বকেয়া বেতনের দাবিতে চালডাল কর্মীদের বিক্ষোভ ও ভাঙচুর
- আপডেট সময় : ০৭:৫৫:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে
দেশের পরিচিত অনলাইন মুদি পণ্য বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান চালডাল ডটকম বর্তমানে বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়েছে। অভিযোগ উঠেছে, প্রতিষ্ঠানটির যশোর সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কে কর্মরত ছয় শতাধিক কর্মীর গত তিন মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে। দীর্ঘদিন বেতন না পাওয়ায় কর্মীরা পরিবার পরিচালনা ও বাসাভাড়াসহ দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতে চরম বিপাকে পড়েছেন। পাওনা বেতনের দাবিতে গত কয়েক দিন ধরে কর্মীরা সেখানে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আসছেন। গত সোমবার পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে একপর্যায়ে পার্কের প্রধান ফটক ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। বিক্ষুব্ধ কর্মীদের স্পষ্ট দাবি, এটি কোনো রাজনৈতিক আন্দোলন নয়, বরং নিজেদের উপার্জিত বেতনের ন্যায্য দাবিতে তারা এ কর্মসূচি পালন করছেন।
২০১৩ সালে চালডাল ডটকম তার যাত্রা শুরু করে।
সময়ের ব্যবধানে ঢাকা, চট্টগ্রাম, যশোর ও সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন শহরে গ্রাহকদের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয় প্রতিষ্ঠানটি।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী সংস্থা, যেমন ওয়াই কম্বিনেটর, ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশন (আইএফসি) এবং এল ক্যাটারটন প্রতিষ্ঠানটিতে বিনিয়োগ করেছে। এছাড়া দেশের সরকারি সংস্থা স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেড, আইডিএলসি এবং বাংলাদেশ ভেঞ্চার ক্যাপিটাল লিমিটেডের মতো প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকেও এখানে অন্তত ৩০০ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এত বড় অংকের বিনিয়োগ পাওয়ার পরও কর্মীদের বেতন বকেয়া থাকার ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আগ্রাসী ব্যবসায়িক সম্প্রসারণ, পরিচালন ব্যয় নিয়ন্ত্রণহীনতা এবং নতুন বিনিয়োগে স্থবিরতা চালডালের বর্তমান সংকটের কারণ হতে পারে। যদিও এসব কারণ এখনো প্রাতিষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের যুগ্ম সচিব (প্রশাসন অধিশাখা) মোহাম্মদ সাইফুল হাসান জানান, যশোর সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কের ক্যাম্পাসে এমন ঘটনা ঘটায় তারা এটিকে বিশেষ গুরুত্বের সাথে দেখছেন। বিষয়টি সরাসরি মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক এখতিয়ারভুক্ত না হলেও তারা ইতিমধ্যেই স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের সংগঠনের সাথে জরুরি অনলাইন সভা করে দ্রুত সমাধানের উপায় নিয়ে আলোচনা করেছেন। সমাধানে আলোচনায় তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ।
তবে এই পরিস্থিতির বিষয়ে চালডাল ডটকমের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। প্রতিষ্ঠানটির সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াসিম আলিম এবং সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা জিয়া আশরাফের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন ধরেননি। এই সংকটের কারণে দেশের ই-কমার্স খাতে কর্মীদের অধিকার এবং বিনিয়োগের অর্থ ব্যবহারের স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ এবং কর্মীদের বকেয়া বেতন পরিশোধের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনো আসেনি। তবে প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে এর প্রকৃত আর্থিক অবস্থা এবং সংকটের কারণ সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রয়োজন।
সূত্র: দৈনিক এইদিন

























