ঢাকা ০২:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কোস্ট গার্ডে ৩৮ পদে নিয়োগ, আবেদন শুরু ১১ অক্টোবর রিয়াদের বিমানবন্দর ও বিমানে হুতি হামলার নিন্দা জানাল কাতার আবুধাবিতে টাইগারদের ইনিংস শেষ তিনশ ছেচল্লিশ রানে রায়গঞ্জে ১.৬ কোটি টাকার সড়ক পুনর্বাসন কাজের উদ্বোধন রেমিট্যান্স বন্ধের হুমকি রাষ্ট্রবিরোধী ও জনস্বার্থের পরিপন্থি: রিজভী সংখ্যালঘু-সংখ্যাগুরু নয়, বাংলাদেশি পরিচয়ই মূল লক্ষ্য: মাহদী আমিন জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে বিপাকে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো দিল্লিতে কঠোর নিরাপত্তা: সিজেপির বিক্ষোভ ঘিরে ব্যাপক ধরপাকড় ও অন্তরঙ্গ দৃশ্য না করায় যেসব কাজ ছেড়েছিলেন ৭ তারকা নির্বাচন কমিশনারের অপসারণ চেয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে ইন্ডিয়া জোট

নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে প্রয়োজনে ঋণ নেওয়া হবে: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:১৪:৫১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬ ৩৫ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো বা পে-স্কেল তৈরির প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তবে এই নতুন কাঠামো কবে নাগাদ এবং কতগুলো ধাপে কার্যকর করা হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এ তথ্য জানান। তিনি স্পষ্ট করেন যে, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের জন্য অর্থের সংস্থান করতে অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণের পাশাপাশি প্রয়োজনে ঋণ নেওয়া হবে।

ড. তিতুমীর জানান, নতুন বেতন কাঠামো তৈরির কাজ তিনটি পর্যায়ে সম্পন্ন হয়। প্রথম পর্যায়ে পে সার্ভিস কমিশন, সশস্ত্র বাহিনীর পে কমিটি এবং বিচার বিভাগের জন্য গঠিত জুডিশিয়াল পে কমিশন তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। এর মধ্যে প্রথম দুটি প্রতিবেদনের ওপর সচিব কমিটি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদান করেছে। বিচার বিভাগের পে-স্কেলের বিষয়টি তুলনামূলক সংবেদনশীল এবং সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা থাকায় এ নিয়ে মন্ত্রিপরিষদ গঠিত একটি কমিটি কাজ করছে। কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং তারা তাদের প্রতিবেদন জমা দিলে দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ সম্পন্ন হবে। এরপর তৃতীয় পর্যায়ে মন্ত্রিসভা সব প্রস্তাবনা পর্যালোচনা করে বাস্তবায়নের সময় ও ধাপ চূড়ান্ত করবে।

নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে অর্থের উৎস নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই বলে জানান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ঋণ গ্রহণকে নেতিবাচকভাবে দেখার সুযোগ নেই। ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে চারটি বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে—বিনিয়োগের ওপর রিটার্ন, ভবিষ্যতের পরিবেশগত প্রভাব, অর্থের যথাযথ মূল্য এবং তাৎক্ষণিক গুণপ্রভাব। অর্থনীতিতে গুণপ্রভাব তৈরি করতে পারলে ঋণ নেওয়া যুক্তিসঙ্গত। তিনি আরও বলেন, বাজেট ঘাটতি, কর-জিডিপি অনুপাত এবং সামাজিক নিরাপত্তা ও শিক্ষা-স্বাস্থ্যে ব্যয়ের মতো বিষয়গুলোই মূলত সরকারের বিবেচ্য বিষয়।

বেতন বৈষম্য ও সরকারি-বেসরকারি খাতের বেতনের তুলনা প্রসঙ্গে ড. তিতুমীর বলেন, সব খাতকে সরাসরি তুলনা করা যৌক্তিক নয়। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এবং বেসরকারি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বেতন সরাসরি তুলনাযোগ্য নয়। ‘যার কর্ম অনুযায়ী তার ব্যবস্থা’—এই মূলনীতি অনুসরণ করা প্রয়োজন। এছাড়া বেতন বাড়লে দুর্নীতি কমবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকার এমন কোনো নিশ্চয়তা দিচ্ছে না; বরং তাদের লক্ষ্য হলো একটি কার্যকর ও যুক্তিসঙ্গত বেতন ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

বর্তমানে মূল বেতনভোগী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা প্রায় ১৪ লাখ। পেনশনভোগীদের যুক্ত করলে এই সংখ্যা প্রায় ২০ লাখে পৌঁছায়। মূল্যস্ফীতির বর্তমান পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই নতুন পে-স্কেল নিয়ে কাজ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। তবে এটি একবারে কার্যকর হবে নাকি ধাপে ধাপে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তই এ বিষয়ে শেষ কথা বলবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বাংলাদেশের বাস্তবতা, বিষয়টির সংবেদনশীলতা এবং সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা বিবেচনায় নিয়ে কমিটি তাদের প্রতিবেদন দেবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে ঋণ নেওয়াকে তিনি নিজে কোনো সমস্যা হিসেবে দেখছেন না। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তিনি বলেন, ঋণ নিয়ে কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চলে কি না এটা মূল প্রশ্ন নয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মূল বিষয় হচ্ছে বাজেট ঘাটতি কত, মোট দেশজ উৎপাদনের তুলনায় করের পরিমাণ কত এবং স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তায় কত ব্যয় করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অর্থাৎ ঋণ নিয়ে যদি অর্থনীতিতে গুণপ্রভাব তৈরি করা যায়, তাহলে সেই ঋণ নেওয়া নেতিবাচক নয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতি এরই মধ্যে বড় মাত্রায় বেড়েছে।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে প্রয়োজনে ঋণ নেওয়া হবে: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

আপডেট সময় : ০৮:১৪:৫১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো বা পে-স্কেল তৈরির প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তবে এই নতুন কাঠামো কবে নাগাদ এবং কতগুলো ধাপে কার্যকর করা হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এ তথ্য জানান। তিনি স্পষ্ট করেন যে, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের জন্য অর্থের সংস্থান করতে অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণের পাশাপাশি প্রয়োজনে ঋণ নেওয়া হবে।

ড. তিতুমীর জানান, নতুন বেতন কাঠামো তৈরির কাজ তিনটি পর্যায়ে সম্পন্ন হয়। প্রথম পর্যায়ে পে সার্ভিস কমিশন, সশস্ত্র বাহিনীর পে কমিটি এবং বিচার বিভাগের জন্য গঠিত জুডিশিয়াল পে কমিশন তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। এর মধ্যে প্রথম দুটি প্রতিবেদনের ওপর সচিব কমিটি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদান করেছে। বিচার বিভাগের পে-স্কেলের বিষয়টি তুলনামূলক সংবেদনশীল এবং সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা থাকায় এ নিয়ে মন্ত্রিপরিষদ গঠিত একটি কমিটি কাজ করছে। কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং তারা তাদের প্রতিবেদন জমা দিলে দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ সম্পন্ন হবে। এরপর তৃতীয় পর্যায়ে মন্ত্রিসভা সব প্রস্তাবনা পর্যালোচনা করে বাস্তবায়নের সময় ও ধাপ চূড়ান্ত করবে।

নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে অর্থের উৎস নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই বলে জানান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ঋণ গ্রহণকে নেতিবাচকভাবে দেখার সুযোগ নেই। ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে চারটি বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে—বিনিয়োগের ওপর রিটার্ন, ভবিষ্যতের পরিবেশগত প্রভাব, অর্থের যথাযথ মূল্য এবং তাৎক্ষণিক গুণপ্রভাব। অর্থনীতিতে গুণপ্রভাব তৈরি করতে পারলে ঋণ নেওয়া যুক্তিসঙ্গত। তিনি আরও বলেন, বাজেট ঘাটতি, কর-জিডিপি অনুপাত এবং সামাজিক নিরাপত্তা ও শিক্ষা-স্বাস্থ্যে ব্যয়ের মতো বিষয়গুলোই মূলত সরকারের বিবেচ্য বিষয়।

বেতন বৈষম্য ও সরকারি-বেসরকারি খাতের বেতনের তুলনা প্রসঙ্গে ড. তিতুমীর বলেন, সব খাতকে সরাসরি তুলনা করা যৌক্তিক নয়। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এবং বেসরকারি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বেতন সরাসরি তুলনাযোগ্য নয়। ‘যার কর্ম অনুযায়ী তার ব্যবস্থা’—এই মূলনীতি অনুসরণ করা প্রয়োজন। এছাড়া বেতন বাড়লে দুর্নীতি কমবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকার এমন কোনো নিশ্চয়তা দিচ্ছে না; বরং তাদের লক্ষ্য হলো একটি কার্যকর ও যুক্তিসঙ্গত বেতন ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

বর্তমানে মূল বেতনভোগী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা প্রায় ১৪ লাখ। পেনশনভোগীদের যুক্ত করলে এই সংখ্যা প্রায় ২০ লাখে পৌঁছায়। মূল্যস্ফীতির বর্তমান পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই নতুন পে-স্কেল নিয়ে কাজ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। তবে এটি একবারে কার্যকর হবে নাকি ধাপে ধাপে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তই এ বিষয়ে শেষ কথা বলবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বাংলাদেশের বাস্তবতা, বিষয়টির সংবেদনশীলতা এবং সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা বিবেচনায় নিয়ে কমিটি তাদের প্রতিবেদন দেবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে ঋণ নেওয়াকে তিনি নিজে কোনো সমস্যা হিসেবে দেখছেন না। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তিনি বলেন, ঋণ নিয়ে কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চলে কি না এটা মূল প্রশ্ন নয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মূল বিষয় হচ্ছে বাজেট ঘাটতি কত, মোট দেশজ উৎপাদনের তুলনায় করের পরিমাণ কত এবং স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তায় কত ব্যয় করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অর্থাৎ ঋণ নিয়ে যদি অর্থনীতিতে গুণপ্রভাব তৈরি করা যায়, তাহলে সেই ঋণ নেওয়া নেতিবাচক নয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতি এরই মধ্যে বড় মাত্রায় বেড়েছে।

Facebook Comments Box