ঢাকা ০১:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিরাজগঞ্জে আধুনিকতার ছোঁয়ায় বিলুপ্তির পথে ঐতিহ্যবাহী মাটির ঘর

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৪১:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কালের পরিক্রমায় সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ, তাড়াশ ও সলঙ্গা এলাকার গ্রামগুলোতে সচরাচর দেখা মেলা ঐতিহ্যবাহী মাটির ঘরগুলো বিলুপ্তির পথে। শীত ও গরম উভয় মৌসুমেই আরামদায়ক হওয়ায় এক সময় ধনী-গরিব নির্বিশেষে সব শ্রেণির মানুষ এই ঘরে বসবাস করতেন। তবে বর্তমানে মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন এবং আধুনিক সুযোগ-সুবিধার আকাঙ্ক্ষা বাড়ায় অনেকেই পুরনো এসব ঘর ভেঙে ইট-পাথরের পাকা ঘরবাড়ি তৈরি করছেন।

তাড়াশ উপজেলার আট ইউনিয়নের ২৪৮টি গ্রামের মধ্যে দেশীগ্রাম ইউনিয়নের আড়াঙ্গাইল গ্রামে এখনো শত বছরের পুরনো তিনটি মাটির দেয়াল ও খড়ের চালের বসতঘর টিকে আছে। সেখানে রহিম উদ্দিন (৬৫) এবং হানিফ মোল্লা (৬৭) সপরিবারে বসবাস করছেন। তাদের মতে, বৃষ্টি বা প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কবলে না পড়লে মাটির তৈরি এসব ঘর দীর্ঘকাল টিকে থাকে। তবে এখনকার আধুনিক জীবনযাপনের চাহিদা ও আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়ায় মানুষ আর মাটির ঘর তৈরিতে আগ্রহী নয়।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বর্তমানে একটি মাটির ঘর নির্মাণ করতে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকার বেশি খরচ হয়। অথচ ষাট বছর আগে মৌহার গ্রামের আসলাম মাত্র ৬ হাজার টাকায় নিজের মাটির ঘরটি তৈরি করেছিলেন। রাব্বি সেখ নামের আরেক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, রায়গঞ্জ ও তাড়াশের বিভিন্ন গ্রামে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত অনেক পরিবার আজও তাদের পূর্বপুরুষের রেখে যাওয়া মাটির ঘর প্রতি বছর মাটি দিয়ে সংস্কার করে ব্যবহার করছেন।

এ বিষয়ে দেশীগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জ্ঞ্যানেন্দ্র নাথ বশাক জানান, এখনো অনেক পরিবার ঐতিহ্য ধরে রেখে মাটির ঘরে বসবাস করছে। রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবদুল খালেক পাটোয়ারী বলেন, উপজেলার অনেক এলাকায় আজও মাটির ঘর চোখে পড়ে। মানুষের আর্থ-সামাজিক অবস্থার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে জীবনমানেরও উন্নয়ন ঘটেছে, যার ফলে দীর্ঘদিনের এই ঐতিহ্য ধীরে ধীরে হারিয়ে যেতে বসেছে। আত্মসম্মানবোধ এবং আধুনিকতার ছোঁয়ায় সচেতন অনেক ধনাঢ্য পরিবারই এখন মাটির ঘর বিলুপ্ত করে আধুনিক ডিজাইনের পাকা ভবন তৈরিতে ঝুঁকছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: রায়গঞ্জ উপজেলার সোনাখাড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) মৌহার গ্রামের আসলাম বলেন, প্রায় ৬০ বছর আগে এই ঘর নির্মাণ করেছিলাম। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তখনকার সময়ে আমার খরচ হয়েছিল প্রায় ৬ হাজার টাকা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তিনি আরও বলেন, মানুষের অর্থ সামাজিক অবস্থার উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে জীবন মানের ও উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: প্রচণ্ড গরম ও শীতে বসবাসের উপযোগী ছিল এই মাটির ঘর। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সবাই মাটির ঘর ভেঙে টিন আর ইটের পাকা-আধাপাকা বাড়ি তৈরি করেছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সচেতন মহল জানায়, অনেকটাই শীতাতাপ নিয়ন্ত্রিত এই মাটির ঘর হলেও ধনাঢ্য পরিবারের সদস্যরা নিজেদের আত্মসম্মান রক্ষার্থে এবং আধুনিকতার ছোঁয়ায় অতীতের মাটির ঘর ভেঙে দিয়ে গড়ে তুলছে আধুনিক নানা ডিজাইনের পাকা ঘরবাড়ি।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

সিরাজগঞ্জে আধুনিকতার ছোঁয়ায় বিলুপ্তির পথে ঐতিহ্যবাহী মাটির ঘর

আপডেট সময় : ১২:৪১:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কালের পরিক্রমায় সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ, তাড়াশ ও সলঙ্গা এলাকার গ্রামগুলোতে সচরাচর দেখা মেলা ঐতিহ্যবাহী মাটির ঘরগুলো বিলুপ্তির পথে। শীত ও গরম উভয় মৌসুমেই আরামদায়ক হওয়ায় এক সময় ধনী-গরিব নির্বিশেষে সব শ্রেণির মানুষ এই ঘরে বসবাস করতেন। তবে বর্তমানে মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন এবং আধুনিক সুযোগ-সুবিধার আকাঙ্ক্ষা বাড়ায় অনেকেই পুরনো এসব ঘর ভেঙে ইট-পাথরের পাকা ঘরবাড়ি তৈরি করছেন।

তাড়াশ উপজেলার আট ইউনিয়নের ২৪৮টি গ্রামের মধ্যে দেশীগ্রাম ইউনিয়নের আড়াঙ্গাইল গ্রামে এখনো শত বছরের পুরনো তিনটি মাটির দেয়াল ও খড়ের চালের বসতঘর টিকে আছে। সেখানে রহিম উদ্দিন (৬৫) এবং হানিফ মোল্লা (৬৭) সপরিবারে বসবাস করছেন। তাদের মতে, বৃষ্টি বা প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কবলে না পড়লে মাটির তৈরি এসব ঘর দীর্ঘকাল টিকে থাকে। তবে এখনকার আধুনিক জীবনযাপনের চাহিদা ও আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়ায় মানুষ আর মাটির ঘর তৈরিতে আগ্রহী নয়।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বর্তমানে একটি মাটির ঘর নির্মাণ করতে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকার বেশি খরচ হয়। অথচ ষাট বছর আগে মৌহার গ্রামের আসলাম মাত্র ৬ হাজার টাকায় নিজের মাটির ঘরটি তৈরি করেছিলেন। রাব্বি সেখ নামের আরেক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, রায়গঞ্জ ও তাড়াশের বিভিন্ন গ্রামে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত অনেক পরিবার আজও তাদের পূর্বপুরুষের রেখে যাওয়া মাটির ঘর প্রতি বছর মাটি দিয়ে সংস্কার করে ব্যবহার করছেন।

এ বিষয়ে দেশীগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জ্ঞ্যানেন্দ্র নাথ বশাক জানান, এখনো অনেক পরিবার ঐতিহ্য ধরে রেখে মাটির ঘরে বসবাস করছে। রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবদুল খালেক পাটোয়ারী বলেন, উপজেলার অনেক এলাকায় আজও মাটির ঘর চোখে পড়ে। মানুষের আর্থ-সামাজিক অবস্থার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে জীবনমানেরও উন্নয়ন ঘটেছে, যার ফলে দীর্ঘদিনের এই ঐতিহ্য ধীরে ধীরে হারিয়ে যেতে বসেছে। আত্মসম্মানবোধ এবং আধুনিকতার ছোঁয়ায় সচেতন অনেক ধনাঢ্য পরিবারই এখন মাটির ঘর বিলুপ্ত করে আধুনিক ডিজাইনের পাকা ভবন তৈরিতে ঝুঁকছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: রায়গঞ্জ উপজেলার সোনাখাড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) মৌহার গ্রামের আসলাম বলেন, প্রায় ৬০ বছর আগে এই ঘর নির্মাণ করেছিলাম। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তখনকার সময়ে আমার খরচ হয়েছিল প্রায় ৬ হাজার টাকা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তিনি আরও বলেন, মানুষের অর্থ সামাজিক অবস্থার উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে জীবন মানের ও উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: প্রচণ্ড গরম ও শীতে বসবাসের উপযোগী ছিল এই মাটির ঘর। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সবাই মাটির ঘর ভেঙে টিন আর ইটের পাকা-আধাপাকা বাড়ি তৈরি করেছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সচেতন মহল জানায়, অনেকটাই শীতাতাপ নিয়ন্ত্রিত এই মাটির ঘর হলেও ধনাঢ্য পরিবারের সদস্যরা নিজেদের আত্মসম্মান রক্ষার্থে এবং আধুনিকতার ছোঁয়ায় অতীতের মাটির ঘর ভেঙে দিয়ে গড়ে তুলছে আধুনিক নানা ডিজাইনের পাকা ঘরবাড়ি।

Facebook Comments Box