লর্ডস টেস্টের প্রথম দিনে মধ্যাহ্নভোজের বিরতিতে স্কাই স্পোর্টস পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক ও প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দুই ছেলে সুলাইমান ও কাসিমের একটি সাক্ষাৎকার প্রচার করে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) ও ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের (ইসিবি) মধ্যে যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছিল, সে সম্পর্কে কিছুই জানতেন না পাকিস্তান দলের প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদ। তিনি জানিয়েছেন, এই পুরো বিষয়টি তাঁর এবং দলের খেলোয়াড়দের অজানা ছিল।
সাক্ষাৎকারটি প্রচারের পরিকল্পনা নিয়ে স্কাই স্পোর্টস আগেই একটি অভিযোগ পেয়েছিল। ক্রিকইনফোর তথ্য অনুযায়ী, পিসিবি সরাসরি স্কাই স্পোর্টসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল।
এমন পরিস্থিতিতে পরিস্থিতি সামাল দিতে ইসিবি ব্রিটিশ পররাষ্ট্র, কমনওয়েলথ ও ডেভেলপমেন্ট অফিসের পরামর্শ গ্রহণ করে। জানা গেছে, সাক্ষাৎকারটি সম্প্রচার করা হলে লর্ডস টেস্ট ও সিরিজের বাকি অংশে দল না খেলানোর চিন্তাভাবনা করেছিল পিসিবি। তবে শেষ পর্যন্ত ধারাভাষ্যকার মাইকেল আথারটনের নেওয়া সেই সাক্ষাৎকারের একটি সংস্করণ প্রচার করা হয় এবং পাকিস্তানের খেলোয়াড়েরা বিরতির পর মাঠে ফিরে আসেন।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে সরফরাজ আহমেদ বলেন, ‘আমি কিছুই জানি না। আমি কেবল খেলার দিকেই মনোযোগ দিচ্ছি। খেলোয়াড়দের মাঠে ফেরা নিয়ে কোনো অনিশ্চয়তা ছিল কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, তখন তাঁরা দুপুরের খাবার খাচ্ছিলেন এবং সবকিছু স্বাভাবিক ছিল।’
উল্লেখ্য, ৯২ বিশ্বকাপজয়ী কিংবদন্তি ইমরান খান বর্তমানে দুর্নীতির মামলায় তিন বছর ধরে কারাগারে বন্দী। ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। আথারটনের নেওয়া সাক্ষাৎকারে সুলাইমান ও কাসিম তাঁদের বাবার নিরাপত্তা ও চিকিৎসা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশের পাশাপাশি ব্রিটিশ সরকারের প্রতিক্রিয়ার সমালোচনা করেন।
এদিকে, পাকিস্তানে সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম পিটিভি ম্যাচ দেখালেও সাক্ষাৎকারটি প্রচার করেনি। শুক্রবার পর্যন্ত স্কাই স্পোর্টসের কাছে এ বিষয়ে নতুন কোনো অভিযোগ আসেনি।
ক্রিকেট ইতিহাসে এমন উত্তেজনার নজির রয়েছে ২০০৬ সালের ওভাল টেস্টে। সেবার বল বিকৃতির অভিযোগে পাকিস্তানের খেলোয়াড়েরা চা-বিরতির পর মাঠে নামতে অস্বীকৃতি জানালে ম্যাচটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয় এবং পাকিস্তানকে পরাজিত ঘোষণা করা হয়। টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে এটিই একমাত্র ঘটনা যেখানে কোনো দল ম্যাচ ছেড়ে দেওয়ায় হেরে যায়। বর্তমান সিরিজেও মাঠের বাইরের এই উত্তেজনার পাশাপাশি মাঠের খেলায় পাকিস্তান চাপে রয়েছে; রবিনসনদের তোপে দলটি ১১০ রানে অলআউট হয়েছে এবং ইংল্যান্ডের লিড আড়াই শ ছাড়িয়ে গেছে।
Leave a Reply