ঢাকা ০৯:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তেরো বছরের শিশুর নিরাপত্তা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৬:৫৮:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

তেরো বছরের শিশুর নিরাপত্তা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন

মাত্র তেরো বছর বয়সে অপ্রতিমের জীবন প্রদীপ নিভে গেছে। অথচ এই বয়সে তার পৃথিবী হওয়ার কথা ছিল স্কুলের মাঠ, বন্ধুদের আড্ডা, মায়ের হাতের রান্না আর উজ্জ্বল ভবিষ্যতের নানা রঙিন স্বপ্ন। রাষ্ট্রের কাছে আজ আমার প্রশ্ন—একটি শিশু যখন নিখোঁজ হয়, তখন তাকে উদ্ধারে কেন প্রশাসনের সব যন্ত্র দ্রুত সচল হয় না? অথচ অপ্রতিমের মতো শিশুদের জন্য কোনো সরকারি নোটিশ বা কার্যকর পদক্ষেপ নিতে রাষ্ট্রকে দেখা যায় না।

মায়ের কাছে আইন কোনো বিমূর্ত শব্দ নয়, বরং আইন মানেই সন্তানের পায়ের শব্দে দরজায় ফিরে আসার নিশ্চয়তা। অপ্রতিমের খালি বিছানা আজ রাষ্ট্র, প্রশাসন ও আমাদের বিচার ব্যবস্থার সামনে এক বড় প্রশ্নের পাহাড় গড়ে তুলেছে। ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে দেওয়া রাজনৈতিক সহানুভূতি বা ফুলের মালা মৃত শিশুকে ফিরিয়ে আনে না। বরং যে প্রশ্নটি অপ্রতিমের নিথর শরীর আমাদের দিকে ছুড়ে দিয়েছে, তা হলো—আমরা কি এমন একটি সমাজ গড়েছি, যেখানে তেরো বছরের একটি শিশুও নিরাপত্তার নিশ্চয়তা ছাড়া ঘর থেকে বের হতে পারে না?

পড়ুন>>নান্দাইলে শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের ঘটনায় আটক ১

আমি কোনো নির্দিষ্ট পক্ষকে সরাসরি অপরাধী বলছি না, কারণ তদন্ত ও আইন তার নিজস্ব গতিতে চলার কথা। কিন্তু আমি সেই সামাজিক নীরবতা ও রাজনৈতিক সুবিধাবাদকে অভিযুক্ত করছি, যেখানে একটি শিশুর অকাল প্রয়াণ মাত্র কয়েক ঘণ্টার শিরোনাম হয়ে থাকে। এরপরই আমরা আবার নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে নিশ্চিন্তে গা এলিয়ে দিই। মনে হয়, অপ্রতিম কোনো মানুষ নয়, বরং একটি ক্ষণস্থায়ী সংবাদের শিরোনাম ছিল মাত্র।

অপ্রতিম কারো দল বা পতাকার ছিল না; তার একমাত্র পরিচয় ছিল—সে মানুষ। মৃত শিশুকে নিয়ে কোনো রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের চেষ্টা না করে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাই। অপ্রতিমের স্কুলব্যাগটি এখন ঘরের কোণে নীরব হয়ে পড়ে আছে, বইয়ের পাতাগুলো বন্ধ আর কলমটি কোনো এক বাক্যের মাঝখানে থেমে আছে। সেই অসমাপ্ত বাক্যের পাশে বসেই আজ সমাজকে ভাবতে হবে, আমাদের আগামীর প্রজন্ম কতটা নিরাপদ। রাষ্ট্র যদি মায়ের কান্নাকে পাশ কাটিয়ে নিজেকে নিরাপদ দাবি করে, তবে সেই নিরাপত্তা আসলে কার জন্য?

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

তেরো বছরের শিশুর নিরাপত্তা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন

আপডেট সময় : ০৬:৫৮:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

তেরো বছরের শিশুর নিরাপত্তা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন

মাত্র তেরো বছর বয়সে অপ্রতিমের জীবন প্রদীপ নিভে গেছে। অথচ এই বয়সে তার পৃথিবী হওয়ার কথা ছিল স্কুলের মাঠ, বন্ধুদের আড্ডা, মায়ের হাতের রান্না আর উজ্জ্বল ভবিষ্যতের নানা রঙিন স্বপ্ন। রাষ্ট্রের কাছে আজ আমার প্রশ্ন—একটি শিশু যখন নিখোঁজ হয়, তখন তাকে উদ্ধারে কেন প্রশাসনের সব যন্ত্র দ্রুত সচল হয় না? অথচ অপ্রতিমের মতো শিশুদের জন্য কোনো সরকারি নোটিশ বা কার্যকর পদক্ষেপ নিতে রাষ্ট্রকে দেখা যায় না।

মায়ের কাছে আইন কোনো বিমূর্ত শব্দ নয়, বরং আইন মানেই সন্তানের পায়ের শব্দে দরজায় ফিরে আসার নিশ্চয়তা। অপ্রতিমের খালি বিছানা আজ রাষ্ট্র, প্রশাসন ও আমাদের বিচার ব্যবস্থার সামনে এক বড় প্রশ্নের পাহাড় গড়ে তুলেছে। ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে দেওয়া রাজনৈতিক সহানুভূতি বা ফুলের মালা মৃত শিশুকে ফিরিয়ে আনে না। বরং যে প্রশ্নটি অপ্রতিমের নিথর শরীর আমাদের দিকে ছুড়ে দিয়েছে, তা হলো—আমরা কি এমন একটি সমাজ গড়েছি, যেখানে তেরো বছরের একটি শিশুও নিরাপত্তার নিশ্চয়তা ছাড়া ঘর থেকে বের হতে পারে না?

পড়ুন>>নান্দাইলে শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের ঘটনায় আটক ১

আমি কোনো নির্দিষ্ট পক্ষকে সরাসরি অপরাধী বলছি না, কারণ তদন্ত ও আইন তার নিজস্ব গতিতে চলার কথা। কিন্তু আমি সেই সামাজিক নীরবতা ও রাজনৈতিক সুবিধাবাদকে অভিযুক্ত করছি, যেখানে একটি শিশুর অকাল প্রয়াণ মাত্র কয়েক ঘণ্টার শিরোনাম হয়ে থাকে। এরপরই আমরা আবার নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে নিশ্চিন্তে গা এলিয়ে দিই। মনে হয়, অপ্রতিম কোনো মানুষ নয়, বরং একটি ক্ষণস্থায়ী সংবাদের শিরোনাম ছিল মাত্র।

অপ্রতিম কারো দল বা পতাকার ছিল না; তার একমাত্র পরিচয় ছিল—সে মানুষ। মৃত শিশুকে নিয়ে কোনো রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের চেষ্টা না করে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাই। অপ্রতিমের স্কুলব্যাগটি এখন ঘরের কোণে নীরব হয়ে পড়ে আছে, বইয়ের পাতাগুলো বন্ধ আর কলমটি কোনো এক বাক্যের মাঝখানে থেমে আছে। সেই অসমাপ্ত বাক্যের পাশে বসেই আজ সমাজকে ভাবতে হবে, আমাদের আগামীর প্রজন্ম কতটা নিরাপদ। রাষ্ট্র যদি মায়ের কান্নাকে পাশ কাটিয়ে নিজেকে নিরাপদ দাবি করে, তবে সেই নিরাপত্তা আসলে কার জন্য?

Facebook Comments Box