সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় প্রায় পাঁচ মাস চিকিৎসাধীন থাকার পর দেশে ফিরে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে যোগ দিয়েছেন ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস।
বৃহস্পতিবার বিকেলে তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে উপস্থিত হন। সংসদ ভবনে প্রবেশের আগে তিনি নিজের দাপ্তরিক কার্যালয়ে কিছু সময় কাজ করেন। এরপর হুইলচেয়ারে করে অধিবেশন কক্ষে প্রবেশ করলে সহকর্মী ও দলের নেতাকর্মীরা তাকে স্বাগত জানান।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ‘দীর্ঘ ৫ মাস চিকিৎসার পর আপনি দেশে ফিরে এসেছেন। আমরা আপনাকে এই সংসদে স্বাগত জানাচ্ছি।’ পরে বিরতির পর ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল তাকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ করে দেন।
বক্তব্যের শুরুতে মির্জা আব্বাস তার শারীরিক অবস্থার কথা তুলে ধরে বলেন, ‘নির্বাচনের পরপরই আমি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ি। এরপর থেকে দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ মাস আমি বিদেশে চিকিৎসাধীন ছিলাম। এখনো আমার চিকিৎসা পুরোপুরি শেষ হয়নি, তবে আবেগ ও ভালোবাসার টানে আমি ফিরে এসেছি।’
তিনি তার এই যাত্রায় পাশে থাকার জন্য রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
স্পিকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি যখন সিঙ্গাপুরে অচেতন ছিলাম, তখন আপনি নিজে আমাকে দেখতে গিয়েছিলেন। একজন সংসদ সদস্যের প্রতি আপনার এই মানবিক আচরণ সংসদীয় গণতন্ত্রের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।’ এ সময় তিনি বিএনপি প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।
২০০৬ সালের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে পুনরায় জাতীয় সংসদে কথা বলার সুযোগ পেয়ে আবেগাপ্লুত মির্জা আব্বাস বলেন, ‘আজ মহান সংসদে ফিরে এসে আমার মনে হচ্ছে জাতীয় রাজনীতি শুধু মতপার্থক্য নয়, বরং এটি মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি মানুষের কাছে ফিরে এসেছি এবং বাংলাদেশের মানুষের জন্য কাজ করার লক্ষ্য নিয়েই আমার এই প্রত্যাবর্তন।’
বক্তব্য দেওয়ার সময় ঢাকা-২ আসনের সংসদ সদস্য আমান উল্লাহ আমান তাকে সার্বিক সহযোগিতা করেন। উল্লেখ্য, এর আগে মির্জা আব্বাসের শারীরিক অবস্থা উন্নতির দিকে বলে স্পিকার সংসদে জানিয়েছিলেন।
Leave a Reply