মার্কিন রাজনীতিতে নিজের পরিচয় নিয়ে দৃঢ় অবস্থানে এল-সায়েদ
- আপডেট সময় : ১১:০৩:৪৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে
যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি এবং প্রভাবশালী গণমাধ্যমে মুসলিম পরিচয় নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন আবদুল এল-সায়েদ। সিনেটর নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে তিনি সিএনএন, এবিসি এবং এমএস নাউয়ের ‘মর্নিং জো’-এর মতো গণমাধ্যমে নিয়মিত সাক্ষাৎকার দিয়ে চলেছেন। এসব প্ল্যাটফর্মে তিনি নিজস্ব রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি, ধর্মীয় বিশ্বাস এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে কথা বলছেন। বিশেষ করে, অপ্রাসঙ্গিক বিতর্কে না জড়িয়ে মূল বিষয়ে মনোযোগ ধরে রাখা এল-সায়েদের অন্যতম বিশেষত্ব হিসেবে প্রশংসিত হচ্ছে।
একসময় যে গণমাধ্যমগুলোতে মুসলিমদের নিয়ে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ছিল, এখন সেই প্ল্যাটফর্মগুলোতে এল-সায়েদের বক্তব্য গুরুত্ব পাচ্ছে। সাক্ষাৎকারে তিনি ‘হাবিবি’, ‘ইনশাআল্লাহ’ ও ‘আলহামদুলিল্লাহ’র মতো আরবি শব্দের সাবলীল ব্যবহার করছেন, যা আমেরিকান দর্শকদের কাছে মুসলিম সংস্কৃতির পরিচয়কে আরও স্পষ্ট করে তুলছে। গণমাধ্যমে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা পাওয়ার পরও তিনি তার অবস্থান থেকে বিন্দুমাত্র সরে আসেননি। গাজা পরিস্থিতি, যুদ্ধাপরাধ, গণহত্যা এবং বৈশ্বিক অবিচারের মতো বিষয়গুলোতে তিনি আগের মতোই সোচ্চার রয়েছেন।
ইহুদি ধর্মবিশ্বাস এবং জায়নবাদকে এক করে দেখার প্রবণতার তীব্র বিরোধিতা করেন এল-সায়েদ। তাঁর মতে, ইহুদি, মুসলিম কিংবা কোনো ধর্মে বিশ্বাসী নন এমন সবার সন্তানের নিরাপত্তাই সমান গুরুত্বপূর্ণ। নিজের সন্তানদের নিরাপত্তার মতোই তিনি অন্য সম্প্রদায়ের শিশুদের নিরাপত্তাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান। নির্বাচনের আগের দেওয়া প্রতিশ্রুতি থেকে তিনি বিচ্যুত হননি এবং যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে মুসলিমদের অনুভূতি ও দীর্ঘদিনের বঞ্চনার কথাগুলো মূলধারার আলোচনায় নিয়ে আসছেন।
সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের ব্যক্তিগত আক্রমণ এবং সমালোচনার মুখেও এল-সায়েদ অত্যন্ত দৃঢ়তা প্রদর্শন করেছেন। তিনি পাল্টা যুক্তির মাধ্যমে এসব আক্রমণ মোকাবিলা করেছেন এবং ট্রাম্পকে ‘ইডিয়ট’ ও ভ্যান্সকে ‘বিবেকহীন’ বলে সরাসরি সমালোচনা করেছেন। দেশটির ক্ষমতাধর রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সঙ্গে একজন মুসলিম রাজনীতিকের এমন সাহসী ও স্পষ্ট মতবিনিময় মুসলিম তরুণদের জন্য বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।
তিনি দেখিয়েছেন যে নিজের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিচয় গোপন না করেও রাজনীতির সর্বোচ্চ পর্যায়ে নেতৃত্ব দেওয়া সম্ভব। উত্তর আমেরিকায় বেড়ে ওঠা মুসলিম তরুণ-প্রজন্মের জন্য তিনি এখন বড় অনুপ্রেরণার প্রতীক। তাঁর এই উত্থান নতুন প্রজন্মকে নিজেদের পরিচয় ও বিশ্বাস নিয়ে আত্মবিশ্বাসী হতে এবং বড় স্বপ্ন দেখতে উৎসাহিত করছে। বাংলাদেশের তরুণদের জন্যও তাঁর এই আদর্শ থেকে শিক্ষা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। লেখকের মতে, তরুণেরা যদি নিজেদের যোগ্যতা ও আত্মবিশ্বাসকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারে, তবে তারাও দেশকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।
সূত্র: ডেইলি বাংলাদেশ
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ























