ঢাকা ০১:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

রঞ্জি ট্রফিতে চিন্ময় সুতারের ইতিহাস

সৃষ্টি ক্রীড়া ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১১:২০:৩৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

 

রঞ্জি ট্রফিতে চিন্ময় সুতারের ইতিহাস

 

ভারতীয় ঘরোয়া ক্রিকেটের ইতিহাসে এক ঐতিহাসিক অধ্যায় রচিত হলো। মিজোরামের ব্যাটার চিন্ময় সুতার রঞ্জি ট্রফির ম্যাচে নাগাল্যান্ডের বিপক্ষে অপরাজিত ৪০০ রানের এক অবিশ্বাস্য ইনিংস উপহার দিয়েছেন।

 

প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের এই টুর্নামেন্টে ৪০০ রানের গণ্ডি স্পর্শ করা তিনি দ্বিতীয় ভারতীয় ব্যাটার। এর আগে ১৯৪৮-৪৯ মৌসুমে মহারাষ্ট্রের হয়ে কাথিয়াওয়াড়ের বিপক্ষে ভাউসাহেব নিম্বালকর অপরাজিত ৪৪৩ রান করেছিলেন। সেই ঐতিহাসিক ইনিংসের দীর্ঘ ৭৭ বছর পর ভারতের মাটিতে আবারও ৪০০ রানের ব্যক্তিগত ইনিংসের সাক্ষী হলো ক্রিকেটপ্রেমীরা। তবে টুর্নামেন্টের রেকর্ড ৪৪৩ অপরাজিত তিনি ছুঁতে পারেননি। সেখানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বেশ কয়েকজন কিংবদন্তিও আছেন।

পড়ুন>>পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে তিন বিভাগে সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

নাগাল্যান্ডের সোভিমায় অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে চিন্ময় তার রাজকীয় ব্যাটিং প্রদর্শন করেন। তিনি মোট ৫১৭ বল খেলে ৪৬টি চার ও সাতটি ছক্কায় এই রান সংগ্রহ করেন। ইনিংসের ১৫৫তম ওভারে তিনি তার চারশ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। এই বিশাল সংগ্রহের ফলে মিজোরাম তাদের প্রথম ইনিংস নয় উইকেটে ৫৮১ রান ঘোষণা করতে সক্ষম হয়।

 

উল্লেখযোগ্য যে, তিনি পৃথ্বী শয়ের করা ৩৭৯ রানের রেকর্ডকে পেছনে ফেলে রঞ্জি ট্রফিতে নিজের নাম লিখিয়েছেন ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ইনিংসের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে। তিনি পৃথ্বী শয়ের ৩৭৯ রানের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছেন। এই জুটির কারণে মিজোরাম ৫০০ রান পার করে।

ম্যাচের এক পর্যায়ে চিন্ময় যখন ২৩১ রানে ব্যাট করছিলেন, তখন মিজোরামের মোট রান ছিল ৩৯২। এরপর শেষ উইকেটের জুটিতে লালরেমপুইয়া ছাকছুয়াকের সঙ্গে তিনি প্রায় ১৯০ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন। ছাকছুয়াক ১৪ রানে অপরাজিত ছিলেন। রঞ্জি ট্রফির ইতিহাসে শেষ উইকেটের এমন দাপুটে জুটি বিরল।

 

পড়ুন>>সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড: রায়ের কপি চেয়েছে ঢাকা

বর্তমান প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৪০০ রান করা ব্যাটারদের অভিজাত তালিকায় এখন জায়গা করে নিয়েছেন চিন্ময় সুতার। দুজন মিলে দশম উইকেটে প্রায় ১৯০ রান যোগ করেন। ম্যাচের দ্বিতীয় দিনে সুতার এই কীর্তি গড়েন। শেষ উইকেটের জুটিতেও সুতারের অবদান ছিল চোখে পড়ার মতো। সেই সময় তার সঙ্গে ক্রিজে আসেন লালরেমপুইয়া ছাকছুয়াক।

২৯ বছর বয়সী এই ব্যাটার ক্যারিয়ারের এই গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে আসার আগে মুম্বাই ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের কাছ থেকে অনাপত্তি সনদ বা এনওসি নিয়ে মিজোরামে পাড়ি জমান। এর আগে তিনি মুম্বাইয়ের হয়ে বিজয় হাজারে ট্রফি এবং স্থানীয় মুম্বাই টি-টোয়েন্টি লিগে খেলেছেন।

আরও পড়ুন>>দেশে হাম ও উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা ১২০০ ছাড়াল

 

এমএসসি মারাঠা রয়্যালসের শিরোপা জয়ী দলের সদস্য হিসেবে ছয় ইনিংসে ২১২ রান ও শেষ দিকে দুটি ফিফটি তার সামর্থ্যের প্রমাণ দেয়। মিজোরামের হয়ে মণিপুরের বিপক্ষে রঞ্জি ট্রফিতে অভিষেক হওয়া চিন্ময় সেই ম্যাচে ৩৫ ও ৯৯ রানের ইনিংস খেলেছিলেন, যদিও সেই ম্যাচে তার দল তিন উইকেটে হেরে যায়। ২০২৬-২৭ ঘরোয়া মৌসুমের আগে তিনি মুম্বাই ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের কাছ থেকে অনাপত্তিপত্র নেন।

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

রঞ্জি ট্রফিতে চিন্ময় সুতারের ইতিহাস

আপডেট সময় : ১১:২০:৩৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

 

 

রঞ্জি ট্রফিতে চিন্ময় সুতারের ইতিহাস

 

ভারতীয় ঘরোয়া ক্রিকেটের ইতিহাসে এক ঐতিহাসিক অধ্যায় রচিত হলো। মিজোরামের ব্যাটার চিন্ময় সুতার রঞ্জি ট্রফির ম্যাচে নাগাল্যান্ডের বিপক্ষে অপরাজিত ৪০০ রানের এক অবিশ্বাস্য ইনিংস উপহার দিয়েছেন।

 

প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের এই টুর্নামেন্টে ৪০০ রানের গণ্ডি স্পর্শ করা তিনি দ্বিতীয় ভারতীয় ব্যাটার। এর আগে ১৯৪৮-৪৯ মৌসুমে মহারাষ্ট্রের হয়ে কাথিয়াওয়াড়ের বিপক্ষে ভাউসাহেব নিম্বালকর অপরাজিত ৪৪৩ রান করেছিলেন। সেই ঐতিহাসিক ইনিংসের দীর্ঘ ৭৭ বছর পর ভারতের মাটিতে আবারও ৪০০ রানের ব্যক্তিগত ইনিংসের সাক্ষী হলো ক্রিকেটপ্রেমীরা। তবে টুর্নামেন্টের রেকর্ড ৪৪৩ অপরাজিত তিনি ছুঁতে পারেননি। সেখানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বেশ কয়েকজন কিংবদন্তিও আছেন।

পড়ুন>>পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে তিন বিভাগে সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

নাগাল্যান্ডের সোভিমায় অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে চিন্ময় তার রাজকীয় ব্যাটিং প্রদর্শন করেন। তিনি মোট ৫১৭ বল খেলে ৪৬টি চার ও সাতটি ছক্কায় এই রান সংগ্রহ করেন। ইনিংসের ১৫৫তম ওভারে তিনি তার চারশ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। এই বিশাল সংগ্রহের ফলে মিজোরাম তাদের প্রথম ইনিংস নয় উইকেটে ৫৮১ রান ঘোষণা করতে সক্ষম হয়।

 

উল্লেখযোগ্য যে, তিনি পৃথ্বী শয়ের করা ৩৭৯ রানের রেকর্ডকে পেছনে ফেলে রঞ্জি ট্রফিতে নিজের নাম লিখিয়েছেন ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ইনিংসের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে। তিনি পৃথ্বী শয়ের ৩৭৯ রানের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছেন। এই জুটির কারণে মিজোরাম ৫০০ রান পার করে।

ম্যাচের এক পর্যায়ে চিন্ময় যখন ২৩১ রানে ব্যাট করছিলেন, তখন মিজোরামের মোট রান ছিল ৩৯২। এরপর শেষ উইকেটের জুটিতে লালরেমপুইয়া ছাকছুয়াকের সঙ্গে তিনি প্রায় ১৯০ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন। ছাকছুয়াক ১৪ রানে অপরাজিত ছিলেন। রঞ্জি ট্রফির ইতিহাসে শেষ উইকেটের এমন দাপুটে জুটি বিরল।

 

পড়ুন>>সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড: রায়ের কপি চেয়েছে ঢাকা

বর্তমান প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৪০০ রান করা ব্যাটারদের অভিজাত তালিকায় এখন জায়গা করে নিয়েছেন চিন্ময় সুতার। দুজন মিলে দশম উইকেটে প্রায় ১৯০ রান যোগ করেন। ম্যাচের দ্বিতীয় দিনে সুতার এই কীর্তি গড়েন। শেষ উইকেটের জুটিতেও সুতারের অবদান ছিল চোখে পড়ার মতো। সেই সময় তার সঙ্গে ক্রিজে আসেন লালরেমপুইয়া ছাকছুয়াক।

২৯ বছর বয়সী এই ব্যাটার ক্যারিয়ারের এই গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে আসার আগে মুম্বাই ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের কাছ থেকে অনাপত্তি সনদ বা এনওসি নিয়ে মিজোরামে পাড়ি জমান। এর আগে তিনি মুম্বাইয়ের হয়ে বিজয় হাজারে ট্রফি এবং স্থানীয় মুম্বাই টি-টোয়েন্টি লিগে খেলেছেন।

আরও পড়ুন>>দেশে হাম ও উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা ১২০০ ছাড়াল

 

এমএসসি মারাঠা রয়্যালসের শিরোপা জয়ী দলের সদস্য হিসেবে ছয় ইনিংসে ২১২ রান ও শেষ দিকে দুটি ফিফটি তার সামর্থ্যের প্রমাণ দেয়। মিজোরামের হয়ে মণিপুরের বিপক্ষে রঞ্জি ট্রফিতে অভিষেক হওয়া চিন্ময় সেই ম্যাচে ৩৫ ও ৯৯ রানের ইনিংস খেলেছিলেন, যদিও সেই ম্যাচে তার দল তিন উইকেটে হেরে যায়। ২০২৬-২৭ ঘরোয়া মৌসুমের আগে তিনি মুম্বাই ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের কাছ থেকে অনাপত্তিপত্র নেন।

 

Facebook Comments Box