে না খামারীরা
- আপডেট সময় : ০৭:৪৪:৩৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২০ ১০১৯ বার পড়া হয়েছে
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ কুড়িগ্রাম জেলার সীমান্ত এলাকার গরুর হাটগুলোতে অবৈধ পথে আনা ভারতীয় গরু-মহিষ বিক্রি হচ্ছে। এসব গরু-মহিষ নদীপথে বাংলাদেশের সীমান্তে পাচার হয়ে আসছে। ভারতীয় এসব পশুর কারণে দেশীয় খামারিরা ন্যায্য মূল্য নিয়ে শঙ্কিত রয়েছে। তবে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও বিজিবি চোরাচালান রোধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
জানা গেছে, কুড়িগ্রামের ব্রহ্মপুত্র ও দুধকুমার নদ দিয়ে প্রতিদিন ভেসে আসছে ভারতীয় পাচার করা গরু-মহিষ। দৈ খাওয়া, সাহেবের আলগা, নারায়ণপুর, কচাকাটা ও ভুরুঙ্গামারী উপজেলার শালঝোড়, ধলডাঙ্গা,দক্ষিন তিলাই,উত্তর তিলাই,ভাওয়াল গুড়ি, সোনাহাটের ভরতের ছড়া (কামার টারী),দেবীর কুড়াসহ বেশ কয়েকটি পয়েন্ট দিয়ে সীমান্ত নদীপথে পশু পাচার করছে দু’দেশের চোরাকারবারি সিন্ডিকেট। নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নদী দিয়ে কলা গাছের ভেলায় ভাসিয়ে এবং সীমান্তের কাটা তারের বেড়ার উপর দিয়ে গরু-মহিষ পাচার করা হচ্ছে। আর পাচার হওয়া এ গরু-মহিষ জেলার ভুরুঙ্গামারী হাট ও যাত্রাপুর হাটসহ অন্যান্য হাটে অবাধে বিক্রি হচ্ছে এ সব ভারতীয় গরু।
রাজশাহীর চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে আসা ব্যবসায়ী রব্বানী, সাইফুল, রহমত ব্যাপারী জানান, যাত্রাপুর এবং ভুরুঙ্গামারী হাটে ভারতীয় গরু ওঠার কারণে তারা এখান থেকে গরু অল্প টাকায় কিনে ব্যবসা করে লাভবান হচ্ছেন। খামারীর গরুর থেকে ভারতীয় গরুতে লাভ বেশি হয় ।
সিরাজগঞ্জ থেকে আসা গরু ব্যবসায়ী আবুল হোসেন, গোলাম রসুল, কিবরিয়া জানান, যাত্রাপুর হাট থেকে ছোট ভারতীয় গরু ও বড় গরু কিনে তারা দেশের বিভিন্ন জায়গায় হাটে বিক্রি করেন। ছোট গরুগুলো শাহীওয়াল জাতের হওয়ায় এর চাহিদা বেশি। অনেক খামারী এই গরু মোটাতাজা করে বিক্রি করেন বলে জানান তারা।
কুড়িগ্রামের গরু খামারি কালাম, বাচ্চু, জব্বার ও ভূরুঙ্গামারী উপজেলার সোনাহাট ইউনিয়নের খামারী রছুল মিয়া,জয়নাল আলী,ও চর ভূরুঙ্গামারীর হুচার বালার খামারী পশু চিকিৎসক মানিক উদ্দিন বলেন, ‘কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের খামারে লালিত গরু হাটে বিক্রি করতে এসেছি। কিন্তু হাটে ভারতীয় গরু বেশি হওয়ায় আমরা ন্যায্য মূল্য পাচ্ছি না।‘
ভারতীয় গরু পাচার হয়ে আসা রোধে স্থানীয় প্রশাসন ও বিজিবি কঠোর অবস্থানে থাকলেও তা ঠেকানো যাচ্ছে না। কাস্টমস বিভাগ কুড়িগ্রামের সহকারী কমিশনার আবু জাফর মোঃ রায়হান বলেন, সোমবার শালঝোড় সীমান্ত দিয়ে আসা উত্তর ধলডাঙ্গায় ভারতীয় ২৩টি গরু নিলাম কার্যক্রম চললেও সিন্ডিকেটের কারণে দরপত্র বাতিল করে করা হয়েছে।‘
বিজিবির ২২ ব্যাটালিয়নের পরিচালক লে. কর্নেল মোহাম্মদ জামাল হোসেন বলেন, ‘বিজিবির পক্ষ থেকে গরু পাচারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। নদীপথে টহল জোরদার করা হয়েছে এবং ভারতীয় গরু দেখলে আমরা তা আটক করছি।’কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, ‘বিজিবি ও পুলিশসহ প্রশাসনের পক্ষে সম্মিলিতভাবে ভারতীয় গরু পাচার রোধে কাজ করছে। দেশীয় গরুর খামারিরা যেন সঠিক মূল্য পায় সে জন্য সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী প্রচারণা চালানো হচ্ছে।’
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
One thought on “ভারতীয় গরুর কারণে হাটে ন্যায্য দাম পাচ্ছে না খামারীরা”
আপনার মন্তব্য Cancel reply
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ


























ভারত থেকে অবৈধভাবে গরু আনা বন্ধকরে স্থানীয় গরু খামারীদের পালনকরা গরু যাতে ন্যায্য মূল্যে বাজারে বিক্রি করে স্থানীয় খামারীগণ লাভবান হাতেপারে সেই ব্যবস্থা গ্রহণে সরকারকে অনুরোধ করতেছি।