হরমুজ প্রণালি খুলতে ইরানের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় কাতার
- আপডেট সময় : ০৬:০৩:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্বে প্রধান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে কাতার। তেহরানকে রাজি করানোর চেষ্টা চলছে যাতে তারা জাতিসংঘের পারমাণবিক অস্ত্র পরিদর্শকদের তাদের বোমা হামলার শিকার পারমাণবিক স্থাপনাগুলো পরিদর্শনের অনুমতি দেয়। গার্ডিয়ানের তথ্য অনুযায়ী, এর বিনিময়ে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের ওপর আরোপিত নৌ-অবরোধ তাৎক্ষণিক তুলে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। শনিবার দ্য গার্ডিয়ান এ তথ্য জানিয়েছে।
কাতারের এই পরিকল্পনায় ইরানের অবরুদ্ধ থাকা প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলারের সম্পদের একটি অংশ মুক্ত করার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বিনিময়ে ইরান আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) পরিদর্শকদের ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলো পরীক্ষার সুযোগ দেবে। এই প্রস্তাবটি মূলত ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে কায়রোতে হওয়া একটি প্রাথমিক চুক্তির ওপর ভিত্তি করে তৈরি, যা পরবর্তীতে পরিত্যক্ত হয়েছিল। প্রস্তাব অনুযায়ী, ইরানকে তাদের ইউরেনিয়ামের মজুত দেশ থেকে সরিয়ে নেওয়ার প্রয়োজন নেই; এর পরিবর্তে ইউরেনিয়ামের ঘনত্ব কমিয়ে ফেলার মতো বিকল্প কৌশলগুলোও বিবেচনায় রাখা হয়েছে।
কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানি এই প্রস্তাব নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে আলোচনা করেছেন। শুক্রবার আমিরের কার্যালয় থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হলেও আলোচনার বিস্তারিত জানানো হয়নি। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থার ভাষ্যমতে, আমির সংকট নিরসনে সংলাপ অব্যাহত রাখার এবং অঞ্চলে উত্তেজনা প্রশমনে কূটনৈতিক পথ অনুসরণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, আমির ‘বিবাদ নিরসনে এবং অঞ্চলে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পাওয়া রোধ করতে সংলাপ চালিয়ে যাওয়ার ও কূটনীতির পথ অবলম্বনের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন।’।
হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করার ক্ষেত্রে ইরানের আরও কিছু দাবি রয়েছে। এর মধ্যে লেবাননে যুদ্ধের সমাপ্তি, ইরানি উপকূল থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার, নির্দিষ্ট কিছু অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত সমঝোতা অন্যতম। এই শর্তগুলো বাস্তবায়নের ক্রম নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছে। তবে অতীতে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি উন্নয়ন তহবিল গঠনের কথা থাকলেও এর অর্থের উৎস সম্পর্কে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। বোঝাপড়ার স্মারকলিপিতে ইরানের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে সহায়তার জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি পুনর্গঠন ও উন্নয়ন তহবিল গঠনের কথা ছিল, তবে এই তহবিলের অর্থ কোথা থেকে আসবে, তা কখনোই স্পষ্ট করা হয়নি। এই প্রতিশ্রুতিগুলো কোন ক্রমে বাস্তবায়িত হবে, তা নিয়েই মূলত মধ্যস্থতার আলোচনা চলছে।
বর্তমানে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় নতুন করে হামলার সম্ভাবনা বিবেচনা করছেন। তবে দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সের সাম্প্রতিক মন্তব্যে আভাস পাওয়া গেছে যে, যুদ্ধ পরিস্থিতির নেতিবাচক প্রভাব মার্কিন নির্বাচনে রিপাবলিকান দলের ওপর পড়েছে, যা ট্রাম্পের হুমকির বিশ্বাসযোগ্যতা কিছুটা কমিয়ে দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে তেহরান বেশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। তারা পুনরায় পরিদর্শকদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার বিষয়ে দ্বিধায় আছে, বিশেষ করে পরিদর্শক দলের প্রধান রাফায়েল গ্রোসির ওপর তাদের আস্থা নেই বলে ইরান দাবি করে আসছে।
সূত্র: গালফ বাংলা
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ

























