ঢাকা ০২:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ব্যালন ডি’অর না জিতলেও আত্মবিশ্বাসী লামিন ইয়ামাল: আসবে আমার সময়ও আইইডিসিআর কার্যালয়ে ঢুকে পরিচালককে নিরাপত্তা ঘটনায়, অভিযোগে জড়িত ব্যক্তি ড্যাব গাজীপুর কর অঞ্চলে ৩৪টি পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি স্পেনের মালাগার সঙ্গে সহযোগিতার ক্ষেত্র বাড়াতে চায় বাংলাদেশ বাংলাদেশে কার্যালয় খুলতে জেবিআইসিকে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান সরকারি বেতন দিতে ব্যাংক থেকে আরও ৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ আকাশে ড্রোন, মাঠে কে-৯: ঠাকুরগাঁও-১আসন উপ-নির্বাচনে ২১ প্লাটুন বিজিবি রংপুরে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকের পেছনে বাসের ধাক্কায় নিহত ৩ হুতিদের শান্ত করতে ১০০ কোটি ডলারের প্রস্তাব সৌদি আরবের ইসরাইলের নির্বাচনে ঝুলে আছে নেতানিয়াহুর ভাগ্য, সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা

রাজারহাট উপজেলা স্বাস্থ কমপ্লেক্সে মাত্র ১জন চিকিৎসকেই চলছে চিকিৎসা কার্যক্রম: ব‍্যাহত হচ্ছে স্বাস্থ্য সেবা

সাইয়‍্যেদ বাবু ব‍্যুরো প্রধান
  • আপডেট সময় : ০৮:১০:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ জানুয়ারী ২০২৫ ২৬২ বার পড়া হয়েছে

রাজারহাট উপজেলা স্বাস্থ কমপ্লেক্সে মাত্র ১জন চিকিৎসকেই চলছে চিকিৎসা কার্যক্রম: ব‍্যাহত হচ্ছে স্বাস্থ্য সেবা

(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

রাজারহাট উপজেলা স্বাস্থ কমপ্লেক্সে মাত্র ১জন চিকিৎসকেই চলছে চিকিৎসা কার্যক্রম: ব‍্যাহত হচ্ছে স্বাস্থ্য সেবা

 

 

কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলা স্বাস্থ কমপ্লেক্সে মাত্র ১ জন মেডিকেল অফিসার (চিকিৎসক) ও ২জন স্টাফ দিয়ে চলছে হাসপাতালের কার্যক্রম চিকিৎসা সেবা ব্যাহত।

চিকিৎসক,রোগী না থাকা ও কর্মকর্তাদের ছুটি আর অলস সময় নিয়ে চলছে কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপে­ক্ম। বন্ধ রয়েছে এক্সরে ও আলট্রাসনোগ্রাফি কার্যক্রমটাও। চিকিৎসকের অভাবে বন্ধ একটি উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র। অপর ৩টি চলছে ফার্মাসিস্ট ও স্যাকমো দিয়ে। চিকিৎসক ও সরঞ্জামের অভাবে এবং অপ্রতুল ওষুধসহ নানা সমস্যায় ভেঙে পড়েছে উপজেলার স্বাস্থ্য ব্যবস্থা।

 

শনিবার (৪ জানুয়ারী) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,দুপুর ২টা পর্যন্ত জরুরী বিভাগে ০৮ জন চিকিৎসা নিয়েছেন যার মধ্যে ৪ জন শীতের রোগী। অন্যদিকে বর্হিবিভাগে বেলা ১২টা পর্যন্ত নানা সমস্যা নিয়ে ১৮ জন চিকিৎসা নিয়েছেন । সকাল ১০টার পরেও বর্হিবিভাগ ও কর্তব্যরত চিকিৎসকের কক্ষ বন্ধ থাকতে দেখা যায়। সাংবাদিক আসার খবর পেয়ে পুনরায় খুললেও পরে দুপুর ১২টার পর টিকিট কাউন্টার,ঔষধ বিভাগ,পুরুষ ওর্য়াডের নার্সেস ডিউটি রুম ও কর্তব্যরত চিকিৎসকের রুম বন্ধ পাওয়া যায়।

পড়ুন>>লন্ডনে টিউলিপকে ১০ কোটি টাকার ফ্লাট দেন আওয়ামী ব‍্যবসায়ী

 

 

খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, ৫০ শয্যা উপজেলা হাসপাতালে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, আবাসিক মেডিকেল অফিসার, জুনিয়র কনসালট্যান্ট, সার্জারি, ডেন্টাল ও গাইনিসহ ২৪ জন চিকিৎসক থাকার কথা। যেখানে কাগজে কলমে মাত্র ০৬ জন দায়িত্বে থাকলেও ০২ জন রয়েছেন ছুটিতে। ০৪ জনের হাসপাতালে থাকার কথা থাকলেও আজ সরেজমিনে ০৩ জন কে দেখা যায়। একজন অপারেশন থিয়েটারে, ১জন জরুরি বিভাগে ১ জন এবং বাকি ১জন ভারপ্রাপ্ত পরিবার ও পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োজিত।

অন্যদিকে ৩৩ জন নার্স থাকার কথা থাকলেও ২ জন মাতৃত্বকালীন ছুটি ও ৫জন শিক্ষাকালীন ছুটিতে রয়েছেন। ৭ জনকে সকালের দায়িত্বে ও ০৩ জনকে বিকেলের দায়িত্বে দেখা মিললেও বাকি নার্সদের দেখা মেলেনি। নার্সেস ডিউটি রুমে দুপুর আড়াইটার দিকে দেখা যায় একজন সিনিয়র নার্স সাধারণ পোশাক পরিহিত অবস্থায় হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করছেন।

 

 

 

এছাড়াও কাগজে কলমে মোট ২৯ জন রোগীর কথা বলা হলেও পুরুষ ওর্য়াডে ১জন ,মহিলা ও শিশু ওয়াডে ২জন রোগীকে দেখা যায়, বাকি রোগীদের দেখা যায়নি। অথচ রোগীর পথ্য হিসেবে নিয়মিত ৫০ শয্যার হাসপাতালটিতে রোগীগের জন্য ৩ বেলা খাবার বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে।

প্রতিদিন একজন করে চিকিৎসকের সাপ্তাহিক ছুটি থাকে। কখনও বিশেষ প্রয়োজনে কেউ ছুটিতে গেলে আরও টানাপোড়েন শুরু হয় হাসপাতালটিতে, ফলে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা। তবে গুটি কয়েক রোগী যারা আসেন তারা জরুরি বিভাগের চিকিৎসা নেন।

২০০৫ সালে এ হাসপাতালে এক্সরে কার্যক্রম শুরু হয়। অল্প দিনের মধ্যেই ত্রুটি দেখা দেয় যন্ত্রটিতে। এরপর থেকে প্রতি বছরই কখনও চালু কখনও বন্ধ থাকে যন্ত্রটি। গত বছর ফেব্রুয়ারি মাসে একেবারেই বিকল হয়ে যায়। অপারেটরের অভাবে আলট্রাসনোগ্রাফি মেশিন থাকা সত্ত্বেও চালু করা যাচ্ছে না। ৩ টি ইসিজি মেশিন থাকলেও রোগীদের বাইরে থেকে এ পরীক্ষাটি করতে হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। তা ছাড়াও রয়েছে ওষুধের অপ্রতুলতা।

পড়ুন>> নওগাঁয় সাড়ে ৯ কেজি গাঁজা ও ৫০ পিস ফেন্সিডিলসহ ২ জন গ্রেপ্তার

 

 

এদিকে চিকিৎক না থাকায় ২ বছর ধরে উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের রতিগ্রাম উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। উমর মজিদ ও পাঙ্গা উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসাসেবা চলছে ফার্মাসিস্ট দিয়ে। একজন স্যাকমো (উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার) পরিচালনা করছেন নাজিমখান ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র। এসব সমস্যার কারণে সেবাবঞ্চিত উপজেলাবাসী। বিশেষ করে উন্নত চিকিৎসাসেবা গ্রহণে যাদের সামথর্য নেই তারা চরম বিপাকে পড়েছেন।

বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা সরা বেগম বলেন,হাসপাতালে যে কয়জন ডাক্তার থাকে তারা দেরি করে আসে। টিকিট কাউন্টার থেকে টিকিট করলেও জরুরি বিভাগের ডাক্তারকে দেখাতে হয়।

 

 

রফিকুল ইসলাম নামের একজন যুবক বলেন, এ হাসাপাতালে চিকিৎসক সংকট প্রকট। এক চিকিৎসক সব রোগের ব্যবস্থাপত্র দেন। রোগ নির্ণয় যন্ত্রগুলোও বিকল। ফলে সঠিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ মানুষরা।

 

পর্যাপ্ত রোগী না আসার বিষয়ে হাসপাতালের জরুরী বিভাগের দায়িত্বরত টেকনিশিয়ান আরিফ আহমেদ বলেন,জেলা শহরের সদর হাসপাতালটি কাছে হওয়াতে অনেক মানুষ সেখানে যায়। এজন্য রোগী কম আসে।

আবাসিক মেডিকেল অফিসার(আরএমও) ডা.তাসলিমা আক্তার বলেন,আমি একাই সকাল থেকে রোগী দেখছি। দুপুরে আমার শিফট শেষ হলেও সন্ধ্যা পর্যন্ত আমাকে থাকতে হবে ।পরে রাতে কি হবে জিজ্ঞেস করলে বলেন,আপনারাই বুঝে নেন।

 

 

স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মিজানুর রহমান ছুটিতে থাকায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডা.উম্মে কুলসুম বিউটি বলেন,জনবল সংকটের বিষয়টি উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষকে কয়েকবার জানানো হয়েছে। তারপরও সমস্যার সমাধান মিলছে না। প.প. কর্মকর্তা কিসের ছুটিতে রয়েছেন জানতে চাইলে নির্দিষ্ট করে সেটি বলতে পারেননি।

 

 

কর্তব্যরত চিকিৎসকের কক্ষ বন্ধ,নার্সের ডিউটি রুম ও টিকিট কাউন্টার অফিস বন্ধের আগেই বন্ধের বিষয়ে বলেন,দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত অফিস চালু থাকলেও ১টার পরে টিকিট দেয়া হয় না। আর বাকি রুম গুলো বন্ধ থাকার কথা না,হয়তো জরুরী প্রয়োজনে বাইরে গেছেন।

 

এ ব্যাপারে জেলা সিভিল সার্জন ডাক্তার মন্জুর ই মোরশেদ বলেন, মাত্র একজন মেডিকেল অফিসার দিয়ে চলছে হাসপাতালের কার্যক্রম বিষয়টি সঠিক, বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রণালয়ে কয়েক দফা চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে। গত ৩০ ডিসেম্বর আবারও উর্ধ্বতন কতৃপক্ষকে জানানো হয়েছে, কর্তৃপক্ষ সমাধানের আস্বাস দিয়েছেন।

 

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

রাজারহাট উপজেলা স্বাস্থ কমপ্লেক্সে মাত্র ১জন চিকিৎসকেই চলছে চিকিৎসা কার্যক্রম: ব‍্যাহত হচ্ছে স্বাস্থ্য সেবা

আপডেট সময় : ০৮:১০:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ জানুয়ারী ২০২৫

 

রাজারহাট উপজেলা স্বাস্থ কমপ্লেক্সে মাত্র ১জন চিকিৎসকেই চলছে চিকিৎসা কার্যক্রম: ব‍্যাহত হচ্ছে স্বাস্থ্য সেবা

 

 

কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলা স্বাস্থ কমপ্লেক্সে মাত্র ১ জন মেডিকেল অফিসার (চিকিৎসক) ও ২জন স্টাফ দিয়ে চলছে হাসপাতালের কার্যক্রম চিকিৎসা সেবা ব্যাহত।

চিকিৎসক,রোগী না থাকা ও কর্মকর্তাদের ছুটি আর অলস সময় নিয়ে চলছে কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপে­ক্ম। বন্ধ রয়েছে এক্সরে ও আলট্রাসনোগ্রাফি কার্যক্রমটাও। চিকিৎসকের অভাবে বন্ধ একটি উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র। অপর ৩টি চলছে ফার্মাসিস্ট ও স্যাকমো দিয়ে। চিকিৎসক ও সরঞ্জামের অভাবে এবং অপ্রতুল ওষুধসহ নানা সমস্যায় ভেঙে পড়েছে উপজেলার স্বাস্থ্য ব্যবস্থা।

 

শনিবার (৪ জানুয়ারী) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,দুপুর ২টা পর্যন্ত জরুরী বিভাগে ০৮ জন চিকিৎসা নিয়েছেন যার মধ্যে ৪ জন শীতের রোগী। অন্যদিকে বর্হিবিভাগে বেলা ১২টা পর্যন্ত নানা সমস্যা নিয়ে ১৮ জন চিকিৎসা নিয়েছেন । সকাল ১০টার পরেও বর্হিবিভাগ ও কর্তব্যরত চিকিৎসকের কক্ষ বন্ধ থাকতে দেখা যায়। সাংবাদিক আসার খবর পেয়ে পুনরায় খুললেও পরে দুপুর ১২টার পর টিকিট কাউন্টার,ঔষধ বিভাগ,পুরুষ ওর্য়াডের নার্সেস ডিউটি রুম ও কর্তব্যরত চিকিৎসকের রুম বন্ধ পাওয়া যায়।

পড়ুন>>লন্ডনে টিউলিপকে ১০ কোটি টাকার ফ্লাট দেন আওয়ামী ব‍্যবসায়ী

 

 

খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, ৫০ শয্যা উপজেলা হাসপাতালে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, আবাসিক মেডিকেল অফিসার, জুনিয়র কনসালট্যান্ট, সার্জারি, ডেন্টাল ও গাইনিসহ ২৪ জন চিকিৎসক থাকার কথা। যেখানে কাগজে কলমে মাত্র ০৬ জন দায়িত্বে থাকলেও ০২ জন রয়েছেন ছুটিতে। ০৪ জনের হাসপাতালে থাকার কথা থাকলেও আজ সরেজমিনে ০৩ জন কে দেখা যায়। একজন অপারেশন থিয়েটারে, ১জন জরুরি বিভাগে ১ জন এবং বাকি ১জন ভারপ্রাপ্ত পরিবার ও পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োজিত।

অন্যদিকে ৩৩ জন নার্স থাকার কথা থাকলেও ২ জন মাতৃত্বকালীন ছুটি ও ৫জন শিক্ষাকালীন ছুটিতে রয়েছেন। ৭ জনকে সকালের দায়িত্বে ও ০৩ জনকে বিকেলের দায়িত্বে দেখা মিললেও বাকি নার্সদের দেখা মেলেনি। নার্সেস ডিউটি রুমে দুপুর আড়াইটার দিকে দেখা যায় একজন সিনিয়র নার্স সাধারণ পোশাক পরিহিত অবস্থায় হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করছেন।

 

 

 

এছাড়াও কাগজে কলমে মোট ২৯ জন রোগীর কথা বলা হলেও পুরুষ ওর্য়াডে ১জন ,মহিলা ও শিশু ওয়াডে ২জন রোগীকে দেখা যায়, বাকি রোগীদের দেখা যায়নি। অথচ রোগীর পথ্য হিসেবে নিয়মিত ৫০ শয্যার হাসপাতালটিতে রোগীগের জন্য ৩ বেলা খাবার বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে।

প্রতিদিন একজন করে চিকিৎসকের সাপ্তাহিক ছুটি থাকে। কখনও বিশেষ প্রয়োজনে কেউ ছুটিতে গেলে আরও টানাপোড়েন শুরু হয় হাসপাতালটিতে, ফলে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা। তবে গুটি কয়েক রোগী যারা আসেন তারা জরুরি বিভাগের চিকিৎসা নেন।

২০০৫ সালে এ হাসপাতালে এক্সরে কার্যক্রম শুরু হয়। অল্প দিনের মধ্যেই ত্রুটি দেখা দেয় যন্ত্রটিতে। এরপর থেকে প্রতি বছরই কখনও চালু কখনও বন্ধ থাকে যন্ত্রটি। গত বছর ফেব্রুয়ারি মাসে একেবারেই বিকল হয়ে যায়। অপারেটরের অভাবে আলট্রাসনোগ্রাফি মেশিন থাকা সত্ত্বেও চালু করা যাচ্ছে না। ৩ টি ইসিজি মেশিন থাকলেও রোগীদের বাইরে থেকে এ পরীক্ষাটি করতে হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। তা ছাড়াও রয়েছে ওষুধের অপ্রতুলতা।

পড়ুন>> নওগাঁয় সাড়ে ৯ কেজি গাঁজা ও ৫০ পিস ফেন্সিডিলসহ ২ জন গ্রেপ্তার

 

 

এদিকে চিকিৎক না থাকায় ২ বছর ধরে উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের রতিগ্রাম উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। উমর মজিদ ও পাঙ্গা উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসাসেবা চলছে ফার্মাসিস্ট দিয়ে। একজন স্যাকমো (উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার) পরিচালনা করছেন নাজিমখান ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র। এসব সমস্যার কারণে সেবাবঞ্চিত উপজেলাবাসী। বিশেষ করে উন্নত চিকিৎসাসেবা গ্রহণে যাদের সামথর্য নেই তারা চরম বিপাকে পড়েছেন।

বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা সরা বেগম বলেন,হাসপাতালে যে কয়জন ডাক্তার থাকে তারা দেরি করে আসে। টিকিট কাউন্টার থেকে টিকিট করলেও জরুরি বিভাগের ডাক্তারকে দেখাতে হয়।

 

 

রফিকুল ইসলাম নামের একজন যুবক বলেন, এ হাসাপাতালে চিকিৎসক সংকট প্রকট। এক চিকিৎসক সব রোগের ব্যবস্থাপত্র দেন। রোগ নির্ণয় যন্ত্রগুলোও বিকল। ফলে সঠিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ মানুষরা।

 

পর্যাপ্ত রোগী না আসার বিষয়ে হাসপাতালের জরুরী বিভাগের দায়িত্বরত টেকনিশিয়ান আরিফ আহমেদ বলেন,জেলা শহরের সদর হাসপাতালটি কাছে হওয়াতে অনেক মানুষ সেখানে যায়। এজন্য রোগী কম আসে।

আবাসিক মেডিকেল অফিসার(আরএমও) ডা.তাসলিমা আক্তার বলেন,আমি একাই সকাল থেকে রোগী দেখছি। দুপুরে আমার শিফট শেষ হলেও সন্ধ্যা পর্যন্ত আমাকে থাকতে হবে ।পরে রাতে কি হবে জিজ্ঞেস করলে বলেন,আপনারাই বুঝে নেন।

 

 

স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মিজানুর রহমান ছুটিতে থাকায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডা.উম্মে কুলসুম বিউটি বলেন,জনবল সংকটের বিষয়টি উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষকে কয়েকবার জানানো হয়েছে। তারপরও সমস্যার সমাধান মিলছে না। প.প. কর্মকর্তা কিসের ছুটিতে রয়েছেন জানতে চাইলে নির্দিষ্ট করে সেটি বলতে পারেননি।

 

 

কর্তব্যরত চিকিৎসকের কক্ষ বন্ধ,নার্সের ডিউটি রুম ও টিকিট কাউন্টার অফিস বন্ধের আগেই বন্ধের বিষয়ে বলেন,দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত অফিস চালু থাকলেও ১টার পরে টিকিট দেয়া হয় না। আর বাকি রুম গুলো বন্ধ থাকার কথা না,হয়তো জরুরী প্রয়োজনে বাইরে গেছেন।

 

এ ব্যাপারে জেলা সিভিল সার্জন ডাক্তার মন্জুর ই মোরশেদ বলেন, মাত্র একজন মেডিকেল অফিসার দিয়ে চলছে হাসপাতালের কার্যক্রম বিষয়টি সঠিক, বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রণালয়ে কয়েক দফা চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে। গত ৩০ ডিসেম্বর আবারও উর্ধ্বতন কতৃপক্ষকে জানানো হয়েছে, কর্তৃপক্ষ সমাধানের আস্বাস দিয়েছেন।

 

 

Facebook Comments Box