ঢাকা ০১:২৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ভূরুঙ্গামারীতে ২৮ অক্টোবরের হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে জামায়াতের বিক্ষোভ ​নাগেশ্বরীতে ২৮ অক্টোবর পল্টন ট্র্যাজেডি দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত নাগেশ্বরীতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত বিশ্ব হাত ধোঁয়া দিবস ডোমারে উদযাপন কাউনিয়ায় বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালন   কাউনিয়ায় যুবদলের ৪৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও আনন্দ র‍্যালি তারেক রহমান ও বিএনপির বিরুদ্ধে চক্রান্ত চালাচ্ছে ফ্যাসিস্ট ও গুপ্ত বাহিনী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যারিয়ার নির্ধারণী কর্মশালা ও উপাচার্যের দিকনির্দেশনা চট্টগ্রাম বন্দরে ৩৯৩ জনের নিয়োগ, আবেদন শুরু নভেম্বরে ঢালচরের পর্যটন বিকাশে মতবিনিময় করল ট্যুরিজম অ্যাসোসিয়েশন

বাংলাদেশে ৬.৩ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে আগ্রহী জাপান: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠক

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:৩৯:৪৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬ ৩৫ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জাপান সফরের দ্বিতীয় দিনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অত্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করেছেন। এই সফরের অন্যতম মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে তার দ্বিপক্ষীয় বৈঠক। টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ‘কানতেই’-তে অনুষ্ঠিত এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে দুই নেতা দুই দেশের দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। বৈঠকে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে বিদ্যমান সম্পর্ককে ‘কৌশলগত অংশীদারিত্বে’ উন্নীত করার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশের জ্বালানি, অবকাঠামো এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) খাতে ১ ট্রিলিয়ন জাপানি ইয়েন বা প্রায় ৬.৩ বিলিয়ন ডলারের বেসরকারি বিনিয়োগের প্রস্তাব নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই আলোচনায় বাংলাদেশ-জাপান টেক পার্ক প্রতিষ্ঠা, দেশের ৬টি বিভাগীয় শহরকে দ্রুতগতির রেল নেটওয়ার্কের আওতায় আনা, দেশব্যাপী উড়াল সড়ক নির্মাণ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও দক্ষ বিদ্যুৎ উৎপাদনে জাপানি বিনিয়োগ বাড়ানোর জোরালো প্রস্তাব তুলে ধরেন। এ লক্ষ্য অর্জনে জাপানি বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুযোগ অনুসন্ধানের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। বাংলাদেশে বিদ্যমান বিনিয়োগের সুযোগগুলো অনুসন্ধান করতে এবং আমাদের উন্নয়নের পরবর্তী ধাপে অংশীদার হতে আমি জাপানি বিনিয়োগকারী, ব্যবসায়ী ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আন্তরিকভাবে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। তিনি বলেন, উৎপাদনশীল বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পারস্পরিকভাবে লাভজনক ব্যবসায়িক উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে তার সরকার জাপানি অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা একসঙ্গে কাজ করলে আমাদের দুই মহান দেশের জন্য আরও সহনশীল ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারবো। তিনি বলেন, শান্তিপ্রিয় দেশ জাপান ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর প্রথম দিকেই বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদানকারী দেশগুলোর অন্যতম। আমরা এই দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বের জন্য গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন এ কথা জানান। ওদিকে আজ বুধবার মিৎসুইসহ তিন কোম্পানি এবং বাংলাদেশ-জাপান ইকোনমিক ফোরামসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন তারেক রহমান।

দ্বিপক্ষীয় চুক্তি ও সমঝোতা

দুই শীর্ষ নেতার বৈঠকে একটি প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি হস্তান্তরবিষয়ক চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে এবং তিন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে পৃথক তিনটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। এর মধ্যে জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের মধ্যে বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নে একটি স্মারক সই হয়েছে। এছাড়া খাদ্য, কৃষি, মৎস্য ও পশুপালন খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে জাপানের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের আরও দু’টি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। পাশাপাশি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, আধুনিক যোগাযোগ অবকাঠামো নির্মাণ, তথ্যপ্রযুক্তি, মহাকাশ গবেষণা এবং শিল্পায়নে সহযোগিতা জোরদারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি, বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি দ্রুত কার্যকর করা এবং দুই দেশের ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর ওপর দুই প্রধানমন্ত্রী ঐকমত্য পোষণ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী জানান, সফরকালে বাংলাদেশ ও জাপান গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ক্ষেত্রে একাধিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বিনিময় করেছে।

নিরাপত্তা ও কৌশলগত উদ্যোগ

বিশ্বে ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা বাড়ার প্রেক্ষাপটে দ্বিপক্ষীয় নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও জোরদার করার অঙ্গীকার করেছেন দুই প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশের উপকূলীয় নিরাপত্তা সক্ষমতা বাড়াতে জাপানের সরকারি উন্নয়ন সহায়তার আওতায় একটি টহলজাহাজ দেয়ার বিষয়টিও যৌথ ঘোষণায় স্থান পেয়েছে। এ ছাড়াও বৈশ্বিক বাস্তবতার নিরিখে নিজেদের সক্ষমতা ও স্থিতিশীলতা বাড়াতে বিশেষ অংশীদারিত্বমূলক উদ্যোগ ‘বিগ-বি’ এগিয়ে নেয়ার প্রত্যয় জানিয়েছে জাপান ও বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আশা প্রকাশ করেন যে, পারস্পরিক আস্থা ও অভিন্ন সমৃদ্ধির ভিত্তিতে এই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও সুদৃঢ় হবে। এ ছাড়া জাপানের সরকারি নিরাপত্তা সহায়তা কর্মসূচির আওতায় পাঁচটি টহলবোট দেয়ার কথা বলা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ কর্মসূচির আওতায় আরও সহযোগিতার সুযোগ খোঁজার অঙ্গীকারও করেছেন তারা। জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের বড় অবদানের স্বীকৃতি দিয়ে সমুদ্র পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, উপকূলীয় টহল ও বন্দরের নিরাপত্তায় সহযোগিতা বাড়ানোর কথা জানিয়েছে জাপান।

পরিদর্শন কার্যক্রম

সফরের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানের নিটসু লজিস্টিকস হাব পরিদর্শন করেন।

মঙ্গলবার স্থানীয় সময় বিকাল পৌনে ৫টায় চিবা প্রিফ্যাকচারের ইচিকাওয়া শহরে অবস্থিত এই হাবটি ঘুরে দেখেন তিনি। মঙ্গলবার জাপানের স্থানীয় সময় বিকাল পৌনে ৫ টায় চিবা প্রিফ্যাকচারের ইচিকাওয়া শহরে অবস্থিত নিটসু লজিস্টিকস হাব তিনি পরিদর্শন করেন। জাপানের চিবায় অবস্থিত নিটসু লজিস্টিক হাব মূলত নিপ্পন এক্সপ্রেস কোম্পানির অধীনে পরিচালিত একটি অত্যন্ত আধুনিক ও কৌশলগত মাল্টি-মডেল লজিস্টিক কেন্দ্র।

এছাড়া একই দিন দুপুরে চিবা প্রিফ্যাকচারের ফুতসু শহরে জেরা’র (JERA) স্থলভিত্তিক তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনাল ও বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শন করেন তিনি।

এই দুই পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরসহ উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল উপস্থিত ছিলেন। সরকারি এই সফরে উষ্ণ অভ্যর্থনা ও আন্তরিক আতিথেয়তার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এবং সে দেশের জনগণের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তার লক্ষ্য হলো দুই দেশের বন্ধুত্বকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও যৌথ সমৃদ্ধির শক্তিশালী চালিকাশক্তিতে রূপান্তর করা। এই সফর বাংলাদেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও আইসিটি খাতের বিকাশে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে। এই দুই পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির। আসিফ আসাদ, ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলাদেশে ৬.৩ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে আগ্রহী জাপান: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠক

আপডেট সময় : ০৭:৩৯:৪৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

জাপান সফরের দ্বিতীয় দিনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অত্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করেছেন। এই সফরের অন্যতম মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে তার দ্বিপক্ষীয় বৈঠক। টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ‘কানতেই’-তে অনুষ্ঠিত এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে দুই নেতা দুই দেশের দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। বৈঠকে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে বিদ্যমান সম্পর্ককে ‘কৌশলগত অংশীদারিত্বে’ উন্নীত করার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশের জ্বালানি, অবকাঠামো এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) খাতে ১ ট্রিলিয়ন জাপানি ইয়েন বা প্রায় ৬.৩ বিলিয়ন ডলারের বেসরকারি বিনিয়োগের প্রস্তাব নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই আলোচনায় বাংলাদেশ-জাপান টেক পার্ক প্রতিষ্ঠা, দেশের ৬টি বিভাগীয় শহরকে দ্রুতগতির রেল নেটওয়ার্কের আওতায় আনা, দেশব্যাপী উড়াল সড়ক নির্মাণ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও দক্ষ বিদ্যুৎ উৎপাদনে জাপানি বিনিয়োগ বাড়ানোর জোরালো প্রস্তাব তুলে ধরেন। এ লক্ষ্য অর্জনে জাপানি বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুযোগ অনুসন্ধানের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। বাংলাদেশে বিদ্যমান বিনিয়োগের সুযোগগুলো অনুসন্ধান করতে এবং আমাদের উন্নয়নের পরবর্তী ধাপে অংশীদার হতে আমি জাপানি বিনিয়োগকারী, ব্যবসায়ী ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আন্তরিকভাবে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। তিনি বলেন, উৎপাদনশীল বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পারস্পরিকভাবে লাভজনক ব্যবসায়িক উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে তার সরকার জাপানি অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা একসঙ্গে কাজ করলে আমাদের দুই মহান দেশের জন্য আরও সহনশীল ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারবো। তিনি বলেন, শান্তিপ্রিয় দেশ জাপান ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর প্রথম দিকেই বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদানকারী দেশগুলোর অন্যতম। আমরা এই দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বের জন্য গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন এ কথা জানান। ওদিকে আজ বুধবার মিৎসুইসহ তিন কোম্পানি এবং বাংলাদেশ-জাপান ইকোনমিক ফোরামসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন তারেক রহমান।

দ্বিপক্ষীয় চুক্তি ও সমঝোতা

দুই শীর্ষ নেতার বৈঠকে একটি প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি হস্তান্তরবিষয়ক চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে এবং তিন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে পৃথক তিনটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। এর মধ্যে জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের মধ্যে বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নে একটি স্মারক সই হয়েছে। এছাড়া খাদ্য, কৃষি, মৎস্য ও পশুপালন খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে জাপানের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের আরও দু’টি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। পাশাপাশি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, আধুনিক যোগাযোগ অবকাঠামো নির্মাণ, তথ্যপ্রযুক্তি, মহাকাশ গবেষণা এবং শিল্পায়নে সহযোগিতা জোরদারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি, বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি দ্রুত কার্যকর করা এবং দুই দেশের ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর ওপর দুই প্রধানমন্ত্রী ঐকমত্য পোষণ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী জানান, সফরকালে বাংলাদেশ ও জাপান গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ক্ষেত্রে একাধিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বিনিময় করেছে।

নিরাপত্তা ও কৌশলগত উদ্যোগ

বিশ্বে ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা বাড়ার প্রেক্ষাপটে দ্বিপক্ষীয় নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও জোরদার করার অঙ্গীকার করেছেন দুই প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশের উপকূলীয় নিরাপত্তা সক্ষমতা বাড়াতে জাপানের সরকারি উন্নয়ন সহায়তার আওতায় একটি টহলজাহাজ দেয়ার বিষয়টিও যৌথ ঘোষণায় স্থান পেয়েছে। এ ছাড়াও বৈশ্বিক বাস্তবতার নিরিখে নিজেদের সক্ষমতা ও স্থিতিশীলতা বাড়াতে বিশেষ অংশীদারিত্বমূলক উদ্যোগ ‘বিগ-বি’ এগিয়ে নেয়ার প্রত্যয় জানিয়েছে জাপান ও বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আশা প্রকাশ করেন যে, পারস্পরিক আস্থা ও অভিন্ন সমৃদ্ধির ভিত্তিতে এই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও সুদৃঢ় হবে। এ ছাড়া জাপানের সরকারি নিরাপত্তা সহায়তা কর্মসূচির আওতায় পাঁচটি টহলবোট দেয়ার কথা বলা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ কর্মসূচির আওতায় আরও সহযোগিতার সুযোগ খোঁজার অঙ্গীকারও করেছেন তারা। জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের বড় অবদানের স্বীকৃতি দিয়ে সমুদ্র পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, উপকূলীয় টহল ও বন্দরের নিরাপত্তায় সহযোগিতা বাড়ানোর কথা জানিয়েছে জাপান।

পরিদর্শন কার্যক্রম

সফরের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানের নিটসু লজিস্টিকস হাব পরিদর্শন করেন।

মঙ্গলবার স্থানীয় সময় বিকাল পৌনে ৫টায় চিবা প্রিফ্যাকচারের ইচিকাওয়া শহরে অবস্থিত এই হাবটি ঘুরে দেখেন তিনি। মঙ্গলবার জাপানের স্থানীয় সময় বিকাল পৌনে ৫ টায় চিবা প্রিফ্যাকচারের ইচিকাওয়া শহরে অবস্থিত নিটসু লজিস্টিকস হাব তিনি পরিদর্শন করেন। জাপানের চিবায় অবস্থিত নিটসু লজিস্টিক হাব মূলত নিপ্পন এক্সপ্রেস কোম্পানির অধীনে পরিচালিত একটি অত্যন্ত আধুনিক ও কৌশলগত মাল্টি-মডেল লজিস্টিক কেন্দ্র।

এছাড়া একই দিন দুপুরে চিবা প্রিফ্যাকচারের ফুতসু শহরে জেরা’র (JERA) স্থলভিত্তিক তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনাল ও বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শন করেন তিনি।

এই দুই পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরসহ উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল উপস্থিত ছিলেন। সরকারি এই সফরে উষ্ণ অভ্যর্থনা ও আন্তরিক আতিথেয়তার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এবং সে দেশের জনগণের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তার লক্ষ্য হলো দুই দেশের বন্ধুত্বকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও যৌথ সমৃদ্ধির শক্তিশালী চালিকাশক্তিতে রূপান্তর করা। এই সফর বাংলাদেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও আইসিটি খাতের বিকাশে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে। এই দুই পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির। আসিফ আসাদ, ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান।

Facebook Comments Box