ঢাকা ০১:৩৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ছাদে বা টবে পেয়ারা চাষ পদ্ধতি

সৃষ্টি কৃষি ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৪:৩২:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৩ ১১০৩ বার পড়া হয়েছে

ছাদে বা টবে পেয়ারা চাষ পদ্ধতি

আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাসার ছাদে অনেকেই পেয়ারা গাছ লাগানোর জন্য বেশ আগ্রহী। সহজেই টবে পেয়ারা চাষ করতেপারি। তবে স্বাভাবিকভাবেই জমিতে চাষ পদ্ধতির চেয়ে আলাদা। এ পদ্ধতিতে পেয়ারা চাষ করতে হলে বেশ কিছু বিষয় খেয়াল রাখতে হবে।

 

সাধারণত শহর অঞ্চলে বাড়ির ছাদে টবে অনেকেই পেয়ারা চাষ করেন। টবে পেয়ারা চাষ পদ্ধতি জনপ্রিয় হওয়ার কারণ হলো সহজে পরিচর্যা করা যায় এবং এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় সহজে সরানো যায়।

টবে পেয়ারা চাষ করতে হলে সর্বপ্রথম যে বিষয়টি খেয়াল রাখতে হবে

 

 

টব নির্বাচন:

টবের আকার সর্বনিম্ন ১৮ থেকে ২০ ইঞ্চি হতে হবে। এছাড়া ড্রাম বা টবের আকার যত বড় হবে ততই ভালো।

 

 

 

মাটি তৈরি :

পেয়ারা গাছের জন্য টবের মাটি তৈরি করতে হলে খেয়াল রাখতে হবে এর প্রয়োজন মতো সবগুলো পুষ্টি উপাদান যেন মাটির মধ্যে থাকে। এখানে ১৮ ইঞ্চির একটি টবের জন্য সারের মাত্রা উল্লেখ করা হলো।

 

 

 

উপরোক্ত নিয়মের হাল মাটি পানি দিয়ে ১০-১২ দিন ভিজিয়ে রেখে দিতে হবে। অতঃপর মাটি কিছুটা খুচিয়ে দিয়ে আবার ৪-৫ দিন এভাবেই রেখে দিতে হবে যাহাতে টবের মাটি শুকিয়ে যায় । মাটি শুকিয়ে ঝুরঝুরে হবে তখন একটি সবল সুস্থ চারা উক্ত টবে রোপন করতে হবে।

চারা রোপনের সময় খেয়াল রাখতে হবে গাছের গোড়া যেন মাটি থেকে আলাদা না হয়ে যায়, গাছের গোড়ায় মাটি কিছুটা উচু থাকে এবং চারা গাছটিকে সোজা থাকে।

 

 

 

জাত নির্বাচন :

বাংলাদেশে প্রাপ্ত সকল জাতের পেয়ারাই ছাদেও চাষ করা যায় । কিছু জাতের পেয়ারার কদর একটু বেশি এর সুমিষ্টতা এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশির কারনে।

 

 

পেয়ারার উল্লেখ্য যোগ্য জাতের এর মধ্যে রয়েছে-

বাউ পেয়ারা-১ (মিষ্টি),
এফটিআইপি বাউ পেয়ারা-৪ (আপেল),
বাউ পেয়ারা-৫ (ওভাল),
এফটিআইপি বাউ পেয়ারা-৬ (জেলি) এবং থাই পেয়ারা।
এছাড়াও ইপসা -১ এবং ইপসা পেয়ারাও ভাল জাতের পেয়ারা ।

 

 

 

চারা রোপণ:

পেয়ারা গাছ রোপণ করলে সঠিকভাবে এর সেচের ব্যবস্থা করতে হবে। অতিরিক্ত পানি পেয়ারা গাছের জন্য ক্ষতিকর। এজন্য পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে হবে।

 

 

 

পরিচর্যা :

সরিষার খৈল জৈব পদার্থ হিসাবে ভাল উপযোগী। গোবরে বিকল্প হিসাবে খুব ভাল কাজ করে সরিষার খৈল। সরিষার খৈল ১০ দিন পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে । তারপর সেই পচা খৈলের পানি পাতলা করে গাছের গোড়ায় দিতে হবে ।

 

 

 

গাছ লাগানোর ৪/৫ মাস পর থেকে নিয়মিত ১৫-২০ দিন অন্তর অন্তর সরিষার খৈল পচা পানি প্রয়োগ করতে হবে। ১ বছর পর টবের আংশিক মাটি পরিবর্তন করে দিতে হবে ।

 

 

 

এছাড়া পরিচর্চার অন্যান্য কাজের মধ্যে অপ্রয়োজনীয় ডালপালা ছাঁটাই করা একটি প্রধান কাজ। সাধারণত পেয়ারা গাছের পুরোনো ডালে কোনো ফল আসে না। অপেক্ষাকৃত নতুন ডালে ভালো ফল হয়।

 

 

 

পেয়ারা গাছে সাধারণত বছরে তিনবার ফুল আসতে দেখা যায়। এ কারণে ফাল্গুন-আষাঢ় ও কার্তিক মাসে কাছে আলাদা কিছু সার প্রয়োগ করতে হয় । ১ গোবর ৫ কেজি, ২ ইউরিয়া ৮০ গ্ৰাম, ৩ ফসফরাস ১৫০ গ্ৰাম এবং ৪ পটাশ ১০০ গ্ৰাম পেয়ারা গাছের গোড়া থেকে যথেষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে মাটিতে মিশিয়ে দিতে হবে।

 

 

 

পেয়ারা গাছের রোগবালাই দমন পদ্ধতি: পেয়ারা গাছ  অন্যান্য গাছের থেকে একটু ভিন্ন। পেয়ারা গাছের পাতা নতুন হলে অনেক সময় দেখা যায় পোকা এগুলোকে ফুটো করে ফেলে। যার ফলে ফলন ব্যাঘাত ঘটে এই সমস্যা থেকে মুক্তির জন্য প্রতি ১০ লিটার পানিতে ১০ গ্রাম পরিমাণ ডেরিস বা ২০ গ্ৰাম ডারবাসন ব্যবহার করতে হবে।

 

 

 

 

এই সমস্যা সাধারণত ছত্রাকের কারণে হয়। প্রতিকার হিসেবে ব্যভিসটিন ঔষধ এক লিটার পানিতে এক গ্ৰাম পরিমাণে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে। পেয়ারা গাছে ফুল আসার আগে রিপকর্ড অথবা ভেজিম্যাক্স সঠিক মাত্রায় ব্যবহার করতে হবে।

 

 

 

পরবর্তী পরিচর্যা :

এছাড়া গাছকে সব সময় সুস্থ-সবল ও সবুজ রাখতে সবুজ সার ব্যবহার করতে হবে। এই সার বিভিন্ন সবজির পচা অংশ, গোবর অথবা সরিষার খৈল পানিতে ভিজিয়ে নিজেই তৈরি করা যায়।

পেয়ারার ডাল ছাটাই :

প্রাকৃতিকভাবেই পেয়ারা গাছ ঝোপালো হয়। এ জন্য মূল কান্ড ছাড়া গাছের গোড়া থেকে বের হওয়া শাখা কেটে দিতে হয়। পেয়ারার পুরনো ডালে সাধারনত ফল ধরে না। তাই ফল সংগ্রহের পর শাখা-প্রশাখাগুলোর আগা মানে যে ডালে ফল ধরেছে ওই ডালের ফল ধরবার একটা গিট রেখে পরে অংশ কাটতে হবে। জেনে নিন>>আমের রোগ বালাই ও প্রতিকার

পেয়ারার শিকড় ছাটাঁই:

পেয়ারার ৩/৪ বছরের পর হতে ৭/৮ বছর পর্যন্ত ডি পটিং সহ শিকর কেটে দিলে ভাল ফলন পাওয়া যায়। শিকড় কাটার সময় খেয়াল রাখতে হবে যেন মুল শিকড়ে যেন কোন আঘাত না লাগে। শিকড় সহ কিছুটা মাটি সরিয়ে নিয়ে সু্ষম সার দিয়ে টব পূর্ণ করতে হবে। জেনে নিন>>ধুন্দল চাষ (Dhundal cultivation)

 

 

গাছের ডাল ও শিকড় ছাটাঁইয়ের মাধ্যমে ফল গাছকে সুস্থ-সবল রেখে বেশি পরিমাণে ফলন পাওয়া সম্ভব। এ জন্য বিভিন্ন ফলের জাত, বয়স ও আকার অনুয়ায়ী ছাটাঁই করলে গাছের সুষ্ঠু বৃদ্ধি ও ফল ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি করা সম্ভব।

 

 

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ছাদে বা টবে পেয়ারা চাষ পদ্ধতি

আপডেট সময় : ০৪:৩২:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৩

বাসার ছাদে অনেকেই পেয়ারা গাছ লাগানোর জন্য বেশ আগ্রহী। সহজেই টবে পেয়ারা চাষ করতেপারি। তবে স্বাভাবিকভাবেই জমিতে চাষ পদ্ধতির চেয়ে আলাদা। এ পদ্ধতিতে পেয়ারা চাষ করতে হলে বেশ কিছু বিষয় খেয়াল রাখতে হবে।

 

সাধারণত শহর অঞ্চলে বাড়ির ছাদে টবে অনেকেই পেয়ারা চাষ করেন। টবে পেয়ারা চাষ পদ্ধতি জনপ্রিয় হওয়ার কারণ হলো সহজে পরিচর্যা করা যায় এবং এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় সহজে সরানো যায়।

টবে পেয়ারা চাষ করতে হলে সর্বপ্রথম যে বিষয়টি খেয়াল রাখতে হবে

 

 

টব নির্বাচন:

টবের আকার সর্বনিম্ন ১৮ থেকে ২০ ইঞ্চি হতে হবে। এছাড়া ড্রাম বা টবের আকার যত বড় হবে ততই ভালো।

 

 

 

মাটি তৈরি :

পেয়ারা গাছের জন্য টবের মাটি তৈরি করতে হলে খেয়াল রাখতে হবে এর প্রয়োজন মতো সবগুলো পুষ্টি উপাদান যেন মাটির মধ্যে থাকে। এখানে ১৮ ইঞ্চির একটি টবের জন্য সারের মাত্রা উল্লেখ করা হলো।

 

 

 

উপরোক্ত নিয়মের হাল মাটি পানি দিয়ে ১০-১২ দিন ভিজিয়ে রেখে দিতে হবে। অতঃপর মাটি কিছুটা খুচিয়ে দিয়ে আবার ৪-৫ দিন এভাবেই রেখে দিতে হবে যাহাতে টবের মাটি শুকিয়ে যায় । মাটি শুকিয়ে ঝুরঝুরে হবে তখন একটি সবল সুস্থ চারা উক্ত টবে রোপন করতে হবে।

চারা রোপনের সময় খেয়াল রাখতে হবে গাছের গোড়া যেন মাটি থেকে আলাদা না হয়ে যায়, গাছের গোড়ায় মাটি কিছুটা উচু থাকে এবং চারা গাছটিকে সোজা থাকে।

 

 

 

জাত নির্বাচন :

বাংলাদেশে প্রাপ্ত সকল জাতের পেয়ারাই ছাদেও চাষ করা যায় । কিছু জাতের পেয়ারার কদর একটু বেশি এর সুমিষ্টতা এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশির কারনে।

 

 

পেয়ারার উল্লেখ্য যোগ্য জাতের এর মধ্যে রয়েছে-

বাউ পেয়ারা-১ (মিষ্টি),
এফটিআইপি বাউ পেয়ারা-৪ (আপেল),
বাউ পেয়ারা-৫ (ওভাল),
এফটিআইপি বাউ পেয়ারা-৬ (জেলি) এবং থাই পেয়ারা।
এছাড়াও ইপসা -১ এবং ইপসা পেয়ারাও ভাল জাতের পেয়ারা ।

 

 

 

চারা রোপণ:

পেয়ারা গাছ রোপণ করলে সঠিকভাবে এর সেচের ব্যবস্থা করতে হবে। অতিরিক্ত পানি পেয়ারা গাছের জন্য ক্ষতিকর। এজন্য পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে হবে।

 

 

 

পরিচর্যা :

সরিষার খৈল জৈব পদার্থ হিসাবে ভাল উপযোগী। গোবরে বিকল্প হিসাবে খুব ভাল কাজ করে সরিষার খৈল। সরিষার খৈল ১০ দিন পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে । তারপর সেই পচা খৈলের পানি পাতলা করে গাছের গোড়ায় দিতে হবে ।

 

 

 

গাছ লাগানোর ৪/৫ মাস পর থেকে নিয়মিত ১৫-২০ দিন অন্তর অন্তর সরিষার খৈল পচা পানি প্রয়োগ করতে হবে। ১ বছর পর টবের আংশিক মাটি পরিবর্তন করে দিতে হবে ।

 

 

 

এছাড়া পরিচর্চার অন্যান্য কাজের মধ্যে অপ্রয়োজনীয় ডালপালা ছাঁটাই করা একটি প্রধান কাজ। সাধারণত পেয়ারা গাছের পুরোনো ডালে কোনো ফল আসে না। অপেক্ষাকৃত নতুন ডালে ভালো ফল হয়।

 

 

 

পেয়ারা গাছে সাধারণত বছরে তিনবার ফুল আসতে দেখা যায়। এ কারণে ফাল্গুন-আষাঢ় ও কার্তিক মাসে কাছে আলাদা কিছু সার প্রয়োগ করতে হয় । ১ গোবর ৫ কেজি, ২ ইউরিয়া ৮০ গ্ৰাম, ৩ ফসফরাস ১৫০ গ্ৰাম এবং ৪ পটাশ ১০০ গ্ৰাম পেয়ারা গাছের গোড়া থেকে যথেষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে মাটিতে মিশিয়ে দিতে হবে।

 

 

 

পেয়ারা গাছের রোগবালাই দমন পদ্ধতি: পেয়ারা গাছ  অন্যান্য গাছের থেকে একটু ভিন্ন। পেয়ারা গাছের পাতা নতুন হলে অনেক সময় দেখা যায় পোকা এগুলোকে ফুটো করে ফেলে। যার ফলে ফলন ব্যাঘাত ঘটে এই সমস্যা থেকে মুক্তির জন্য প্রতি ১০ লিটার পানিতে ১০ গ্রাম পরিমাণ ডেরিস বা ২০ গ্ৰাম ডারবাসন ব্যবহার করতে হবে।

 

 

 

 

এই সমস্যা সাধারণত ছত্রাকের কারণে হয়। প্রতিকার হিসেবে ব্যভিসটিন ঔষধ এক লিটার পানিতে এক গ্ৰাম পরিমাণে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে। পেয়ারা গাছে ফুল আসার আগে রিপকর্ড অথবা ভেজিম্যাক্স সঠিক মাত্রায় ব্যবহার করতে হবে।

 

 

 

পরবর্তী পরিচর্যা :

এছাড়া গাছকে সব সময় সুস্থ-সবল ও সবুজ রাখতে সবুজ সার ব্যবহার করতে হবে। এই সার বিভিন্ন সবজির পচা অংশ, গোবর অথবা সরিষার খৈল পানিতে ভিজিয়ে নিজেই তৈরি করা যায়।

পেয়ারার ডাল ছাটাই :

প্রাকৃতিকভাবেই পেয়ারা গাছ ঝোপালো হয়। এ জন্য মূল কান্ড ছাড়া গাছের গোড়া থেকে বের হওয়া শাখা কেটে দিতে হয়। পেয়ারার পুরনো ডালে সাধারনত ফল ধরে না। তাই ফল সংগ্রহের পর শাখা-প্রশাখাগুলোর আগা মানে যে ডালে ফল ধরেছে ওই ডালের ফল ধরবার একটা গিট রেখে পরে অংশ কাটতে হবে। জেনে নিন>>আমের রোগ বালাই ও প্রতিকার

পেয়ারার শিকড় ছাটাঁই:

পেয়ারার ৩/৪ বছরের পর হতে ৭/৮ বছর পর্যন্ত ডি পটিং সহ শিকর কেটে দিলে ভাল ফলন পাওয়া যায়। শিকড় কাটার সময় খেয়াল রাখতে হবে যেন মুল শিকড়ে যেন কোন আঘাত না লাগে। শিকড় সহ কিছুটা মাটি সরিয়ে নিয়ে সু্ষম সার দিয়ে টব পূর্ণ করতে হবে। জেনে নিন>>ধুন্দল চাষ (Dhundal cultivation)

 

 

গাছের ডাল ও শিকড় ছাটাঁইয়ের মাধ্যমে ফল গাছকে সুস্থ-সবল রেখে বেশি পরিমাণে ফলন পাওয়া সম্ভব। এ জন্য বিভিন্ন ফলের জাত, বয়স ও আকার অনুয়ায়ী ছাটাঁই করলে গাছের সুষ্ঠু বৃদ্ধি ও ফল ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি করা সম্ভব।

 

 

 

Facebook Comments Box