কুড়িগ্রামে গরমের সাথে তীব্র লোডশেডিংয়ে কাহিল জনজীবন: রাতের বেলায় পরিনত হয় ভুতুড়ে শহরে
- আপডেট সময় : ১১:৩০:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৪ ১৮৪ বার পড়া হয়েছে
কুড়িগ্রামে গরমের সাথে তীব্র লোডশেডিংয়ে কাহিল জনজীবন: রাতের বেলায় পরিনত হয় ভুতুড়ে শহরে
কুড়িগ্রামে গত কয়েকদিন ধরে গরমের সাথে সাথে তীব্র হয়ে উঠেছে বিদ্যুতের লোডশেডিং। যার ফলে অতীষ্টে কাটছে জেলাবাসীর দৈনন্দিন জীবনযাত্রা।
সংশ্লিষ্টরা জানান, বাণিজ্যিক উৎপাদন ব্যহত হওয়ায় এবং গরমের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় কষ্ট পাচ্ছেন সাধারণ গ্রাহকরা। এতে করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ ঝাড়ছেন অনেকে।
কুড়িগ্রাম বিদ্যুৎ বিভাগ জানায়, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অর্ধেকে নেমে আসায় লোডশেডিং দিতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।
গত কয়েকদিন থেকে লোডশেডিংয়ের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন আবাসিক এলাকার বাসিন্দাসহ বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা। বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল গৃহস্থলী কাজে ব্যাঘাত ঘটায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন অনেকেই।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, লাগামহীন লোডশেডিং চলছে পল্লী বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনেও।
পল্লীবিদ্যুতের আওতাধীন এলাকাগুলোতে দিনে রাতে এক ঘন্টা পরপর চলছে ঘন্টা খানেকের লোডশেডিং। আবার কোথাও কোথাও লোডশেডিংয়ের মাত্রা তার চেয়েও বেশি। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন গ্রামাঞ্চলের গ্রাহকরাও।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে অনাবৃষ্টিতে আমন ক্ষেতে সেচ দিতে হচ্ছে কৃষকদের। কিন্তু বিদ্যুৎ বিভ্রাটে সেচ ব্যবস্থা বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। সেচ প্রকল্পের বেশিরভাগ গ্রাহক পল্লী বিদ্যুতের আওতাভুক্ত হওয়ায় আমন চাষে লোডশেডিংয়ের প্রভাব পড়েছে। বাধ্য হয়ে অনেক কৃষক ডিজেল চালিত শ্যালো ইঞ্জিন দিয়ে সেচ দিচ্ছেন।
বিদ্যুতের ভেলকিবাজিতে অতিষ্ট গ্রাহকদের মধ্যে সামর্থবানরা ঝুঁকছেন আইপিএসের দিকে। তবে রুটিন মেনে চলা লোডশেডিংয়ে আইপিএসের ব্যাটারি চার্জ করা নিয়েও সংশয়ে পড়েছেন তারা। এ অবস্থায় দ্রুত বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন গ্রাহকরা।
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ঘোগাদহ ইউনিয়নের পল্লীবিদ্যুৎ গ্রাহক সৈয়দ আলী জানান, বাড়িতে ছোট বাচ্চা আছে, আবার বৃদ্ধ মানুষও আছে। রাতে হিসাব করে এক ঘন্টা পরপর লোডশেডিং দেয়া হচ্ছে। গরমে কেহই থাকতে পারছি না।
কুড়িগ্রাম পৌর শহরের ঘোষপাড়ার ব্যবসায়ী এরশাদুল হক জানান, এক ঘন্টা পরপর কারেন্ট যায়। মাঝে মাঝে টানা দেড়- দুই ঘন্টাও লোডশেডিং চলে। ব্যবসা হচ্ছে না। এভাবে চলতে থাকলে ব্যবসা করা যাবে না।লোড শেডিং এর সময় আমাদের এলাকা ভুতুড়ে অবস্থার সৃষ্টি হয়।
চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম হওয়ার কারণ হিসেবে জাতীয় পর্যায়ে উৎপাদন ঘাটতির কথা বলছে স্খানীয় বিদ্যুৎ বিভাগ।
বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, সরকারি, রেন্টাল ও কুইক রেন্টাল সহ ৫ ধরণের পাওয়ার প্লান্ট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়। তবে সব প্লান্টের জ্বালানী সরবরাহ করে পিডিবি। বর্তমানে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ কম পাওয়ায় তারা লোডশেডিং দিতে বাধ্য হচ্ছেন।
নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো) কুড়িগ্রাম কার্যালয় জানায়, কুড়িগ্রামের টগরাইহাট গ্রিডে জেলার ৫ টি উপজেলার (সদর, উলিপুর,চিলমারী, রাজারহাট ও ভূরুঙ্গামারী) জন্য মোট চাহিদা প্রায় ৭০ থেকে ৮০ মেগাওয়াট। কিন্তু বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৩৮ থেকে ৪৫ মেগাওয়াট।
কুড়িগ্রাম শহরে নেসকোর আওতাধীন প্রায় ৩৩ হাজার গ্রাহক রয়েছে। তাদের বিদ্যুতের চাহিদা বর্তমানে ১৩ মেগাওয়াট । এই চাহিদার বিপরীতে বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে সর্বোচ্চ ৭ মেগাওয়াট। ফলে ঘাটতি পূরণে লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। এছাড়াও ন্যাশনাল লোড ডিসপাস সেন্টার (এনএলডিসি) থেকে স্ক্যাডা অপারেশনের মাধ্যমে সরবরাহ বন্ধ করলে লোডশেডিংয়ের সময় আরও প্রলম্বিত হচ্ছে।
নেসকোর’ কুড়িগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী আতিফুর রহমান বলেন, চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ অর্ধেক, কখনও অর্ধেকেরও কম। ফলে লোডশেডিং চলছে। সহসাই পরিস্থিতির উন্নতি হবে কিনা তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বলতে পারবেন।
কুড়িগ্রাম-লালমনিরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মহিতুল ইসলাম বলেন, কুড়িগ্রামে আমাদের প্রায় ৫ লাখ গ্রাহক। আমরাও চাহিদার চেয়ে সরবরাহ অর্ধেকেরো কম পাচ্ছি। ফলে আমাদের আওতাধীন সঞ্চালন লাইনে ৩০% থেকে ৩৫% লোড শেডিং চলছে।পরিস্থিতি উন্নতির বিষয়ে উৎপাদন সংশ্লিষ্টরা বলতে পারবেন বলে জানান তিনি।
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ


















