ঢাকা ০৭:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পাবনায় নকল দুধ উৎপাদন: গৃহবধূকে এক লাখ টাকা জরিমানা দুর্গাপূজায় সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য টানা পাঁচ দিনের ছুটি একনেকে ১৫ হাজার ৮২৩ কোটি টাকার ১৩ প্রকল্প অনুমোদন গাজায় ইসরায়েলকে অস্ত্রের যন্ত্রাংশ সরবরাহ ভারতের: প্রতিবেদন রূপপুরের ইউরেনিয়াম পরিবহনে পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহার নিয়ে যা জানাল ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে ছয় প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ, ভোট ২৯ অক্টোবর বইয়ের দোকানে হামলা ও ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ নিষিদ্ধ করার দাবি উয়েফার বিরুদ্ধে ‘অপপ্রচার ও হয়রানির’: ফিফার অভিযোগ অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিসিপ প্রকল্পে অফিসার নিয়োগ: আবেদনের নিয়ম আল-আকসায় বসতিস্থাপনকারীদের অনুপ্রবেশে কাতারের তীব্র নিন্দা

রূপপুরের ইউরেনিয়াম পরিবহনে পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহার নিয়ে যা জানাল

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:৩০:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি ইউরেনিয়াম রাশিয়া থেকে বাংলাদেশে পরিবহনের সময় পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি মেলেনি। এ ঘটনা নিয়ে কূটনৈতিক পর্যায়ে কোনো সিদ্ধান্ত বা জটিলতা নেই বলে জানিয়েছে ইসলামাবাদ। ঢাকায় পাকিস্তান হাইকমিশন এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, এটি একান্তই একটি কারিগরি ও প্রশাসনিক বিষয়। সাধারণত কূটনৈতিক ফ্লাইট পরিচালনা বা আকাশসীমা ব্যবহারের আবেদনের ক্ষেত্রে বেসামরিক বিমান চলাচল সংক্রান্ত প্রটোকল ও নির্ধারিত নিয়মাবলী অনুসরণ করতে হয়, যেখানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয়ের প্রয়োজন পড়ে। এই সমন্বয় প্রক্রিয়া এবং নির্ধারিত রুটের অনুমোদনের ক্ষেত্রে সময়ক্ষেপণ হওয়া একটি স্বাভাবিক ঘটনা। ভারতের সংবাদ সংস্থা এএনআই এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। পাক হাইকমিশনের বক্তব্য অনুযায়ী, সম্প্রতি যে প্রতিবেদনগুলো প্রকাশিত হয়েছে, সেগুলোর বিষয়বস্তু মূলত ফ্লাইটের নির্ধারিত রুট এবং আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমোদন-সংক্রান্ত কারিগরি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত। আর সেই সমন্বয় প্রক্রিয়ার কারণে কোনো কোনো সময় ফ্লাইটের সময়সূচিতে পরিবর্তনও আসতে পারে।

পাকিস্তান হাইকমিশনের ভাষ্যমতে, বিষয়টিকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অবনতি বা এর কোনো ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে প্রচারণা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং এটিকে কারিগরি প্রেক্ষাপটে দেখা উচিত এবং বাংলাদেশের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্কের গুরুত্ব অপরিসীম। উল্লেখ্য, রূপপুর প্রকল্পের জন্য ইউরেনিয়ামবাহী কার্গো বিমানটি গত ২৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা ছিল। কিন্তু আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না মেলায় নির্ধারিত সূচিতে জ্বালানিটি আনা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানিয়েছেন, কেন পাকিস্তানের পক্ষ থেকে অনুমতি পাওয়া যায়নি তার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো স্পষ্ট নয়। তিনি গণমাধ্যমকে জানান, কার্গো বিমান আসার অপেক্ষায় বিমানবন্দরে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন থাকলেও ফ্লাইটটির অনুমোদন না মেলায় তা বাতিল করতে হয়। তবে ইউরেনিয়াম জ্বালানি বাংলাদেশে পৌঁছানোর জন্য রাশিয়া অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহকে নতুন সম্ভাব্য সময় হিসেবে প্রস্তাব করেছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব শেখ মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রোসাটমের লিয়াজোঁ কর্মকর্তার পক্ষ থেকে তাদেরকে বিষয়টি জানানো হয়েছে এবং এখন নতুন করে ফ্লাইটের সময়সূচি নির্ধারণের প্রক্রিয়া চলছে।

উল্লেখ্য, পাবনার ঈশ্বরদীতে পদ্মা নদীর তীরে বাস্তবায়নাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক প্রকল্প। রুশ কোম্পানি রোসাটমের কারিগরি সহায়তায় এবং বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের তত্ত্বাবধানে এখানে দুটি ভিভিইআর-১২০০ পারমাণবিক চুল্লি নির্মাণ করা হচ্ছে। উভয় ইউনিট মিলে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে প্রকল্পটি এগিয়ে চলছে। এর আগে ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে অত্যন্ত কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে রূপপুরের প্রথম ইউনিটের জন্য ইউরেনিয়ামের প্রথম চালান বাংলাদেশে সফলভাবে এসে পৌঁছেছিল।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

রূপপুরের ইউরেনিয়াম পরিবহনে পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহার নিয়ে যা জানাল

আপডেট সময় : ০৫:৩০:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি ইউরেনিয়াম রাশিয়া থেকে বাংলাদেশে পরিবহনের সময় পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি মেলেনি। এ ঘটনা নিয়ে কূটনৈতিক পর্যায়ে কোনো সিদ্ধান্ত বা জটিলতা নেই বলে জানিয়েছে ইসলামাবাদ। ঢাকায় পাকিস্তান হাইকমিশন এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, এটি একান্তই একটি কারিগরি ও প্রশাসনিক বিষয়। সাধারণত কূটনৈতিক ফ্লাইট পরিচালনা বা আকাশসীমা ব্যবহারের আবেদনের ক্ষেত্রে বেসামরিক বিমান চলাচল সংক্রান্ত প্রটোকল ও নির্ধারিত নিয়মাবলী অনুসরণ করতে হয়, যেখানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয়ের প্রয়োজন পড়ে। এই সমন্বয় প্রক্রিয়া এবং নির্ধারিত রুটের অনুমোদনের ক্ষেত্রে সময়ক্ষেপণ হওয়া একটি স্বাভাবিক ঘটনা। ভারতের সংবাদ সংস্থা এএনআই এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। পাক হাইকমিশনের বক্তব্য অনুযায়ী, সম্প্রতি যে প্রতিবেদনগুলো প্রকাশিত হয়েছে, সেগুলোর বিষয়বস্তু মূলত ফ্লাইটের নির্ধারিত রুট এবং আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমোদন-সংক্রান্ত কারিগরি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত। আর সেই সমন্বয় প্রক্রিয়ার কারণে কোনো কোনো সময় ফ্লাইটের সময়সূচিতে পরিবর্তনও আসতে পারে।

পাকিস্তান হাইকমিশনের ভাষ্যমতে, বিষয়টিকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অবনতি বা এর কোনো ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে প্রচারণা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং এটিকে কারিগরি প্রেক্ষাপটে দেখা উচিত এবং বাংলাদেশের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্কের গুরুত্ব অপরিসীম। উল্লেখ্য, রূপপুর প্রকল্পের জন্য ইউরেনিয়ামবাহী কার্গো বিমানটি গত ২৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা ছিল। কিন্তু আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না মেলায় নির্ধারিত সূচিতে জ্বালানিটি আনা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানিয়েছেন, কেন পাকিস্তানের পক্ষ থেকে অনুমতি পাওয়া যায়নি তার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো স্পষ্ট নয়। তিনি গণমাধ্যমকে জানান, কার্গো বিমান আসার অপেক্ষায় বিমানবন্দরে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন থাকলেও ফ্লাইটটির অনুমোদন না মেলায় তা বাতিল করতে হয়। তবে ইউরেনিয়াম জ্বালানি বাংলাদেশে পৌঁছানোর জন্য রাশিয়া অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহকে নতুন সম্ভাব্য সময় হিসেবে প্রস্তাব করেছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব শেখ মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রোসাটমের লিয়াজোঁ কর্মকর্তার পক্ষ থেকে তাদেরকে বিষয়টি জানানো হয়েছে এবং এখন নতুন করে ফ্লাইটের সময়সূচি নির্ধারণের প্রক্রিয়া চলছে।

উল্লেখ্য, পাবনার ঈশ্বরদীতে পদ্মা নদীর তীরে বাস্তবায়নাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক প্রকল্প। রুশ কোম্পানি রোসাটমের কারিগরি সহায়তায় এবং বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের তত্ত্বাবধানে এখানে দুটি ভিভিইআর-১২০০ পারমাণবিক চুল্লি নির্মাণ করা হচ্ছে। উভয় ইউনিট মিলে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে প্রকল্পটি এগিয়ে চলছে। এর আগে ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে অত্যন্ত কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে রূপপুরের প্রথম ইউনিটের জন্য ইউরেনিয়ামের প্রথম চালান বাংলাদেশে সফলভাবে এসে পৌঁছেছিল।

Facebook Comments Box