রোহিঙ্গাদের মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিতে জাপানকে ভূমিকা রাখার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
- আপডেট সময় : ০৫:০৩:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২৯ বার পড়া হয়েছে
রোহিঙ্গাদের মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিতে জাপানকে ভূমিকা রাখার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জাপানের বিশেষ দূত ইয়োহেই সাসাকাওয়াকে নিজের অবস্থান থেকে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মিয়ানমারে জাতীয় পুনর্মিলন (ন্যাশনাল রিকনসিলিয়েশন) বিষয়ক জাপান সরকারের বিশেষ দূত ও নিপ্পন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ইয়োহেই সাসাকাওয়ার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এই আহ্বান জানান।
রোহিঙ্গা সংকট ও বাংলাদেশের ওপর প্রভাব
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা সংকটকে বাংলাদেশের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ এমনিতেই একটি জনবহুল দেশ। দীর্ঘ সময় ধরে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ার ফলে দেশের অর্থনীতি, অবকাঠামো ও সামগ্রিক ব্যবস্থাপনার ওপর প্রচণ্ড বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী পুনর্ব্যক্ত করেন যে, বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে সব ধরনের সহযোগিতা করতে আগ্রহী।
কারণ, নিজ দেশে ফিরে গেলে রোহিঙ্গাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন মৌলিক ক্ষেত্রে জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এছাড়া প্রত্যাবাসনের পর মিয়ানমারে তাদের পুনর্বাসনের ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে বাংলাদেশ প্রস্তুত রয়েছে।
জাপানের বিশেষ দূতের প্রতিশ্রুতি
জাপানের বিশেষ দূত ইয়োহেই সাসাকাওয়া স্বীকার করেন যে, রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে এবং তিনি এ পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত আছেন। তিনি জানান, মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তার রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং মিয়ানমার সরকার এ সংকট সমাধানে আন্তরিক। তবে রাখাইন প্রদেশের বর্তমান জটিল পরিস্থিতির কারণে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় অগ্রগতি হতে সময় লাগছে।
বিশেষ দূত প্রধানমন্ত্রীকে আশ্বস্ত করে বলেন, নিজের অবস্থান থেকে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে তিনি সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবেন এবং রোহিঙ্গাদের সহায়তায় জাপান সরকারের মানবিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতার ক্ষেত্র
- রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে শুধু দ্বিপক্ষীয় প্রচেষ্টার ওপর নির্ভর না করে বহুপক্ষীয় উদ্যোগ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা হয়।
- প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে একটি ভ্যাকসিন উৎপাদনকেন্দ্র তৈরিতে জাপানের বিশেষ দূতের কাছে সহযোগিতার আহ্বান জানান, যার প্রেক্ষিতে বিশেষ দূত বিষয়টি নিয়ে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন।
- বাংলাদেশ জাপানের বিনিয়োগ পেতে আগ্রহী এবং দেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে বলে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন।
- মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও উন্নত করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের আগ্রহের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
বৈঠকে উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ
সাক্ষাৎকালে সাসাকাওয়া প্রায় ৫০ বছর ধরে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও বৈষম্য নিরসনে তার কাজের অভিজ্ঞতার কথা প্রধানমন্ত্রীকে জানান। মিয়ানমারে জাতীয় পুনর্মিলন বিষয়ে জাপান সরকারের বিশেষ দূত হিসেবে তার ভূমিকার কথাও তিনি তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশ সফরের জন্য সাসাকাওয়াকে ধন্যবাদ জানান এবং তার দীর্ঘদিনের মানবিক কর্মকাণ্ডের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
বৈঠকে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-২ শামা ওবায়েদ এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান।


























