ঢাকা ০৯:৩৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
যান্ত্রিক ত্রুটি কাটিয়ে ঢাকার পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফুলবাড়ীয়ায় নারীকে ধর্ষণচেষ্টা, যুবদল নেতার বিরুদ্ধে মামলা জাপান সফর শেষে ঢাকায় ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মানুষ কি নিরামিষাশী না মাংসাশী? বিজ্ঞান কী বলছে নীলফামারীর নটখানায় স্পিড ব্রেকারের দাবি, দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে রোগী ও পথচারীরা থানা ওসির সাথে ডোমার যুব রেড ক্রিসেন্টের সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় না ফেরার দেশে সাংবাদিকতার পথিকৃৎ আহমদ গিয়াস এশিয়া কাপ আর্চারিতে সোনা জিতলেন বাংলাদেশের বর্ণা আক্তার হাসিনা পতনের আগেই ইউনূসের দায়িত্ব নেওয়ার পথ সুগম হয়: শফিকুল আলম নালিতাবাড়ীতে ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন ব্রিজের উদ্বোধন

মানুষ কি নিরামিষাশী না মাংসাশী? বিজ্ঞান কী বলছে

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:৩৪:৫৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায়ই একটি বিতর্ক দেখা যায়—মানুষের শারীরিক গঠন কি নিরামিষাশী হওয়ার জন্য, নাকি মাংসাশী? এ ধরনের আলোচনায় কেউ প্রাণিজ আমিষ বর্জনের পরামর্শ দেন, আবার কেউ প্রচুর মাংস খাওয়ার পক্ষে মত দেন। সাধারণ মানুষের মধ্যে এসব তথ্য বিভ্রান্তি তৈরি করে। তবে জীববিজ্ঞান ও বিবর্তনের আলোকে বিজ্ঞানের উত্তর অত্যন্ত স্পষ্ট: মানুষ সর্বভুক প্রাণী। অর্থাৎ, মানুষের পরিপাকতন্ত্র ও শরীর উদ্ভিজ্জ এবং প্রাণিজ উভয় উৎস থেকে পুষ্টি সংগ্রহের উপযোগী করে তৈরি হয়েছে। এসব মতামত সামনে এলে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন। কেউ অসুস্থ হলে তো কথাই নেই—একজন রোগীকে ঘিরে সবাই যেন চিকিৎসক হয়ে ওঠেন। আমাদের সামাজিক আচরণের এ প্রবণতা পরিচিত। বরং সামগ্রিক পুষ্টি, খাদ্যের গুণমান এবং ব্যক্তির স্বাস্থ্য বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।

মানুষের বিবর্তনীয় ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, আমাদের পূর্বপুরুষরা উদ্ভিজ্জ খাবারের পাশাপাশি প্রাণিজ খাদ্যও গ্রহণ করতেন। মানুষের দাঁত ও চোয়ালের গঠন এবং পরিপাকতন্ত্রের কার্যপ্রণালী—যেমন লালারসে শ্বেতসার হজমের জন্য অ্যামাইলেজ এনজাইম এবং পাকস্থলীতে প্রোটিন হজমের জন্য হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিডের উপস্থিতি—প্রমাণ করে যে মানুষ কেবল এক ধরনের খাবারের ওপর নির্ভরশীল নয়। তবে এই সক্ষমতার অর্থ এই নয় যে প্রচুর মাংস খেতেই হবে, বরং পরিকল্পিত ও ভারসাম্যপূর্ণ খাবারই সুস্বাস্থ্যের চাবিকাঠি।

মাংসাশী বা নিরামিষাশী হিসেবে মানুষকে শ্রেণিবদ্ধ করার জন্য প্রচলিত অনেক দাবিই বৈজ্ঞানিকভাবে ভিত্তিহীন। উদাহরণস্বরূপ, লালার অম্লত্ব বা পাকস্থলীর অ্যাসিডের মাত্রা দিয়ে কোনো প্রাণীর খাদ্যাভ্যাস নির্ধারণ করা যায় না। একইভাবে, অন্ত্রের দৈর্ঘ্য বা ঘাম নিঃসরণের ক্ষমতাও এর মাপকাঠি নয়। ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রাও কেবল মাংস খাওয়ার ওপর নির্ভর করে না, বরং শরীরের অভ্যন্তরীণ পিউরিন বিপাকের ফলে এটি তৈরি হয়। তাই শরীরের ছোটখাটো বৈশিষ্ট্য দেখে খাদ্যাভ্যাস নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সমীচীন নয়।

আধুনিক গবেষণায় দেখা গেছে, স্বাস্থ্যকর উদ্ভিদভিত্তিক খাদ্যাভ্যাস দীর্ঘমেয়াদী রোগের ঝুঁকি কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। ২০২৩ সালের একটি মেটা-অ্যানালাইসিসের তথ্য অনুযায়ী, নিয়মিত স্বাস্থ্যকর উদ্ভিদভিত্তিক খাবার গ্রহণ করলে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি প্রায় ১৮ শতাংশ, হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি ১০ শতাংশ এবং সব ধরনের মৃত্যুর ঝুঁকি প্রায় ১৬ শতাংশ পর্যন্ত কমে আসতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও নিয়মিত শাকসবজি, ফলমূল, ডাল, বাদাম ও পূর্ণশস্য খাওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। গবেষণাটিতে ঝুঁকি কমার হার যথাক্রমে প্রায় ১৮, ১০ ও ১৬ শতাংশ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নানা ধরনের খাদ্যাভ্যাস ও চিকিৎসাভিত্তিক জীবনযাপন নিয়ে আলোচনা। তবে এগুলো পর্যবেক্ষণভিত্তিক সম্পর্কের ফল; শুধু উদ্ভিদভিত্তিক খাবার খাওয়ার কারণেই এই পরিবর্তন ঘটে, এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। বাংলাদেশের খাবারেই আছে স্বাস্থ্যকর বিকল্প।

উদ্ভিজ্জ খাবারের প্রধান গুণ হলো এর উচ্চ মাত্রার খাদ্য-আঁশ, যা পরিপাকতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যকারিতা বজায় রাখে এবং রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। অন্ত্রের উপকারী অণুজীব এই আঁশ ব্যবহার করে স্বল্প-শৃঙ্খল ফ্যাটি অ্যাসিড তৈরি করে, যা অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য। এছাড়া শাকসবজি ও ফলে থাকা পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। কিছু ধরনের দ্রবণীয় আঁশ এলডিএল বা ক্ষতিকর কোলেস্টেরল কমাতেও সাহায্য করে।

মাংস বাদ দেওয়া মানেই সব সমস্যার সমাধান নয়; বরং বিকল্প হিসেবে কী গ্রহণ করা হচ্ছে তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। লাল মাংসের বদলে ডাল, ছোলা বা রাজমা বেছে নিলে স্যাচুরেটেড ফ্যাটের গ্রহণ কমে। তবে মাছ-মাংসের বদলে অতিরিক্ত মিষ্টি, ভাজাপোড়া বা পরিশোধিত শর্করা খেলে সুফল পাওয়া সম্ভব নয়। এছাড়া সম্পূর্ণ ভেগান বা কঠোর নিরামিষ খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করলে ভিটামিন বি১২, আয়রন, ক্যালসিয়াম, জিঙ্ক ও ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের ঘাটতি পূরণের জন্য সচেতন হওয়া জরুরি। অনেক ক্ষেত্রে ভিটামিন বি১২ পাওয়ার জন্য ফোর্টিফায়েড খাবার বা সাপ্লিমেন্টের প্রয়োজন হতে পারে। এখানেই রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।

বাংলাদেশে সহজলভ্য অনেক খাবারই পুষ্টির চাহিদা মেটাতে যথেষ্ট। মসুর ডাল, মুগ ডাল, ছোলা, শাকসবজি, মৌসুমি ফল এবং লাল চাল বা আটার রুটি নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে। তবে কোনো খাবারকে কেবল ‘দেশি’ বা ‘প্রাকৃতিক’ পরিচয়ে পুরোপুরি পুষ্টিকর ভাবা ভুল; খাবারের প্রক্রিয়াজাতকরণ ও গ্রহণের পরিমাণও এখানে বিবেচ্য। সবার শারীরিক গঠন ও কাজের ধরণ ভিন্ন, তাই সবার জন্য একই ডায়েট চার্ট প্রযোজ্য নয়। একটি আদর্শ পরিকল্পনায় প্লেটের অর্ধেক শাকসবজি ও ফল, এক-চতুর্থাংশ শস্য এবং বাকি এক-চতুর্থাংশ ডাল রাখা স্বাস্থ্যসম্মত বলে গণ্য করা হয়। লালশাক, পালংশাক, পুঁইশাক, লাউ, কুমড়া এবং অন্যান্য মৌসুমি সবজি খাদ্যতালিকায় বৈচিত্র্য আনে। পেয়ার, পেঁপে, কলা ও আমের মতো ফলও নিয়মিত খাওয়া যেতে পারে।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

মানুষ কি নিরামিষাশী না মাংসাশী? বিজ্ঞান কী বলছে

আপডেট সময় : ০৭:৩৪:৫৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায়ই একটি বিতর্ক দেখা যায়—মানুষের শারীরিক গঠন কি নিরামিষাশী হওয়ার জন্য, নাকি মাংসাশী? এ ধরনের আলোচনায় কেউ প্রাণিজ আমিষ বর্জনের পরামর্শ দেন, আবার কেউ প্রচুর মাংস খাওয়ার পক্ষে মত দেন। সাধারণ মানুষের মধ্যে এসব তথ্য বিভ্রান্তি তৈরি করে। তবে জীববিজ্ঞান ও বিবর্তনের আলোকে বিজ্ঞানের উত্তর অত্যন্ত স্পষ্ট: মানুষ সর্বভুক প্রাণী। অর্থাৎ, মানুষের পরিপাকতন্ত্র ও শরীর উদ্ভিজ্জ এবং প্রাণিজ উভয় উৎস থেকে পুষ্টি সংগ্রহের উপযোগী করে তৈরি হয়েছে। এসব মতামত সামনে এলে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন। কেউ অসুস্থ হলে তো কথাই নেই—একজন রোগীকে ঘিরে সবাই যেন চিকিৎসক হয়ে ওঠেন। আমাদের সামাজিক আচরণের এ প্রবণতা পরিচিত। বরং সামগ্রিক পুষ্টি, খাদ্যের গুণমান এবং ব্যক্তির স্বাস্থ্য বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।

মানুষের বিবর্তনীয় ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, আমাদের পূর্বপুরুষরা উদ্ভিজ্জ খাবারের পাশাপাশি প্রাণিজ খাদ্যও গ্রহণ করতেন। মানুষের দাঁত ও চোয়ালের গঠন এবং পরিপাকতন্ত্রের কার্যপ্রণালী—যেমন লালারসে শ্বেতসার হজমের জন্য অ্যামাইলেজ এনজাইম এবং পাকস্থলীতে প্রোটিন হজমের জন্য হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিডের উপস্থিতি—প্রমাণ করে যে মানুষ কেবল এক ধরনের খাবারের ওপর নির্ভরশীল নয়। তবে এই সক্ষমতার অর্থ এই নয় যে প্রচুর মাংস খেতেই হবে, বরং পরিকল্পিত ও ভারসাম্যপূর্ণ খাবারই সুস্বাস্থ্যের চাবিকাঠি।

মাংসাশী বা নিরামিষাশী হিসেবে মানুষকে শ্রেণিবদ্ধ করার জন্য প্রচলিত অনেক দাবিই বৈজ্ঞানিকভাবে ভিত্তিহীন। উদাহরণস্বরূপ, লালার অম্লত্ব বা পাকস্থলীর অ্যাসিডের মাত্রা দিয়ে কোনো প্রাণীর খাদ্যাভ্যাস নির্ধারণ করা যায় না। একইভাবে, অন্ত্রের দৈর্ঘ্য বা ঘাম নিঃসরণের ক্ষমতাও এর মাপকাঠি নয়। ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রাও কেবল মাংস খাওয়ার ওপর নির্ভর করে না, বরং শরীরের অভ্যন্তরীণ পিউরিন বিপাকের ফলে এটি তৈরি হয়। তাই শরীরের ছোটখাটো বৈশিষ্ট্য দেখে খাদ্যাভ্যাস নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সমীচীন নয়।

আধুনিক গবেষণায় দেখা গেছে, স্বাস্থ্যকর উদ্ভিদভিত্তিক খাদ্যাভ্যাস দীর্ঘমেয়াদী রোগের ঝুঁকি কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। ২০২৩ সালের একটি মেটা-অ্যানালাইসিসের তথ্য অনুযায়ী, নিয়মিত স্বাস্থ্যকর উদ্ভিদভিত্তিক খাবার গ্রহণ করলে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি প্রায় ১৮ শতাংশ, হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি ১০ শতাংশ এবং সব ধরনের মৃত্যুর ঝুঁকি প্রায় ১৬ শতাংশ পর্যন্ত কমে আসতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও নিয়মিত শাকসবজি, ফলমূল, ডাল, বাদাম ও পূর্ণশস্য খাওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। গবেষণাটিতে ঝুঁকি কমার হার যথাক্রমে প্রায় ১৮, ১০ ও ১৬ শতাংশ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নানা ধরনের খাদ্যাভ্যাস ও চিকিৎসাভিত্তিক জীবনযাপন নিয়ে আলোচনা। তবে এগুলো পর্যবেক্ষণভিত্তিক সম্পর্কের ফল; শুধু উদ্ভিদভিত্তিক খাবার খাওয়ার কারণেই এই পরিবর্তন ঘটে, এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। বাংলাদেশের খাবারেই আছে স্বাস্থ্যকর বিকল্প।

উদ্ভিজ্জ খাবারের প্রধান গুণ হলো এর উচ্চ মাত্রার খাদ্য-আঁশ, যা পরিপাকতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যকারিতা বজায় রাখে এবং রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। অন্ত্রের উপকারী অণুজীব এই আঁশ ব্যবহার করে স্বল্প-শৃঙ্খল ফ্যাটি অ্যাসিড তৈরি করে, যা অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য। এছাড়া শাকসবজি ও ফলে থাকা পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। কিছু ধরনের দ্রবণীয় আঁশ এলডিএল বা ক্ষতিকর কোলেস্টেরল কমাতেও সাহায্য করে।

মাংস বাদ দেওয়া মানেই সব সমস্যার সমাধান নয়; বরং বিকল্প হিসেবে কী গ্রহণ করা হচ্ছে তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। লাল মাংসের বদলে ডাল, ছোলা বা রাজমা বেছে নিলে স্যাচুরেটেড ফ্যাটের গ্রহণ কমে। তবে মাছ-মাংসের বদলে অতিরিক্ত মিষ্টি, ভাজাপোড়া বা পরিশোধিত শর্করা খেলে সুফল পাওয়া সম্ভব নয়। এছাড়া সম্পূর্ণ ভেগান বা কঠোর নিরামিষ খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করলে ভিটামিন বি১২, আয়রন, ক্যালসিয়াম, জিঙ্ক ও ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের ঘাটতি পূরণের জন্য সচেতন হওয়া জরুরি। অনেক ক্ষেত্রে ভিটামিন বি১২ পাওয়ার জন্য ফোর্টিফায়েড খাবার বা সাপ্লিমেন্টের প্রয়োজন হতে পারে। এখানেই রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।

বাংলাদেশে সহজলভ্য অনেক খাবারই পুষ্টির চাহিদা মেটাতে যথেষ্ট। মসুর ডাল, মুগ ডাল, ছোলা, শাকসবজি, মৌসুমি ফল এবং লাল চাল বা আটার রুটি নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে। তবে কোনো খাবারকে কেবল ‘দেশি’ বা ‘প্রাকৃতিক’ পরিচয়ে পুরোপুরি পুষ্টিকর ভাবা ভুল; খাবারের প্রক্রিয়াজাতকরণ ও গ্রহণের পরিমাণও এখানে বিবেচ্য। সবার শারীরিক গঠন ও কাজের ধরণ ভিন্ন, তাই সবার জন্য একই ডায়েট চার্ট প্রযোজ্য নয়। একটি আদর্শ পরিকল্পনায় প্লেটের অর্ধেক শাকসবজি ও ফল, এক-চতুর্থাংশ শস্য এবং বাকি এক-চতুর্থাংশ ডাল রাখা স্বাস্থ্যসম্মত বলে গণ্য করা হয়। লালশাক, পালংশাক, পুঁইশাক, লাউ, কুমড়া এবং অন্যান্য মৌসুমি সবজি খাদ্যতালিকায় বৈচিত্র্য আনে। পেয়ার, পেঁপে, কলা ও আমের মতো ফলও নিয়মিত খাওয়া যেতে পারে।

Facebook Comments Box