ঢাকা ১২:৪২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
হরমুজে ১১ তেলবাহী জাহাজে আগুন, দাবি ইরানের অনুমোদিত ২০২৭ সালের সরকারি ছুটির তালিকা সন্তান জন্মের তিন দিনেই সড়কে প্রাণ গেল মার, আইসিইউতে নবজাতক ভূরুঙ্গামারীতে বেতনের দাবিতে মাদ্রাসা সুপার অবরুদ্ধ নীলফামারীতে ডিবির অভিযানে ট্যাপেন্টাডলসহ যুবক গ্রেপ্তার তাহিরপুর শাহ আরেফিন মাজার নিয়ে দুই পক্ষ মুখোমুখি প্রশাসন নীরব মাদকাসক্ত ছেলের মাকে প্রাণ নাশের হুমকি: প্রাণ ভয়ে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে মা চকরিয়ায় ট্রেনে কাটা পড়ে বৃদ্ধের মৃত্যু: শোকের ছায়া এলাকায় ম্যান সিটির শাস্তির খবরে হালান্ডকে নিয়ে বাড়ছে জল্পনা ইস্টার্ন ব্যাংকে ট্রেইনি অফিসার নিয়োগ: আবেদন করবেন যেভাবে

সাজেকে ইউপিডিএফ ও জেএসএসের মধ্যে দেড় ঘণ্টা গোলাগুলি

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:২৪:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬ ২১ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাঙামাটির সাজেকে আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পরিস্থিতি। পার্বত্য চট্টগ্রামের দুই আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) এবং সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (পিসিজেএসএস)-এর সদস্যদের মধ্যে নতুন করে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। রোববার বিকেলে লাঙ্গলমারা এলাকায় থেমে থেমে প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে এই সংঘর্ষ চলে। বিকেল পৌনে ৪টা থেকে সোয়া ৫টা পর্যন্ত চলা এই সংঘাতের ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।

সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফাজ্জল হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে গোলাগুলি চললেও সন্ধ্যা পৌনে ৭টা পর্যন্ত হতাহতের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এর আগে শনিবার দুপুরেও সাজেকে দুই পক্ষের মধ্যে প্রায় দুই ঘণ্টা গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছিল। পরপর দুই দিনের এই সশস্ত্র মহড়ায় সাজেক ও এর আশপাশের এলাকায় জনজীবনে নিরাপত্তা নিয়ে গভীর শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এদিকে সাজেক সড়কে চলমান অস্থিরতার মধ্যেই পরিস্থিতি কিছুটা সামাল দিতে রোববার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত অবরোধ শিথিল করা হয়েছিল। সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও কারবারি অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, কাঁচামাল এবং কৃষিপণ্য পরিবহনের সুবিধার্থে এই সময় বেঁধে দেওয়া হয়। তবে অবরোধ শিথিল থাকলেও পরিবহন ধর্মঘটের কারণে দিনভর সাজেক সড়কে কোনো যানবাহন চলাচল করতে দেখা যায়নি।

পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা কেবল এক দিনের জন্য রাস্তা খুলে দেওয়ার দাবিতে সন্তুষ্ট নন। তাদের স্পষ্ট দাবি, সাজেক সড়কটি স্থায়ীভাবে যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দিতে হবে। এই দাবি আদায়ে খাগড়াছড়ি থেকে দীঘিনালা এবং দীঘিনালা থেকে মারিশ্যা ও সাজেক পর্যন্ত এলাকায় ধর্মঘট পালন করছেন তারা। অবরোধ ও ধর্মঘটের দ্বিমুখী চাপে সাজেকে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা এখন অনেকটাই বিপর্যস্ত অবস্থায় রয়েছে।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

সাজেকে ইউপিডিএফ ও জেএসএসের মধ্যে দেড় ঘণ্টা গোলাগুলি

আপডেট সময় : ০৯:২৪:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬

রাঙামাটির সাজেকে আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পরিস্থিতি। পার্বত্য চট্টগ্রামের দুই আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) এবং সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (পিসিজেএসএস)-এর সদস্যদের মধ্যে নতুন করে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। রোববার বিকেলে লাঙ্গলমারা এলাকায় থেমে থেমে প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে এই সংঘর্ষ চলে। বিকেল পৌনে ৪টা থেকে সোয়া ৫টা পর্যন্ত চলা এই সংঘাতের ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।

সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফাজ্জল হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে গোলাগুলি চললেও সন্ধ্যা পৌনে ৭টা পর্যন্ত হতাহতের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এর আগে শনিবার দুপুরেও সাজেকে দুই পক্ষের মধ্যে প্রায় দুই ঘণ্টা গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছিল। পরপর দুই দিনের এই সশস্ত্র মহড়ায় সাজেক ও এর আশপাশের এলাকায় জনজীবনে নিরাপত্তা নিয়ে গভীর শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এদিকে সাজেক সড়কে চলমান অস্থিরতার মধ্যেই পরিস্থিতি কিছুটা সামাল দিতে রোববার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত অবরোধ শিথিল করা হয়েছিল। সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও কারবারি অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, কাঁচামাল এবং কৃষিপণ্য পরিবহনের সুবিধার্থে এই সময় বেঁধে দেওয়া হয়। তবে অবরোধ শিথিল থাকলেও পরিবহন ধর্মঘটের কারণে দিনভর সাজেক সড়কে কোনো যানবাহন চলাচল করতে দেখা যায়নি।

পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা কেবল এক দিনের জন্য রাস্তা খুলে দেওয়ার দাবিতে সন্তুষ্ট নন। তাদের স্পষ্ট দাবি, সাজেক সড়কটি স্থায়ীভাবে যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দিতে হবে। এই দাবি আদায়ে খাগড়াছড়ি থেকে দীঘিনালা এবং দীঘিনালা থেকে মারিশ্যা ও সাজেক পর্যন্ত এলাকায় ধর্মঘট পালন করছেন তারা। অবরোধ ও ধর্মঘটের দ্বিমুখী চাপে সাজেকে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা এখন অনেকটাই বিপর্যস্ত অবস্থায় রয়েছে।

Facebook Comments Box