বিপদসীমার ১৩ সে. মি. ওপর দিয়ে বইছে তিস্তার পানি
- আপডেট সময় : ০৮:১৪:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬ ৪২ বার পড়া হয়েছে
বিপদসীমার ১৩ সে. মি. ওপর দিয়ে বইছে তিস্তার পানি
টানা ভারি বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা ভারতের পাহাড়ি ঢলে আবারও ফুঁসে উঠেছে দেশের উত্তরাঞ্চলের প্রধান নদী তিস্তা। পানির প্রবল চাপে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে ১৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ শুরু হয়েছে এবং বন্যার আশঙ্কায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল থেকে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপরে অবস্থান করছে। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ডালিয়া পানি পরিমাপক কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, সকাল ৯টায় তিস্তার পানির সমতল রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ২৮ মিটার, যেখানে ওই পয়েন্টে বিপৎসীমা ৫২ দশমিক ১৫ মিটার। অর্থাৎ নদীর পানি বিপৎসীমার ১৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর আগে সকাল ৬টাতেও একই উচ্চতায় পানি রেকর্ড করা হয়।
পড়ুন>> নাগেশশ্বরীতে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষ্যে শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের সংবর্ধনা
পানি বৃদ্ধির কারণে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার পূর্ব ছাতনাই, খগাখড়িবাড়ী, টেপাখড়িবাড়ী, খালিশা চাপানী, ঝুনাগাছ চাপানী ও গয়াবাড়ী ইউনিয়নের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে পানি ঢুকতে শুরু করেছে, ফলে বন্যা শঙ্কা দেখা দিয়েছে। চর ও নিচু এলাকার নদীতীরবর্তী অনেক পরিবার ইতোমধ্যে গবাদিপশু ও প্রয়োজনীয় মালামাল নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতি বর্ষা মৌসুমেই তিস্তার পানি হঠাৎ বৃদ্ধি পাওয়ায় নদীভাঙন ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকি তৈরি হয়। বিশেষ করে চরাঞ্চলের বাসিন্দারা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েন। কৃষকরাও আমন ধানের বীজতলা, সবজি ক্ষেত ও মাছের ঘের নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
পড়ুন>> কুড়িগ্রামে জুলাই অনুষ্ঠানস্থল থেকে বের করে সাংবাদিক পেটালো বিএনপি-ছাত্রদল
ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানান, বুধবার সকাল ৬টা থেকে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ১৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে উজানে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কমে এলে রাতের দিকে পানির স্তর ধীরে ধীরে হ্রাস পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। এদিকে তিস্তা ব্যারাজের সবকটি জলকপাট প্রয়োজন অনুযায়ী খুলে অতিরিক্ত পানি নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলে পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে। একই সঙ্গে নদীতীরবর্তী এলাকার জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় প্রশাসনকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে, যাতে আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতি দেখা দিলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, দেশের উত্তরাঞ্চল ও তিস্তা অববাহিকায় মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে আগামী ২৪ ঘণ্টায় নদীর পানির স্তরে ওঠানামা অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
আরও পড়ুন>>আমি বন্দী কারাগারে’ গানের শিল্পী মুজিব পরদেশী কারাগারে কিন্তু কেন?
পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয়দের উদ্বেগ বাড়লেও প্রশাসন জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে পরিস্থিতির অবনতি হলে দ্রুত ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ


























