বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটে বর্তমান সরকারের দায় নেই: অর্থ উপদেষ্টা
- আপডেট সময় : ০৮:২৯:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৪৮ বার পড়া হয়েছে
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটে বর্তমান সরকারের দায় নেই: অর্থ উপদেষ্টা
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের চলমান সংকটের দায় বর্তমান সরকারের ওপর বর্তায় না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি জানান, বিগত স্বৈরাচারী সরকারের আমদানিনির্ভর ভুল জ্বালানীনীতির কারণেই আজকের এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
বুধবার রাজধানীর ইআরএফ মিলনায়তনে ‘অর্থনৈতিক পূর্বাভাস ও উদীয়মান চ্যালেঞ্জসমূহ: আগামী দিনের অগ্রাধিকার’ শীর্ষক এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
পড়ুন>>ভূরুঙ্গামারীতে সারের দাবিতে ফুঁসে উঠেছে কৃষক
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপদেষ্টা বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ভুল নীতির কারণে বিগত সরকার যে বিশাল ঋণের বোঝা চাপিয়ে গেছে, তা দেশের তরুণ প্রজন্মের জানা প্রয়োজন। তিনি এ বিষয়ে ‘কস্ট অব ইন্যাকশন’ বা ‘কস্ট অব রং ডুইং’ শীর্ষক গবেষণার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় ও পেশাজীবী সংগঠনগুলোর প্রতি আহ্বান জানান।
জ্বালানি সংকট নিরসনে ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি আরও বলেন, রাজস্ব আয় বাড়াতে সরকার কর ফাঁকি রোধসহ বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকের হিসাব পর্যালোচনার মাধ্যমে কর ও ভ্যাট আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কাজ চলছে।
পড়ুন>> সাড়ে তিন মাস পর ডলার কিনল বাংলাদেশ ব্যাংক, দর নির্ধারণ ১২২.৭৫ টাকা
দেশের অর্থনীতি বর্তমানে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগ স্থবিরতা ও রাজস্ব সীমাবদ্ধতার মতো বহুমুখী চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। জাতীয় অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ বলেন, লুণ্ঠনের অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে উন্নয়নমুখী অর্থনীতিতে ফিরতে হবে।
তিনি উল্লেখ করেন, চাঁদাবাজির টাকা সরকারের কোষাগারে না গিয়ে ব্যক্তিগত পকেটে যাচ্ছে, যা অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এছাড়া ব্যাংক থেকে লুট হওয়া অর্থ হুন্ডির মাধ্যমে পাচার হওয়ায় বাজারে মুদ্রাস্ফীতি বাড়ছে।
সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ফাহমিদা খাতুন বলেন, ছয় মাসের ব্যবধানে অর্থনীতির সামগ্রিক চিত্র বিচার করা কঠিন। রিজার্ভ ও মূল্যস্ফীতিতে কিছুটা স্বস্তি থাকলেও উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও জ্বালানি খাতে অস্বস্তি রয়ে গেছে।
আরও পড়ুন>>ইটভাটায় অবৈধ সার মজুদের দায়ে ৪ লাখ টাকা জরিমানা
তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের খেলাপি ঋণের বোঝা এখন ব্যাংকিং খাতের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। রাজস্বের ৪৫ শতাংশই বেতন-ভাতা পরিশোধে ব্যয় হওয়ায় উন্নয়ন কার্যক্রমের জন্য রাজস্ব বাড়ানো এখন সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ।
আরও পড়ুন>>অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করলেন তেঁতুলিয়ার বিএনপি নেত্রী সুলতানা রাজিয়া
এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. ফজলুল হক বলেন, জ্বালানি সংকটের মধ্যেও রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা উদ্যোক্তাদের জন্য একটি বড় সাফল্য। তিনি শিল্পকারখানা সচল রাখতে কয়লা ও তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো জরুরিভিত্তিতে চালুর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এতে গ্যাসের ওপর চাপ কমবে এবং শিল্পে সরবরাহ বাড়বে। ফজলুল হক আরও জানান, দেশে পণ্যের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং আগামী রোজায় নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার সম্ভাবনা নেই, তবে বাজার ব্যবস্থাপনায় নজরদারি প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানটি সভাপতিত্ব করেন ইআরএফ সভাপতি দৌলত আকতার এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম।


























