পূর্ব শত্রুতার জেরে রাধাপদ রায়কে মারধর: বিষয়টি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা
- আপডেট সময় : ০৯:৫১:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ অক্টোবর ২০২৩ ২৩২ বার পড়া হয়েছে
পূর্ব শত্রুতার জেরে রাধাপদ রায়কে মারধর, বিষয়টি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা চলছে।
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার ভিতরবন্দ ইউনিয়নের গোড্ডারপাড় বটতলা গ্রামের কবি রাধাপদ রায়ের উপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা এজাহার কপি।
কবির পুত্র এজাহারকারী শ্রী জুগল রায়ের সাথে কথা বলে জানা যায়, ঘটনার দিন গত ৩০শে সেপ্টেম্বর সকালে ভিতরবন্দ এলাকায় ডুবরীর ব্রীজের উপর কবিকে দেখে ঘটনার সাথে জড়িত এজাহারভূক্ত প্রধান আসামী রফিকুল ইসলাম ও তার ভাইয়ের সাথে পূর্ব শত্রুতার জেরে কথার কাটাকাটি এবং বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে এক পর্যায়ে কবিকে আক্রমণ করে।
এতে কবি আক্রান্ত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তার আর্তচিৎকারে কবির পুত্র মামলার বাদী তাকে দ্রুত নাগেশ্বরী উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন। এ রিপোর্ট লেখা পযর্ন্ত তিনি ঐ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
উক্ত ঘটনার ১ নং সাক্ষী শ্রী সুবল চন্দ্র (৫০) সহ আরও অনেকে ঘটনাটি প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে জানেন বলে জানা গেছে।
এদিকে এজাহারে বর্নিত ১ নং আসামী রফিকুল ইসলামকে বুধবার বিকেলে গ্রেফতার করেছে কুড়িগ্রাম পুলিশ। পুলিশ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, রাধাপদ রায়ের উপর হামলার ঘটনায় তার ছেলে শ্রী যুগল রায় বাদী হয়ে গত ১ অক্টোবর দুই জনকে আসামি করে নাগেশ্বরী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলার পর থেকে আসামিদের গ্রেফতার করতে অভিযান অব্যাহত রাখে পুলিশ। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার ০৪ অক্টোবর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে প্রধান আসামি রফিকুল ইসলামকে গ্রেফতার করে পুলিশ। অপর আসামি কদুর আলীকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানায় পুলিশ।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর সকালে সংঘটিত ঘটনার বিবরণ জানান কবি পুত্র যুগল রায়। তিনি বলেন আমার ভাই শ্রী মাধব রায় স্থানীয় বাসিন্দা কদুর আলীর পুত্র মোঃ মিলনের সাথে ঢাকার একটি কন্সট্রাকশন ফার্মে রডের কাজ করতো।
সেখানে কাজ অনুযায়ী বেতন কম দেওয়ায় বাড়ীতে ফিরে আসেন মাধব রায়। পরবর্তীতে মিলন কর্মস্থলে গিয়ে মাধবকে না পেয়ে মোবাইল করে জানায় তোমার কাছে আমি টাকা পাই।
মাধব মিলনকে উত্তর দিয়েছে বাড়িতে এসে হিসাব করে দেখ, তুমি পাও, না আমি পাই। এরপর মিলন কর্মস্থল থেকে কিছুদিন পরে বাড়িতে এসে উভয় পক্ষ হিসাব করতে বসে। একপর্যায়ে উভয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটির সময়ে অশালীন কথা বাত্রার সৃষ্টি হয় এবং শত্রুতার সূত্রপাত ঘটে।
সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুর্ব শত্রুতার জেরে ভিতরবন্দ ইউনিয়নের গোড্ডারপাড় বটতলা গ্রামের একটি ব্রীজের উপর নদীর মাছ ধরতে গেলে কবি রাধাপদ রায়কে হামলা চালিয়ে গুরুত্বর আহত করে রফিকুল ও কদুর আলী। পরে রাধাপদকে উদ্ধার করে নাগেশ্বরী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
অন্যদিকে, সাম্প্রদায়িকতার সাথে গুলিয়ে প্রকৃত ঘটনা আড়ালের চেষ্টায়, ঘটনাটিকে ভিন্ন দিকে প্রবাহিত করার অপকৌশল অবলম্বন করে কিছু মিডিয়ার অপব্যবহার করা সৌহার্দপূর্ণ সম্পর্ক বিনষ্টকারী ব্যক্তি।
ভুক্তভোগী পরিবারের সকলের সততার কারণে তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ ভেস্তে গেছে, বলে মন্তব্য করেছেন জেলার সচেতন নাগরিক।
বিষয়টি স্পষ্ট করে বক্তব্য দেন জেলার এক পুলিশ অফিসার। তিনি বলেন, বিষয়টি ধর্মীয় বা সম্প্রদায়ীকতার বিষয় নয়, এটা একটি অথ লেন দেনের বিষয় ও পুর্ব শত্রুতার জের।
বুধবার দুপুর প্রায় আড়াইটার দিকে কুড়িগ্রাম জেলা শহর থেকেচারণ কবি রাধাপদ রায়ের উপর হামলাকারী প্রধান আসামী রফিকুল গ্রেফতার করা হয়।
কবি রাধাপদ রায় এর উপর হামলাকারী রফিকুল ইসলাম কে গ্রেফতার করেছে কুড়িগ্রাম পুলিশ।
জামতলার স্থানীয় ব্যবসায়ী জাকারিয়া হোসেন বলেন, এটা কোন দলিয় বা একদিনের বিষয় নয়, এদের মধ্যে টাকা পয়সা লেন নিয়ে পুর্ব থেকে জের ছিল। স্থানীয় মহত মোজাম্মেল হক বলেন, রফিকুলদের সাথে সামান্য কিছু টাকা পয়শা নিয়ে বিরোধ ছিল এরই জেরে মারধরের ঘটনা ঘেটে।
তবে এরা (রফিকুল)সামাজিক ভাবে উদ্ভট চরিত্রের লোক । নুরুজ্জামান মাস্টার বলেন, তারা স্থানীয় ভাবে একটি দাঙ্গাবাজ লোক,। কিছু টাকা নিয়ে এই ঘটানা ঘটায়।
নাগেশ্বরী পুজা উদযাপন পরিষদ শাখার সাধারণ সম্পাদক হরচন্দ্র ফন্টু বলেন, এটা কোন ধর্মীয় বা সাম্প্রদায়ীক বিষয় নয়। কিছু টাকা পয়সা নিয় তাদের পুর্বের বিরোধ ছিল।


























