সম্পর্ক উন্নয়নে শেখ হাসিনাসহ অভিযুক্তদের ফেরত চায় সরকার
- আপডেট সময় : ০৫:৩১:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৪০ বার পড়া হয়েছে
দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ক সহজীকরণের লক্ষ্যে ভারত থেকে পলাতক ও দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদেরসহ অন্যান্য আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনা অপরিহার্য বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কাজের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান।
উপদেষ্টা জানান, বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাই কমিশনারের সঙ্গে সাম্প্রতিক সৌজন্য সাক্ষাতে শেখ হাসিনাসহ ভারতে অবস্থানকারী পলাতক সব আসামিদের ফিরিয়ে আনার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে। তিনি বলেন, ভারত সরকারের কাছে আমাদের স্পষ্ট বার্তা—বাংলাদেশের সঙ্গে কার্যকর সম্পর্ক বা ‘ওয়ার্কিং এনগেজমেন্ট’ জোরদারের জন্য এই আসামিদের হস্তান্তর করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি শর্ত। শেখ হাসিনার দীর্ঘদিনের বর্বরতা ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যদের কর্মকাণ্ড বাংলাদেশের মানুষের অনুভূতিতে গভীর ক্ষত তৈরি করেছে, যা ভারত সরকার অনুধাবন করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
পলাতক আসামিদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন বক্তব্য ও নসিহত প্রদান প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, বিদেশের মাটিতে আরাম-আয়েশে থেকে তারা যে বক্তব্য দিচ্ছে, তা এ দেশের মানুষের সেন্টিমেন্টে আঘাত করছে। বর্তমান সরকার আওয়ামী শাসনামলের সকল অপকর্ম ও অপরাধের বিচার নিশ্চিত করতে অঙ্গীকারবদ্ধ। তিনি স্পষ্ট করেন, বিচারিক প্রক্রিয়ায় কারো সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না। অভিযুক্তরা চাইলে আইন মেনে আদালতেও আত্মপক্ষ সমর্থন করতে পারেন, কারণ বর্তমান বিচারব্যবস্থা সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে পরিচালিত হচ্ছে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে জাহেদ উর রহমান জানান, সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পরিচালনার জন্য নির্বাচন কমিশন স্বাধীন হলেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সরকারের সঙ্গে আলোচনার প্রয়োজন পড়ে। নির্বাচন কমিশন ও সরকার সমন্বয় করে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের চূড়ান্ত রূপরেখা ঠিক করবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, আসন্ন এই নির্বাচনগুলো অংশগ্রহণমূলক হবে এবং সেখানে কোনো দলীয় প্রতীক ব্যবহৃত হবে না।
প্রেস ব্রিফিংয়ে সরকারের অন্যান্য উন্নয়ন ও প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়েও কথা বলেন তিনি। ডা. জাহেদ নিশ্চিত করেন, মালয়েশিয়ায় ১০ হাজার কর্মী পাঠানোর যে তথ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছিল, তা সঠিক রয়েছে এবং এই প্রক্রিয়া বিনামূল্যে সম্পন্ন হচ্ছে। এছাড়াও সরকারি দপ্তরে ‘স্যার’ সম্বোধন বাধ্যতামূলক না করে সাধারণ নাগরিকের সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মানসিকতা পরিবর্তনের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
সড়কে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ বা বন্ধের বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, অটোরিকশার ওপর বহু মানুষের জীবন-জীবিকা নির্ভরশীল। তাই সরকার এগুলো সরাসরি বন্ধের পক্ষে নয়। তবে যাত্রী ও চালকদের নিরাপত্তার স্বার্থে অটোরিকশাগুলোকে নির্দিষ্ট নীতিমালা ও রুটের আওতায় আনার কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। সভায় তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ ও তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব ড. মো. আলম মোস্তফা উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র: দৈনিক এদিন
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ


























