বরগুনার আমতলীতে দশম শ্রেণির এক ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত ও অনৈতিক প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সহকারী শিক্ষক মো. ইকবাল হোসেন রুবেলের বিরুদ্ধে। অভিযোগের পর ওই ছাত্রী ও তার পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। শিক্ষকের ভয়ে ওই ছাত্রী গত তিন দিন ধরে বিদ্যালয়ে যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে তার পরিবার।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার কুকুয়া আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে দ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে ওই বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির এক ছাত্রীকে বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত করে আসছিলেন শিক্ষক রুবেল। লজ্জায় বিষয়টি এতদিন এড়িয়ে গেলেও গত সোমবার ওই ছাত্রীকে অনৈতিক প্রস্তাব দেওয়া হলে বিষয়টি সে তার মাকে জানায়। পরে ছাত্রীর ভাই এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন।
অভিযোগের পর শিক্ষক রুবেল ক্ষিপ্ত হয়ে ওই ছাত্রী ও তার পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন ছাত্রীর মা ও পরিবারের সদস্যরা। এ কারণে ওই ছাত্রী গত তিন দিন ধরে বিদ্যালয়ে যাওয়া বন্ধ রেখেছে। এতে তার পড়াশোনা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, শিক্ষক রুবেল প্রায়ই ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করেন। এ নিয়ে এর আগেও কয়েকবার সালিশ বৈঠক হয়েছে। কিন্তু এরপরও তার আচরণে পরিবর্তন আসেনি বলে অভিযোগ তাদের। তারা বলেন, বর্তমান ঘটনায় ওই ছাত্রী বিদ্যালয়ে আসা বন্ধ করে দেওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত তদন্ত করে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
ছাত্রীর মা বলেন, আমার মেয়েকে উত্ত্যক্ত করায় আমার ছেলে প্রধান শিক্ষকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শিক্ষক রুবেল আমাকে ও আমার মেয়েকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন। তার ভয়ে আমার মেয়ে স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সহকারী শিক্ষক মো. ইকবাল হোসেন রুবেল। তিনি বলেন, হ্যান্ডবল ও কাবাডি খেলার খেলোয়াড় চূড়ান্ত করতে ওই ছাত্রীকে ডাকা হয়েছিল। এ সময় আমি বলেছি, তুমি ভালো খেলতে পারবে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
কুকুয়া আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গাজী গোলাম ফারুক বলেন, সহকারী শিক্ষক রুবেল ওই ছাত্রীর সঙ্গে অশ্লীল আচরণ করেছেন। যা মুখে উচ্চারণ করা যায় না। বিষয়টি নিয়ে গত বৃহস্পতিবার বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটি নিয়ে বৈঠকে বসেছিলাম। সভাপতি তাকে মৌখিকভাবে শাসন করেছেন।
আমতলী থানা অফিসার ইনচার্জ মো. ইয়াকুব হোসাইন বলেন, এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Leave a Reply