কল্যাণপুর জঙ্গি অভিযান: শেখ হাসিনাসহ ৮ জনের শুনানি পেছাল
- আপডেট সময় : ০৩:৪৭:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬ ১৩ বার পড়া হয়েছে
রাজধানীর কল্যাণপুরের ‘জাহাজবাড়ি’ ভবনে সংঘটিত ঘটনার জেরে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আটজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের শুনানি আবারও পেছানো হয়েছে। বুধবার ২৮ অক্টোবর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ শুনানির জন্য আগামী ১৭ নভেম্বর দিন নির্ধারণ করেছেন। এদিন ট্রাইব্যুনালে আসামিপক্ষের আইনজীবী সিফাত মাহমুদ শুভ সময় চেয়ে আবেদন করলে প্রসিকিউশন তাতে আপত্তি জানায়নি, যার ফলে আদালত পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেন। রাজধানীর কল্যাণপুরে ‘জাহাজবাড়ি’ ভবনে জঙ্গি নাটক সাজিয়ে ৯ তরুণকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আটজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের শুনানি আবারও পিছিয়ে আগামী।
প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে আইনজীবী জহিরুল আমিন, অলি মিয়া, মামুনুর রশিদ ও মঈনুল করিমসহ সংশ্লিষ্টরা শুনানিতে অংশ নেন। এর আগে মামলাটি ট্রাইব্যুনাল-১-এর অধীনে ছিল, তবে আসামিপক্ষের আবেদনের ভিত্তিতে এটি ট্রাইব্যুনাল-২-এ হস্তান্তর করা হয়েছে। এর ফলে প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষকে পুনরায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানিতে অংশ নিতে হবে। গত ২৯ জানুয়ারি ট্রাইব্যুনাল-১ প্রসিকিউশনের অভিযোগ আমলে নিয়েছিল এবং পরবর্তী সময়ে ৮ মার্চ পলাতক ছয় আসামির জন্য স্টেট ডিফেন্স নিয়োগ করা হয়।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ২৫ জুলাই রাতে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের ‘অপারেশন স্টর্ম-২৬’ অভিযানে কল্যাণপুরের জাহাজবাড়িতে নয়জন তরুণ নিহত হন। প্রসিকিউশন দাবি করেছে, এটি নিছক কোনো অভিযান ছিল না, বরং পরিকল্পিতভাবে তরুণদের তুলে এনে জঙ্গি তকমা দিয়ে হত্যা করা হয়েছিল, যা মানবতাবিরোধী অপরাধের শামিল। প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম গত ২১ জুলাই শুনানিতে উল্লেখ করেছিলেন যে, ঘটনার ভুক্তভোগী অনেক পরিবারের সদস্য তদন্ত কর্মকর্তার কাছে সাক্ষ্য দিয়েছেন এবং তাদের আদালতে উপস্থাপন করা হবে। তিনি জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে তরুণদের ধরে এনে জঙ্গি তকমা দিয়ে কল্যাণপুরের জাহাজবাড়িতে নিয়ে হত্যা করা হতো। সাক্ষ্যগ্রহণ পর্বে তাদের সাক্ষী হিসেবে উপস্থাপন করা হবে।
উল্লেখ্য যে, এই মামলায় বর্তমানে সাবেক আইজিপি একেএম শহিদুল হক ও ডিএমপির সাবেক কমিশনার মো. আসাদুজ্জামান মিয়া কারাগারে বন্দি রয়েছেন। এছাড়া মামলার অপর আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, ডিএমপির তৎকালীন অতিরিক্ত কমিশনার শেখ মুহম্মদ মারুফ হাসান, তৎকালীন সিটিটিসি প্রধান মনিরুল ইসলাম, তৎকালীন যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) কৃষ্ণপদ রায় এবং তৎকালীন যুগ্ম কমিশনার (ডিবি) আবদুল বাতেন। এদের মধ্যে শেখ হাসিনাসহ অন্যরা পলাতক রয়েছেন।
সূত্র: যুগান্তর


























