ঢাকা ০১:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ১১ পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি চার বছরে ২ কোটি ৪০ লাখ কৃষককে বিশেষ কার্ড দেবে সরকার তুরাগ নদে মিলল বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তার পরিচয় স্থগিত হলো জাতীয় যুব মেলা, জানালেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী তুরাগ নদীতে মিলল বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি ব্যালন ডি’অর অব অলটাইম জিতলেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো গাজার শিশুদের সহায়তায় ১ লাখ পাউন্ড তহবিল সংগ্রহ করলেন হামজা চৌধুরী ইসরাইলে শুরু হয়েছে ‘ডাবল খাম’ বা অবর্তমান ভোটের গণনা আরআরএফ-এ ৪৪০ পদে কর্মী নিয়োগ: ৬ নভেম্বর সিলেটে বাছাই পরীক্ষা লস অ্যাঞ্জেলেস ফ্যাশন উইকে নজর কাড়লেন বাংলাদেশি মডেল রাকিব হাসান

আগামী ১৫ দিনের মধ্যে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হবে: প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:২৩:২৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৪৭ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানিয়েছেন, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি ঘটবে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে বিরোধী দলীয় সদস্য নূরুল ইসলাম বুলবুলের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন। স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বিকেল সাড়ে ৩টায় সংসদের বৈঠক শুরু হয়।

বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ নিয়ে আগস্ট মাসে সাধারণ মানুষ যে ভোগান্তির শিকার হয়েছে, তার পুনরাবৃত্তি যেন সেপ্টেম্বর মাসে না হয়, সে লক্ষ্যে সরকার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাচ্ছে বলে প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন। তিনি বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহে চলমান সংকটের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, সরকার বাস্তব পরিস্থিতি আড়াল না করে জনগণের কাছে প্রকৃত তথ্য তুলে ধরতে চায়।

প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমান বিদ্যুৎ সংকট মূলত জ্বালানি খাতে দীর্ঘদিনের ভুল নীতিরই একটি অনিবার্য পরিণতি। এর সঙ্গে সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা নতুন করে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে। তিনি আরও বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্প এবং গৃহস্থালি—এই তিন খাতের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। দেশে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ১২ হাজার মেগাওয়াট, যা পূর্ণমাত্রায় কাজে লাগাতে প্রতিদিন ১ হাজার ৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের প্রয়োজন হয়। বর্তমানে দেশীয় উৎপাদন ও এলএনজি মিলিয়ে ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে।

বিদ্যুৎ সংকটের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি জানান, পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৬১৬ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি ইউনিট কারিগরি ত্রুটির কারণে এবং মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রের সমক্ষমতার একটি ইউনিট রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বন্ধ রয়েছে। এছাড়া ভারতের আদানি গ্রুপ থেকে চুক্তি অনুযায়ী ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়ার কথা থাকলেও বর্তমানে দিনে প্রায় ৯০০ এবং সন্ধ্যায় ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াট পাওয়া যাচ্ছে।

জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের চাপের পেছনে এফএসআরইউ বা ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের ত্রুটিকে দায়ী করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, গত ২১ জুলাই এফএসআরইউতে ত্রুটি দেখা দেয়, যা মেরামতে ২১ থেকে ২২ দিন সময় লেগেছে। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। তবে তিনি দাবি করেন, এই সংকটের প্রায় ৮৮ শতাংশ ইতিমধ্যে সমাধান করা সম্ভব হয়েছে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে পায়রা ও মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রের বন্ধ ইউনিটগুলো দ্রুত চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, আগামী গ্রীষ্মে বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় রুফটপ সোলারসহ বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। সরকারের নতুন রুফটপ সোলার নীতির ফলে ভবিষ্যতে মানুষকে আর বর্তমানের মতো ভোগান্তিতে পড়তে হবে না বলে তিনি আশাবাদী।

সংসদ সদস্যদের উদ্বেগকে যৌক্তিক উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জনগণের প্রতিনিধিদের কাছে প্রকৃত পরিস্থিতি তুলে ধরা এবং এ সংক্রান্ত ভুল বোঝাবুঝি দূর করতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে অতিরিক্ত গ্যাস ব্যবহার করলে শিল্প ও আবাসিক খাতে সরবরাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

আগামী ১৫ দিনের মধ্যে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হবে: প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত

আপডেট সময় : ০৮:২৩:২৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানিয়েছেন, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি ঘটবে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে বিরোধী দলীয় সদস্য নূরুল ইসলাম বুলবুলের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন। স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বিকেল সাড়ে ৩টায় সংসদের বৈঠক শুরু হয়।

বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ নিয়ে আগস্ট মাসে সাধারণ মানুষ যে ভোগান্তির শিকার হয়েছে, তার পুনরাবৃত্তি যেন সেপ্টেম্বর মাসে না হয়, সে লক্ষ্যে সরকার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাচ্ছে বলে প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন। তিনি বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহে চলমান সংকটের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, সরকার বাস্তব পরিস্থিতি আড়াল না করে জনগণের কাছে প্রকৃত তথ্য তুলে ধরতে চায়।

প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমান বিদ্যুৎ সংকট মূলত জ্বালানি খাতে দীর্ঘদিনের ভুল নীতিরই একটি অনিবার্য পরিণতি। এর সঙ্গে সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা নতুন করে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে। তিনি আরও বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্প এবং গৃহস্থালি—এই তিন খাতের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। দেশে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ১২ হাজার মেগাওয়াট, যা পূর্ণমাত্রায় কাজে লাগাতে প্রতিদিন ১ হাজার ৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের প্রয়োজন হয়। বর্তমানে দেশীয় উৎপাদন ও এলএনজি মিলিয়ে ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে।

বিদ্যুৎ সংকটের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি জানান, পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৬১৬ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি ইউনিট কারিগরি ত্রুটির কারণে এবং মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রের সমক্ষমতার একটি ইউনিট রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বন্ধ রয়েছে। এছাড়া ভারতের আদানি গ্রুপ থেকে চুক্তি অনুযায়ী ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়ার কথা থাকলেও বর্তমানে দিনে প্রায় ৯০০ এবং সন্ধ্যায় ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াট পাওয়া যাচ্ছে।

জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের চাপের পেছনে এফএসআরইউ বা ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের ত্রুটিকে দায়ী করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, গত ২১ জুলাই এফএসআরইউতে ত্রুটি দেখা দেয়, যা মেরামতে ২১ থেকে ২২ দিন সময় লেগেছে। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। তবে তিনি দাবি করেন, এই সংকটের প্রায় ৮৮ শতাংশ ইতিমধ্যে সমাধান করা সম্ভব হয়েছে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে পায়রা ও মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রের বন্ধ ইউনিটগুলো দ্রুত চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, আগামী গ্রীষ্মে বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় রুফটপ সোলারসহ বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। সরকারের নতুন রুফটপ সোলার নীতির ফলে ভবিষ্যতে মানুষকে আর বর্তমানের মতো ভোগান্তিতে পড়তে হবে না বলে তিনি আশাবাদী।

সংসদ সদস্যদের উদ্বেগকে যৌক্তিক উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জনগণের প্রতিনিধিদের কাছে প্রকৃত পরিস্থিতি তুলে ধরা এবং এ সংক্রান্ত ভুল বোঝাবুঝি দূর করতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে অতিরিক্ত গ্যাস ব্যবহার করলে শিল্প ও আবাসিক খাতে সরবরাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

Facebook Comments Box