ভোলায় বসতভিটার কর আদায়ের নামে প্রতারণার অভিযোগে গ্রেপ্তার দুই
- আপডেট সময় : ০১:৪০:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬ ৬০ বার পড়া হয়েছে
ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে অবৈধভাবে বসতভিটার ট্যাক্স আদায়ের সময় দুই প্রতারককে গ্রেপ্তার করেছে স্থানীয় পুলিশ। ওই চক্রটি উপজেলার বিভিন্ন বাড়িতে ছাপানো ভুয়া রসিদ দেখিয়ে টিনের ঘর থেকে ৩০০ টাকা এবং পাকা ঘর থেকে ৫০০ টাকা হারে ট্যাক্স আদায় করছিল। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
ঘটনার সূত্রপাত সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে, যখন হাসাননগর ইউনিয়নের স্থানীয়রা ট্যাক্স নিতে আসা এক যুবকের পরিচয় ও আদায়ের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। নিজেকে পিএসবি প্রজেক্টের খণ্ডকালীন ট্যাক্স কালেক্টর পরিচয় দিলেও তিনি কোনো সঠিক উত্তর দিতে পারেননি। স্থানীয়রা ইউনিয়ন পরিষদের সচিব ও প্রশাসকের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা এ বিষয়ে কোনো অবগত নন বলে জানান। পরে প্রতারক চক্রের আরেক সদস্য তার সঙ্গীকে নিতে এলে স্থানীয়রা তাদের দুজনকেই অবরুদ্ধ করেন এবং পরে পুলিশে খবর দেন। ওই যুবকের কথাবার্তায় অসংগতি ও মিথ্যা তথ্যের সন্দেহ হলে স্থানীয়রা তাকে আটকে রাখেন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার মো. মজিদুল ইসলাম (৩৮) এবং নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার মাহবুব ইসলাম সাগর (২৪)। এ ঘটনায় সোমবার রাতে স্থানীয় এক ব্যক্তি বাদী হয়ে গ্রেপ্তার দুজনসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৬ থেকে ৭ জনের বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা দায়ের করেছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলার সাচড়া, কাচিয়া, পক্ষিয়া ও হাসাননগর ইউনিয়নে এই চক্রটি সক্রিয় ছিল এবং তাদের সঙ্গে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বা প্রশাসক, সচিব এবং গ্রাম পুলিশের যোগসাজশ থাকতে পারে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- বগুড়া জেলার সারিয়াকান্দি উপজেলার ইমান আলীর ছেলে মো. মজিদুল ইসলাম (৩৮) এবং নীলফামারী জেলার কিশোরগঞ্জ উপজেলার ছফদ্দি মাহমুদের ছেলে মাহবুব ইসলাম সাগর (২৪)।
বোরহানউদ্দিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনোরঞ্জন বর্মন জানান, বিষয়টি তার নজরে এসেছে এবং প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী আটক ব্যক্তিদের স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সচিব ও প্রশাসকের কাছ থেকে সহায়তা পাওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তিনি আরও বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের ট্যাক্স আদায়ের নির্দিষ্ট নিয়মনীতি রয়েছে এবং পরিষদ নিজস্ব বা অনুমোদিত ব্যবস্থাপনায় কর নিতে পারে, তবে এক্ষেত্রে নিয়ম লঙ্ঘন গ্রহণযোগ্য নয়।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশ্রাফ আলী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্য অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধেও যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সূত্র: ডেইলি বাংলাদেশ


























