ঢাকা ০১:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
উইন্ডিজের বিপক্ষে তাওহিদ হৃদয়ের দুর্দান্ত প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি জামালপুরে ট্রাকচাপায় একই পরিবারের তিন জনসহ নিহত ৪ সামরিক চিকিৎসা সার্ভিস মহাপরিদপ্তরে ৩০ পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নতুন পারমাণবিক প্রস্তাব পাঠাল ইরান হৃদয়ের প্রথম টেস্ট ফিফটির দিনে চাপ বাড়াল মুশফিক-লিটনের বিদায় ভাষা ও জ্ঞানচর্চার নতুন ভাবনা নিয়ে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে আন্তর্জাতিক সম্মেলন শুরু মার্কিন রাজনীতিতে নিজের পরিচয় নিয়ে দৃঢ় অবস্থানে এল-সায়েদ ৭ নভেম্বরে জিয়া ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা জানালেন প্রধানমন্ত্রী শহীদ জিয়ার মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থান, ক্ষমতার পালাবদল ও বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা

স্বাস্থ্যসেবা সংস্কারে বড় পরিকল্পনা ও রেকর্ড বরাদ্দ সরকারের

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৩৩:৪৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬ ৪১ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দেশের স্বাস্থ্য খাতের মানোন্নয়ন ও প্রান্তিক মানুষের দোরগোড়ায় আধুনিক চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে ব্যাপক পুনর্গঠন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো উপজেলা পর্যায়ে শয্যাসংখ্যা বাড়ানো, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, বিপুলসংখ্যক স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ, আধুনিক রোগ নির্ণয় ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং বিভাগীয় পর্যায়ে ক্যানসার চিকিৎসার সুযোগ সৃষ্টি করা। ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ের অনেক স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও মেরামত হয়নি। নতুন ও পুনর্নির্মিত স্থাপনাগুলোতে আসবাবপত্র, চিকিৎসা সরঞ্জাম, নিরাপদ পানি, বিদ্যুৎ ও সৌরবিদ্যুৎ, পয়োনিষ্কাশন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, অগ্নিনিরাপত্তা এবং প্রতিবন্ধীবান্ধব প্রবেশপথ নিশ্চিত করা হবে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিশেষায়িত ক্যানসার চিকিৎসা এখনো মূলত ঢাকা ও কয়েকটি বড় শহরকেন্দ্রিক। ফলে দূরবর্তী এলাকার রোগীদের দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে চিকিৎসা নিতে হয়। প্রতিমন্ত্রী একে দেশে প্রথম এ ধরনের প্রতিষ্ঠান হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

চলতি অর্থবছরে সরকার স্বাস্থ্য খাতে রেকর্ড ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে, যা জাতীয় বাজেটের মোট বরাদ্দের ৭ দশমিক ৪ শতাংশ। স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত জানান, দীর্ঘ ১৫ বছরের দুর্নীতি ও অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে অব্যবস্থাপনার কারণে স্বাস্থ্যব্যবস্থা ভেঙে পড়েছিল। এখন সামগ্রিক ব্যবস্থাকে নতুন করে সাজানোর সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর বর্তমান সরকার পুরো স্বাস্থ্যব্যবস্থা পুনর্গঠনে সমন্বিত পরিকল্পনা নিয়েছে।

উপজেলা হাসপাতালের ওপর চাপ কমাতে ৪৪ হাজার ৭৫৭ কোটি ৩৮ লাখ ৫০ হাজার টাকার একটি প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে, যা ২০২৬ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে বাস্তবায়নের লক্ষ্য রয়েছে। ২০৩০ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্য রয়েছে।

এই প্রকল্পের মাধ্যমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোর সক্ষমতা বাড়িয়ে পর্যায়ক্রমে সেগুলোকে ১৫১ শয্যার পূর্ণাঙ্গ হাসপাতালে রূপান্তর করা হবে। এতে করে দেশের ৫০৩টি উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আর জনবল ও শয্যা সংকটে ভুগবে না। প্রতিমন্ত্রী বলেন, জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে অনেক এলাকায় ৩০ ও ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আর পর্যাপ্ত নয়। এতে চিকিৎসার ব্যয়ের পাশাপাশি যাতায়াত খরচও বহন করতে গিয়ে রোগী ও তাদের পরিবার আর্থিক সংকটে পড়েন।

উন্নীত হাসপাতালগুলোতে আইসিইউ, করোনারি কেয়ার, সার্জারি, মাতৃত্ব ও শিশুস্বাস্থ্য সেবার পাশাপাশি কিডনি ডায়ালাইসিস, ক্যানসার শনাক্তকরণ ও ফিজিওথেরাপির মতো উন্নত ব্যবস্থা থাকবে। ৪৪৩টি উপজেলায় বহুতল সেবাভবন এবং ১৫টি উপজেলায় আবাসন সুবিধাও নির্মাণ করা হবে। কোনো কোনো উপজেলায় এখন ৮ থেকে ১০ লাখ মানুষকে সেবা দিতে হচ্ছে।

প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা আরও হাতের নাগালে আনতে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে ১৪ হাজার ৬৩৪টি কেন্দ্র এবং ১ হাজার ৬৩১টি প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা হাব স্থাপনের জন্য প্রায় ১১ হাজার ৯৯৩ কোটি টাকার প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মীরা নিয়মিত বাড়ি বাড়ি গিয়ে রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস পরীক্ষা করবেন এবং স্বাস্থ্য পরামর্শ দেবেন। এ জন্য ১১ হাজার ৯৯৩ কোটি ২৫ লাখ ৮২ হাজার টাকার প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় সরঞ্জামসহ প্রশিক্ষিত এসব কর্মী অন্তত দুই মাসে একবার প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে স্বাস্থ্যসেবা ও পরামর্শ দেবেন। তারা বাড়িতেই রক্তচাপ ও রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা পরীক্ষা করতে পারবেন। এর মাধ্যমে উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা সম্ভব হবে। প্রতিমন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশের তুলনায় বাংলাদেশে নার্সের সংখ্যা প্রায় এক-তৃতীয়াংশ।

চিকিৎসক ও নার্সের সংকট কাটাতে পিএসসির মাধ্যমে ৫ হাজার চিকিৎসক নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। এছাড়া ২ হাজার ৫০০ নার্স এবং আগামী পাঁচ বছরে ২৫ হাজার মিডওয়াইফ নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে কর্মরত ৪০ হাজার স্বাস্থ্যকর্মীর সঙ্গে আরও ১ লাখ কর্মীকে যুক্ত করার প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে, যা স্বাস্থ্যসেবার পরিধি ব্যাপক বৃদ্ধি করবে। প্রকল্পের আওতায় ১৮টি হাসপাতাল ৫১ শয্যায়, ৩০৫টি ১০১ শয্যায়, ৮৩টি ১৩২ শয্যায়, ১৩টি ১২০ শয্যায় এবং ২৪টি হাসপাতাল ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর আওতায় ৫ হাজার ৯৩৬টি স্থাপনা পুনর্নির্মাণ, ৮ হাজার ৩৪৮টি মেরামত বা আধুনিকায়ন এবং ৩৫০টি নতুন হাব নির্মাণ করা হবে। অন্যদিকে কেন্দ্রগুলোর মধ্যে ৪২৮টি পুনর্নির্মাণ, ৬০৫টি সংস্কার এবং ৫৯৮টি নতুন করে নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) মাধ্যমে ৫ হাজার চিকিৎসক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

ক্যানসার চিকিৎসাকে ঢাকাকেন্দ্রিকতা থেকে বের করে আনতে আটটি বিভাগে পূর্ণাঙ্গ ক্যানসার চিকিৎসাকেন্দ্র স্থাপন করা হবে।

এছাড়া সুনামগঞ্জ, টাঙ্গাইল, নোয়াখালী, পটুয়াখালী ও কিশোরগঞ্জের মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫৩৫ কোটি ৫৪ লাখ টাকা ব্যয়ে পাঁচটি নিউক্লিয়ার মেডিসিন অ্যান্ড অ্যালায়েড সায়েন্সেস ইনস্টিটিউট (ইনমাস) স্থাপন করা হবে।

আধুনিক চিকিৎসার জন্য ১৭টি লিনিয়ার অ্যাক্সিলারেটর এবং পাঁচটি উন্নত রোবটিক সার্জারি যন্ত্র কেনারও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য খাতের প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সাভারে দেশের প্রথম ‘স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউট’ প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে। আগামী ১ জানুয়ারি এটি উদ্বোধনের কথা রয়েছে, যেখানে সিভিল সার্জন ও উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের ব্যবস্থাপনা ও অর্থায়ন বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। মেডিকেল টেকনোলজিস্টসহ অন্যান্য স্বাস্থ্য পেশাজীবীরও ঘাটতি রয়েছে।

হাসপাতালগুলোর অচল যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামের সংকট নিরসনে ১৬ হাজার কোটি টাকার একটি কর্মসূচির দরপত্র শীঘ্রই আহ্বান করা হবে। সরকার স্থানীয় পর্যায়ে রোগ নির্ণয় সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য এই বড় বিনিয়োগ করছে, যাতে রোগীরা বাড়ির কাছেই সব ধরনের পরীক্ষা সম্পন্ন করতে পারেন।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

স্বাস্থ্যসেবা সংস্কারে বড় পরিকল্পনা ও রেকর্ড বরাদ্দ সরকারের

আপডেট সময় : ১১:৩৩:৪৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬

দেশের স্বাস্থ্য খাতের মানোন্নয়ন ও প্রান্তিক মানুষের দোরগোড়ায় আধুনিক চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে ব্যাপক পুনর্গঠন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো উপজেলা পর্যায়ে শয্যাসংখ্যা বাড়ানো, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, বিপুলসংখ্যক স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ, আধুনিক রোগ নির্ণয় ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং বিভাগীয় পর্যায়ে ক্যানসার চিকিৎসার সুযোগ সৃষ্টি করা। ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ের অনেক স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও মেরামত হয়নি। নতুন ও পুনর্নির্মিত স্থাপনাগুলোতে আসবাবপত্র, চিকিৎসা সরঞ্জাম, নিরাপদ পানি, বিদ্যুৎ ও সৌরবিদ্যুৎ, পয়োনিষ্কাশন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, অগ্নিনিরাপত্তা এবং প্রতিবন্ধীবান্ধব প্রবেশপথ নিশ্চিত করা হবে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিশেষায়িত ক্যানসার চিকিৎসা এখনো মূলত ঢাকা ও কয়েকটি বড় শহরকেন্দ্রিক। ফলে দূরবর্তী এলাকার রোগীদের দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে চিকিৎসা নিতে হয়। প্রতিমন্ত্রী একে দেশে প্রথম এ ধরনের প্রতিষ্ঠান হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

চলতি অর্থবছরে সরকার স্বাস্থ্য খাতে রেকর্ড ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে, যা জাতীয় বাজেটের মোট বরাদ্দের ৭ দশমিক ৪ শতাংশ। স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত জানান, দীর্ঘ ১৫ বছরের দুর্নীতি ও অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে অব্যবস্থাপনার কারণে স্বাস্থ্যব্যবস্থা ভেঙে পড়েছিল। এখন সামগ্রিক ব্যবস্থাকে নতুন করে সাজানোর সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর বর্তমান সরকার পুরো স্বাস্থ্যব্যবস্থা পুনর্গঠনে সমন্বিত পরিকল্পনা নিয়েছে।

উপজেলা হাসপাতালের ওপর চাপ কমাতে ৪৪ হাজার ৭৫৭ কোটি ৩৮ লাখ ৫০ হাজার টাকার একটি প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে, যা ২০২৬ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে বাস্তবায়নের লক্ষ্য রয়েছে। ২০৩০ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্য রয়েছে।

এই প্রকল্পের মাধ্যমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোর সক্ষমতা বাড়িয়ে পর্যায়ক্রমে সেগুলোকে ১৫১ শয্যার পূর্ণাঙ্গ হাসপাতালে রূপান্তর করা হবে। এতে করে দেশের ৫০৩টি উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আর জনবল ও শয্যা সংকটে ভুগবে না। প্রতিমন্ত্রী বলেন, জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে অনেক এলাকায় ৩০ ও ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আর পর্যাপ্ত নয়। এতে চিকিৎসার ব্যয়ের পাশাপাশি যাতায়াত খরচও বহন করতে গিয়ে রোগী ও তাদের পরিবার আর্থিক সংকটে পড়েন।

উন্নীত হাসপাতালগুলোতে আইসিইউ, করোনারি কেয়ার, সার্জারি, মাতৃত্ব ও শিশুস্বাস্থ্য সেবার পাশাপাশি কিডনি ডায়ালাইসিস, ক্যানসার শনাক্তকরণ ও ফিজিওথেরাপির মতো উন্নত ব্যবস্থা থাকবে। ৪৪৩টি উপজেলায় বহুতল সেবাভবন এবং ১৫টি উপজেলায় আবাসন সুবিধাও নির্মাণ করা হবে। কোনো কোনো উপজেলায় এখন ৮ থেকে ১০ লাখ মানুষকে সেবা দিতে হচ্ছে।

প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা আরও হাতের নাগালে আনতে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে ১৪ হাজার ৬৩৪টি কেন্দ্র এবং ১ হাজার ৬৩১টি প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা হাব স্থাপনের জন্য প্রায় ১১ হাজার ৯৯৩ কোটি টাকার প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মীরা নিয়মিত বাড়ি বাড়ি গিয়ে রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস পরীক্ষা করবেন এবং স্বাস্থ্য পরামর্শ দেবেন। এ জন্য ১১ হাজার ৯৯৩ কোটি ২৫ লাখ ৮২ হাজার টাকার প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় সরঞ্জামসহ প্রশিক্ষিত এসব কর্মী অন্তত দুই মাসে একবার প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে স্বাস্থ্যসেবা ও পরামর্শ দেবেন। তারা বাড়িতেই রক্তচাপ ও রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা পরীক্ষা করতে পারবেন। এর মাধ্যমে উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা সম্ভব হবে। প্রতিমন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশের তুলনায় বাংলাদেশে নার্সের সংখ্যা প্রায় এক-তৃতীয়াংশ।

চিকিৎসক ও নার্সের সংকট কাটাতে পিএসসির মাধ্যমে ৫ হাজার চিকিৎসক নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। এছাড়া ২ হাজার ৫০০ নার্স এবং আগামী পাঁচ বছরে ২৫ হাজার মিডওয়াইফ নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে কর্মরত ৪০ হাজার স্বাস্থ্যকর্মীর সঙ্গে আরও ১ লাখ কর্মীকে যুক্ত করার প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে, যা স্বাস্থ্যসেবার পরিধি ব্যাপক বৃদ্ধি করবে। প্রকল্পের আওতায় ১৮টি হাসপাতাল ৫১ শয্যায়, ৩০৫টি ১০১ শয্যায়, ৮৩টি ১৩২ শয্যায়, ১৩টি ১২০ শয্যায় এবং ২৪টি হাসপাতাল ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর আওতায় ৫ হাজার ৯৩৬টি স্থাপনা পুনর্নির্মাণ, ৮ হাজার ৩৪৮টি মেরামত বা আধুনিকায়ন এবং ৩৫০টি নতুন হাব নির্মাণ করা হবে। অন্যদিকে কেন্দ্রগুলোর মধ্যে ৪২৮টি পুনর্নির্মাণ, ৬০৫টি সংস্কার এবং ৫৯৮টি নতুন করে নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) মাধ্যমে ৫ হাজার চিকিৎসক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

ক্যানসার চিকিৎসাকে ঢাকাকেন্দ্রিকতা থেকে বের করে আনতে আটটি বিভাগে পূর্ণাঙ্গ ক্যানসার চিকিৎসাকেন্দ্র স্থাপন করা হবে।

এছাড়া সুনামগঞ্জ, টাঙ্গাইল, নোয়াখালী, পটুয়াখালী ও কিশোরগঞ্জের মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫৩৫ কোটি ৫৪ লাখ টাকা ব্যয়ে পাঁচটি নিউক্লিয়ার মেডিসিন অ্যান্ড অ্যালায়েড সায়েন্সেস ইনস্টিটিউট (ইনমাস) স্থাপন করা হবে।

আধুনিক চিকিৎসার জন্য ১৭টি লিনিয়ার অ্যাক্সিলারেটর এবং পাঁচটি উন্নত রোবটিক সার্জারি যন্ত্র কেনারও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য খাতের প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সাভারে দেশের প্রথম ‘স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউট’ প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে। আগামী ১ জানুয়ারি এটি উদ্বোধনের কথা রয়েছে, যেখানে সিভিল সার্জন ও উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের ব্যবস্থাপনা ও অর্থায়ন বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। মেডিকেল টেকনোলজিস্টসহ অন্যান্য স্বাস্থ্য পেশাজীবীরও ঘাটতি রয়েছে।

হাসপাতালগুলোর অচল যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামের সংকট নিরসনে ১৬ হাজার কোটি টাকার একটি কর্মসূচির দরপত্র শীঘ্রই আহ্বান করা হবে। সরকার স্থানীয় পর্যায়ে রোগ নির্ণয় সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য এই বড় বিনিয়োগ করছে, যাতে রোগীরা বাড়ির কাছেই সব ধরনের পরীক্ষা সম্পন্ন করতে পারেন।

Facebook Comments Box