ফুলবাড়ীয়ায় নারীকে ধর্ষণচেষ্টা, যুবদল নেতার বিরুদ্ধে মামলা
- আপডেট সময় : ০৮:৩৭:৩১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে
ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়ায় এক নারীকে কুপ্রস্তাব দেওয়া, শারীরিকভাবে হেনস্তা ও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্ত হযরত আলী মন্ডল পুটিজানা ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক। ভুক্তভোগী জাহানারা খাতুন (৪৫) থানায় এজাহার দায়ের করলে পুলিশ সেটি নিয়মিত মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করে। তাদের ভাষ্য, একজন নারী ভালো না মন্দ, সেটি আলাদা বিষয়।
অভিযোগের বিবরণ অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে পুটিজানা ইউনিয়নের বৈলাজান গ্রামের কর্মকার বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে। জাহানারা খাতুনের স্বামী দুলাল মিয়া বিদেশি মুদ্রা লেনদেনসংক্রান্ত একটি মামলায় কারাগারে ছিলেন। প্রায় দেড় মাস কারাভোগের পর তিনি জামিনে মুক্তি পান। অভিযোগ রয়েছে, দুলাল মিয়াকে দ্রুত কারাগার থেকে বের করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে জাহানারাকে কুপ্রস্তাব দেন হযরত আলী এবং তার সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করেন। গত দুই দিন ধরে তার শাশুড়ি বাড়িতে নেই।
জাহানারা খাতুনের দাবি, অভিযুক্ত নেতা তাকে শারীরিকভাবে হেনস্তা করেন এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে স্পর্শ করার চেষ্টা চালান। তিনি বাধা দিলে অভিযুক্ত ব্যক্তি জোরজবরদস্তির চেষ্টা করেন। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরেই ওই নেতা তাকে বিভিন্নভাবে উত্যক্ত করে আসছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। উল্লেখ্য, জাহানারা অতীতে সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে নির্বাচন করেছিলেন।
ভুক্তভোগীর পুত্রবধূ জানান, তার শাশুড়ির সঙ্গে যুবদল নেতা হযরত আলী অনৈতিক আচরণের চেষ্টা করেছেন বলে তারা জানতে পেরেছেন। ঘটনার পর থেকে জাহানারা খাতুন মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে বাড়িতে অবস্থান করছেন না। জাহানারার মা খাদিজা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন। শিবগঞ্জ এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারাও এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তারা অভিযোগের সত্যতা তদন্ত করে দেখার এবং দোষী প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তার কাছে গিয়ে কেন জোরপূর্বক এমন আচরণের চেষ্টা করা হবে।
ফুলবাড়ীয়া থানার ওসি রাশিদুল হাসান নিশ্চিত করেছেন যে, থানায় নিয়মিত মামলা রুজু হয়েছে এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এদিকে উপজেলা যুবদলের সভাপতি কামরুজ্জামান মীর আজাদ জানান, বিষয়টি নিয়ে জেলা নেতাদের সঙ্গে কথা হয়েছে। আগামীকাল সাংগঠনিক আলোচনার মাধ্যমে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্যের জন্য হযরত আলীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়ায় তার কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের কেউ কেউ দাবি করেছেন, হযরত আলীর কর্মকাণ্ড নিয়ে এলাকায় আগে থেকেই নানা আলোচনা রয়েছে।
সূত্র: দৈনিক আমার দেশ

























