মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতায় কাতারের ভূমিকাকে সমর্থন চীনের
- আপডেট সময় : ০৯:০৭:২৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৩০ বার পড়া হয়েছে
৭ই সেপ্টেম্বর বেইজিংয়ে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেছেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান আল থানি। দুই দিনের সরকারি সফরে থাকা কাতারের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এই আলোচনায় চীন জ্বালানি, বিনিয়োগ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা হ্রাসে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ক্ষেত্রে কাতারের সঙ্গে সহযোগিতা আরও জোরদার করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
লি কিয়াং কাতারকে মধ্যপ্রাচ্যে চীনের একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি একটি ন্যায্য ও ন্যায়সঙ্গত বৈশ্বিক শাসন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে দুই দেশের মধ্যে বহুপাক্ষিক সমন্বয় বৃদ্ধির আহ্বান জানান। এছাড়া, আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা নিরসন ও হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাতারের মধ্যস্থতাকারী ভূমিকার প্রতি বেইজিংয়ের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে বলে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন। যত দ্রুত সম্ভব মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে কাতার, অন্যান্য উপসাগরীয় রাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে কাজ করতে চীন প্রস্তুত বলে জানান লি কিয়াং।
হরমুজ প্রণালীটি চীনের জ্বালানি সরবরাহ এবং কাতারের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রপ্তানির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পথ। বর্তমানে চীনের এলএনজি চাহিদার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কাতার সরবরাহ করে থাকে। এই প্রেক্ষাপটে দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি ও প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা গভীর করার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান আল থানি জানান, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পরবর্তী ‘সোনালী দশক’ শুরু করার লক্ষ্যে কাতার বাণিজ্য, উচ্চ প্রযুক্তি ও উন্নত উৎপাদন খাতে চীনের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী।
কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আলোচনায় অর্থনৈতিক, বিনিয়োগ ও পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে অংশীদারিত্ব জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। যদিও এই অঞ্চলের সাম্প্রতিক ঘটনাবলি নিয়ে আলোচনার কথা জানানো হয়েছে, তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
উল্লেখ্য, ২০২০ সাল থেকে চীন কাতারের বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার ও শীর্ষ রপ্তানি গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। গত এক দশকে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ১২৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৪ সালে এই বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১০.৬ বিলিয়ন ডলার, যা ২০২৪ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৪.২২ বিলিয়ন ডলারে।
মধ্যপ্রাচ্যে কাতার একটি ভারসাম্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। দেশটিতে যেমন যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান বিমান ঘাঁটি রয়েছে, তেমনি ইরানের সঙ্গেও তাদের যোগাযোগের পথ উন্মুক্ত। আগস্টের শেষের দিকে কাতারের প্রধানমন্ত্রী তেহরান সফর করেন, যার মূল লক্ষ্য ছিল ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে মধ্যস্থতা করা এবং হরমুজ প্রণালীতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য একটি কাঠামো তৈরি করা। চীনের এই সমর্থনকে সামরিক হস্তক্ষেপের চেয়ে সংলাপ ও অর্থনৈতিক প্রভাব বিস্তারের প্রতি বেইজিংয়ের আগ্রহের প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কাতারে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত কাও জিয়াওলিনের মতে, ২০২০ সাল থেকে চীন কাতারের বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার এবং শীর্ষ রপ্তানি গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তার এই সফর এমন এক সময়ে হচ্ছে যখন বেইজিং ও দোহা ক্রমবর্ধমান অস্থিতিশীল আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং হরমুজ প্রণালীর মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক যান চলাচল সুরক্ষিত করতে চাইছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিবৃতিতে বলা হয়েছে, উভয় পক্ষ এই অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলি নিয়েও আলোচনা করেছে, তবে এ বিষয়ে আর কোনো বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।
সূত্র: গালফ বাংলা
























