চট্টগ্রামে যুবদল নেতা গ্রেপ্তার: প্রকাশ্যে অস্ত্র হাতে জীবনের পুরোনো ছবি
- আপডেট সময় : ১০:০৩:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬ ১৪ বার পড়া হয়েছে
চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী এলাকায় আবু ইউসুফ ওরফে জীবনের (২৭) হত্যাকাণ্ডের পর তার হাতে অস্ত্র থাকার দুটি ছবি সামনে এসেছে। ছবিগুলো তার মৃত্যুর দুদিন আগের বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে, স্থানীয় একাধিক ব্যবসায়ীর পক্ষ থেকে জীবনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় চাঁদা দাবি করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। তবে এই ঘটনার নেপথ্যে থাকা কারণ হিসেবে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক দ্বন্দ্বকেই সামনে আনছে পুলিশ। এর বাইরে স্থানীয় একাধিক ব্যবসায়ী তার বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অভিযোগ করেছেন। এ নিয়ে বিরোধ তৈরি হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
গত ২৭ অক্টোবর রাতে বায়েজিদ বোস্তামী থানার কুঞ্জছায়া আবাসিক এলাকার ২ নম্বর সড়কে হামলার শিকার হন জীবন। স্থানীয়দের তথ্যমতে, দুর্বৃত্তরা প্রথমে তাকে মারধর করে এবং পরে ছুরিকাঘাত ও গুলি চালায়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার একটি পা হাঁটুর নিচ থেকে বিচ্ছিন্ন করতে হয়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে ২৯ অক্টোবর সকালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জীবনের মৃত্যু হয়। অস্ত্রোপচার করে তার ডান পা হাঁটুর নিচ থেকে কেটে ফেলা হয়। জীবনের পরিবার হামলার জন্য জুয়েল ও তার অনুসারীদের দায়ী করেছে।
এই ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে নগর যুবদলের প্রচার সম্পাদক জিল্লুর রহমান জুয়েল ও তার সহযোগী মো. আরমানকে শনাক্ত করা হয়েছে। গত ১ নভেম্বর রাতে এসআরবি (স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন) ঢাকা ও কুমিল্লায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে। নগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) মো. হাসান মোস্তফা স্বপন জানান, ভুক্তভোগী জীবন অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে নিহত হয়েছেন এবং তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়েছিল। তবে বিরোধের নির্দিষ্ট কারণ এখনো তদন্তাধীন। তবে সেই দ্বন্দ্বের প্রকৃতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়নি। একটিতে এক ব্যক্তির হাতে পিস্তলসদৃশ বস্তু এবং অন্যটিতে ধারালো অস্ত্র দেখা যায়।
তদন্তকারী সূত্র ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, জীবন একসময় স্থানীয় আওয়ামী লীগ কাউন্সিলর মোবারক আলীর অনুসারী ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন এবং প্রায় দুই বছর জিল্লুর রহমান জুয়েলের ছায়ায় বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন। সম্প্রতি তিনি জুয়েলের পক্ষ ত্যাগ করে নগর স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা নুরুজ্জামান শিমুলের সঙ্গে যুক্ত হন। রাজনৈতিক এই মেরুকরণকে কেন্দ্র করেই বিবাদ সৃষ্টি হয়েছে বলে পরিবারের অভিযোগ। দলীয় সূত্র অনুযায়ী, প্রায় দুই বছর ধরে তিনি জুয়েলের অনুসারী হিসেবে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছিলেন।
জীবনের পরিবারের দাবি, তাকে জোরপূর্বক জুয়েলের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল। হামলার পর আহত অবস্থায় জীবন নিজেই একটি ভিডিওবার্তায় ইকরাম বাবু ও আরমানের নাম উল্লেখ করে অভিযোগ করেছিলেন। যদিও জিল্লুর রহমান জুয়েল শুরু থেকেই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। তার ভাষ্যমতে, জীবন ও হামলাকারীরা তার আত্মীয় এবং একই এলাকার বাসিন্দা; মূলত ব্যক্তিগত বিরোধের জেরেই এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে পারে। এ ছাড়া অন্য এক প্রতিষ্ঠানের মালিক (নাম প্রকাশ করতে চাননি) জানান, তার প্রতিষ্ঠানেও একই উদ্দেশ্যে গিয়েছিলেন জীবন।
সূত্র: দৈনিক আমার দেশ
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ























