ঢাকা ০৩:১২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ভালুকায় সেলুন ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে জখম করে মৃত্যুর ঘটনায় অভিযোগ সুন্দরবনে দস্যুদের সাথে বন্দুকযুদ্ধ, জিম্মি থেকে ৫ জেলে উদ্ধার বকেয়া বেতনের দাবিতে চালডাল কর্মীদের বিক্ষোভ ও ভাঙচুর বাংলাদেশে স্বাস্থ্য খাতে সহায়তা বাড়াতে সাসাকাওয়া ফাউন্ডেশনের প্রতি আহ্বান উখিয়ায় নলকূপ খননের সময় অগ্নিকাণ্ড: নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে সেনাবাহিনী আইজিপি’র ‘ক্রসফায়ার’ সম্পর্কিত বক্তব্যের অপব্যাখ্যা অপরাধীদের উৎসাহিত করবে সৌদির রাস তানুরা তেল শোধনাগারে হামলার দাবি হুতিদের দেশে ডেঙ্গুতে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ৪০০ ছাড়াল নওগাঁয় শ্যালিকাকে বিয়ে, যুবক ও দুই স্ত্রীর মুখে চুনকালি দিয়ে গ্রামছাড়া সীতাকুণ্ডে লরির ধাক্কায় বাসের ৫ যাত্রী নিহত

বাংলাদেশসহ তিন দেশে এলএনজি সরবরাহ স্থগিতের মেয়াদ বাড়াল কাতার এনার্জি

সৃষ্টি আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৮:০৯:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৭১ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

বাংলাদেশসহ তিন দেশে এলএনজি সরবরাহ স্থগিতের মেয়াদ বাড়াল কাতার এনার্জি

 

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ায় বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও ইতালিতে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহে ‘ফোর্স মেজর’ বা অনিবার্য পরিস্থিতির দোহাই দিয়ে সরবরাহ স্থগিতের মেয়াদ বাড়িয়েছে কাতার এনার্জি। এর ফলে কাতারনির্ভর দেশগুলোতে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হতে দীর্ঘ সময় লাগার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ব্লুমবার্গ ও রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানের ক্রেতাদের চলতি সপ্তাহে কাতার এনার্জি জানিয়েছে যে, বেশ কিছু এলএনজি চালান বাতিলের এই পরিস্থিতি অক্টোবর পর্যন্ত চলতে পারে। একই ধরনের নোটিশ বাংলাদেশের ক্রেতাদেরও দেওয়া হয়েছে, যেখানে সেপ্টেম্বরের পর পর্যন্ত এই বিধিনিষেধ কার্যকর থাকবে। ইউরোপের অন্যান্য আমদানিকারকদেরও একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে।

ইতালির জ্বালানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এডিসন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে, তাদের অ্যাড্রিয়াটিক এলএনজি টার্মিনালে নির্ধারিত আরও পাঁচটি চালান সরবরাহ করতে পারবে না কাতার। ফলে দেশটিতে সরবরাহ বন্ধের মেয়াদ নভেম্বরের শুরু পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এডিসনের হিসাব অনুযায়ী, কাতার এনার্জির সরবরাহ করতে ব্যর্থ হওয়া এলএনজি জাহাজের সংখ্যা বর্তমানে ২৯টিতে পৌঁছেছে। তবে ঘাটতি সামাল দিতে প্রতিষ্ঠানটি বিকল্প উৎস থেকে গ্যাস সংগ্রহের চেষ্টা চালাচ্ছে।

 

পড়ুন>>রাষ্ট্রায়ত্ত ৬ ব্যাংকে খেলাপি ঋণের পাহাড়: দেড় লাখ কোটি টাকা ছাড়াল অংক

বিশ্বের অন্যতম প্রধান এলএনজি রপ্তানিকারক কাতারের বিপুল পরিমাণ গ্যাস হরমুজ প্রণালি হয়ে বৈশ্বিক বাজারে পৌঁছায়। সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনার কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। গত ৪ মার্চ প্রথমবার এই পরিস্থিতির কারণে কাতার এনার্জি ‘ফোর্স মেজর’ ঘোষণা করেছিল। চুক্তির এই বিধানটি সাধারণত এমন অনিবার্য পরিস্থিতিতে কার্যকর করা হয়, যখন কোনো প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণের বাইরের কোনো কারণে সরবরাহ বজায় রাখা অসম্ভব হয়ে পড়ে।

জ্বালানি সরবরাহের এই সংকটের পেছনে অবকাঠামোগত ক্ষতির প্রভাবও রয়েছে। মার্চ মাসে রাস লাফান শিল্প এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এলএনজি উৎপাদন ও রপ্তানি অবকাঠামোর উল্লেখযোগ্য অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কাতার এনার্জির প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং দেশটির জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী সাদ শেরিদা আল-কাবি জানিয়েছিলেন, এই হামলার কারণে কাতারের মোট এলএনজি রপ্তানি সক্ষমতা ১৭ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

পড়ুন>>ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে চাইনিজ কালচার ডে ২০২৬ উদযাপন

পরিস্থিতি আরও জটিল হয় জুলাই মাসে, যখন কাতার এনার্জির এলএনজি বহনকারী জাহাজ ‘আল রেকাইয়াত’ হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের সময় হামলার শিকার হয়। কাতার এই ঘটনার জন্য ইরানকে দায়ী করেছে। জাহাজটির একাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও নাবিকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছিল।

কাতার এনার্জির এই ধারাবাহিক সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশ এবং ইউরোপের আমদানিকারকরা চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। বিশেষ করে আসন্ন শীত মৌসুমকে সামনে রেখে ইউরোপে গ্যাসের চাহিদা বৃদ্ধির সম্ভাবনা থাকায় এই সরবরাহ সংকট আরও প্রকট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং অবকাঠামোগত ক্ষতির প্রভাব এখনো পুরোপুরি কাটেনি বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বাংলাদেশসহ তিন দেশে এলএনজি সরবরাহ স্থগিতের মেয়াদ বাড়াল কাতার এনার্জি

আপডেট সময় : ০৮:০৯:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

বাংলাদেশসহ তিন দেশে এলএনজি সরবরাহ স্থগিতের মেয়াদ বাড়াল কাতার এনার্জি

 

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ায় বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও ইতালিতে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহে ‘ফোর্স মেজর’ বা অনিবার্য পরিস্থিতির দোহাই দিয়ে সরবরাহ স্থগিতের মেয়াদ বাড়িয়েছে কাতার এনার্জি। এর ফলে কাতারনির্ভর দেশগুলোতে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হতে দীর্ঘ সময় লাগার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ব্লুমবার্গ ও রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানের ক্রেতাদের চলতি সপ্তাহে কাতার এনার্জি জানিয়েছে যে, বেশ কিছু এলএনজি চালান বাতিলের এই পরিস্থিতি অক্টোবর পর্যন্ত চলতে পারে। একই ধরনের নোটিশ বাংলাদেশের ক্রেতাদেরও দেওয়া হয়েছে, যেখানে সেপ্টেম্বরের পর পর্যন্ত এই বিধিনিষেধ কার্যকর থাকবে। ইউরোপের অন্যান্য আমদানিকারকদেরও একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে।

ইতালির জ্বালানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এডিসন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে, তাদের অ্যাড্রিয়াটিক এলএনজি টার্মিনালে নির্ধারিত আরও পাঁচটি চালান সরবরাহ করতে পারবে না কাতার। ফলে দেশটিতে সরবরাহ বন্ধের মেয়াদ নভেম্বরের শুরু পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এডিসনের হিসাব অনুযায়ী, কাতার এনার্জির সরবরাহ করতে ব্যর্থ হওয়া এলএনজি জাহাজের সংখ্যা বর্তমানে ২৯টিতে পৌঁছেছে। তবে ঘাটতি সামাল দিতে প্রতিষ্ঠানটি বিকল্প উৎস থেকে গ্যাস সংগ্রহের চেষ্টা চালাচ্ছে।

 

পড়ুন>>রাষ্ট্রায়ত্ত ৬ ব্যাংকে খেলাপি ঋণের পাহাড়: দেড় লাখ কোটি টাকা ছাড়াল অংক

বিশ্বের অন্যতম প্রধান এলএনজি রপ্তানিকারক কাতারের বিপুল পরিমাণ গ্যাস হরমুজ প্রণালি হয়ে বৈশ্বিক বাজারে পৌঁছায়। সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনার কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। গত ৪ মার্চ প্রথমবার এই পরিস্থিতির কারণে কাতার এনার্জি ‘ফোর্স মেজর’ ঘোষণা করেছিল। চুক্তির এই বিধানটি সাধারণত এমন অনিবার্য পরিস্থিতিতে কার্যকর করা হয়, যখন কোনো প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণের বাইরের কোনো কারণে সরবরাহ বজায় রাখা অসম্ভব হয়ে পড়ে।

জ্বালানি সরবরাহের এই সংকটের পেছনে অবকাঠামোগত ক্ষতির প্রভাবও রয়েছে। মার্চ মাসে রাস লাফান শিল্প এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এলএনজি উৎপাদন ও রপ্তানি অবকাঠামোর উল্লেখযোগ্য অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কাতার এনার্জির প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং দেশটির জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী সাদ শেরিদা আল-কাবি জানিয়েছিলেন, এই হামলার কারণে কাতারের মোট এলএনজি রপ্তানি সক্ষমতা ১৭ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

পড়ুন>>ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে চাইনিজ কালচার ডে ২০২৬ উদযাপন

পরিস্থিতি আরও জটিল হয় জুলাই মাসে, যখন কাতার এনার্জির এলএনজি বহনকারী জাহাজ ‘আল রেকাইয়াত’ হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের সময় হামলার শিকার হয়। কাতার এই ঘটনার জন্য ইরানকে দায়ী করেছে। জাহাজটির একাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও নাবিকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছিল।

কাতার এনার্জির এই ধারাবাহিক সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশ এবং ইউরোপের আমদানিকারকরা চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। বিশেষ করে আসন্ন শীত মৌসুমকে সামনে রেখে ইউরোপে গ্যাসের চাহিদা বৃদ্ধির সম্ভাবনা থাকায় এই সরবরাহ সংকট আরও প্রকট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং অবকাঠামোগত ক্ষতির প্রভাব এখনো পুরোপুরি কাটেনি বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

 

Facebook Comments Box