ঢাকা ০১:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আজ বিশ্ব ডিম দিবস:দেশে বছরে উৎপাদিত ২ হাজার ৫৭ কোটি ডিম

সৃষ্টি কৃষি ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১১:০০:২১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অক্টোবর ২০২২ ২৭৫ বার পড়া হয়েছে

আজ বিশ্ব ডিম দিবস:দেশে বছরে উৎপাদিত ২ হাজার ৫৭ কোটি ডিম

(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আজ বিশ্ব ডিম দিবস।প্রতি বছর অক্টোবর মাসের দ্বিতীয় শুক্রবার বিশ্ব জুড়ে ‘বিশ্ব ডিম দিবস’  উদযাপিত  হয়ে আসছে। সারা বিশ্বের ন্যায় বাংলাদেশেও আজ পালিত হচ্ছে বিশ্ব ডিম দিবস। ।দেশে উৎপাদিত ডিমের ৯০ শতাংশ ডিম আসে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক খামার থেকে। এসব খামারীরদের নেই কোন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা ও ঋণের সুবিধা। তারাঝুকি নিয়েই দেশের ডিমের চাহিদার সিংহভাগই উৎপাদন করে থাকেন। দেশে প্রতি বছর ডিমের চাহিদা যেমন বাড়ছে, পাল্লা দিয়ে বাড়ছে উৎপাদনও। বাংলাদেশে মোট যে পরিমাণ ডিম উৎপাদিত হয়, তার মাত্র ১০ থেকে ১২ শতাংশ উৎপাদন করে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে পরিচিত খামারগুলো। দেশের ৮৮ থেকে ৯০ শতাংশ ডিম আসে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক খামার থেকে। বিষয়টি বিবেচনায় এনে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক খামারিদের ঋণসুবিধার পাশাপাশি মুরগি পালনের প্রশিক্ষণ দেওয়ার তাগিদ পোলট্রি বিশেষজ্ঞদের।

ডিম উৎপাদন বাড়ায় দেশে মানুষের ডিম খাওয়ার পরিমাণও বেড়েছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) তথ্যমতে, সুস্থ থাকার জন্য প্রত্যেক মানুষের বছরে ন্যূনতম ১০৪টি ডিম খাওয়া প্রয়োজন। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের হিসাবমতে, ২০২০-২১ অর্থবছরে মাথাপিছু ডিম খাওয়ার পরিমাণ ছিল ১২১টির বেশি।পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত ও পাকিস্তানে এখনো ডিম খাওয়ার পরিমাণ আমাদের চেয়ে অনেক কম। ২০১৯ সালের ২৩ অক্টোবর সানডে ক্রনিকলের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী ভারতে মাথাপিছু ডিম খেয়ে থাকে ৩০টি। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ এই সংখ্যা ১৮০টিতে উন্নীত করার পরামর্শ দিয়েছে। অবশ্য বাংলাদেশের প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর এর চেয়েও অনেকটা এগিয়ে ২০৩১ সাল নাগাদ ডিমের মাথাপিছু কনজাম্পশন ১৬৫টি এবং ২০৪১ সাল নাগাদ ২০৮টিতে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের হিসাবমতে দেশে বর্তমানে নিবন্ধিত লেয়ার খামারের সংখ্যা ২০ হাজার ৪৬৪। প্রকৃত সংখ্যা আরো বেশি। আর সর্বশেষ হিসাবে গত বছর দেশে ২ হাজার ৫৭ কোটিরও বেশি ডিম উৎপাদন হয়েছে। এর আগের বছরগুলোর তুলনায় এই সংখ্যা অনেক বেড়েছে। তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ২০১৭-১৮ সালে ডিমের উত্পাদন ছিল  ১ হাজার ৫৫২ কোটি, ২০১৮-১৯ সালে ১ হাজার ৭১১ কোটি, ২০১৯-২০ সালে ১ হাজার ৭৩৬ কোটি।

সরকারি এই পরিসংখ্যানে ডিম বলতে পোলট্রি ডিম, দেশি মুরগির ডিম, হাঁসের ডিম, কোয়েল ও কবুতরের ডিমকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিলের (বিপিআইসিসি) দেওয়া তথ্যমতে ডায়মন্ড এগ ১৪ থেকে ১৫ লাখ, কাজী ফার্মস ১২ থেকে ১৪ লাখ, প্যারাগন পোলট্রি সাড়ে ৫ থেকে ৬ লাখ, নর্থ এগ সাড়ে ৪ থেকে ৫ লাখ ডিম দৈনিক সরবরাহ করতে পারে। এছাড়া আরো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যারা দিনে লাখের বেশি ডিম সরবরাহ করে।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

আজ বিশ্ব ডিম দিবস:দেশে বছরে উৎপাদিত ২ হাজার ৫৭ কোটি ডিম

আপডেট সময় : ১১:০০:২১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অক্টোবর ২০২২

আজ বিশ্ব ডিম দিবস।প্রতি বছর অক্টোবর মাসের দ্বিতীয় শুক্রবার বিশ্ব জুড়ে ‘বিশ্ব ডিম দিবস’  উদযাপিত  হয়ে আসছে। সারা বিশ্বের ন্যায় বাংলাদেশেও আজ পালিত হচ্ছে বিশ্ব ডিম দিবস। ।দেশে উৎপাদিত ডিমের ৯০ শতাংশ ডিম আসে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক খামার থেকে। এসব খামারীরদের নেই কোন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা ও ঋণের সুবিধা। তারাঝুকি নিয়েই দেশের ডিমের চাহিদার সিংহভাগই উৎপাদন করে থাকেন। দেশে প্রতি বছর ডিমের চাহিদা যেমন বাড়ছে, পাল্লা দিয়ে বাড়ছে উৎপাদনও। বাংলাদেশে মোট যে পরিমাণ ডিম উৎপাদিত হয়, তার মাত্র ১০ থেকে ১২ শতাংশ উৎপাদন করে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে পরিচিত খামারগুলো। দেশের ৮৮ থেকে ৯০ শতাংশ ডিম আসে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক খামার থেকে। বিষয়টি বিবেচনায় এনে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক খামারিদের ঋণসুবিধার পাশাপাশি মুরগি পালনের প্রশিক্ষণ দেওয়ার তাগিদ পোলট্রি বিশেষজ্ঞদের।

ডিম উৎপাদন বাড়ায় দেশে মানুষের ডিম খাওয়ার পরিমাণও বেড়েছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) তথ্যমতে, সুস্থ থাকার জন্য প্রত্যেক মানুষের বছরে ন্যূনতম ১০৪টি ডিম খাওয়া প্রয়োজন। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের হিসাবমতে, ২০২০-২১ অর্থবছরে মাথাপিছু ডিম খাওয়ার পরিমাণ ছিল ১২১টির বেশি।পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত ও পাকিস্তানে এখনো ডিম খাওয়ার পরিমাণ আমাদের চেয়ে অনেক কম। ২০১৯ সালের ২৩ অক্টোবর সানডে ক্রনিকলের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী ভারতে মাথাপিছু ডিম খেয়ে থাকে ৩০টি। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ এই সংখ্যা ১৮০টিতে উন্নীত করার পরামর্শ দিয়েছে। অবশ্য বাংলাদেশের প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর এর চেয়েও অনেকটা এগিয়ে ২০৩১ সাল নাগাদ ডিমের মাথাপিছু কনজাম্পশন ১৬৫টি এবং ২০৪১ সাল নাগাদ ২০৮টিতে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের হিসাবমতে দেশে বর্তমানে নিবন্ধিত লেয়ার খামারের সংখ্যা ২০ হাজার ৪৬৪। প্রকৃত সংখ্যা আরো বেশি। আর সর্বশেষ হিসাবে গত বছর দেশে ২ হাজার ৫৭ কোটিরও বেশি ডিম উৎপাদন হয়েছে। এর আগের বছরগুলোর তুলনায় এই সংখ্যা অনেক বেড়েছে। তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ২০১৭-১৮ সালে ডিমের উত্পাদন ছিল  ১ হাজার ৫৫২ কোটি, ২০১৮-১৯ সালে ১ হাজার ৭১১ কোটি, ২০১৯-২০ সালে ১ হাজার ৭৩৬ কোটি।

সরকারি এই পরিসংখ্যানে ডিম বলতে পোলট্রি ডিম, দেশি মুরগির ডিম, হাঁসের ডিম, কোয়েল ও কবুতরের ডিমকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিলের (বিপিআইসিসি) দেওয়া তথ্যমতে ডায়মন্ড এগ ১৪ থেকে ১৫ লাখ, কাজী ফার্মস ১২ থেকে ১৪ লাখ, প্যারাগন পোলট্রি সাড়ে ৫ থেকে ৬ লাখ, নর্থ এগ সাড়ে ৪ থেকে ৫ লাখ ডিম দৈনিক সরবরাহ করতে পারে। এছাড়া আরো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যারা দিনে লাখের বেশি ডিম সরবরাহ করে।

Facebook Comments Box