ঢাকা ১১:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ভূরুঙ্গামারীতে ২৮ অক্টোবরের হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে জামায়াতের বিক্ষোভ ​নাগেশ্বরীতে ২৮ অক্টোবর পল্টন ট্র্যাজেডি দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত নাগেশ্বরীতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত বিশ্ব হাত ধোঁয়া দিবস ডোমারে উদযাপন কাউনিয়ায় বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালন   কাউনিয়ায় যুবদলের ৪৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও আনন্দ র‍্যালি তারেক রহমান ও বিএনপির বিরুদ্ধে চক্রান্ত চালাচ্ছে ফ্যাসিস্ট ও গুপ্ত বাহিনী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যারিয়ার নির্ধারণী কর্মশালা ও উপাচার্যের দিকনির্দেশনা চট্টগ্রাম বন্দরে ৩৯৩ জনের নিয়োগ, আবেদন শুরু নভেম্বরে ঢালচরের পর্যটন বিকাশে মতবিনিময় করল ট্যুরিজম অ্যাসোসিয়েশন

কাউনিয়ায় তিস্তার ভাঙ্গন আতঙ্কে পাঁচ গ্রামের মানুষ: জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙ্গন রোধের চেষ্ঠা

কাউনিয়া (রংপুর) থেকে আব্দুল কুদ্দুছ বসুনিয়া
  • আপডেট সময় : ০৯:৫৪:০৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৮ জুলাই ২০২৩ ১৬২ বার পড়া হয়েছে

কাউনিয়ায় তিস্তার ভাঙ্গন আতঙ্কে পাঁচ গ্রামের মানুষ: জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙ্গন রোধের চেষ্ঠা

(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কাউনিয়ায় তিস্তার ভাঙ্গন আতঙ্কে পাঁচ গ্রামের মানুষ। জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙ্গন রোধের চেষ্ঠা করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

উপজেলার টেপামধুপুর ইউনিয়নের চরগনাই গ্রামের তিস্তা নদী তীরের বাসিন্দাদের এখন নদী ভাঙ্গন আতঙ্কে প্রতিটি রাত নির্ঘুম কাটে । কখন বাড়ি ভিটা গিলে খাবে রাক্ষুসী তিস্তা। ফসলি জমি জিরাত হারিয়ে পথে বসতে হবে তাদের এ চিন্তা তাড়া করে বেড়ায় সার্বক্ষনিক।

গনাই গ্রামের নদী তীরের বাসিন্দা আব্দুস সামাদ বলেন গত বছর ৮একর জমি নদীতে বিলীন হয়েছে এখন শুধু বাড়িসহ ৩০শতক জমি আছে প্রতি রাতেই ভাঙ্গন আতঙ্কে ঘুম আসে না তার।

নদী পাড়ের সামাদের মতো মাহাবুব, ওমর আলী, সাইফুল, মোতালেব তারাও একই কথা জানান, গত বছর তাদের কারও ৩ একর, কারও ২ একর করে ফসলী জমি নদীতে বিলিন হয়েছে।

বর্তমানে টেপামধুপুর ইউনিয়নের হরিচরণ শর্মা, চরগনাই, পূর্ব রাজিব, হয়বত খাঁ, চর বিশ্বনাথ গ্রামের নদী তীরবর্তী সবাই নদী ভাঙ্গন আতঙ্কে ভুগছেন।

সরেজমিনে টেপামধুপুর ইউনিয়নের তিস্তা নদী তীরবর্তী গ্রাম গুলো ঘুরে দেখা গেছে তিস্তার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নদী ভাঙ্গনে এলাকার ফসলি জমি বিলীন হতে শুরু করেছে, আর বসতবাড়ি নিয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন তিস্তাপাড়ের মানুষ।

তিস্তার ভাঙ্গনে এক একটি পরিবার একাধিকবার ভাঙ্গনের শিকার হয়ে সড়িয়েছে বসতভিটা। কেউ কেউ রাস্তার ধারে, বাঁধের পাশে বা অন্যের জমিতে অস্থায়ী বাড়ি-ঘর করে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

গত বছর ভয়াবহ ভাঙ্গনে শত শত একর ফসলি জমি ও বাড়ি ভিটা হারিয়ে অনেকেই এখন নিঃস্ব। এলাকাবাসী জানান গত বছর উপজেলা চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম মায়া তার ব্যক্তিগত অর্থায়নে বাঁশ দিয়ে বান্ডেল তৈরী করে কোনো রকম নদী ভাঙ্গন রক্ষা করেছেন।

নয়তো এত দিনে ৫টি গ্রাম নদীতে বিলীন হয়ে যেত। চলতি মৌসুমে আবারও ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। তিস্তার ভয়াবহ ভাঙ্গন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করতে টেপামধুপুর ইউনিয়নের পাঁচ গ্রামের মানুষেরা আকুতি জানিয়েছেন।

উপজেলায় প্রতিনিয়ত বিলীন হচ্ছে বসতভিটা, মসজিদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ঈদগাঁ মাঠ, রাস্তা ঘাট, ব্রীজ, কালভাট, স্থাপনা ও ফসলি জমি। নদীর তলদেশ ভরাট হওয়ায় সামান্য বন্যা আর ভাঙ্গনের মুখে পড়ে তিস্তাপাড়ের মানুষ।

তারা রিলিফ নয়, দ্রুত নদী খনন করে স্থায়ী সমাধান চায়। তাদের দাবি যেহেতু তিস্তা মহাপরিকল্পনার বাস্তবায়ন নেই, তাই নদী খনন করে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের। যাতে অনাবাদি থাকা তিস্তার বুকের হাজার হাজার একর জমি চাষাবাদের আওতায় আসে।

টেপামধুপুর ইউপি চেয়ারম্যান রাশেদুল ইসলাম জানান, ১ হাজার একর ফসলি জমি ও ৫শতাধিক বাড়ি নদী ভাঙ্গন থেকে রক্ষার জন্য ইউনিয়ন পরিষদের অর্থায়নে ১৫০ মিটার ক্রস বাঁধ নির্মাণ কাজ শুরু করেছি।

ভাঙ্গন ঠেকাতে পানি উন্নয়ন বোর্ড ৪ হাজার জিও ব্যাগ দিয়েছে যা ফেলে ভাঙ্গন ঠেকানোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে। এই এলাকা রক্ষা করতে কমপক্ষে আরও আধা কিলোমিটার জিও ব্যাগ ফেলে বাঁধ নির্মাণ করা প্রয়োজন কিন্তু সেই অর্থ পরিষদের নেই। সরকারী উদ্যোগ ছাড়া এটি করা সম্ভব নয়।

রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের সেকশনাল অফিসার (এসও) মোঃ রাশেল মাহমুদ বলেন নদী ভাঙ্গন ঠেকাতে ১৫০ মিটার বাঁধ নির্মাণ করে প্রাথমিক ভাবে জিও টেক্সটাইল ও ৪ হাজার জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে। যা নদী ভাঙ্গন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা নয়। তবে বাঁধ টি টিকে গেলে অনেক পরিবার নদী ভাঙ্গনের হাত থেকে রক্ষা পাবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মহিদুল হক জানান, আমি নতুন এসেছি, নদী তীরবর্তী এলাকা পরিদর্শন করেছি, বাণিজ্যমন্ত্রী মহোদয়ের সাথে কথা বলে ভাঙ্গন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

কাউনিয়ায় তিস্তার ভাঙ্গন আতঙ্কে পাঁচ গ্রামের মানুষ: জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙ্গন রোধের চেষ্ঠা

আপডেট সময় : ০৯:৫৪:০৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৮ জুলাই ২০২৩

কাউনিয়ায় তিস্তার ভাঙ্গন আতঙ্কে পাঁচ গ্রামের মানুষ। জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙ্গন রোধের চেষ্ঠা করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

উপজেলার টেপামধুপুর ইউনিয়নের চরগনাই গ্রামের তিস্তা নদী তীরের বাসিন্দাদের এখন নদী ভাঙ্গন আতঙ্কে প্রতিটি রাত নির্ঘুম কাটে । কখন বাড়ি ভিটা গিলে খাবে রাক্ষুসী তিস্তা। ফসলি জমি জিরাত হারিয়ে পথে বসতে হবে তাদের এ চিন্তা তাড়া করে বেড়ায় সার্বক্ষনিক।

গনাই গ্রামের নদী তীরের বাসিন্দা আব্দুস সামাদ বলেন গত বছর ৮একর জমি নদীতে বিলীন হয়েছে এখন শুধু বাড়িসহ ৩০শতক জমি আছে প্রতি রাতেই ভাঙ্গন আতঙ্কে ঘুম আসে না তার।

নদী পাড়ের সামাদের মতো মাহাবুব, ওমর আলী, সাইফুল, মোতালেব তারাও একই কথা জানান, গত বছর তাদের কারও ৩ একর, কারও ২ একর করে ফসলী জমি নদীতে বিলিন হয়েছে।

বর্তমানে টেপামধুপুর ইউনিয়নের হরিচরণ শর্মা, চরগনাই, পূর্ব রাজিব, হয়বত খাঁ, চর বিশ্বনাথ গ্রামের নদী তীরবর্তী সবাই নদী ভাঙ্গন আতঙ্কে ভুগছেন।

সরেজমিনে টেপামধুপুর ইউনিয়নের তিস্তা নদী তীরবর্তী গ্রাম গুলো ঘুরে দেখা গেছে তিস্তার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নদী ভাঙ্গনে এলাকার ফসলি জমি বিলীন হতে শুরু করেছে, আর বসতবাড়ি নিয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন তিস্তাপাড়ের মানুষ।

তিস্তার ভাঙ্গনে এক একটি পরিবার একাধিকবার ভাঙ্গনের শিকার হয়ে সড়িয়েছে বসতভিটা। কেউ কেউ রাস্তার ধারে, বাঁধের পাশে বা অন্যের জমিতে অস্থায়ী বাড়ি-ঘর করে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

গত বছর ভয়াবহ ভাঙ্গনে শত শত একর ফসলি জমি ও বাড়ি ভিটা হারিয়ে অনেকেই এখন নিঃস্ব। এলাকাবাসী জানান গত বছর উপজেলা চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম মায়া তার ব্যক্তিগত অর্থায়নে বাঁশ দিয়ে বান্ডেল তৈরী করে কোনো রকম নদী ভাঙ্গন রক্ষা করেছেন।

নয়তো এত দিনে ৫টি গ্রাম নদীতে বিলীন হয়ে যেত। চলতি মৌসুমে আবারও ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। তিস্তার ভয়াবহ ভাঙ্গন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করতে টেপামধুপুর ইউনিয়নের পাঁচ গ্রামের মানুষেরা আকুতি জানিয়েছেন।

উপজেলায় প্রতিনিয়ত বিলীন হচ্ছে বসতভিটা, মসজিদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ঈদগাঁ মাঠ, রাস্তা ঘাট, ব্রীজ, কালভাট, স্থাপনা ও ফসলি জমি। নদীর তলদেশ ভরাট হওয়ায় সামান্য বন্যা আর ভাঙ্গনের মুখে পড়ে তিস্তাপাড়ের মানুষ।

তারা রিলিফ নয়, দ্রুত নদী খনন করে স্থায়ী সমাধান চায়। তাদের দাবি যেহেতু তিস্তা মহাপরিকল্পনার বাস্তবায়ন নেই, তাই নদী খনন করে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের। যাতে অনাবাদি থাকা তিস্তার বুকের হাজার হাজার একর জমি চাষাবাদের আওতায় আসে।

টেপামধুপুর ইউপি চেয়ারম্যান রাশেদুল ইসলাম জানান, ১ হাজার একর ফসলি জমি ও ৫শতাধিক বাড়ি নদী ভাঙ্গন থেকে রক্ষার জন্য ইউনিয়ন পরিষদের অর্থায়নে ১৫০ মিটার ক্রস বাঁধ নির্মাণ কাজ শুরু করেছি।

ভাঙ্গন ঠেকাতে পানি উন্নয়ন বোর্ড ৪ হাজার জিও ব্যাগ দিয়েছে যা ফেলে ভাঙ্গন ঠেকানোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে। এই এলাকা রক্ষা করতে কমপক্ষে আরও আধা কিলোমিটার জিও ব্যাগ ফেলে বাঁধ নির্মাণ করা প্রয়োজন কিন্তু সেই অর্থ পরিষদের নেই। সরকারী উদ্যোগ ছাড়া এটি করা সম্ভব নয়।

রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের সেকশনাল অফিসার (এসও) মোঃ রাশেল মাহমুদ বলেন নদী ভাঙ্গন ঠেকাতে ১৫০ মিটার বাঁধ নির্মাণ করে প্রাথমিক ভাবে জিও টেক্সটাইল ও ৪ হাজার জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে। যা নদী ভাঙ্গন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা নয়। তবে বাঁধ টি টিকে গেলে অনেক পরিবার নদী ভাঙ্গনের হাত থেকে রক্ষা পাবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মহিদুল হক জানান, আমি নতুন এসেছি, নদী তীরবর্তী এলাকা পরিদর্শন করেছি, বাণিজ্যমন্ত্রী মহোদয়ের সাথে কথা বলে ভাঙ্গন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

 

Facebook Comments Box