সৌদির কারাগারে সাড়ে সাত হাজার বাংলাদেশি: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
- আপডেট সময় : ১১:৫৪:২২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে
সৌদি আরবের বিভিন্ন কারাগারে বর্তমানে প্রায় সাড়ে সাত হাজার বাংলাদেশি নাগরিক বন্দি রয়েছেন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। সম্প্রতি দেশটিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা সামনে আসার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই তথ্য জানান। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত বাংলাদেশি মো. শাহেদ আহমেদ আশিকের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ওই সময় উপস্থিত হয়ে প্রতিমন্ত্রী বন্দি থাকা প্রবাসীদের বিষয়ে সরকার গৃহীত পদক্ষেপের ব্যাখ্যা দেন। সৌদি আরবের বিভিন্ন কারাগারে প্রায় সাড়ে ৭ হাজার বাংলাদেশি বন্দি রয়েছেন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
প্রতিমন্ত্রী জানান, সম্প্রতি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশি বন্দিদের তালিকায় ছিলেন কি না, তা বর্তমানে যাচাই করা হচ্ছে। এ বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে রায়ের অনুলিপি চেয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন জানানো হয়েছে। অনুলিপি হাতে পেলে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া সম্ভব হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের কাছে আগে থেকে কোনো বিস্তারিত তথ্য ছিল না।
জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের শ্রম কল্যাণ উইং থেকে ১৮ অক্টোবর প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে পাঠানো গোপন নথিতে দেখা যায়, ভুক্তভোগীরা ২০২৩ সালের আগস্ট মাস থেকে বিভিন্ন অভিযোগে সৌদি আরবে আটক ছিলেন। গত ১৪ অক্টোবর সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি বিবৃতির বরাতে স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, মক্কার একটি মসজিদে ‘অশালীন কাজের’ অভিযোগে মক্কা অঞ্চলে তাঁদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। ওই নথির তথ্য অনুযায়ী, দণ্ড কার্যকরের আগে বা পরে সৌদি কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে দূতাবাস বা কনস্যুলেটকে কোনো আনুষ্ঠানিক বার্তা দেয়নি।
প্রবাসীদের আইনি সহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রে সরকার কীভাবে কাজ করে, সে বিষয়ে শামা ওবায়েদ বলেন, আইনি প্রক্রিয়াগুলো মূলত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে পরিচালিত হয়। কোনো বাংলাদেশি নাগরিক সৌদি আরবে দণ্ডিত হওয়ার খবর পাওয়া গেলে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সাজা কমানো বা ক্ষমার সুযোগ রয়েছে কি না, তা নিয়ে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হয়।
অন্য দেশের বিচারব্যবস্থার প্রতি সম্মান বজায় রেখেই বাংলাদেশ সরকার তার নাগরিকদের সুরক্ষায় সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে বলে তিনি জানান। প্রতিমন্ত্রী আরও যোগ করেন, কোনো দেশের বিচারিক প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ না করেও কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে নাগরিকদের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা সম্ভব।
সূত্র: ডেইলি বাংলাদেশ

























