ড. ইউনূসের বিমানবন্দরে হেনস্তা নিয়ে যা বললেন সিদ্দিকুর রহমান
- আপডেট সময় : ০২:১৫:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের জেএফকে বিমানবন্দরে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের হেনস্তার ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এই মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান। নিউ ইয়র্কের টাইম টেলিভিশনে আয়োজিত একটি টকশোতে তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তাতে এ ধরনের ঘটনা ঘটতেই থাকবে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘আমার মনে হয়, এটা তো কেবল শুরু। যতক্ষণ পর্যন্ত আমরা দেশের মঙ্গল না চাই, ততক্ষণ সারা পৃথিবীতেই এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতে থাকবে।’
ড. সিদ্দিকুর রহমান আরও দাবি করেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বিমানবন্দরে যা ঘটেছে, তা তিনি নোবেল লরিয়েট বা ব্যক্তিগত পরিচয়ের জন্য পাননি। তিনি বলেন, বিগত দুই বছর ধরে ড. ইউনূস যে কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছেন, তারই ফল হিসেবে তিনি কোনো প্রকার অভিনন্দন বা উষ্ণ অভ্যর্থনা পাওয়ার মতো পরিবেশ নিজেই নষ্ট করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, ড. ইউনূস অসাংবিধানিকভাবে ক্ষমতা গ্রহণ করেছেন এবং একটি অসাংবিধানিক নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠন করেছেন। তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ তথা, আওয়ামী লীগের যারা অনুসারী, উনি যে কর্মকাণ্ডটি গত দু’বছর করেছেন, তার ফল হিসেবে তাকে আমন্ত্রণ বা অভিনন্দন জানানোর মতো অবস্থা তিনি করেননি। এই সেই ব্যক্তি, যার ওপর আজকে ঘটনাটি ঘটেছে, নট নোবেল লরিয়েট, সারা পৃথিবীতে যাকে নিয়ে আমরা অনেকে গর্ব করি, তাকে না, ওই ব্যক্তিটি—যিনি এই কাজগুলো করেছেন।’।
আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, ড. ইউনূসের নির্দেশে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়িটি ধ্বংস করা হয়েছে এবং গত জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে প্রায় হাজারের মতো পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ড. ইউনূস তার সময়ে প্রায় এক লাখেরও বেশি দলীয় নেতা-কর্মীকে কারাবন্দি করেছেন এবং ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করেছেন। তার মতে, ড. ইউনূসের নেওয়া এসব সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ার বহিঃপ্রকাশই বিমানবন্দরে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। তার নির্দেশে বাংলাদেশের যে বাড়িটাকে বলা হয় বঙ্গবন্ধুর, ৩২ নম্বরের সেই বাড়িটা মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই সেই ব্যক্তি (ড. ইউনূস), যে দলটির নেতৃত্বে দেশ স্বাধীন হয়েছিল, সেই দলটির কার্যক্রম তিনি নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, তিনি এর আগে তারেক রহমানের সফরসঙ্গীদেরও সাবধান থাকতে বলেছিলেন। তার মতে, ড. ইউনূসের কাজের প্রতি বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে যে তীব্র ক্ষোভ ও অভিমান রয়েছে, তা নিয়ন্ত্রণ করা কারো পক্ষেই সম্ভব নয়। তিনি বলেন, ড. ইউনূস মানসিকভাবে হেনস্তা হয়েছেন বলে দাবি করলেও, তার সময়ে আওয়ামী লীগের নেতাদের ওপর শারীরিক নির্যাতন, হত্যা এবং দলীয় প্রধানের বিরুদ্ধে ফাঁসির আদেশসহ নানা ধরনের অন্যায়মূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। তিনি দাবি করেন, যেখানেই আওয়ামী লীগের কর্মীরা তাকে পাবে, সেখানেই তারা তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করবে।
ডিসেম্বর মাসে দেশে ফিরে যাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিষয়টি ডিসেম্বরেই দেখা যাবে। তিনি আরও বলেন, দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগ এবং ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করে রাখা হয়েছে, যা দেশের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য দায়ী। তিনি ড. ইউনূসের প্রতি প্রশ্ন রেখে বলেন, পুলিশ হত্যা, নেতাকর্মীদের কারাবন্দি করা এবং গণতন্ত্র ধ্বংস করার দায় তিনি এড়াতে পারেন না। এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, দেশটাকে একটি ‘মব কালচার’ বা বিশৃঙ্খল অবস্থার দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।
আওয়ামী লীগ জাতির কাছে ক্ষমা চাইবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ড. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ক্ষমা চাওয়ার প্রশ্নই আসে না। বরং ৫ই আগস্টের আগ পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের জন্য কমিশন তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে পারে বলে তিনি জানান। তিনি উল্লেখ করেন, তোফায়েল আহমেদের মতো বয়োজ্যেষ্ঠ নেতাদের সংসদ ভবনে জানাজা পড়ার অনুমতি না দেওয়ার মতো ঘটনাগুলোও নেতাকর্মীদের ভেতরে ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে। তিনি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, যতক্ষণ না পর্যন্ত আওয়ামী লীগকে রাজনীতি করার অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া হবে এবং কারাবন্দি নেতাদের মুক্তি দেওয়া হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত এই অস্থিরতা থামার কোনো সম্ভাবনা নেই। তাদেরকে ইনডেমনিটি দিয়ে ক্ষমা করে দিয়েছেন তিনি।
সূত্র: মানবজমিন
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ
























